শাহরুখ খান বি-টাউনের সব থেকে সম্মানীয় অভিনেতাদের মধ্যে একজন | সাংবাদিকদের সঙ্গে উনি বরাবর ভদ্র ভাষায় কথা বলেছেন | কিন্তু একবার এক সাংবাদিককে এমন গালিগালাজ করেছিলেন এবং হুমকি দিয়েছিলেন উনি যে পুলিশ গ্রফতার করেছিল বলিউডের বাদশা কে |

Banglalive

একবার একটা জনপ্রিয় ফিল্ম ম্যাগাজিনে শাহরুখ সম্বন্ধে একটা আর্টিকল প্রকাশিত হয় | সেখানে লেখা হয় একজন পরিচালকের কথায় নাকি শাহরুখ একজন অভিনেত্রীর সঙ্গে রাত কাটিয়েছেন | এটা পড়ার পর শাহরুখ প্রচন্ড রেগে গিয়ে ওই পত্রিকার একজন সাংবাদিককে মেরে ফেলার হুমকি দেন | অনুপমা চোপড়া পরে এই বিষয়ে ওঁর বই  কিং অফ বলিউড: শাহরুখ খান অ্যান্ড দ্য সিডাকটিভ ওয়ার্ল্ড অফ ইন্ডিয়ান সিনেমা -তে এই ঘটনার উল্লেখ করেন |

সালটা ছিল ১৯৯২ | এই সময় শাহরুখ  মায়া মেমসাব ছবির জন্য একটা অত্যন্ত অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শ্যুটিং করেন অভিনেত্রী দীপা শাহির সঙ্গে | এই ছবির পরিচালক ছিলেন দীপা শাহির স্বামী কেতন মেহতা |

ওই সময়কার জনপ্রিয় ফিল্মি পত্রিকা সিনে ব্লিতজ একটা আর্টিকল প্রকাশ করে | সেই আর্টিকল থেকে জানা যায় কেতন মেহতা নাকি শাহরুখকে দীপার সঙ্গে একটা হোটেলে রাত কাটানোর নির্দেশ দেন অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শ্যুটিং এর আগে | যাতে ওঁরা একসঙ্গে রাত কাটানোর পর স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন এবং সহজেই ওই দৃশ্যটার শ্যুটিং করতে পারেন |

মায়া মেমসাব ছবির একটা দৃশ্য
সেইখান থেকে আরো জানা যায় শাহরুখ নাকি কেতনের কথায় রাজি হয়ে দীপার সঙ্গে রাত কাটান | এবং এর পরের দিন ওই দৃশ্যের শ্যুটিং হয় |

পত্রিকাতে প্রকাশিত ওই আর্টিকলটা যিনি লেখেন তার নাম প্রকাশ করা হয়নি | কিন্তু এর কয়েকদিন পরে এই পত্রিকার একজন সাংবাদিক কেত ডি কোস্টার সঙ্গে দেখা হয় শাহরুখের | শাহরুখ ধরেই নেন ওই আর্টিকলটা কেত লিখেছেন | উনি সবার সামনেই কেত কে গালাগালি দেন |

এখানেই শেষ নয় | সেই রাতে কেত কে ফোন করে ওঁকে মেরে ফেলার হুমকি দেন শাহরুখ | এবং তার পরের দিন সত্যিকারের কেতের বাড়িতে গিয়ে কেতের বাবা মায়ের সামনেই সাংবাদিককে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন উনি | গালিগালাজ করা ছাড়াও উনি কেত কে আরো একবার মেরে ফেলার হুমকি দেন |

পত্রিকার সম্পাদকের বুদ্ধিতে কেত শাহরুখের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন | কিন্তু তাতেও কোনো লাভ হয়নি‚ শাহরুখ ওঁকে ফোনে হুমকি দিতেই থাকেন | এর আগামী দিন শাহরুখকে গ্রফতার করে পুলিশ | ততদিনে শাহরুখ একজন নামকরা স্টার হয়ে গেছেন | তাই জেলে পোড়া হয়নি ওঁকে | এমনকি থানাতে কয়েকজন পুলিশ ওঁর অটোগ্রাফও নেন | সেখানে শাহরুখ পুলিশের কাছে একজনকে একটা ফোন করার অনুরোধ করেন | এবং অবিশ্বাস্য হলেও ওঁকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাউকে ফোন না করে উনি
কেত কে ফোন করে থানা থেকে গালাগালি দেন |

শাহরুখ পুলিশের সামনেই কেত কে বলেন আমি এখন থানায় আছি কিন্তু যে মুহূর্তে ছাড়া পাবো তোমার ওখানে গিয়ে আই উইল ফা.. ইউ |  পরে রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ শাহরুখের এক বন্ধু জামিন দিয়ে ছাড়ায় ওঁকে |

এই ঘটনার দুবছর বাদে সিনে ব্লিটজ পত্রিকার অন্য এক সাংবাদিক শাহরুখকে বোঝাতে সক্ষম হন যে কেত ডি কোস্টা সেই আর্টিকলটা লেখেননি | শাহরুখ নিজের ভুল বুঝতে পারেন এবং কেতের কাছে ক্ষমা চান | এমনকি কেতের মা বাবার কাছেও ক্ষমা প্রার্থনা করেন উনি |

একই সঙ্গে সিনে ব্লিটজের জন্য এক্সক্লুসিভ ফটোশ্যুটও করেন শাহরুখ | তবে আজ অবধি জানা যায়নি সেই সাংবাদিকের নাম যিনি শাহরুখ আর দীপাকে কেন্দ্র করে ওই আর্টিকলটি লেখেন |

প্রসঙ্গত মায়া মেমসাব ছবি থেকে ওই অন্তরঙ্গ দৃশ্য বাদ দিয়ে দিতে হয় সেন্সর বোর্ডের নির্দেশে | কিন্তু ২০০৮ সালে ইন্টারনেটে ওই দৃশ্য ফাঁস হয়ে যায় |

আরও পড়ুন:  পলিসির টাকা পেতে শ্রীদেবীকে খুন করেছে পরিবার!?

NO COMMENTS