ভারতীয় দলের তারকা ক্রিকেটারের বৃদ্ধ ঠাকুরদা থাকেন ভাড়াবাড়িতে‚ চালান টেম্পো

2349

ভারতীয় দলে তো বটেই | বিশ্ব ক্রিকেটে সমীহ জাগানো বোলারদের মধ্যে একজন যশপ্রীত বুমরাহ | টি-২০ ফরম্যাটে তিনি বিশ্বের দু নম্বর বোলার | ডেথ বোলিং-এর ক্ষেত্রে তাঁর মতো ভরসার জায়গা বিরল | খ্যাতি-অর্থ-যশ সবদিক দিয়ে এখন মধ্যগগনে বিরাজ করছেন এই ক্রিকেটার | কিন্তু অন্যদিকে তাঁর পরিবারের সদস্যরা ডুবে গেছেন দৈন্যদশায় |

পরিবারের সদস্য বলতে তাঁর ঠাকুরদা | এই বৃদ্ধ এখন থাকেন ভাড়াবাড়িতে | দুবেলা ডাল রুটি যোগাড় করতে গিয়ে চালাতে হয় টেম্পো | তবু নাতির কাছ থেকে কোনও অর্থসাহায্য চান না সন্তোখ সিং বুমরাহ | শুধু চান একবার দেখা করতে |

বৃদ্ধের অতীত কিন্তু এরকম ছিল না | ছিলেন আহমেদাবাদের সম্পন্ন ব্যবসায়ী | তিন তিনটে কারখানার মালিক | তাঁর সঙ্গে ব্যবসা দেখভাল করতেন ছেলে যশবীর সিং বুমরাহ | ২০০১ সালে অকালমৃত্যু হয় যশবীরের | তাঁর ছেলে যশপ্রীত তখন মাত্র সাত বছরের | 

এরপর আর ব্যবসা সামলাতে পারেননি বৃদ্ধ | বাজারে দেনা শোধ করতে গিয়ে বেচে দিতে হয় কারখানা | ২০০৬ সালে আহমেদাবাদ থেকে চলে আসেন উত্তরাখণ্ডের উধম সিং নগরে | চারটে টেম্পো কিনে শুরু করেছিলেন নতুন ব্যবসা | কিন্তু তাতেও ক্ষতি | শেষে বিক্রি করে দিতে হয় তিনটে টেম্পো | যেটা রয়ে গেছে সেটাই চালান সন্তোখ সিং |

বোঝাই যাচ্ছে বাবার মৃত্যুর পরে পৈতৃক পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ নেই যশপ্রীত বুমরাহর | তাঁকে একা হাতে বড় করেছেন মা দলজিৎ বুমরাহ | তিনি ছিলেন স্কুল প্রিন্সিপ্যাল | 

এই পরিস্থিতিতে নাতিকে টিভির পর্দায় দেখেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় ৮৪ বছরের সন্তোখ সিংকে | তাঁর সাফল্যে খুশি হন ঠিকই | কিন্তু শরিক হতে পারেন না | একটিবার চান দাদুভাইকে কাছ থেকে দেখতে | শুধু এইটুকুই | তার জন্য বৃদ্ধ টেম্পো চালক যোগাযোগ করেছেন প্রশাসনের সঙ্গে | 

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.