‘তেজাব’ রিলিজের আগে পালিয়ে গিয়েছিলেন মাধুরী!(বার্থডে স্পেশাল)

”বোনের সঙ্গে আমেরিকায় ছুটি কাটিয়ে ফিরছেন মাধুরী দীক্ষিত। এয়ারপোর্টে পা দিতেই উল্লাসধ্বনি, ‘মোহিনী…মোহিনী।’ কিছু বুঝে ওঠার আগেই একঝাঁক তরুণ-তরুণী ছেঁকে ধরল তাঁকে। হতভম্ব মাধুরী বুঝলেন, মাধুরী-ম্যাজিক ক্লিক করেছে। তাঁর ‘এক দো তিন’ সুপারহিট। হাতের গোড়ায় নায়িকাকে পেয়ে জনতা উদ্বেলিত। হাজার ওয়াটের হাসি দিয়ে তাঁদের সামলাচ্ছেন ‘মোহিনী’ মাধুরী। তারপর? নায়িকার ৫২ তম জন্মদিনে মাধুরীর ২৮ বছরের রাজপাট, ‘ধকধক গার্ল’ হয়ে উঠলেন কীভাবে, এ টু জেড জানুন ছায়াসঙ্গী রিক্কু রাকেশ নাথের মুখ থেকে—

‘সময় আটের দশক। মাধুরী তখন মাত্র একটাই ছবি করেছেন। তাপস পালের বিপরীতে ‘অবোধ’। আমি তুলনায় বলিপাড়ায় পরিচিত মুখ। রঞ্জিতা, সলমা আগা, অনিল কপূরের হয়ে দায়িত্ব সামলাচ্ছি। মুখের ভাষায় যাকে বলা হয় সেক্রেটারি। মাধুরীর হেয়ার ড্রেসার খাতুন একদিন আমায় বলল, ‘রিক্কু একটা নতুন মেয়ে এসেছে ইন্ডাস্ট্রিতে। খুব সুন্দরী। দারুণ অভিনয় করে। কিন্তু কাউকে চেনে না। কিচ্ছু জানে না। একটু দেখবে?’

সেই প্রথম দেখা। চান্দাভেলি স্টুডিওতে। ‘গেস্ট হাউজ’ ধারাবাহিকের শুট চলছে। বেঞ্জামিন গিলানির বিপরীতে মাধুরী। ওই শুটেই নিয়ে গেল খাতুন। শট চলছিল। এক কোণায় দাঁড়িয়ে নজর করছিলাম মাধুরীকে। অদ্ভুত ডেডিকেশন। ভীষণ আত্মবিশ্বাসী। এক দেখাতেই ভালো লাগল। মনে হল, মাধুরী থাকতে এসেছে। খাতুনের থেকেই নম্বর নিয়ে ফোন করলাম এর ঠিক দু’দিন পর। মাধুরীই ফোন ধরল। পরিচয় দিতেই ভীষণ আন্তরিকভাবে ডেকে নিল বাড়িতে। গিয়ে দেখি, মেয়ে এত্তো বড়ো মগে করে চা খাচ্ছে মায়ের পাশে বসে। আমি যেতেই মাধুরীর মা উঠে চা করে আনলেন নিজের হাতে। খুব ভালো লাগল ওঁদের এই আন্তরিকতা। আর মাধুরী যেন টিপিক্যাল মহারাষ্ট্রীয় পরিবারের ঘরোয়া মেয়ে।

মেয়ের সঙ্গে কথা বলার পর মায়ের সঙ্গে কথা হল কিছুক্ষণ। একথা-সেকথার পর মেয়ের জন্য মায়ের গলায় ঝরল উদ্বেগ, ‘কী মনে হয়? পারবে তো আমার মেয়ে!’ হাসিমুখে সেদিন বলেছিলাম, পারবে কী বলছেন? দুনিয়া কাঁপাবে। আমি আছি কী করতে? সেদিন কাঁপা হাতে আমার হাতদুটো চেপে ধরেছিলেন আপনাদের ধকধক গার্লের মা।

রিক্কু ও মাধুরী

মাধুরীর সঙ্গে পথচলা সেই শুরু। ‘অবোধ’ রিলিজ না করলেও মাধুরীর হাতে তখনই ‘আওয়ারা বাপ’, ‘স্বাতী’, ‘মানব হত্যা’, ‘মোহরে’র মতো খান চারেক ছবি। সব বি গ্রেডের। তার ওপর সে পার্শ্বনায়িকা। কিছু না বলে চুপচাপ নতুন করে পোর্টফোলিও বানালাম। এবার মাধুরীর ফটো তুললেন জেপি সিংহল, রাকেশ শ্রেষ্ঠ, জয়েশ শেঠের মতো নামী দামি ফটোগ্রাফাররা। ফটো ওয়াশের পর নিজেই চিনতে পারছিলাম না ওকে। এ যেন স্বপ্নে দেখা রাজকন্যে! কপালজুড়ে সাপের ফণার মতো দুলছে চুলের গুছি। হাসলে জ্বলে রঙমশাল। লাস্যে হার মানায় হুর-পরীদেরও।

যথা সময়ে ‘অবোধ’ রিলিজ করল। এবং আমি দেখতে গেলাম না ছবিটা। কারণ, যদি দেখে মন খারাপ হয়ে গিয়ে কাজ করতে না চাই! মেয়েটা যে আমার ওপর ভরসা করে বসে আছে। বদলে ওর পোর্টফোলিও নিয়ে গেলাম সুভাষ ঘাই, এম চন্দ্রা, বনি কপূর, টি রামা রাওয়ের কাছে। সুভাষ ছবি দেখে প্রথমে একটা ছোট্টো রোল দিলেন। তাও আইটেম নম্বর। রিলিজের পর দেখি সেটা বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। টি রামারাও ‘খতরো কা খিলাড়ি’ ছবিতে সুযোগ দিলেন মাধুরীকে। কিন্তু সেকেন্ড লিড। টাইটটেল কার্ডে নাম সবার শেষে। মাধুরীর আগে নীলমের নাম। দেখে খুব রাগ হল। বললাম, মাধুরী কিন্তু সিনিয়র। তার ওপর ছবিতে সঞ্জয় দত্তের নায়িকা। ওঁর নাম শেষে থাকবে কেন? শুনে রামারাও বললেন, প্রমাণ করুন মাধুরী নীলমের থেকে সিনিয়র। আমি তখন রাজশ্রী প্রোডাকশনে গিয়ে ছবির রিলিজ ডেটের নকল এনে দেখালাম। তারিখ বলছে নীলমের প্রথম ছবির আগে রিলিজ করেছে ‘অবোধ’। এবার নাম ওপরে উঠে এল মাধুরীর।

রিক্কু ও মাধুরী

রামারাওয়ের কাজ করতে করতেই এন চন্দ্রা তেজাবের জন্য ডাকলেন মাধুরীকে। এবার নাক সিঁটকোলেন অনিল। বললেন, ‘নো ডাউট মাধুরী খুব সুন্দরী। কিন্তু বড্ড ঘরোয়া। ওকে ক্যাবারে ডান্সার হিসেবে মানাবে না।’ আমি তখন অনুরোধ করলাম, একবার লুক টেস্ট নেওয়া হোক। উতরে গেলে থাকবে। না হলে নয়। মুখে একথা বললেও মন বলছিল, ভাগ্যের চাকা ঘুরছে মেয়ের। আমার ভাবনা সত্যি করে একবারেই লুক টেস্টে উতরে গেল মাধুরী। এবার বাকি নাচ। ছোটো থেকে নাচ শেখায় মাধুরীর কাছে এটাও জলবততরলং ব্যাপার। শুধু নতুন ধারার নাচের স্টেপ তুলতে যেটুকু সময় লাগে। সেখানেও কোনও খামতি রাখেনি মেয়ে। রাত জেগে নাচের স্টেপ তুলেছে সরোজ খানের কাছে। মাধুরীর মা আমাকে অন্ধের মতো ভরসা করে মেয়েকে ছেড়ে দিয়েছিলেন আমার হাতে। মাধুরীও অক্ষরে অক্ষরে মানত আমার কথা। শুট শেষ হতেই টেনশনের চোটে রেজাল্ট জানার আগেই বোনকে নিয়ে আমেরিকায় চলে গেল মাধুরী। ফলাফল কী হল? আপনারা সবাই জানেন। মুক্তি পেতেই ছবি হটকেক। দর্শক মজল মাধুরী মায়ায়। ফোনে ওকে হাসতে হাসতে বললাম, চলে আসুন ম্যাম। আপনি জিতে গেছেন।

সেই একবারই আমার কথা অবিশ্বাস করেছিল মাধুরী। তবে চলে এসেছিল বোনকে নিয়ে। প্লেন এয়ারপোর্ট ছুঁতেই মাধুরী বুঝল, ‘তেজাব’-এর ‘মোহিনী’ রাতারাতি স্টার বানিয়ে দিয়েছে তাকে!’’  

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here