যদি প্রশ্ন করা হয় বলিউডের সব থেকে আইকনিক ছবি কোনটা? তাহলে অনেকেই উত্তর দেবেন শোলে | এই ক্লাসিক মোটামুটি সবারই প্রিয় ছবির মধ্যে একটা | এই ছবির একটা চরিত্র এতটাই জনপ্রিয়তা লাভ করে যে চার দশক পরে আজও সেই চরিত্রকে নিয়ে হাজার হাজার মেমে‚ বুমেরাং আর জিআইএফ দেখতে পাওয়া যায় সোশ্যাল মিডিয়াতে |

Banglalive

আমরা বলছি আমাদের প্রিয় ঠাকুর‘-এর কথা | কিংবদন্তী অভিনেতা সঞ্জীব কুমারকে দেখা যায় এই চরিত্রে | উনি ১৯৬০ সালে বলিউডের ছবিহম হিন্দুস্থানি দিয়ে অভিনয় জীবন আরম্ভ করেন | এরপর বহু ছবিতেই অভিনয় করেছেন উনি‚ দস্তক‚কোশিশ‚ ত্রিশুল‚ অর্জুন পন্ডিত তার মধ্যে কয়েকটা |

কিন্তু সঞ্জীব কুমারের ব্যক্তিগত জীবনের ব্যাপারে খুব একটা জানা যায় না | অনেকেই জানে না উনি সারা জীবন বিয়েই করেননি | উনি ৬ নভেম্বর‚ ১৯৮৫ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান | বহু ছবিতেই ওঁকে দেখা গেছে প্রবীণের চরিত্রে | কিন্তু শুনলে আশ্চর্য হয়ে যাবেন মারা যাওয়ার সময় ওঁর মাত্র ৫০ বছর বয়স ছিল |

অনস্ক্রিনে বহু ছবিতেই সফল প্রেমিকের চরিত্রে দেখা গেলেও আসলে জীবনে কিন্তু প্রেমে আঘাত পেয়েছিলেন উনি | ১৯৭৩ সালে উনি হেমা মালিনীকে বিয়ের প্রস্তাব দেন | কিন্তু হেমা তা ফিরিয়ে দেন | পরে উনি সুলক্ষণা পন্ডিতের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন | কিন্তু শেষ অবধি সেটাও সফল হয়নি | সঞ্জীব এবং সুলক্ষণা চিরজীবন বিয়েই করেননি |

পরে সঞ্জীব কুমারের স্মৃতির উদ্দেশ্যে সুলক্ষণা সঞ্জীবের প্রতি ওঁর ভালোবাসার কথা লেখেন | ওঁর কথায় ১৯৭৫ এর মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি উলঝন-এর সময় আমি সঞ্জীব কুমারের প্রেমে পড়ি | আগে থেকে আমাদের দুজনের সম্পর্ক খুব ভালো ছিল | কিন্তু উনি তখন হেমাজির প্রেমে পাগল | উনি আমার সঙ্গী হেমাজিকে নিয়ে আলোচনা করতেন | আমার ভীষণ খারাপ লাগতো | কিন্তু নিজেকে বোঝাতাম সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উনি হেমা মালিনীকে ভুলে যাবেন | আর এমনটা যেদিন হবে আমি আমার ভালোবাসার কথা জানাবো ওঁকে | আমার কো-আর্টিস্টরা সব সময় আমাকে বলত সঞ্জীব কুমারের জন্য একমাত্র আমিই ঠিক |

তারপর একদিন শুনলাম হেমাজি আর সঞ্জীবজির বিয়ে হবে | হয়তো তা হয়েও যেত যদি না সেইসময় জীতুজি হেমাজিকে প্রপোজ করতেন | সিনেমার মতই ড্রামাটিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল | পরে শোভা সিপ্পির সঙ্গে জীতুজির বিয়ে হয় | শোভা আর জীতুজির মধ্যে ছোটবেলা থেকে প্রেম ছিল | শোভা হেমাজিকে বলেন আমি ওঁর সঙ্গে ১৪ বছর বয়স থেকে আছি | তাই আমার দাবি বেশি এবং উনি শুধুমাত্র আমার | 

সঞ্জীবজি আর আমার মধ্যে অনেক কিছু কমন ছিল | আমার মতো উনিও ক্যানসেরিয়ান ছিলেন | ফলে আমাদের দুজনের মধ্যেই খুব বেশি আবেগ ছিল | আমরা একসঙ্গে সাতটা ছবিতে কাজ করেছি | আসলে কিন্তু সঞ্জীবজি খুবই নিঃসঙ্গ ছিলেন | ওঁর ভাগ্যে ছিল অবিবাহিত থাকা | আমার দৃঢ় বিশ্বাস ম্যারেজেস আর মেড ইন হেভেন | ওঁকে যতটা ভালোবেসেছি কোনদিন অন্য কাউকে অতটা বাসতে পারিনি |

অতিরিক্ত মদ্যপানের ফলে সঞ্জীব কুমারের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে | হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও উনি রোজ আকন্ঠ মদ্যপান করতেন | এই ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে সুলক্ষণা লেখেন :-

 আমি যে সময় ওঁর সঙ্গে জড়িত ছিলাম ওঁর ডাক্তার আমাকে বলেছিলেন এই ব্যক্তিকে এতটা ভালোবেসো না | আমার মতে উনি আর বছর দুয়েকের বেশি বাঁচবেন না | সঞ্জীবজির সব থেকে বড় দুর্বলতা ছিল মদ্যপান | উনি হার্ট পেশেন্ট ছিলেন তাও | কেউ ওঁকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনি | ওঁকে সব সময় বন্ধুরা ঘিরে থাকত | এই কারণে আমি ওঁকে সাহায্য করতে পারিনি | তারা আসলে বিনা পয়সায় মদ খাওয়ার সুযোগ পেত তাই ওঁকে ঘিরে থাকত | প্রকৃত বন্ধু ওঁর কেউ ছিল না | আমি ওঁর সঙ্গে থাকার সুযোগ পেলে নেশা ছাড়িয়ে দিতাম |

সঞ্জীবজি মারা যাওয়ার পর আমি এতটাই বিষন্ন হয়ে পড়ি যে নিজেকে আর একটু হলে মেরে ফেলছিলাম | ভগবানের কৃপায় আমি বেঁচে আছি | যদিও আমি এখনো পুরোপুরি সুস্থ হই নি | আমি নিজেকে এখনো ঘরে বন্ধ করে রাখি | তবে সারা দিন ভালো ছবি দেখে সময় কাটাই‚ ভালো মিউজিক শুনি এবং কবিতা লিখি | আমি সাহস সঞ্চয় করছি আগের মতো জীবন যাপন করার | 

আরও পড়ুন:  জাহ্নবী কপূর থাকছেন না সোনমের সঙ্গীত-এ! মনোমালিন্যর কারণ?

NO COMMENTS