টিনের কৌটো বা প্লাস্টিকের পাইপই ছিল হাঁটার ভরসা ! নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বাদ পেল বালিকা

78

তাঁর শৈশবটা আর পাঁচটা সাধারণ শিশুর মতো নয় । আট বছরের ছোট্ট মেয়ে মায়া মেরহির জন্ম থেকেই দুটি পা নেই । পায়ের বদলে তাকে ব্যবহার করতে হতো প্লাস্টিকের পাইপ বা টিনের কৌটো জাতীয় জিনিস । এইভাবেই তাকে দিনের পর দিন কাটাতে হয়েছে সিরিয়ার এক উদ্বাস্তু শিবির থেকে আর এক উদ্বাস্তু শিবিরে । এখন কিছুটা হলেও আশার আলো দেখছে মায়া । তুরস্কে এক জটিল প্রস্থেটিক চিকিৎসার মধ্যে দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তাকে । গত জুন মাসে সিরিয়া থেকে এএনআই-এর পাঠানো কিছু ছবি রাতরাতি ভাইরাল হয়ে যায় যেখানে ছোট্ট মায়ার করুণ অবস্থা দেখে বিস্মিত হয়েছিল তামাম বিশ্ববাসী । পাঁচ মাস ধরে চিকিৎসা চলার পর তার সাম্প্রতিক একটি ছবি গত শনিবার প্রকাশ করে এএনআই যেখানে ছোট্ট মায়া একটি গোলাপি রঙের সোয়েটার এবং তার সঙ্গে মানানসই জুতো পরে দাঁড়িয়ে রয়েছে নিজের কৃত্রিম পায়ের উপর ।

মেয়ের পা ফিরে পেয়ে স্বভাবতই খুব খুশি তার বাবা মহম্মদ । তাঁর কথায়, এত দিন পরে মেয়েকে নিজের পায়ে হেঁটে-চলে বেড়াতে দেখে তিনি এবং তাঁর পরিবারের সকলেই খুব খুশি । মায়া খেলাধুলোতেও অংশ নিয়েছে, এবং তাঁর সমবয়সী সব শিশুর সঙ্গে সে নাচও করছে । মায়ার মতো তাঁর বাবা মহম্মদও এই একই রোগে আক্রান্ত যার নাম কনজেনিটাল অ্যামপিউটেশন, যার অর্থ হল জন্মগতভাবে কোনও অঙ্গের বিকৃতি । একইভাবে মেয়ের মতো তাঁরও দুটি পা নেই । তিনিও হাঁটা-চলার জন্য টিনের কৌটো এবং প্লাস্টিকের পাইপকেই  ব্যবহার করতেন । ঘটনাটি আশ্চর্য্যজনক হলেও এটাই সত্যি ।

মহম্মদ সিরিয়ার আলেপ্পো প্রদেশের মানুষ কিন্তু, তাঁদের আস্তানার খুব কাছেই শুরু হয়ে যায় সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ | ক্ষত বিক্ষত হয়ে তিনি সপরিবারে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন | ফলে তাঁরা উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ার ইদলিবে-এ স্থানান্তরিত হয়ে যান । তারপর থেকেই শুরু হয় আসল লড়াই । নিজের শরীরের ভরে হেঁটে বেড়ানোটা দিন দিন একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় ছোট্ট মায়ার কাছে। তারপরেই এএনআই-এর মারফৎ মায়ার গল্প ছড়িয়ে পড়তেই বাবা-মেয়েকে নিয়ে যাওয়া হয় ইস্তাম্বুলে, সেখানে কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের বোর্ড গঠন করা হয়, তাঁদের অধীনে গত ৫-৬ মাস চিকিৎসা চলে ছোট্ট মায়ার । মায়ার পাশাপাশি নতুন প্রস্থেটিক পা লাগানো হয় মহম্মদকেও । কিন্তু তাঁর মেয়ে মতো সে এখনও ততটা সুস্থ নয়, নিজের পায়ে চলতে তাঁর এখনও বেশকিছুদিন সময় লাগবে । ছোট্ট মায়া খুব সহজেই এখন নিজের পা খোলা-পরা করতে পারে ।

মায়ার কাকা হুসেন-এর কথায়, ঈশ্বরের আশীর্বাদে যেন পুনর্জন্ম পেয়েছে মায়া, শুরুর দিকে তাঁরা তাঁদের জীবনের যে যে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল তা এখন অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছেন মায়া ও তাঁর বাবা মহম্মদ ।

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.