মাত্র ৯ মাসেই দেশের এই রাজ্যে গর্ভবতী কুড়ি হাজার নাবালিকা!

চলতি বছরে স্বাস্থ্য দপ্তরের সমীক্ষা অনুযায়ী, তামিলনাডুতে কুড়ি হাজার নাবালিকার গর্ভবতী হওয়ার তথ্য খবর কপালে ভাঁজ ফেলেছে সকলের । সমীক্ষা অনুযায়ী এদের প্রত্যেকেরই বয়স আঠারোর বেশি নয় ।

তামিলনাডুর ন্যাশনাল হেলথ মিশন সংস্থার পরিচালক এবং মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য দপ্তরের কমিশনার দারেজ আহমেদ জানান, যে গর্ভবতী মেয়েদের গড় বয়স ১৬ থেকে ১৮-এর মধ্যে এবং এরা অনেকেই বিবাহিত । অবিবাহিত মেয়েদের সংখ্যাও কম নয় ।

এ ঘটনা যেন মনে করিয়ে দেয় মহাভারতের গল্পে ‘কুন্তী’র ঘটনার কথা । সেখানে কুমারী কুন্তীর গৃহে দুর্বাসা মুনি অতিথি হয়ে এলে কুন্তী তাঁকে সেবা দ্বারা সন্তুষ্ট করেন । এতে খুশি হয়ে দুর্বাসা মুনি তাঁকে এক অদ্ভুত বর দেন । বর ছিল এমন, কুন্তী কোনও দেবতাকে স্মরণ করলে সেই দেবতা এসে কুন্তীকে যৌনসঙ্গম দ্বারা পরিতৃপ্ত করে পুত্রসন্তান দান করবেন । বর পেয়ে কৌতূহলী কুন্তী কুমারী অবস্থায় সূর্যদেবকে কামনা করে বসেন এবং সূর্যদেবের সঙ্গে মিলনে তিনি গর্ভবতী হয়ে এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন । তবে অবিবাহিত অবস্থায় সন্তান প্রসব করায় লোকলজ্জার ভয়ে তাঁকে যমুনার জলে ভাসিয়ে দেন । এই পুত্রই মহাভারতে কর্ণ নামে পরিচিত ।

সহজেই অনুমেয়, নিয়ম অমান্য করে রাজ্যে বাল্য বিবাহ করানো হচ্ছে । এই সংস্থার সমীক্ষা অনুযায়ী ওই ৯ মাসে তামিলনাডুতে ৬৯৫৫টি বাল্য বিবাহ হয়েছে । রির্পোট অনুযায়ী এই গর্ভবতী মহিলাদের মধ্যে গর্ভপাত করাতে চায় এমন মহিলার সংখ্যা খুবই কম । তাই এই পরিস্থিতে সন্তান জন্ম দেওয়ার নির্ধারিত বয়সের চেয়ে এদের বয়স যেহেতু খুবই কম তাই এদের স্বাস্থ্যহানির আশঙ্কাও রয়েছে। ন্যাশনাল হেলথ মিশন এর পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে যে রাজ্যে এই প্রথম এমন আশঙ্কাজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে যা সদ্যজাত শিশু ও গর্ভবতী মহিলাদের স্বাস্থ্য নিয়ে যথেষ্ট ভাবাচ্ছে ।

শিশু নির্যাতন ও শিশু নির্যাতনের নিরাময় কেন্দ্র ‘তুলির’ সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিদ্যা রেড্ডি এই বিষয়ে বলেছেন, স্বাস্থ্যের তুলনায় এখানে বেশি ভাবাচ্ছে সমাজের অবনতির কথা । তিনি আরও বলেন, যৌন অধিকার ও প্রজনন সম্পর্কে শিশুদের, বিশেষ করে অল্পবয়সী মেয়েদের শিক্ষিত করার ভীষণ প্রয়োজন । একমাত্র তাহলেই সমাজকে এই অবক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here