তন্ময় বোস | তাঁর আর আলাদা করে পরিচয় দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই | সৌম্য‚ শান্ত এই অসামান্য সঙ্গীতপ্রেমী মানুষটির সঙ্গে অন্তরঙ্গ আলাপচারিতায় তন্ময় দত্তগুপ্ত

আপনার সঙ্গীত শিক্ষা সম্পর্কে জানতে চাইব

Banglalive

তন্ময় বোস : আমার তবলার শিক্ষা গুরু ছিলেন স্বর্গীয় কানাই দত্ত এবং পণ্ডিত শঙ্কর ঘোষ। আমার বাড়িতে আমার মা ছাড়া গান বাজনার  তেমন লোক ছিল না।আমার মার কারণেই আমি মিউজিককে প্রোফেশন হিসেবে নিয়েছি।আমার দাদু ছিলেন ডাক্তার।জ্যাঠারা ব্যবসা করতেন।কাকা চাকরী করতেন।আমরা ছিলাম আপার মিডল ক্লাস ফ্যামিলির  মেম্বার।আমার জ্যাঠা খুব বিদেশে যেতেন।আমার রাঙা কাকাও বিদেশে যেতেন।বিদেশি দামি গিফট আমি পেতাম ছোটবেলা থেকেই।সুতরাং বিদেশ আমার কাছে অপরিচিত ছিল না।

Banglalive

ছোটবেলায় কাকা জ্যাঠাদের কাছ থেকে বিদেশি গিফট পাওয়া আর বড় হয়ে সেই বিদেশের মাটিতে পা রাখার অনুভূতি কেমন ছিল?

Banglalive

তন্ময় বোস : আমি নিজে যখন বিদেশে গিয়েছি তখন শিখেছি প্রচুর।বিদেশে আমি বাজাবো; এটা আমার কাছে স্বপ্ন ছিল। আমার বয়স যখন ২০ তখন উস্তাদ মুনওয়ার আলি খাঁ সাহেবের সঙ্গে বিদেশে বাজিয়েছি।তারপর থেকে বিদেশ ভ্রমণে ভাটা পড়েনি।মাঝখানে ২২ বছরের একটা স্প্যান ছিল যখন আট ন’মাস ধরে আমি ইংল্যাণ্ড- আমেরিকাতে কাটিয়েছি।আমি ১৮ বছর বয়স থেকে বাজাতে আরম্ভ করি।কলকাতায় সেই সময় এক ধরনের ক্লাস অডিয়েন্স দেখেছি।সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দর্শক বদলেছে।

Banglalive

এই বদল কি বিদেশেও লক্ষ্য করেছেন?

তন্ময় বোস : বিদেশের দর্শক একটু অন্যরকম।ওদের হোমওয়ার্ক করার প্রবণতা আছে।যে মিউজিকাল পিস তারা শুনতে আসেন,সেই পিস সম্পর্কে তারা পড়াশোনা করেন।ফলে আমাদের দেশের সঙ্গে বিদেশের দর্শকের একটা ফারাক হয়।আমাদের দর্শকেরা ভালোবাসার  টানে শুনতে আসেন।বিদেশ ভ্রমণে আমার কিছু অভিজ্ঞতা হয়েছে।তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হল বিদেশিদের জন্য অডিয়েন্স এ্যাপ্রিসিয়েশন  কোর্স করানো হয়।আমাদের এখানে সেটা হলে বড় ভালো হত। বিদেশি দর্শকদের কনভিকশন অনেক ডেলিবারেট।যে দর্শক আমায়, রবিশঙ্করজি বা আমজাদ আলি খাঁ সাহেবকে শুনতে আসবেন, সেই দর্শক বাড়িতেও ইণ্ডিয়ান ক্লাসিক্যাল মিউজিক শোনার চেষ্টা করে।শুধু  আবেগ নয়।যুক্তিপূর্ণ আবেগেই বিশ্বাসী ওনারা।

সঙ্গীতের সঙ্গে  ঋতুর একটা সম্পর্ক রয়েছে।এখানকার বর্ষা আর ওখানকার বর্ষার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এক নয়।এই মেজাজের  পার্থক্য কি সঙ্গীতেও ধরা পড়ে?

তন্ময় বোস : আমাদের ঋতু পরিবর্তন এবং লণ্ডনের ঋতুর মেজাজ একেবারেই আলাদা।এখানে বর্ষায় বেজে ওঠে মল্লার।অথবা অন্য ঋতুতে  বেজে ওঠে রাগ বসন্ত কিংবা বাহার।বিদেশের বর্ষায় মল্লার বেজে উঠলে শ্রোতারা কনসেপচুয়ালি বোঝেন যে এটা বর্ষার রাগ।খাঁ সাহেবের সঙ্গে প্রথম বার লণ্ডনের আরো কিছু ঘটনা আছে।আজও সেই সব স্মৃতিমধুর ঘটনা মণিমুক্তোর মতো আমার মনে সঞ্চিত; লালিত।পরবর্তী সময় ১৯৯৫ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত বিদেশবাসের এক্সপিরিয়েন্স থেকে আমি শিখেছি প্রচুর।রবিশঙ্করজির সঙ্গে যখন বাজিয়েছি,তখন দেখেছি যে দেশে উনি  বাজিয়েছেন সে দেশের মানুষ মুগ্ধ,মোহিত,আপ্লুত।এতটাই মিউজিকের প্রতি ভালোবাসা।মিউজিক একটা ইন্টারন্যাশোনাল ফর্ম নিয়েছে।এমন দর্শককেও দেখেছি যারা সত্তরের বিটলসের মুভমেন্ট থেকে রবিশঙ্করজিকে শুনছেন।

আরও পড়ুন:  সলমন ছিলেন তাই এঁরাও আছেন‚ ভাইজান যখন বলিউডের গেট পাস...

আমাদের রাগকে মিউজিক্যালি বিদেশি শ্রোতারা ঠিক কীভাবে শনাক্ত করেন? 

তন্ময় বোস : ওয়েস্টার্ন হারমোনির স্ট্রাকচার অনুযায়ী আমাদের রাগ ওদের কাছে একটা স্কেলের মতো।কিন্তু ভারতীয় রাগসঙ্গীতের মাইক্রোটোনের ব্যবহার আলাদা।এই তফাতগুলো ভারতীয় পরিবেশে বড় না হলে বা বড় ওস্তাদের কাছে না শিখলে বোঝা সম্ভব নয়।বর্ষায় যে ভাবে মিয়া কি মল্লার আমাদের নাড়িয়ে দেয়,সেভাবে কিন্তু ওরা মুগ্ধ হন না। কারণ ওরা বাক বিটোফেন শুনে বড় হয়েছেন।যারা খুব সেন্সেটিভ, মানে যে সমস্ত বিদেশি ভারতীয় সঙ্গীতকে বোঝার জন্য ভারতে আসেন,তাদের কাছে রাগসঙ্গীতের ইম্প্যাক্ট  প্রায় ভারতীয়দের মতোই ।

লণ্ডনে প্রথম বার ভ্রমণে আর কী অভিজ্ঞতা হয়েছিল?

তন্ময় বোস : আমি স্ট্যাফোরড কমন বলে আউটার লণ্ডনে একটা স্টেশন দেখেছি।ওখানে খাঁ সাহেবের এক ছাত্রর বাড়ি।ভদ্রলোক  গুজরাটি।প্রথমবার আমরা তিন মাস ছিলাম।সঙ্গে ছিলেন খাঁ সাহেবের ছেলে রাজা আলি খান।সেই সময় গোলাম আলিজি মধ্যগগনে।ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ওনার গান হল।তারপর উনি খাঁ সাহেবের বাড়িতে এলেন। খাঁ সাহেবের বাড়িতে কিমা বিরিয়ানি রান্না হল।ওই সময় আমি শিখলাম ‘এটিকেট অফ মিউজিক’।যাকে বলে ‘উঠনা ব্যায়েঠনা’।মানে ওস্তাদের কাছে কীভাবে উঠতে হবে বসতে হবে,এই সমস্ত আদব কায়দা শিখতে হয়।এখান থেকেই আমার শেখার শুরু।বার্কিংহাম প্যালেস,ভিক্টোরিয়া এ্যালবার্ট মিউজিয়ামেও আমাকে ওনারা নিয়ে গিয়েছিলেন।ভিক্টোরিয়া মিউজিয়ামে খাঁ সাহেবের গানও হয়েছিল।তারপর গেলাম লণ্ডন টাওয়ারে।সেখানে কোহিনুর দেখলাম।মাদাম তুসোর মিউজিয়ামও দেখেছি।

একজন সৃজনশীল সঙ্গীত প্রবণ মানুষের কাছে প্রকৃতি কি মিউজিকের রসদ হয়ে উঠতে পারে? 

তন্ময় বোস : সৃজনশীল আবেগপ্রবণ মানুষকে বার বার প্রকৃতির কাছে ফিরে আসতে হয়।কারণ প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম না হলে নিজেকে জানা প্রায় অসম্ভব।একটা কনসেপ্টের কথা বলব।অর্ধনারীশ্বর।প্রত্যেকের মধ্যেই একজন নারী লুকিয়ে আছে।আর্টিস্টের ইমোশনগুলোকে জাগিয়ে  তুলতে হলে ভেতরের নারীত্বকে জাগিয়ে তুলতে হয়।শোকের মুহূর্তে আমাকে কাঁদতে হবে।এখানে লজ্জার কিছু নেই।আমাদের কন্ডিশনিং-এর কারণে হিপোক্রিটিক্যাল সোসাইটিতে কোনও পুরুষ কাঁদতে চাইলে কাঁদতে পারে না।এটা আর্টিস্টিক ইমোশনের বিরোধী। মনে হয় এই বিষয়কে  উৎসাহিত করার প্রয়োজন।এখানে নারী পুরুষ বিভাজন অর্থহীন।রবীন্দ্রনাথের ভাষায় — ‘যে ঠাকুরের ধর্ম নেই,/জাতির কোনও বর্ম নেই/গীতা বাইবেল কোরাণ নেই/মন্ত্র মানে গান/সেই দেবতার পায়ের কাছে লক্ষ কোটি ম্লান’।মনটাকে প্রকৃতির কাছে আনএফেকটেড রেখে প্রশ্রয় দেওয়ার মধ্যে একটা ইনডিভিজুয়াল কনশাসনেস থাকে।রবীন্দ্রনাথের কথাই যখন এলো তখন একটু স্মৃতির দিকে ফিরি।

আরও পড়ুন:  পাশে সৌরভ‚ উত্তেজনা ধরে রাখতে পারছেন না সুশান্ত সিং রাজপুত !

হ্যাঁ, বলুন 

তন্ময় বোস : আমার মামাবাড়িতে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালিত হত।আমি তখন খুব ছোট।রবীন্দ্রনাথের মূর্তিতে আমার দাদু দিদা মাসি আমি মালা দিতাম।আমরা কেউ কবিতা বলতাম,কেউ গান করতাম।এটা একটা পরম্পরা বা রেওয়াজ।কিন্তু রবীন্দ্রনাথ শুধু ফোটো ফ্রেমে বা ক্যালেণ্ডারে থাকলে আমাদের থেকে দূরে সরে যাবেন।সাধারণ বাঙালির কাছে রবীন্দ্রনাথ, ঠাকুর বা দেবতার পর্যায়ে চলে গেছেন।এটা আমি মানতে পারি না।রবীন্দ্রনাথের কম্পোজিশন একশো বছর এগিয়ে আছে।শান্তিনিকেতন ভ্রমণকালে এ কথা বার বার আমার মনে ঘুরে ফিরে আসে।সীমার মাঝে  অসীম তুমি বা তার মিলন চাহ বিরহীর সুরের কাঠামোয় কী অসাধারণ মেধার নৈপূণ্যে উনি রাগকে ভেঙেছেন। অথচ রাগের কৌমার্য অক্ষুণ্ণ,  অক্ষত।আজ আমরা ফিউশনের কথা বলি।উনি ওই সময়ে ফিউশনের যে এক্সপিরিমেন্ট করেছেন সেটা অবর্ণনীয়।খুব ছোটবেলা থেকে শান্তনিকেতনে যাওয়ার ফলে বাউল সঙ্গীতের মাহাত্ম্য আমি বুঝেছি।যে কারণে গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের মহীনের ঘোড়াগুলির পর আমি প্রথম ঢাকিদের নিয়ে কাজ করি।

সেটা গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের মহীনের ঘোড়াগুলির পরে?

তন্ময় বোস : হ্যাঁ।শান্তিনিকেতনের বাউলদের আমি খুব ভালো ভাবে দেখেছি।তাদের মাধুকরী দেখেছি।রতনকুঠীতে একটা ছোট্ট গেস্ট হাউসে আমরা ছিলাম সেই সময়ে ।ছোটবেলায় ট্রেনে বাউলদের গান গাইতে দেখেছি।আমিও বাউল গান গাইতাম।বিদেশে গিয়ে দেখেছি সারা পৃথিবীর ফোক আর্টিস্টদের জয় জয়কার ।এবং সেখানে আমাদের দুএকজন বাউল শিল্পী পৌছাতে পেরেছেন।পূর্ণ দাস বাউল,পবন দাস বাউল গেছেন।কিন্তু আমাদের হাজার হাজার বাউল যেতে পারেননি।লোকসঙ্গীত আমাদের মজ্জায়।আমাদের রক্তে প্রবাহিত।শান্তিনিকেতনের জল হাওয়ায় থেকে এই গভীরতা আমি বুঝেছি মর্মে মর্মে।

এই জল হাওয়ায় থেকেই আপনি ঢাকিদের আবিষ্কার করলেন?

তন্ময় বোস : একেবারেই।দুর্গাপুজোর সময় আমি গোকুল দাস বলে একজন ঢাকিকে আইডেন্টিফাই করি।ওকে বাড়িতে ডাকি।শেখাই।তারপর গোকুলকে নিয়ে ব্যাণ্ডের মধ্যে অনুষ্ঠান করি।

এখানে একটা প্রশ্ন আসে।অনেক সমালোচোকের মতে ফোক আর্ট ফর্মকে আধুনিকীকরণ করলে সেটা পিওর আর্ট ফর্ম থেকে সরে আসে।আপনার কি মনে হয় শিল্পের বিবর্তনের প্রয়োজন?

তন্ময় বোস : সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিবর্তন প্রয়োজনীয়।তা না হলে ওই আর্ট ফর্ম হারিয়ে যাবে।গোকুল একটা সময়ে মনের দুঃখে দোকান খুলেছিল।কারণ ঢাক বাজিয়ে তেমন ওর রোজগার হচ্ছিল না।ও খুব অসম্মানিত বোধ করত।

বাউল গানের আর কী কী দিক আপনার কাছে ধরা পড়েছে?

তন্ময় বোস : নদীয়ার রাণাঘাটের হসপিটালে আমার মাসি ডাক্তার ছিলেন।আমি রাণাঘাটে যেতাম ছোটবেলায়।সেখানে নদীয়ার বাউলদের গান  শুনেছি।বীরভূমের বাউল অনেক স্মার্ট।এর কারণ রবীন্দ্রনাথ।হাজার হাজার বিদেশি শান্তিনিকেতনে যান।সাংস্কৃতিক বিনিময় হয়।অন্যদিকে নদীয়ার বাউল অনেক গেঁয়ো।তারা শান্তিনিকেতনী বাউলদের মতো নাচতে জানেন না।লালন সাঁই ,সিরাজ সাঁই,রাধারমণ,এনারা মাটির কথা লিখেছেন জীবন বোধ দিয়ে।বাউল গানের তত্ত্ব ক’জন বোঝেন?অধিকাংশ মানুষের কাছে এটা এন্টারটেইনমেন উইন্ডো।আবার এও সত্যি  অনেক ছেলে মেয়ে আজ বাউল গানের টানে তাদের আখরায় গিয়ে বসে আছে।হেডফোনে এখন ছেলে মেয়েরা গান শুনছে বলেই ভারচুয়াল মিউজিক ‘কল অফ দ্য ডে’ হয়ে উঠছে।মানসিক উত্তরণ যার যত বেশি,তার কাছে শব্দ সেভাবেই ধরা দেবে।মিউজিক এক প্রকার আবহমান শব্দের স্রোতমালা।বৈভব, প্রতিষ্ঠা এসব থাকবেই।জর্জ হ্যারিসনের ভাষায় এগুলো মেটিরিয়ালিস্টিক ওয়ার্ল্ডের দৃষ্টান্ত।কিন্তু এর অন্তর্বর্তী স্তরে ডুব দিলে তবেই মাধুর্যের প্রকাশ পাবে।

আরও পড়ুন:  কেন বিয়ের পিঁড়িতে বসা হল না এই অভিনেত্রীদের

পণ্ডিত রবিশঙ্করজির সঙ্গেও আপনার নানান অভিজ্ঞতা আছে।সে সম্পর্কে কিছু বলুন

তন্ময় বোস : লসএ্যাঞ্জেলসে পণ্ডিত রবিশঙ্করের সঙ্গে আমি থাকতাম।কনসার্ট ফর জজ ডিভি ডি রিলিজ অনুষ্ঠানে আমি পণ্ডিতজির সঙ্গে গিয়েছিলাম।রবিশঙ্করজি যখন ঢুকছেন তখন প্রথম সারির সব স্টলওয়ার্ট শিল্পী হাত জোড় করে দাঁড়ালেন।আমরা যখন ফিরছি তখন আমি ওনাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম —“সারা পৃথিবীর কাল্ট ফিগার আপনাকে দেখে হাত জোড় করে দাঁড়াচ্ছে।কিন্তু প্রত্যেকবার কোনও কিছু চাইবার সময় সবাইকে প্লিজ বলে সম্বোধন করেন।এই মানসিক অবস্থান কী করে আসে”? রবিশঙ্করজি বললেন —“আমি বড় হওয়ার সময় আমার দাদা উদয় শঙ্করজিকে দেখেছি।জাহাজে করে আমরা প্যারিস লণ্ডন আমেরিকায় গিয়েছি।সেখানে রোমা রোঁলার সঙ্গে দেখা হয়েছে।আসলে কি জানো,পাহাড় সমুদ্রের সামনে দাঁড়ালে নিজের অবস্থা বোঝা যায় মনে হয় আমরা কত ছোট,কত নগন্য”।আমার যত বয়স বাড়ছে ততই বুঝতে পারছি এই কথার অসল অর্থ ।যারা নিজেদের পাহাড় সমুদ্র মনে করে,তারা আদতে কোনওদিনই পাহাড় সমুদ্রের সামনে দাঁড়ায়নি। 

মিউজিকের মাধ্যমে কি বিভেদ বৈষম্য দূর করা সম্ভব?

তন্ময় বোস : দেখুন শব্দের কোনও বেড়াজাল নেই। মানসিক উত্তরণ যার যত বেশি,তার কাছে শব্দ সেভাবে ধরা দেবে।একটা রাগের মধ্যম,পঞ্চম কিংবা গান্ধার আপনাকে তখনই বশীভূত করতে পারবে যখন আপনি সঙ্গীতের কাছে নিজেকে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করবেন।

জীবনে আপনার বহু অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা হয়েছে।এমন কোনও শিক্ষা আছে যা আজও আপনার মনে বাজে?

তন্ময় বোস : এক পুরানো উস্তাদজি বলেছিলেন — বেআদপ বে নাসিব,বা আদপ বা নাসিব।মানে যে বেয়াদপি করবে তার কপালও তার সঙ্গে বেয়াদপি করবে।আর যে বা আদপ হবে মানে যে আদপ কায়দা মেনে চলবে কপাল তার সঙ্গ দেবে।এখনকার মিউজিয়ানদের মধ্যে এই বা আদপের অভাব লক্ষ্য করি।

NO COMMENTS