‘তারিখ’ : হাল আমলে দেখা সবচেয়ে দুঃসাহসিক ছবি!

সিনেমা শেষ হওয়ার পর চুপ করে কিছুক্ষণ বসে ছিলাম সিটে। মনে হচ্ছিল, এতক্ষণ কী দেখে উঠলাম এটা? টের পাচ্ছিলাম, হালে যে কটা বাংলা ছবি দেখেছি, তার মধ্যে সবচেয়ে দুঃসাহসিক সিনেমা বোধহয় এই ‘তারিখ’।

গড়পড়তা বাংলা সিনেমা তৈরি হয় দর্শকদের কথা মাথায় রেখে। ছবির মধ্যে এদিক-ওদিক ডিরেক্টররা ঠেসে দেন মন-ভরানো গিমিক। কারণ ওটাই বাজারে বেশি ভাল খায় কিনা। আর অন স্ক্রিন ছবির গল্প যতটা সম্ভব সোজাভাবে বলা হয়। যাতে স্ক্রিনে কী হয়ে চলেছে, বুঝতে পারে লোকে। ন্যারেটিভ নিয়ে বিশেষ কোন প্যাঁচ-পয়জার যথাসাধ্য এড়িয়ে যাওয়া হয়। কেস একটু হাতের বাইরে যেতে দেখলেই, সহজ করে বুঝিয়ে দিতে লম্বা কোন ভয়েস ওভার চলে।

যা দেখেছি, মোটের ওপর এটাই হল বাজার-চলতি বাংলা ছবির ছাঁচ।

আর ‘তারিখ’ এই ছাঁচের থেকে একশো আশি ডিগ্রি উলটো একটা ছবি।

যে ছবিটা বানাতে গিয়ে ডিরেক্টর বোধহয় তোয়াক্কা করেননি কারুর। ঠিক নিজের যে ভাবে ইচ্ছে, তেমন করে বানিয়েছেন ছবি। ভিউয়ার কতটা বুঝল কিংবা বুঝল না, ন্যারেটিভের কোন অংশ ধরতে পারল, কোন লিংকটা বুঝতে গিয়ে স্লিপ খেয়ে গেল অল্প, তাতে বয়েই গেল তাঁর।

আট বছর আগে ‘উড়োচিঠি’ (২০১১) নামে একটা ছবি হয়েছিল, কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের প্রথম ছবি সেটা। সেখানে ছিল একের পর এক পুরনো এসএমএস-এর সূত্র ধরে স্মৃতির পাহাড় উপচে আসার স্টোরি।

‘তারিখ’ দেখার সময় সেটার কথা মনে পড়ে গেল, কারণ এখানে আছে পুরনো সব ফেসবুক পোস্টের সূত্র ধরে জমতে থাকা পুরনো দিনের ছবি।

তবে ‘উড়োচিঠি’র সঙ্গে এ ছবির মেজর ফারাকটা কী জানেন? ফ্ল্যাশ ব্যাক সিনে ভর্তি হলেও ‘উড়োচিঠি’র ট্রিটমেন্টটা এমন ছিল যে কোনটা অতীত, কোনটা এখন, কীসের পরে কী হচ্ছে, বুঝতে গিয়ে হোঁচট লাগেনি কোথাও।

কিন্তু ‘তারিখ’ ছবিতে টাইমলাইনের যে খেলাটা ডিরেক্টর খেলে রেখেছেন, সেটা বাংলা ছবির হিস্ট্রিতে সম্ভবত অভূতপূর্ব খেলা। ফেসবুকের টাইমলাইন ইচ্ছেমত স্ক্রোল করা যায় যেমন, এই ছবির ন্যারেটিভের টাইমলাইনও অনেকটা তেমন ভাবে ইচ্ছেমত স্ক্রোল করেছেন তিনি!

এই হয়তো তিন বছর পিছিয়ে গিয়ে একটা সিন দেখালেন, তারপরেই দেখালেন তিন মাস আগের একটা সিন। এরপর দেড় বছর আগের একটা সিন, তারপর সেই দিনের সাঁইত্রিশ দিন পরের একটা দিন!

কোন তারিখের সিন চলছে, আর সেই তারিখের স্পেশ্যালিটি কী, স্ক্রিনের এক কোণে লেখাও থাকছে সেটা। প্রথম প্রথম এই বর্ণনা পড়ে, কোন ঘটনার সঙ্গে আসলে কোন ঘটনার লিংক, সেই হিসেব রাখার চেষ্টা করি আমি। সিনেমা যত এগোতে থাকল, বুঝতে পারলাম, আমার পক্ষে পুরো সিনেমা জুড়ে এটা করতে থাকা প্রায়-অসাধ্য কাজ।

নিজেকে তখন পুরোপুরি সারেন্ডার করে দিলাম ডিরেক্টরের কাছে। যে ঠিক আছে, যত ইচ্ছে আগুপিছু করতে থাকুক স্টোরি। যে ভাবে আপনার মন চায়। আলাদা করে দিনের হিসেব রাখতে চাই না আর। দেখি শেষ অবধি পুরোটা দেখে মনের মধ্যে কী ইমপ্যাক্ট হয়।

আর সেই ইমপ্যাক্ট তো আগেই লিখেছি আমি! ছবি শেষ হওয়ার পরেও সিট থেকে কিছুক্ষণ দাঁড়াতে পারিনি উঠে। মনে হচ্ছিল, বক্স অফিসকে পরোয়া না করে এমন লেভেলে এক্সপেরিমেন্ট আজকের দিনে করতে পারে কি কেউ? সাধে তো এটা লিখিনি যে, হাল আমলে ‘তারিখ’ হল আমার দেখা সবচেয়ে বেশি দুঃসাহসিক ছবি।

ছবিতে আখ্যান বলতে যেটুকু রয়েছে, তার মূল চরিত্র তিনজন মোটে মানুষ। ইংরেজির প্রোফেসর অনির্বাণ গুপ্ত (শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়), তাঁর ছোট্টবেলার বান্ধবী-কাম-বড়বেলার স্ত্রী ইরা মুখোপাধ্যায় (রাইমা সেন), আর অনির্বাণের খুব কাছের বন্ধু রুদ্রাংশু নন্দী (ঋত্বিক চক্রবর্তী)।

অনির্বাণ আগে ফেসবুকে ঢুঁ মারেনি কখনও। হঠাৎ করে একদিন ফেসবুকের নেশা ধরল ওর। আর সেখান থেকেই শুরু হল ওর সারাটা দিন ফেসবুকে মেতে থাকা। ছবির ন্যারেটিভেরও কার্যত সেখান থেকেই শুরু।

অনির্বাণ এটা তো ভালোই বুঝতে পারে, যে ওর মনের সঙ্গে ওর বউ ইরার মনের হাজার মাইল ফারাক। ও মিশরের পিরামিডে গিয়ে ঘুরতে চাইলে ওর বৌ চায় ফুর্তি করতে আমেরিকা ট্যুর হোক। ও যখন ওয়ার্ডসওয়ার্থ বা ভার্জিল পড়ে, ওর বৌ তখন শপিং মলে ঘুরে বেরিয়েই খুশি। কিন্তু অনির্বাণ কি এই কথাটাও বুঝতে পারে যে তলায় তলায় ওর বন্ধু রুদ্রের সঙ্গে ইমোশনালি জড়িয়ে পড়ছে ইরা?

ওদের মধ্যে কি কোন ফিজিক্যাল রিলেশনও আছে?

টাইম লাইন এগোতে থাকে, পিছতে থাকে, কমপ্লিকেটেড শহুরে লাইফ মন্থন করে একদিন এর আবছায়া কোন উত্তর ভেসে ওঠে।

আবার অনির্বাণের নিজের জীবনেও কম রহস্য নেই! নিজের জন্মদিনগুলো কেন ছুতোয়-নাতায় লন্ডনে একা কাটিয়ে আসে অনি? জর্জিনা অ্যাবট নামে সেখানে কি তার কোন বিশেষ বন্ধু আছে? লন্ডনে থাকার সময় জন্মদিনেও সারাটা দিন কলকাতা থেকে আসা বৌয়ের ফোন কেন ধরতে চায় না ও? কেন হঠাৎ এসএমএস করে ‘আমি পারলাম না, স্যরি’ বলে? ছবির শেষের দিকে এই ধাঁধাগুলোও ক্রমে ক্রমে যেন সহজবোধ্য হবে।

এরই মধ্যে এসে পড়ে দোলের টুকরো কথা। দোলের দিন অনির্বাণের কলেজের এক প্রোফেসর তমজ্যোতি পাল স্নেহা নামে এক ছাত্রীর মলেস্টেশন করে। সেটা নিয়ে তুমুল হৈ-চৈ হয় শুরু। ছাত্রদের সমর্থনে অনির্বাণ গিয়ে দাঁড়ায় তাদের পাশে। ফেসবুকে পোস্টও করে সে সব বিষয় নিয়ে। পরিণামে কলেজ ‘শো কজ’ করে তাকে।

এরই মধ্যে দোলের দিন রাত্রিবেলা অনির্বাণ, ইরা আর রুদ্রাংশু বসে খেলে সত্যি বলার খেলা। সেই খেলার দৃশ্য যে কী অমোঘ ভাবে পুরো সিনেমার শরীর জুড়ে টুকরো টুকরো করে ছড়িয়ে দেওয়া আছে! যত এগোচ্ছে ছবি, তার সঙ্গে তাল রেখে খুলছে খেলার নতুন নতুন লেয়ার, আর আপনি বুঝতে পারছেন, নিছক এক খেলার সময়ে কেমন করে মনের মধ্যে ঘুমিয়ে থাকা আগ্নেয়গিরি জাগে!

এই অবধি পড়ে নিশ্চয় বুঝতে পারছেন ছবিতে প্যারালালি টুকরো টুকরো অনেক কিছু হয়। তবে মনে রাখবেন সিনেমার শুরুই হচ্ছে ছোট্ট একটা খবর শুনিয়ে, যে অনির্বাণ আর নেই! ঠিক এখান থেকে ফেসবুকের স্ক্রোল ব্যাক করা শুরু, পুরনো পুরনো পোস্ট থেকে পুরনো দিনক্ষণ ভেসে ওঠা।

কেন, কী ভাবে চলে গেল সে, এই ছবিতে সে সব ডিটেল বিশেষ কিছু নেই। শুধু এটুকু আপনি জানতে পাবেন, দূর প্রবাসে নিজের জন্মদিনে ঘুমের মধ্যে হঠাৎ করে তার এরকম চলে যাওয়া।

ছবির মাঝবরাবর এই মুহূর্তটা নতুন করে তৈরি হবে যখন, তখন হয়তো মনের মধ্যে ধাক্কা মারবে লন্ডনে ওর পাড়ি দেওয়ার আগের সিনটা জাস্ট। ব্যাগ গুছনোর পালা। পেছন থেকে ওকে ধরে ওর পিঠে নিজের মুখ রাখছে ইরা। আর তারপরে ঘুরে দাঁড়ায় ও, দুজনের সে কী প্যাশনেট কিস। ইরা ওকে ফিসফিস করে বলছে যে, নতুন করে আবার বোধহয় প্রেগন্যান্সির পালা। ঠিক এখান থেকে যখন আপনি এসে পৌঁছবেন মৃত্যু সংবাদ আসার সেই লং ডিসট্যান্স কলে, তখন দেখবেন গায়ে কাঁটা দিয়ে যায় কেমন।

ক্যালেন্ডারে সাজিয়ে রাখা ৩৬৫টা দিন। নিজের জন্মদিনটা জানি। নিজের অন্য যে সব স্পেশ্যাল তারিখ, হদিশ রাখি তারও। সেই মতো সেলিব্রেশনও হয়। কিন্তু তখন কি আর খেয়াল রাখি এই ৩৬৫ দিনের মধ্যে একটা তারিখ আমার মৃত্যুদিনও হবে! আর কে বলতে পারে, সেই মৃত্যু হয়তো দাঁড়িয়ে আছে আমার গায়ের সঙ্গে ঘেঁষে!

প্রথম ছবি ‘নির্বাসিত’ (২০১৪)। তারপর পরিচালক চূর্ণী গাঙ্গুলীর দ্বিতীয় ছবি এটা। দ্বিতীয় ছবি করতে গিয়েই এত ম্যাচিওরড, এত স্টাইলাইজ্‌ড একটা অ্যাপ্রোচ নেবেন, বিন্দুমাত্র আঁচ করিনি আগে! প্রথম ছবি ‘নির্বাসিত’ তো মোটের ওপর লিনিয়ার স্টোরি ছিল! সেটা দিয়ে শুরুর পরেই এটা!

চূর্ণীর মোটে দুটো ছবি হল। স্বামী কৌশিক বড়পর্দার জন্য বানিয়ে ফেলেছেন প্রায় গোটা বিশেক ছবি। তিনিও কিন্তু বলতে গেলে সব ছবিতেই গোদা ভাবে গল্প বলতে বলতে গেছেন। মনে হয়নি তাঁর মধ্যে কোথাও আদৌ চূর্ণীর মত ন্যারেটিভ ভেঙে পরীক্ষা করার স্পর্ধা রয়েছে বলে!

ছবিতে এমন কয়েকটা দৃশ্য রয়েছে, যে ইমেজগুলো চট করে ভুলতে পারবো না বোধহয়। তার মধ্যে একটা হল, অনির্বাণ চলে যাওয়ার ঠিক পরে শুভ্রবসনা ইরা যখন বাথরুমে ঢুকে নিজের পুরো মাথায়-মুখে সিঁদুর বাটি উপুড় করে দেয়! নীরক্ত আর ফ্যাকাশে মুখ, ম্লান হয়ে যাওয়া শাড়ির সঙ্গে সেই লালের আগুন বৈপরীত্যের তুফান তুলল যেন!

বা ধরুন, অনির্বাণ চলে যাওয়ার কথা শুনে বাড়িতে বহুদিন পর পা রাখছে রুদ্রাংশু আর ইরার সঙ্গে তখন একবার চোখাচোখি হচ্ছে তার। দু’জনে আলাদা করে সরে যাচ্ছে অন্য একটা ঘরে আর তারপরে অফ স্ক্রিন কান্নার যে শব্দ আসতে থাকে, সেটা যেন জাস্ট ঘা মারে সোজা বুকে।

অনির্বাণ আর ইরার ছোট্ট মেয়ে নীহারিকার (অ্যাডোলিনা চক্রবর্তী) ছোট্ট মুখে আলগোছে জীবনের পরম সত্যিগুলো যে ভাবে একেকবার ছেড়ে দিচ্ছিলেন চূর্ণী, প্রায় আঁতকে উঠছিলাম শুনে। পরম একটা ধাঁধা তৈরি হচ্ছিল ছবিতে যে, সে আসলে কার মেয়ে? সত্যি সত্যি অনির্বাণের? নাকি রুদ্রাংশুর?

রুদ্র আর ইরা ওকে ‘নিনি’ বলে ডাকে, অনির্বাণ ডাকত পুরো নাম ধরে। সেটা মার্ক করে অনির্বাণ একসময়ে বলেই ফেলে দেখবেন, ‘তোরা দুজন নিনি বলে ডাকিস, আমি নীহারিকা। ঠিক যেন তোরা ওর মা-বাবা, আমি বাইরের লোক!’

আর অনির্বাণ বরাবরের মতো চলে যাওয়ার পর কী সহজ ভাবে রুদ্রাংশুর কাছে জানতে চাইল নীহারিকা, ‘রুডি – তুমি কি এখন আমার বাবা?’

স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল, কী অপরিসীম যত্ন নিয়ে ছবির স্ক্রিপ্ট আর ডায়ালগ সাজিয়েছেন চূর্ণী। মুহূর্তগুলো এত রিয়্যাল যে, মনে হচ্ছিল জীবনের এসব মোমেন্ট যাপন করার অভিজ্ঞতা তাঁর নিজেরও যেন আছে!  

কফিনের মধ্যে ঢুকে থাকা অনির্বাণের মরদেহের সঙ্গে যখন মিলিয়ে দিচ্ছিলেন ছোট্ট অনির্বাণের আলমারিতে আটকে পড়ার ক্লসট্রোফোবিয়া, বা অন্য একটা দোলের দিনে ফস করে যখন রুদ্রাংশুকে অনির্বাণের ডাকনাম ধরে ডেকে ফেলছেন অনির্বাণের মা (অলকানন্দা রায়) – মনে হচ্ছিল জীবনের বহু-বিচিত্র ম্যাজিক অন স্ক্রিন ফুটে উঠছে দ্রুত।

ছবির অভিনেতাদের নিয়ে আলাদা করে কিছু লেখার মানে হয় না কোন। বরং এটুকু শুধু লিখে রাখি ছবির ক্যামেরা, এডিট আর গানের ব্যবহারও রীতিমত চমকে দেওয়ার মত!

তবে হ্যাঁ, ছবিটা নিয়ে অবশ্য কিছু সমালোচনাও আছে। বহু বছরের সংস্কারে ঢাকা মন তো আসলে আমার। সে জন্য এটা দেখতে চোখে লাগছিল যে, ইংরেজির বিদগ্ধ এক অধ্যাপকের স্ত্রী হোটেলে রিসেপশনিস্টের কাজ করেন। কোন কাজই ছোট নয় জানি, তবু খটকা একটা রয়ে গেল, পুরো ছবিটায় ইরার এই পেশা সম্পর্কে অনির্বাণের নিজের মুখে একটা শব্দও শুনতে পাই না কেন!

ছবির শেষে তুমুল একটা কাকতালীয় ঘটনা আছে। দেখতে কিছুটা অবিশ্বাস্য লাগে। এটাও ছবির শরীরে একটা দুর্বলতার মতো।

আর চূর্ণী, নিজে আপনি ফেসবুক খুব ইউজ করেন না, না? তাই ফেসবুক নিয়ে তৈরি ছবিতে দেখলাম ফেসবুকের ইউজেস নিয়ে চোখে পড়ার মতন ভুল।

ওই সিনটা মনে করুন, অনির্বাণের চলে যাওয়ার অল্প কিছু পরে। ইরা তখন অফিস যাওয়া বন্ধ করে তুমুল এক ডিপ্রেশনে ঘরবন্দি আছে। রুদ্রাংশু এসেছে ওর ফ্ল্যাটে। ইরাকে বকতে গিয়ে বলছে, বাড়ি থেকে বের হোচ্ছ না, অথচ চব্বিশ ঘণ্টা অন থাকছ ফেসবুকে? সব দেখছি কিন্তু আমি। কথা শুনে ‘হাঁ’ হয়ে ওর দিকে তাকাচ্ছে ইরা। বলছেটা কী রুদ্র? ওর তো ফেসবুক অ্যাকাউন্টই নেই! ওর দৃষ্টি বুঝতে পেরে রুদ্র বলছে, হ্যাঁ, আগে ছিল না, এখন বাধ্য হয়ে ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট খুলে নিয়েছি আমি।

এবার এখানে মুশকিল হল এটা যে, ফেসবুকে নতুন অ্যাকাউন্ট খুললেই রুদ্রের পক্ষে কিন্তু ইরা অনলাইন আছে কিনা তা বোঝা সম্ভব নয়। এর জন্যে আগে রুদ্রকে ইরার ফ্রেন্ড লিস্টে আসতে হবে। তাই না? সংলাপ লেখার তোড়ে এই ভ্রান্তিটা যে রয়েই গেল, চূর্ণী হয়তো খেয়াল করেননি সেটা!

তবে সবচেয়ে বড় সমালোচনা এইটে যে, ছবিটা শুধু সোশ্যাল মিডিয়ার স্তুতিই করে গেল! ছবির শরীরে চূর্ণী লিখে দিলেন এই কথাগুলো, ‘সোশ্যাল মিডিয়া টুডে ইজ আ পাওয়ারফুল, কমিটেড মোড অফ কমিউনিকেশন ইন ব্রেকিং ব্যারিয়ারস অ্যান্ড ইনিশিয়েটিং আ চেঞ্জ’। হ্যাঁ, সত্যি কথা সব। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়া ইউজ করার দীক্ষাটুকু না থাকলে যে ভয়াবহ সর্বনাশও হতে পারে, পুরো ছবিতে সেটা নিয়ে কোন শব্দ নেই?

ছবিটা দেখে যখন বেরিয়ে আসছি, নিজের ভেতরে ঘুরে বেড়াচ্ছে রুদ্রাংশুর বলা ওই কথাগুলো, ‘জীবনের কোন দিন যে কোন মোড়ে এসে দাঁড় করাবে, কেউ জানে না। প্রত্যেকটা দিন আনন্দ কর। সেলিব্রেট লাইফ।’

টের পাচ্ছি নিজের জীবনকে নতুন করে তখন। ধরতে ইচ্ছে করছে গিয়ে নিজের কাছের জনের হাত। এই অনুভূতি নতুন করে মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে রাখি, চূর্ণী!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here