রাশিয়ার থেকে থাইল্যান্ডের যুদ্ধ কম মরণপণ ছিল না | রাশিয়ায় যুদ্ধের শেষ অঙ্ক এখনও বাকি | থাইল্যান্ডে আগেই যবনিকা পড়ল রুদ্ধশ্বাস সংগ্রামের উপর | 

মায়ানমার এবং লাওসের সীমান্তে চিয়াং রাই প্রদেশের থাম লুয়াং গুহা পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয় | গত ২৩ জুন গুহায় আটকে পড়ে ১২ জন কিশোর ফুটবলার এবং তাদের প্রশিক্ষক | বৃষ্টি থেকে বাঁচতে আর কিছুটা অ্যাডভেঞ্চারের মেজাজে তারা ঢুকেছিল গুহায় | ভেবেছিল বৃষ্টি কমলে বেরিয়ে আসবে | উল্টে প্রবল বর্ষণে প্লাবিত হয়ে যায় গুহা | থাইল্যান্ডের নৌবাহিনী মরিয়া চেষ্টা করতে থাকে উদ্ধারের |

প্রথমে তো চিহ্নিতই করা যাচ্ছিল না গুহায় বন্দিদের অবস্থান | শেষে ডাইভাররা গিয়ে গুহা তোলপাড় করে তাদের দেখতে পায় | ক্রমাগত গুহায় যোগান দেওয়া হচ্ছিল খাবার ও অক্সিজেন | 

কিন্তু গুহার ভিতরে অবস্থা এমনই ছিল‚ ডাইভ দেওয়া ছাড়া উদ্ধার অসম্ভব হয়ে দেখা দেয় | এদিকে খুদে মুখগুলো সাঁতারই জানত না | ডাইভ দেওয়া তো কোন ছাড় | তাদের ভিডিও রেকর্ডিং করে আনেন একজন ডাইভার | গুহার বাইরে উদ্বিগ্ন বাবা মায়ের মুখে আশার আলো ফোটে | কিন্তু তখনও উদ্ধার ছিল দূর অস্ত | এমনও আশঙ্কা করা হচ্ছিল হয়তো আগামী তিন চারমাস ধরে পুরো বর্ষার মরসুমই গুহায় থাকতে হবে বন্দিদের |

অবশেষে সব শঙ্কা দূর করে স্বস্তি | অসাধ্যসাধন থাই নেভি সিল-এর | একে একে উদ্ধার করা হল ১২ জন ফুটবলার এবং তাদের প্রশিক্ষককে | কিশোরদের হাল্কা তন্দ্রাচ্ছন্ন করে বাইরে বের করে আনা হয় | কারণ যে পথে জলের ঘূর্ণির মধ্যে দিয়ে তাদের বের করে আনা হয় তা খুবই বিপদসঙ্কুল | দেখলে ভয় পেয়ে যেতে পারত খুদেরা | তাই এই সিদ্ধান্ত | সবার শেষে বাইরে আনা হয় ২৫ বছর বয়সী তরুণ প্রশিক্ষককে |

প্রত্যেকের ওজন গড়ে দু কেজি করে কমেছে | আরও ভয়াবহ তাদের মানসিক আতঙ্ক | স্থিতাবস্থা ফিরতে সময় লাগবে | একজনের ফুসফুসে সংক্রমণ আছে | বাকিরা সুস্থ | গুহায় আটকে পড়ার ৯ দিন পরে জানা যায় তারা আসলে সেখানে | তারও ৯ দিন বাদে উদ্ধার | ঘরের ছেলে ঘরে ফেরায় পরিজনরাও বেরোলেন দুঃস্বপ্নের ঘোর থেকে | আর উদ্ধারকারীদের মধ্যে তো গুহার প্লাবনের থেকেও প্লাবিত উচ্ছ্বাস | রাশিয়ায় যা-ই হোক না কেন‚ আসল কাপ কিন্তু জিতলেন তাঁরাই | 

Banglalive
আরও পড়ুন:  নরেন্দ্র মোদী থেকে অমিত শাহ‚ বিজেপি-র 'তাবড় নেতারা' যখন কাকতাড়ুয়া

NO COMMENTS