সাধনার জন্য কোলের শিশুকে রেখে সাময়িক সংসার ত্যাগ‚ পূর্ণ সম্মতি স্বামীর

সাধনার জন্য কোলের শিশুকে রেখে সাময়িক সংসার ত্যাগ‚ পূর্ণ সম্মতি স্বামীর

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

তপস্যার জন্য দুধের শিশুকে রেখে সাময়িক ভাবে সংসার ত্যাগ করেছিলেন | পূর্ণ সম্মতি ও সহযোগিতা ছিল স্বামীর | সঙ্গীতের সপ্তসুরেই ঈশ্বর সান্নিধ্য উপভোগ করেছেন ঠুংরি সম্রাজ্ঞী গিরিজা দেবী |

# উত্তর ভারতের রক্ষণশীল হিন্দু পরিবারে জন্ম ১৯২৯-এর ৮ মে | বড় হওয়া দুই দিদির সঙ্গে | দু বছর বয়সে তাঁর পরিবার চলে আসে বেনারসে | এই প্রাচীন শহর ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে যায় তাঁর জীবনচর্চার সঙ্গে | 

# বন্ধুদের সঙ্গে খেলতেন গঙ্গার পারে বালির চরে | সাঁতরে চলে যেতেন মাঝ গঙ্গায় | ভরা জোয়ারে ধরতেন মাছ | হাতের মধ্যে খলবলানি দেখেই ছেড়ে দিতেন আবার জলে | পরিণত সময়ে সেই যন্ত্রণাই ফুটে ওঠে তাঁর কণ্ঠে |

# বাবা ছিলেন গোঁড়া রাশভারী জমিদার | কিন্তু মেয়ের বেলায় উদার ভাবে শিক্ষার আয়োজন করেছিলেন | ছোট থেকেই গিরিজা দেবী ছিলেন ডানপিটে | বাবা রামদেও রাই তাঁর জন্য ঘোড়ায় চড়া‚ ফেন্সিং শিক্ষার আয়োজন করেছিলেন |

# সঙ্গীতের প্রতি গভীর অনুরাগ দেখে মেয়ের জন্য সঙ্গীতচর্চার ব্যবস্থা করলেন বাবা | পাঁচ বছর বয়সে গিরিজা গুরু হিসেবে পেলেন পণ্ডিত সঞ্জুপ্রসাদ মিশ্রকে | খেয়াল‚ ঠুংরি ‚ টপা-সহ ধ্রুপদী সঙ্গীতের বিভিন্ন শাখায় শুরু হল গিরিজার পদচারণা | তাঁর অপর গুরু ছিলেন শ্রীচাঁদ মিশ্র |

# কিন্তু বাবা রামদেও ছাড়া পরিবারের আর কেউ গিরিজার সঙ্গীতচর্চাকে পছন্দ করতেন না | বিশেষ করে মা ও ঠাকুমা তীব্র বিরোধিতা করতেন | তবে পরবর্তীকালে যশস্বী মেয়ের বিশেষ গুণগ্রাহী হয়ে উঠেছিলেন মা |

# মাত্র পনেরো বছর বয়সে বিয়ে হয় গিরিজা দেবীর | বিখ্যাত ব্যবসায়ী মধুসূদন জৈনের সঙ্গে | তাঁর স্বামী সঙ্গীতের অত্যন্ত গুণগ্রাহী ছিলেন | স্ত্রীকে উৎসাহ দেন সঙ্গীতচর্চা ও অনুশীলন এগিয়ে নিয়ে যেতে |

# বিয়ের এক বছরের মধ্যেই কন্যার মা | একদিকে সংসার | অন্যদিকে সঙ্গীতের আহ্বান | দোটানায় বিদ্ধ হচ্ছিলেন গিরিজা দেবী | সংসারকে নাগপাশ বলে মনে হচ্ছিল | শেষে আর দু নৌকায় পা রাখলেন না | সঙ্গীতচর্চার জন্য সাময়িকভাবে ত্যাগ করলেন সংসার |

# চলে গেলেন সারনাথ | দুধের শিশুকে রেখে গেলেন মায়ের কাছে | স্ত্রীর জন্য বাড়ির ব্যবস্থা করলেন গিরিজার স্বামী |

# সেখানেই দিনরাত সঙ্গীতসাধনা | রোজ দেখা করতে আসতেন সঙ্গীতসাধনার গুরুজি এবং স্বামী | এক বছরের নিগূঢ় সাধনা বদলে দিল তাঁর জীবনদর্শন |

# বেনারসে ফিরে এসে স্বামীর পূর্ণ সম্মতি‚ উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় শুরু করলেন পেশাদার শিল্পীর পথ চলা | স্বামী বলেছিলেন কোনও ব্যক্তিগত মজলিশে গান না গাইতে | সে ইচ্ছেকে সম্মান করেছিলেন গিরিজা দেবী | সঙ্গীত পরিবেশন করতেন পাবলিক কনসার্টে | কুড়ি বছর বয়সে আকাশবাণীতে প্রথম অনুষ্ঠান‚ এলাহাবাদ থেকে |

# ১৯৭৫ সালে স্বামীবিয়োগে কিছুদিন থমকে যায় তাঁর জীবনের ছন্দ | ফিরে পান সঙ্গীতের আশ্রয়েই | 

# শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ঠুমরিকে জটিলতামুক্ত করে নতুন রূপ দেন গিরিজা দেবী | বেনারস ঘরানার মূল স্তম্ভ তিনি | সঙ্গীতের মাধ্যমেই উপলব্ধি করেছেন ঈশ্বর সান্নিধ্য | সঙ্গীত সাগরে সন্তরণই ছিল তাঁর পরম আনন্দের |

# জীবনের মধ্য থেকে শেষপর্ব কাটিয়েছেন কলকাতায় | বেনারস হিন্দু ইউনিভার্সিটি এবং সঙ্গীত রিসার্চ অ্যাকাডেমি‚ শিক্ষকতা করেছেন দু প্রতিষ্ঠানেই | 

# সম্প্রতি‚ ২৪ অক্টোবর সুরলোকের পথে যাত্রা করেছেন এই ঠুংরি সম্রাজ্ঞী | রেখে গেছেন তাঁর শাশ্বত সৃষ্টি |  

(তথ্য : girijadevi.com)

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

Leave a Reply

Handpulled_Rikshaw_of_Kolkata

আমি যে রিসকাওয়ালা

ব্যস্তসমস্ত রাস্তার মধ্যে দিয়ে কাটিয়ে কাটিয়ে হেলেদুলে যেতে আমার ভালই লাগে। ছাপড়া আর মুঙ্গের জেলার বহু ভূমিহীন কৃষকের রিকশায় আমার ছোটবেলা কেটেছে। যে ছোট বেলায় আনন্দ মিশে আছে, যে ছোট-বড় বেলায় ওদের কষ্ট মিশে আছে, যে বড় বেলায় ওদের অনুপস্থিতির যন্ত্রণা মিশে আছে। থাকবেও চির দিন।