কলেজের গণ্ডি না পেরোনো তরুণ আজ বহু বিখ্যাত বহুজাতিক সংস্থার পরামর্শদাতা

612
entrepreneur vandit shah

আমেদাবাদের উদ্যমী, প্রাণবন্ত তরুণ বন্দিত শাহ। ২৭ বছর বয়স। একাধারে বাণিজ্য উদ্যোক্তা, আইটি পরামর্শদাতা, প্রজেক্ট কনসালটেন্ট, একজন পেশাদার সেলস ট্রেনার এবং একজন লেখক। জীবনের পথ চলতে চলতে নানান বিষয়ে জ্ঞান আয়ত্ত করেছেন তিনি, হয়েছেন অভিজ্ঞ। সারাজীবন ধরে কিছু না কিছু শেখার থাকে। বন্দিত কখনও কলেজ যাননি, কোনও বিশেষ ডিগ্রিও নেই তাঁর। খুব সাধারণ হাই স্কুল পাশ করা এই যুবকের কর্মসহায়ক কোনও বিশেষ ক্ষেত্রেও নেই কোনও সার্টিফিকেট।

‘খুব ভালো উদ্যোক্তা হতে গেলে খুব আত্মবিশ্বাস থাকা দরকার এবং সেই বিশ্বাসকেই সত্যে পরিণত করার চেষ্টায় লেগে থাকতে হয়’—মুকেশ অম্বানির এই কথাটি প্রাণিত করেছিল এই নবীন উদ্যোক্তাকে। বন্দিত মনে করেন, ‘যে জ্ঞান আমি রপ্ত করেছি তা কোনও বইয়ের পাতায় লেখা থাকে না। নিজের অভিজ্ঞতা আর ভাবনা চিন্তা দিয়ে অর্জন করা সেই শিক্ষাই প্রতিফলিত হয় আমার কাজে। ডিগ্রি তো ফাইলে বন্দি হয়ে থাকে, কিন্তু কাজের একটা ব্যবহারিক মূল্য আছে।

ক্লাস টেনে পড়ার সময় থেকেই তিনি কল সেন্টারে চাকরি করে নিজের পরিবারকে সাহায্য করতেন। তিন বছর তিনি ওই বৃত্তেই কাজ করে মূল ব্যাপারগুলো ভাল করে শিখে নেন। ‘এয়ারটেল কলসেন্টারে কাজ করতে গিয়ে আমি দেখেছি সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ঠাণ্ডা মাথায় সব কিছু শোনা। কল সেন্টারে উপভোক্তাদের সঙ্গে কথা বলা অত্যন্ত শ্রমসাধ্য কাজ। শান্ত হয়ে শুনে ধৈর্য সহকারে উত্তর দিতে হয় সব প্রশ্নের। সেলস আর সার্বিক বাণিজ্যিক উন্নতির জন্য ধৈর্যর কোনও বিকল্প নেই। ক্রেতা বা উপভোক্তার আসল সমস্যাটা ধৈর্য ধরে শুনেই ধরা যায়।’

প্রথম যখন কাজ শুরু করেন, তখন থেকে আজও পর্যন্ত নিয়মিত দিনে প্রায় ১৪-১৫ ঘন্টা করে তিনি কাজ করেন, কখনও কাজ ফেলে রাখেন না, এমনকী সপ্তাহের শেষে ছুটির দিনগুলোতে অবধি তিনি নিজেকে কর্মব্যস্ত রাখেন। ‘আপনার সাধ্য বুঝুন, আর স্বপ্নের দিকে তাকান, সেই অনুসারে কাজ করুন বা ছুটি নিন’। বর্তমানে বন্দিত বহু মাল্টিন্যাশনাল ও বিদেশী কোম্পানির প্রজেক্ট কনসাল্টেন্ট এবং পেশাদার সেলস প্রশিক্ষক। তাঁর অভিজ্ঞতার বিশাল চাহিদা রয়েছে বিশ্বব্যাপী কর্পোরেট বাজারে। ‘কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছি আমি। ইংরাজি একেবারেই জানতাম না, ইংরাজিতে একটি কথাও বলতে পারতাম না। লোকের বলা শুনে শুনে আমি নিজে নিজেই এটি শিখে ফেললাম। পেশানির্ভর বিশেষ জ্ঞানের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য। ভালো ডিগ্রি না থাকার কারণে এক সময় আমি দোরে দোরে হত্যে দিয়েও কোনও কাজ পাইনি, চাকরি থেকে বরখাস্তও হয়েছি একাধিক বার। কিন্তু সব অভিজ্ঞতাই দিনের শেষে কাজে লেগে গেছে। এখন আমি কাজের সুযোগ তৈরি করি’ –অকপটে বলে যান বন্দিত। তাঁর সামনে নির্দিষ্ট কোনও পথ ছিল না, এগিয়ে যেতে যেতেই সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তিনি নিজেকে প্রস্তুত করেছেন। প্রতিটি সাফল্য আর ব্যর্থতা তাঁকে কিছু না কিছু শিক্ষা দিয়ে গেছে। তাঁর নিজের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, জ্ঞান সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিতে তিনি একটি বই লিখেছেন ‘ইউ গটা ক্লোজ দ্য ডিল’। আত্মীয়, বন্ধুরা বড়ই খুশি তাঁর বই প্রকাশিত হওয়ায়। ছাত্র, বাণিজ্য উদ্যোক্তা, ম্যানেজার যারাই তাদের পেশাদারি দক্ষতা, বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে বা উন্নতি করতে চায়, প্রত্যেকেরই পড়া উচিৎ এই বই। পাঠকের প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত ভালো। আমাজনে অর্ডার করলে আপনি ঘরে বসেই পেতে পারেন বন্দিতের এই বই।

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.