দীপক ঘোষালকে নয়নপুরে সবাই একডাকে চেনে।একসময়ের নামকরা ফুটবলার। শোনা যায় কলকাতার এক বড় টিমে তার চান্স পাকা হয়ে গেছিল। স্রেফ একটা ছোট ভুলের জন্য তা হাতছাড়া হয়ে যায়।

ভুলের কথা কোনদিন দীপক উচ্চারণ করে নি। কিন্তু কে কবে গোপন কথা লুকিয়ে রাখতে পেরেছে? দীপকও পারে নি।তার চান্স না পাবার কারন লোকে জানতে পেরেছিল।সামান্য হৃদয়ঘটিত সমস্যাই তাকে খেলা থেকে ছিটকে দিয়েছিল।

ব্যাপারটা খোলসা করা যাক। চাদুঁ মিত্তিরের মেয়ে পিঙ্কির তখন বাজারে খুব নাম। উনিশ,ফরসা আর চুলবুলে চেহারার পিঙ্কি এইচ,এস ডিঙোতে না ডিঙোতেই বারোটা প্রেম কমপ্লিট করেছে। সাইকেল-মেকানিক থেকে শুরু করে ডাক্তার –ইঞ্জিনিয়ার অবধি তার সীমা ছড়িয়ে গেছিল।

দীপকই বা বাদ যায় কেন? পিঙ্কির মায়াজালে সেও কদিনের মধ্যে ডুবে গেল।খেলা থেকে পাওয়া উপার্জনে একটার পর একটা জিনিশ সে দিতে শুরু করল পিঙ্কিকে।প্রেম যখন প্রায় চূড়ান্ত সেসময়েই বড় দলে খেলার ডাক পেল দীপক। কলকাতায় যাবার দিন সে মনের আনন্দে পিঙ্কির বাড়ি গেল ।পৌছে সে চোখে অন্ধকার দেখল।ঘর থেকে পিঙ্কি একজনের সঙ্গে হাত ধরে বেড়োচ্ছে । সে আর কেউ নয় সোমেন ঘটক। সে হল কলকাতার বড় টিমের হোমরাচোমরা।তার হাত ধরেই দীপকের কলকাতায় যাবার কথা!

Banglalive-8

দীপক সেদিন একটা কথাই ভেবেছিল কেন সে পিঙ্কির সঙ্গে সোমেন ঘটকের আলাপ করে দিয়েছিল।

Banglalive-9

এ কান্ড দশ বছর আগের। পিঙ্কি চলে যাবার পর তার মাথার ঠিক ছিল না। খেলার কথা ভুলে সে হাঁটতে শুরু করছিল বেখেয়ালে। কলকাতা যাবার বদলে সে কোথায় যেতে চায় তাও ঠিক ছিল না।তার হয়ত সন্ন্যাসী হবার ইচ্ছে বা আত্মহত্যা করার ইচ্ছে কিছু একটা মনে জেগেছিল।

কিন্তু তা ঘটে নি বলাইবাহুল্য। ঘটলে গল্প এখানেই শেষ হয়ে যেত। ঘটল না তার কারণ সেই সময়ে তাকে কেউ একজন দেখে ফেলল।সে কৃষ্ণকলি।

কৃষ্ণকলির কথা একটু বলি।সে হরিমাস্টারের মেয়ে। তার নামটা পুরোন।এই নাম এ সময়ে কেউ রাখে কিনা সন্দেহ। তার নামের সঙ্গে তার কোনো মিল নেই।তার রং না সাদা না কালো।এমন কি তার চোখ হরিনীর মতো না বলে বাঘের মত বলাই ভাল।

টমবয় বলতে যা বোঝায় কৃষ্ণকলি তাই। কুড়ি-একুশ বছর বয়সে সে তা প্রমান করে। জোড়া-বটতলার পাশে কালুয়ার চুল্লুর ঠেক।দিনদুপুর থেকে সেখানে মোচ্ছব বসে। রাতদিন মেয়ে-বউদের উতক্ত করত মদোমাতালরা।লোকে যেতে ভয় পেত।পাড়ার লোকেরা এমনকি হরিমাষ্টার পর্যন্ত অনেকবার কালুয়াকে অনুনয়-করেছেন। পাড়ার লোকদের কথা কালুয়া গ্রাহ্য করে নি।বরং কালুয়া নাকি তাদের চুল্লু টেষ্ট করতে বলেছিল।হরিমাষ্টাররা পালিয়ে এসেছিলেন।

কৃষ্ণকলি সব শুনল। সে বুঝল মুখের কথায় কাজ হবে না। তারই মত আরো কয়েকজন বন্ধু জুটিয়ে সে একদিন চুল্লুর ঠেক ভাঙল। তারপর থেকে কৃষ্ণকলির নাম শুনলে মাতালরা ত্রিসীমানায় ঘেঁসে না।

আরও পড়ুন:  বাঙাল কহেকা!

সেদিন দুপুরে কৃষ্ণকলি একটা লোককে টলমল করতে করতে জঙ্গলের দিকে যেতে দেখেছিল। সে ভেবেছিল মাতাল। তার মানে কালুয়া গোপনে ব্যবসা শুরু করেছে! নাহ এবার ছাড়ান নেই। কৃষ্ণকলির মাথা গরম হয়েছিল। সে একটা লাঠি বাগিয়ে লোকটাকে ফলো করতে শুরু করে। কিছুক্ষন পর দীপককে চিনে সে অবাক হয়ে গেছিল। ফুটবলার মাঠে যাবার কথা।এখানে কেন? সে কি জঙ্গলে প্র্যাকটীশ করবে? সে ভাবল। তবে বেশী ভাবা তার স্বভাবে নেই।সে একছুটে দীপকের রাস্তা আটকে জিজ্ঞেস করল,- কোথায় যাচ্ছেন?

দীপকের ঘোর কাটল।সে বিহ্বলস্বরে জিজ্ঞেস করল-, আমি কোথায়?

কৃষ্ণকলি বলল,-চিনতে পারছেন না? এটা গোপাল রায়ের পোড়োবাগান।

দীপক চারদিক তাকাল। তার সবকিছু মনে পড়ল।কলকাতায় বড় টিমে খেলার কথা।মনে পড়তেই সে চোখে জল ধরে রাখতে পারল না। জোরে চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করল।

কৃষ্ণকলি অবাক হয়ে বলল,- ওমা।কাঁদছেন কেন?কি হয়েছে?

দীপক বলল আদ্যপান্ত।

কৃষ্ণকলির ঠোঁটে বাঁকা হাসি।পিঙ্কির মতো নচ্ছার মেয়ে আর এ তল্লাটে নেই।সে ধমক দিয়ে বলল,-কান্নাকাটি রাখুন।কত খসেছে?

দীপক অবাক হয়ে বলল,–খসেছে মানে?

কৃষ্ণকলি ঠোঁট উল্টে বলল,-পিঙ্কিকে কি উপহার দিয়েছেন?

দীপক বলল,- একটা মোবাইল।একটা রিষ্টওয়াচ।

কৃষ্ণকলি বলল,–অনেক কম।বেঁচে গেছেন আপনি।আপনার আগে যার সঙ্গে প্রেম ছিল সে ওকে ল্যাপটপ দিয়েছিল। নিন এবার চলে আসুন।

দীপক জিজ্ঞেস করল,–কোথায়?

কৃষ্ণকলি বলল,–আমার বাড়িতে।সারাদিন খান নি তো।চলুন।

এরপরের ঘটনা সাদাসিধে। দীপক গেছিল।দুপুরে খাওয়াদাওয়া করে সুস্থ হয়ে বাড়ী ফিরেছিল।তারপর শয়নে স্বপনে জাগরনে সে শুধু কৃষ্ণকলিকেই দেখতে লাগল।সে মাঝেমাঝেই ওর বাড়ি খেতে যেত।গল্প করত।কৃষ্ণকলির পরামর্শে ব্যবসাও শুরু করল দীপক।কৃষ্ণকলি তাকে খেলার দোকান করতে বলল।সে বলল,- তুমি খেলা ভালবাসতে।খেলার দোকান করলে তোমার দু;খ কিছুটা কমবে। পরামর্শ মেনে তাই করল দীপক। ইন্ডোর-আউটডোর খেলার সব প্রোডাক্টই সে দোকানে রাখতে শুরু করল।ব্যবসা দাঁড়িয়ে যাবার পর এক শুভক্ষনে বিয়ে হল দুজনের।

তিন-চারবছর মন্দ কাটে নি। ব্যবসা চলছে রমরমিয়ে। কৃষ্ণকলিও আগের মতো।একটা ক্লাব করেছে মেয়েরা মিলে। সেখানে মেয়েরা ক্যারাম,লুডো খেলে। তাস আল্যাও করে নি সে।দুর্গাপুজাও করেছে শুধু মেয়েরা। তাকে পাড়াঘরের হাজাররকম গোলমাল মেটাতে হয়। কৃষ্ণকলির পপুলারিটিতে পার্টির লোকরা তাকে ইলেকশনে দাড়াঁতে বলছে।কৃষ্ণকলি ডিসিশন নেয় নি।

এরমধ্যে একটা সাংঘাতিক খারাপ ঘটনা ঘটল।কৃষ্ণকলি ও দীপকের সম্পর্ক ভেস্তে যাবার উপক্রম হল।

মাসখানেক আগের কথা। দীপক দশটার মধ্যে দোকানে পৌঁচ্ছেছে। সে এখন আসে মোটরবাইকে। দামী গাড়ী। তবে একটা দু;খ তার আছে। বাইকে আজ পর্যন্ত কৃষ্ণকলি চড়ে নি। তার নাকি বাইকে চড়তে ভয় হয়। ওর মত ডাকাবুকো মেয়ে সামান্য বাইকে চড়তে পারে না ভেবে আশ্চর্য হয়ে যায় দীপক। সে বলে ,- আমার যে খুব সখ কলি। তুমি বাইকে চড়বে না কোনদিন?

কৃষ্ণকলি হেসে বলে,-উঁহু।ও আমি পারব না। রাস্তায় যাকে পাবে তুলে নাও না।

আরও পড়ুন:  কেতজেল পাখি (পর্ব ১৮)

দীপক দুঃখ পায়। আহা!কোনদিন কি তার সখ পুরন হবে না !তার খুব ইচ্ছে সে বাইক চালাবে আর কলি কোমর ও কাঁধ ছুঁয়ে বসে থাকবে।কিন্তু তা তার বরাতে নেই।

সেদিন দোকানে কাজের ফাঁকে একথাই সে ভাবছিল আর দীর্ঘশ্বাস ফেলছিল। সেসময়েই হঠাৎ চোখের সামনে এক সুবেশা তরুনীকে সে দেখল। চোখে সানগ্লাস,জিন্স আর টপে তে জেল্লা একদম ফেটে পড়ছে। দীপকের চোখ ধাঁধিয়ে গেল।

-হাই। তরুনী টেবিলের উপর একটু ঝুঁকে বলল।

লজ্জায় লাল হয়ে গেল দীপক। তরুনীর ভঙ্গী বিপদজনক। সে এদিকওদিক তাকাল। কর্মচারীরা হাঁ করে তাকিয়ে। দীপক আমতাআমতাস্বরে বলল,- বলুন?

মেয়েটি বলল,–চিনতে পারলে না দীপু?

দীপক জুলজুলচোখে তাকাল। তার মুখ বদলাতে শূরু করল।বুকের মধ্যে একসঙ্গে অনেক পায়রা ঝটপট করছে।সে উত্তেজিতস্বরে বলল,- পিঙ্কি?

পিঙ্কি বলল-চিনেছ তালে?

-না মানে। দীপক কথা খুঁজে পায় না। রেগে যাওয়ার কথা।কিন্তু তার গলায় রাগ ফুটল না। চেহারায় কুঁই-কুঁই ভাব ফুটল।সে বলল,- কেমন আছ?

পিঙ্কি কটাক্ষছুঁড়ে বলল,- কেমন আছি বুঝছ না?

দীপক হাসল।গলে জল হাসি।

আটদশ দিন বাদে কৃষ্ণকলি খবর পেল দীপকের ঘাড়ে নাকি এক জিন্স-পড়া ভূত বসেছে। তাকে বাইকে চাপিয়ে দীপক ঘুরছে। কৃষ্ণকলি নিস্তার পেল।যাক! তাকে আর বাইকে চড়তে বলবে না দীপক। আসলে একবার বাবার গাড়ীতে বসতে গিয়ে বিপত্তি হয়েছিল।বাইকে সে বসতে গেছিল তার আগেই বাবা গাড়ি ছেড়ে দিয়েছিল।কৃষ্ণকলি ধপাস করে মাটিতে পড়েছিল।তারপর থেকে বাইকে চড়তে তার ভয়!

কদিনবাদে মেয়েটার পরিচয় কৃষ্ণকলি জানল।পিঙ্কি। সেই নচ্ছার মেয়েটা। ওর নাকি এরমধ্যে দুটো বিয়ে হয়ে গেছে। তিন নম্বরএর জন্য দাঁড়িয়ে আছে।ক্যাচ করতে পারলেই সে ফুড়ৎ করে উঠে যাবে।সে রাগে থরথর কেঁপে উঠল।যার জন্য চিরজীবনের জন্য খেলা বিসর্জন দিয়েছে দীপক তার পেছনেই এখন দৌড়োচ্ছে। ছি!

কৃষ্ণকলি যে প্রকৃতির চাইলে দুজনকে ফায়ারিং স্কোয়াডের সামনে দাঁড় করাতে পারত। কানমলা,ওঠবস করিয়ে একটা ধুন্দুমার লাগাতে পারত। সে তা করল না।বয়সের জন্য বা খানিকটা অভিমানে সে দিব্যি মেনে নিল। তার মন বলল,এটা কালুয়ার ঠেক নয় যে ভেঙ্গে দিলেই মিটে যাবে।তারচেয়ে বরং সময় দিয়ে দেখা যাক পাখি কদ্দুর ওড়ে। ততদিন পর্যন্ত সে না হয় বাপের বাড়ী ঘুরে আসবে।

কৃষ্ণকলি বাপের বাড়ী যাবার আগে একটা চিঠি লিখল। তাতে সে লিখল ,-তোমার চারটে লুঙ্গি,দুটো বারমুডা ওয়ার্ডরোবে রইল। পিঙ্কির সামনে পড় না। খারাপ ভাববে। পান্তাভাত স্টকে রইল। লঙ্কা,নুন সব আছে।এগুলো লুকিয়ে খেও। সামনে খেলে নাক সিঁটকাতে পারে।আর হ্যাঁ।পিঙ্কির জন্য কত খসছে তার হিসেব রেখ।

চিঠি পড়ে দীপক নাক কুঁচকায়। কৃষ্ণকলি যে গেয়োঁ তার প্রমান এই চিঠি। তৎক্ষনাৎ বাজে কাগজের ঝুড়িতে তা ফেলে দিয়ে দীপক মুক্তির নিঃশ্বাস ফেলল।

এরপরের ঘটনাপ্রবাহ চলল ঝড়ের বেগে। তিনচারমাস একটানা বাইক-বিহারে দীপক মেতে থাকল। লং-রুটে পিঙ্কিকে নিয়ে পাড়ি দিতে লাগল। সেই বিখ্যাত গানটাও কখনো গুনগুন করল- এই পথ যদি না শেষ হয়।

আরও পড়ুন:  কুকুর বিড়াল বৃত্তান্ত

পথ শেষ হোক না হোক তেল একদিন শেষ হল। হাইওয়েতে বাইক হঠাৎ থমকে গেল। চেষ্টাচরিত্র করেও বাইক চালানো গেল না। দীপক চারপাশ দেখল।দু-ধারে খেত,জনমনিষ্যীহীন জায়গা। পেট্রোল পাম্প কোথায় আছে তাও হদিশ পেল না দীপক। তারপরে গোপন কথা পকেটে টাকা নেই তার।

সেদিন অনেক কষ্টে দীপক বাড়ি ফিরেছিল।পিঙ্কি সারা রাস্তা তাকে উদ্ধার করে ছেড়েছিল।

কদিন পরে পিঙ্কি তার হাতে একটা লিষ্ট তুলে দিল।দীপক জিজ্ঞেস করল,- কি এটা?

পিঙ্কি বলল,–পড়ে দ্যাখো।

পড়ে মাথা ঘুরে গেল দীপকের।এ যে জুয়েলার্স গিফট! ক্যাটালগই তার হাতে ধরিয়ে দিয়েছে পিঙ্কি! দীপক করুনস্বরে বলল,- তোমায় তো কত কিছু দিয়েছি? আবার?

পিঙ্কি ঠোঁট উল্টে বলল,- ধুস। ভারি তো একটাদুটো গিফট দিয়েছ।

জুলজুলচোখে ওকে দেখল দীপক। এ কদিন পিঙ্কি যা চেয়েছে তাই দিয়েছে। কিছু বাকি রাখে নি। তবু ও তা বেমালুম অস্বীকার করছে। দীপক মাথা নাড়িয়ে বলল,- এসব কি করে পারব ?

পিঙ্কি মাথা নেড়ে বলল,-জানি না।আমার চাই। তোমার দোকান বেচে দাও।

দীপক আঁতকে উঠল। এ কি গেরো! এরজন্য খেলা ছেড়েছে।এবার সাধের দোকানও বেচে দিতে হবে।তা কখনো হয়!সে মিনমিনস্বরে তা বলতে গেল। পিঙ্কি এক ধমকে তাকে চুপ করিয়ে দিয়ে বলল-আমি জানি না এগুলো আমার চাই।

রাতে দীপকের ঘুম এল না। কৃষ্ণকলির কথা তার মনে পড়ল।সে হিসেব রাখতে বলেছিল। হিসেব আর কি করবে? সর্বস্রান্ত হয়ে গেছে সে।টপটপ করে চোখ থেকে জল ঝড়ল।তার বাঁচার আশ্রয় এখন একমাত্র কৃষ্ণকলি। সে কি তাকে ক্ষমা করবে?

পরেরদিন সকালেই দীপক কৃষ্ণকলির কাছে রওনা দিল।

এরপর যা ঘটেছিল তা পাঠক বুঝে নেবেন।কৃষ্ণকলি ডিভোর্স করার মেয়ে নয়। সে এতদিনে বুঝেছে দীপক একটু আতা প্রকৃতির লোক। সে না দেখলে দীপক ভেসে যাবে। দীপকের আসার খবর পেয়ে কৃষ্ণকলি তাড়াতাড়ি ছুটে গেছিল।ছোটবার কারণ দীপক না সবার সামনে কাঁদে।ওর স্বভাব জানে সে।

কৃষ্ণকলি বলল,- কান্নাকাটি কর না।

দীপক সত্যিই কাদঁতে যাচ্ছিল।সে গিলে নিল।

কৃষ্ণকলি বলল,- এবার নিশ্চয় ভালই খসেছে। একবছরের মধ্যে তা শোধ করবে বুঝেছ।

দীপকের মাথা নীচু। সে আর কি বলবে?

আর একটু বিষ্ময় অপেক্ষা করছিল। ফেরার সময় কৃষ্ণকলি দিব্যি বাইকের পেছনে চড়ে বসল।তারও বুদ্ধি খুলেছে। সে বুঝেছে বাইকবিহারে না বলতে নেই। ফাঁকা রাখাই বিপদ। দীপক সভয়ে জিজ্ঞেস করল,- আস্তে না জোরে?

কৃষ্ণকলি উত্তরে কি বলল তা শোনা যায় নি কারণ বাইক ততক্ষনে চলতে শুরু করেছিল।কৃষ্ণকলি মাথা হেলিয়ে দিয়েছিল দীপকের ঘাড়ে।সেই নিভৃত দাম্পত্য আলাপ না শোনাই ভাল।

2 COMMENTS

এমন আরো নিবন্ধ