অক্টারলোনি সাহেবের স্মৃতিসৌধ যেভাবে শহিদ মিনার হল

458
শহিদ মিনার

সৌধটির নাম আগে ছিল অক্টারলোনি মনুমেন্ট। ১৮২৮ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কম্যান্ডার মেজর-জেনারেল স্যার ডেভিড অক্টারলোনির স্মৃতিতে এই সৌধটি নির্মিত হয়। ১৮০৪ সালে দিল্লিতে মারাঠাদের বিরুদ্ধে তাঁর সফল আত্মরক্ষা এবং ইঙ্গ-নেপাল যুদ্ধে গোর্খাদের বিরুদ্ধে তাঁর নেতৃত্বে কোম্পানি – বাহিনীর বিজয়কে স্মরণীয় করে রাখতে এই সৌধটি নির্মিত হয়েছিল । সৌধটির নকশা প্রস্তুত করেছিলেন জে. পি. পার্কার । সরকারি কোষাগারের অর্থসাহায্যে এই সৌধটি নির্মিত হয় । সৌধটির নির্মাণকালীন ব্যয় ছিল ৩৫ হাজার টাকা।

শহিদ মিনার

# ১৯৬৯ সালের অগস্ট মাসে তদানীন্তন যুক্তফ্রন্ট সরকার এই স্মৃতিসৌধটিকে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে নিহত শহিদদের উদ্দেশে উৎসর্গ করে । সেই সময় এই সৌধের নতুন নামকরণ করা হয় “শহিদ মিনার”।

শহিদ মিনার

# শহিদ মিনারকে সাধারণত “মনুমেন্ট” নামে উল্লেখ করা হয়ে থাকে । এটি মধ্য কলকাতার এসপ্ল্যানেড এলাকায় ময়দানের উত্তর-পূর্ব কোণে অবস্থিত । স্তম্ভটি ৪৮ মিটার (১৫৭ ফুট) উঁচু । এর নিম্নাংশটি মিশরীয় স্থাপত্যের আদলে নির্মিত ।

# স্তম্ভ অংশটি ক্ল্যাসিকাল ধাঁচের । এর উপরিভাগ সিরীয় ধাঁচের এবং গম্বুজটি তুর্কি শৈলীর । উপরে দুটি বারান্দা আছে । মিনারের উপরের তলায় যেতে ২২৩ টি ধাপের একটি কুণ্ডলী – আকারের সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হয়।

শহিদ মিনার

# বার্ন অ্যান্ড কোম্পানি এই স্মৃতিসৌধটি নির্মাণ করেছিল।

#শহিদ মিনারের দক্ষিণ দিকে একটি বড় মাঠ রয়েছে। এই মাঠটির নাম শহিদ মিনার ময়দান। এই মাঠে রাজনৈতিক দলের সমাবেশ ও মেলা আয়োজিত হয়।

# ১৯৩১ সালে প্রথম এই মাঠে রাজনৈতিক সমাবেশ হয়েছিল। হিজলি জেলে তরুণ বন্দিদের হত্যার প্রতিবাদে এই সভার পৌরোহিত্য করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। শহিদ মিনার ময়দানের পূর্ব দিকে শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাসটি অবস্থিত।

# ১৯৯৭ সালে একজন পর্যটক শহিদ মিনারের উপর থেকে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। তারপর থেকে শহিদ মিনারের উপরে উঠতে হলে পুলিশের অনুমতি নিতে হয়। লালবাজার পুলিশ সদর দফতরে ঠিকানা ও ফটো আইডির অনুলিপি জমা দিতে হয়। বহিরাগত পর্যটকদের হোটেলের নথি জমা রাখতে হয় এবং বিদেশিদের পাসপোর্টের অনুলিপি জমা রাখতে হয়।

শহিদ মিনার

# লন্ডন আই-এর মতো শহিদ মিনারের উপর থেকেও কলকাতার দৃশ্য দেখা যায় । তাই সরকার সংস্কার শেষ হলে শহিদ মিনারকে জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। ২০১১ সালে সংস্কার কাজ শুরু হয়েছিল। এটি দুটি ভাগে শেষ হবে। প্রথম ভাগের সংস্কার শেষ হয়ে গিয়েছে ২০১২ সালের ১৫ জুন। এই সংস্কারের খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা। শহিদ মিনার ভিতর ও বাইরে থেকে আলোকিত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে মিনারটি রংও করা হয়েছে।

# সংস্কারের দ্বিতীয় পর্যায়ে মিনারের পাদদেশে একটি অস্থায়ী মঞ্চের ব্যবস্থা করা হবে। এর ফলে রাজনৈতিক সমাবেশের সময় ডোরিনা ক্রসিং-এ যানজটের সমস্যা কমবে।

শহিদ মিনার

# সংস্কারের কাজ শেষ হয়ে গেলে পর্যটক ও সাধারণ মানুষেরা শহিদ মিনারের উপরে ওঠার সুযোগ পাবেন। শহিদ মিনারের সামনে স্মারক দ্রব্যের দোকানও রাখা হবে। মিনার পর্যন্ত যাওয়ার পথটি পরিষ্কার করে ফুল গাছ দিয়ে সাজানো হবে।

# সপ্তাহের সাতদিনই সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৫ টা অবধি শহীদ মিনার খোলা থাকে |

# শহিদ মিনারের ঠিকানা হল ধর্মতলা বাস স্টপ ‚ ডাফরিন রোড ‚ কোলকাতা- ৭০০০৬৯ |

শহীদ মিনারে জমায়েত

# মার্ক টোয়ায়েন শহিদ মিনারকে ” আকাশচুম্বী স্মৃতিস্তম্ভ ” বলে অভিহিত করেছেন | এই অভিধাটি পরবর্তী কালে যথেষ্ট বিখ্যাত হয় |

# শহিদ মিনারে ঢুকতে কোনও প্রবেশমূল্যর প্রয়োজন হয় না |

Advertisements

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.