গোপনে বিশ্বের প্রথম মানবমস্তিষ্ক-প্রতিস্থাপনও সফল হয়েছে ! বলেন কী বিতর্কিত চিকিৎসক !

চমক দিতে ভালবাসেন চিকিৎসক সের্গিও কানাভারো | ইতালির এই সার্জেন মাঝে মাঝেই চলে আসেন হেডলাইনে | বিশ্ববিখ্যাত মেডিক্যাল জার্নালের পাতা ওল্টালেই জানা যায় তাঁকে নিয়ে | হেডলাইন হওয়া সেই ডাক্তার কয়েকমাস আগে দুনিয়ার হেড টার্ন করে দিয়েছেন | কারণ তিনি দাবি করেছেন ইতিমধ্যেই মানুষের মস্তক প্রতিস্থাপন করতে সফল হয়েছেন তিনি | 

বিতর্কিত ডাক্তার কানাভারো Turin Advanced Neuromodulation Group-এর ডিরেক্টর | ২০১৬-এ তিনি বলেছিলেন তাঁর পরিকল্পনা হল মানুষের মাথা প্রতিস্থাপন করা | গত বছর নভেম্বরে তিনি প্রেস কনফারেন্সে দাবি করেন‚ সেই পরিকল্পনা পূর্ণ হয়েছে তাঁর | মস্তক প্রতিস্থাপন করেছেন‚ অবশ্য মৃতদেহের উপরে এই পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়েছে | ১৮ ঘণ্টা ধরে এই যুগান্তকারী এই অস্ত্রোপচারে তাঁর সঙ্গী ছিলেন চিনের কয়েকজন নামী বিশেষজ্ঞ | এই অবধি পড়ে যাঁরা আজগুবি বলে ভাবছেন তাঁদের বলি এর আগে কানাভারো কিন্তু মৃত বাঁদরের মস্তিষ্ক প্রতিস্থাপনে সফল হয়েছেন | 

কানাভারো বলেন‚ সবাই ভেবেছিল এটা অসম্ভব | কিন্তু জানিয়ে রাখি অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে | কদিনের মধ্যেই পেপার্স প্রকাশিত হবে কোনও নামী মেডিক্যাল জার্নালে | পরের ধাপে কানাভারো ও তাঁর দল চায় এই অস্ত্রোপচার এমন কোনও জীবিত মানুষের উপর করতে‚ যার দেহের নিম্নাঙ্গ অসার |

এই খ্যাপাটে ডাক্তারের কথা শুনলে মনে হয় যেন কল্পবিজ্ঞানের গল্প | চিকিৎসক মহলও যে খুব কনভিন্সড‚ তা নয় মোটেও | বরং তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়তে হচ্ছে কানাভারোকে | তাঁদের মতে এই অস্ত্রোপচার আনএথিক্যাল এবং ভয়ঙ্কর ও বিপজ্জনক | এতে সমাজের বিপদ ডেকে আনবে |

ব্রিটিশ চিকিৎসকরা বলছেন‚ কানাভারো প্রথমেই মানুষের মাথা নিয়ে পড়লেন কেন ? বাঁদরের পরে আরও পরীক্ষা দরকার | বড় প্রাণীর উপরেও এই পরীক্ষা করতে হবে | দেখতে হবে প্রতিস্থাপনের পরে সেই প্রাণী আদৌ সুস্থ আছে কিনা | তাছাড়া ‚ এই প্রতিস্থাপন মানে মানবসভ্যতা কার্যত অমরত্বের দিকে এগোচ্ছে | কিন্তু অন্যদিকে মৃত্যুও থাকছে | কারণ দেহ না পেলে মাথা প্রতিস্থাপিত হবে কোথায় ? সেক্ষেত্রে কী করা হবে ? মাথাহীন কবন্ধ সংরক্ষণ করা হবে ? আদৌ সম্ভব তা ? প্রকৃতির এতটা বিরুদ্ধাচারণ সম্ভব ? একজনের ধড়ে অন্যজনের মাথা বসলে পুরো সত্তাই তো পাল্টে যাবে | কারণ মস্তিষ্কই চালনা করে পুরো দেহকে | প্রতিস্থাপিত মাথার সঙ্গে কোঅর্ডিনেট করবে তো পুরনো দেহের অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ?

সর্বোপরি কানাভারোর দাবিকে বাকিরা বলছেন জঘন্য হত্যার নামান্তর | কারণ কোনও পরীক্ষার জন্যই মানুষের মস্তকছেদ গ্রহণযোগ্য নয় | এর ফলে ধ্বংসের দিলে এগোবে মানবসভ্যতা | তাই এই পরীক্ষায় সাফল্যের চেয়ে ব্যর্থতাকেই চাইছেন বাকি বিশেষজ্ঞরা |

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

Please share your feedback

Your email address will not be published. Required fields are marked *

pakhi

ওরে বিহঙ্গ

বাঙালির কাছে পাখি মানে টুনটুনি, শ্রীকাক্কেশ্বর কুচ্‌কুচে, বড়িয়া ‘পখ্শি’ জটায়ু। এরা বাঙালির আইকন। নিছক পাখি নয়। অবশ্য আরও কেউ কেউ