দৃষ্টিহীন স্বামী, শিক্ষিকা স্ত্রী । পাশে থেকে স্বপ্নপূরণের স্বাদ এনে দিলেন স্বামীকে । রাজস্থানের আজমেঢ়ের ব্রহ্মানন্দ শর্মা । বয়স তখন বছর ২২ ।গ্লুকোমায় হারিয়ে যায় সম্পূর্ণ দৃষ্টিশক্তি । ছোট থেকেই চাইতেন আদালতের বিচারক হবেন । হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে যাওয়াতে সে সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। কিন্তু হাল ছাড়েননি ব্রহ্মানন্দ । শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে পেছনে ফেলে আজ  ছুঁয়ে ফেলেছেন বিচারক হওয়ার স্বপ্ন ।

Banglalive

লড়াই শুরু হলে প্রথম ধাক্কা আসে জুডিশিয়াল সার্ভিসের পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় । পাশে এসে দাঁড়ায়নি কেউ । কোচিং সেন্টারগুলিও ভর্তি নিতে অস্বীকার করে। তখনই পাশে এসে দাঁড়ান স্ত্রী সহ পরিবার ।  পেশায় শিক্ষিকা স্ত্রী বরাবর বইগুলি পড়ে রেকর্ডিং করে রাখতেন । ব্রহ্মানন্দ সেগুলোই শুনে শুনে আয়ত্ত করতেন । এভাবেই চলতে থাকে প্রস্তুতি ।ফল—-২০১৩ সালে জুডিশিয়াল সার্ভিসের পরীক্ষায় ৮৩ ৮৩ তম স্থান | প্রথম চেষ্টাতেই সাফল্য | তারপর রাজস্থান হাইকোর্টে ট্রেনিং, ২০১৬ সালে চাকরিতে যোগ দেন ।

এখন বহু উকিলকে শুধুমাত্র পায়ের শব্দে চিনে নেন । মামলার ক্ষেত্রেও অনেক মক্কেলই বিচারকের দৃষ্টিহীনতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন । আশঙ্কা,দৃষ্টিহীন হওয়ার কারণে রায়ের ওপর কোন প্রভাব পড়বে না তো !

শর্মা জানান, বিচারালয়ে নিরপেক্ষতা বোঝাতেও যে মহিলার মূর্তি ব্যবহার করা হয় তার চোখ ও অন্ধই থাকে । মামলায় ব্যবহৃত কাগজপত্রের জন্য তিনি ই ডিভাইস ব্যবহার করেন ।কম্পিউটারের সঙ্গে যুক্ত এই যন্ত্র থেকে লিখিত নোটকে কথার আকারে প্রকাশ করে । উকিলদেরও সেই মত নির্দেশ দেওয়া থাকে । এর ফলে প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছেও সম্পূর্ণ বিষয়টি স্পষ্ট থাকে । তবু ভয় পান, এক একটি রায়ের উপর নির্ভর করে মানুষের জীবন মরনের প্রশ্ন, শুনতে গিয়ে কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাদ চলে গেল না তো ? নিষ্ঠা ও দায়িত্বের সাথে সরওয়ার আদালতে বিচারকের ভূমিকা পালন করছেন ব্রহ্মানন্দ শর্মা । প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে আজ রাজস্থানের প্রথম দৃষ্টিহীন বিচারক তিনি ।

আরও পড়ুন:  বিধির লীলা বোঝা যাদের কাছে দায়‚ সেই আমাদের জন্য আছেন লীলা মজুমদার

NO COMMENTS