দড়ি

1560

ভদ্রলোকের বেশভূষা বাচনভঙ্গির মধ্যে কেমন যেন একটা পুরাতনী ছোঁয়া। ইনি আমার সহযাত্রী। স্থান, হাওড়া – দিল্লী রাজধানী এক্সপ্রেসের ফার্স্ট ক্লাসের একটি কুপ। যাত্রী কেবল আমরা দুজন। সময় বিকেল পাঁচটা।

সহযাত্রী হিসেবে এই ভদ্রলোককে পাওয়ার কথা ছিল না। এই কুপের দুটো সিট বুক করেছিল আমার কোম্পানি। তুষারের সঙ্গে দিল্লী যাওয়ার জন্যে। হেড অফিসের মেন সার্ভারে কী একটা সমস্যা হয়েছে। তার সমাধান সূত্র বাতলানোর দায়িত্ব আমাদের দুজনের ওপর পড়েছে। একেবারে শেষ মুহূর্তে অন্য কাজে তুষার ফেঁসে যাওয়াতে আমাকে একা যেতে হচ্ছে।

ভারতীয় রেলের কাজ কারবার খুব আধুনিক হয়েছে ইদানিং। কেন কি তুষারের যাত্রা বাতিল হয়েছে আজই। ট্রেন ছাড়বার মাত্র এক ঘন্টা আগে। তুষার স্মার্ট ফোন মারফত তার যাত্রা বাতিলের খবর রেল কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দিয়েছিল। অমনি বোধহয় ওয়েটিং লিস্টের এক নম্বর মানুষটার কাছে রেল কর্তৃপক্ষের মেসেজ পৌঁছে গেছিল – টিকিট স্ট্যাটাস কনফার্ম।

ট্রেনের চাকা গড়াতে শুরু করেছে। এমন সময় ভদ্রলোক কুপের দরজা ঠেলে ঢুকলেন। নকশাপাড় শৌখিন ধুতি, গিলে করা ফিনফিনে পাঞ্জাবি, চকচকে কালো বিলিতি পাম শু শোভিত চেহারায় গত শতকের মজলিসী বাঙালি বাবুর আদল। বয়েস চল্লিশ হতে পারে। পঞ্চাশ হলেও আবাক হবার কিছু নেই। আজকাল নানা রকম ফ্যাশান হয়েছে। কেউ মাথার আধখানা কামিয়ে এক কানে দুল পরে ঘুরে বেড়ায়, কেউ সারা গায়ে ছবি আঁকায়, কেউ বা ধুতি পাঞ্জাবির সঙ্গে স্নিকার পরে। তাই পোষাক নিয়ে মাথা ঘামানোর কিছু মানে হয় না।  কিন্তু অবাক কাণ্ড সঙ্গে মালপত্র কিছু নেই। না একটা কাঁধে ঝোলা ব্যাগ পর্যন্ত। একেবারে ঝাড়া হাত পা।

আমি ততক্ষনে গুছিয়ে বসেছি। সামনে পাতা ডালা খোলা ল্যাপটপ। বৌ একটু আগে রিঙ করেছিল। স্কাইপি অন করতে হবে।

সদ্য মাস দুয়েক হল বিয়ে করেছি। মাখো মাখো পরিস্থিতি। কিন্তু অফিসে কাজের চাপ সামলে বাড়ি ফিরতে রাত দশটা বেজে যায়। সকাল আটটায় বেরোনা। রাত দশটায় ফেরা। বৌ–এরও একই রুটিন। ফলে ভাব ভালোবাসার কথাবার্তা বিশেষ বলার সুযোগ হয় না। উঈকএন্ডের শনি রবি দুটো দিন গায়ের ব্যাথা মরার আগেই ফুরুত করে উড়ে যায়। বৌ–এর সঙ্গে প্ল্যান করে বেরিয়েছিলাম হাওড়া থেকে দিল্লী যাওয়ার পথে পৃথিবীর দীর্ঘতম ভিডিও চ্যাটিং এর রেকর্ড গড়ে গিনেস বুকে নাম তুলব। কাজেই কো – প্যাসেঞ্জার নিয়ে মাথা ঘামানোর উৎসাহ আমার ছিল না।

স্কাইপি অন করে বৌ এর সঙ্গে প্রেমালাপ শুরু করলাম। কিছুক্ষন পর টের পেলাম ঠিক জুত হচ্ছে না। কাবাব মে হাড্ডি হয়ে উল্টোদিকে গ্যাঁট হয়ে বসেছেন ভদ্রলোক। বেশ বুঝতে পারছি ড্যাবডেবিয়ে খোলা ল্যাপটপ স্ক্রীনের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন ভদ্রলোক। এ কেমন মাল রে বাবা! দু-একবার ঘাড় তুলে সটান চাইলাম ওনার মুখের দিকে। কোনও হেলদোল নেই। বেশ নিবিষ্ট মনে বৌ-এর নড়াচড়া লক্ষ্য করে চলেছে।

দুত্তোর ছাই বলে রেকর্ডের হাতছানি উপেক্ষা করে লগ আউট করব কিনা ভাবছি। এমন সময় ভদ্রলোক কথা কইলেন। বসা বসা গলার আওয়াজ। অল্প জড়ানো।

ওই স্ত্রীলোকটির সহিত আপনার কী সম্পর্ক? ভদ্রলোকের তর্জনী সটান আমার বৌ-এর দিকে তাক করা।

এ আবার কোনদেশী অভদ্রতারে বাবা! অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ শুরুর এ কেমন তারিকা? জুতসই একটা জবাব মনে মনে হাতড়াচ্ছিলাম।

ভদ্রলোক আবার বললেন, স্ত্রীলোককে কখনো বিশ্বাস করিবেন না।

কোন পাগলের পাল্লায় পড়লাম রে বাবা! ভদ্রলোক দৃঢ় ভাবে নিজের মত জানিয়ে ফের ল্যাপটপের স্ক্রীনে চোখ রেখেছেন।

বৌ এখনও অফিসে। স্কাইপি অন রেখে চ্যাট করতে করতে টুকটাক কাজ সারছিল। সহকর্মী কেউ একজন কিউবিকলে ঢুকে চেয়ারের ব্যাকরেস্টে হাত রেখে দাঁড়াল। মুখ দেখা যাচ্ছে না। বৌ ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল। সে কিছু বলল। বৌ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে হাসত হাসতে বলল, এই শুনছ শানু কী বলছে?

শানু কী বলছে তা আর শোনা হল না। হঠাৎ সিগন্যাল চলে যাওয়ায় স্ক্রীন থেকে বৌ উধাও।

হতাশ হয়ে ল্যাপটপের ডালা বন্ধ করছি দরজা ঠেলে টি টি ঢুকল। পার্সের খোপে টিকিট আর আইডেন্টিটি প্রুফ গুছিয়ে রাখা ছিল দেখিয়ে দিলাম। হাতে ধরা লিস্টে খস করে আমার নামের পাশে দাগিয়ে টি টি উল্টো দিকে বসা ভদ্রলোককে সম্পুর্ণ ইগনোর করে বেরিয়ে গেল। যেন ওখানে কেউ নেই।

ব্যাপার কিছু বুঝলাম না। যাকগে মরুক গে। শান্তিতে একটু প্রেমালাপ করব তার জো নেই। এমন কপাল। বিরক্ত হয়ে জানালার বাইরে ছুটন্ত দৃশ্যের ওপর চোখ রাখলাম। চুপচাপ কিছু সময় কাটল।

ও হরি, ভদ্রলোক অপলক চাউনিতে আমাকে মেপেই যাচ্ছে। খুব রাগ হল। আচ্ছা লোক তো!

কড়া ভাবে বললাম, মশাই, আপনার ব্যাপারটা ঠিক কী বলুন তো?

কিছু না। আপনি বয়েসে তরুন। জীবন সম্পর্কে আপনার অভিজ্ঞতা এখনও পূর্ণতা লাভ করে নাই। তাই আপনাকে সতর্ক করিতে চাই। স্ত্রীলোক লইয়া অযথা মাতামাতি করিবেন না। করিলে আমার মতো অবস্থাপ্রাপ্ত হইবেন।

এবার বিরক্তি সরে গিয়ে মজা লাগল। ভদ্রলোক দেখছি প্রবল নারীবিদ্বেষী। একটাই এজেন্ডা। স্ত্রীলোক হইতে সাবধান।

আপনি হয়তো আমাকে নারীবিদ্বেষী উন্মাদ ভাবিতেছেন। তা ভাবুন। তাহাতে আমার কিছুমাত্র আপত্তি নাই। আমি আমার অমূল্য জীবনের বিনিময়ে এই জ্ঞান লাভ করিয়াছি। আপনি চাহিলে আমার অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করিতে পারি। তাহা শুনিলে আপনার বিশেষ উপকার হইবে।

ভদ্রলোক কেমন একটা তীব্র দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। হাবভাব মোটেই সুবিধের ঠেকছে না। মনে হয় বদ্ধ পাগল। বেশি ঘাঁটিয়ে লাভ নেই। বললাম, হ্যাঁ বলুন শুনি।

শুনিবেন? ভদ্রলোকের গলায় ঐকান্তিক আগ্রহের ছোঁয়া। চোখের খর চাউনি বদলে গেল। যেন খুব নিশ্চিন্ত হলেন।

#

এ কাহিনী অতি পুরাতন। এর চরিত্ররাও বহুকাল পূর্বের। এরকম এক ট্রেনের ফার্স্টক্লাস কুপে ঘটনাটি ঘটিয়াছিল বহু বছর পূর্বে। এই পর্যন্ত বলে ভদ্রলোক থামলেন। কিছুক্ষন উদাস ভঙ্গিতে বাইরের ছুটন্ত গাছপালা ঘর বাড়ি দেখলেন।

মনে হল কাহিনীসুত্র গুছিয়ে নিচ্ছেন। মিনিট খানেক চুপ থেকে ফের শুরু করলেন।

আমার জন্ম ১৮৭০ সালে কলিকাতার পাথুরিয়াঘাটা অঞ্চলে।

আমি হাল ছেড়ে দিলাম। এ লোক হয় বদ্ধ পাগল। নয় গাঁজাখোর। রাজধানী এক্সপ্রেসের ফার্স্ট ক্লাস কুপে এমন সুবেশ  গাঁজাখোরের খপ্পরে পড়তে হবে স্বপ্নেও ভাবিনি। মোবাইলের স্ক্রীনে দেখলাম এখনো টাওয়ার ফেরে নি। অগত্যা –

পিতৃদেবের ছিল রমরমা ব্যবসা। অগাধ টাকা। পিতৃদেব ছিলেন ক-অক্ষর গোমাংস। বেশ্যা বাঈজী গমন, জাঁকজমক পূর্বক বিড়ালের বিবাহ দেওয়া ইত্যাদি ধনী বাবুদের সকল দোষ কিংবা গুন – যাহাই বলা হউক না কেন তাহা- ওনার মধ্যে পুরোদস্তুর ছিল। কিন্তু ওনার ব্যবসা বুদ্ধি ছিল তুখোড়। তিনি থামিতে জানিতেন। এই থামিতে জানিবার বিরল গুনের জন্যই ব্যবসার উত্তর উত্তর শ্রীবৃদ্ধি ঘটিতেছিল।

বাল্য, কৈশোর খুব স্বচ্ছলতার মধ্যে অতিবাহিত করিয়া যৌবনে পদার্পণ করিলাম। অগাধ টাকা থাকিলে যা হয় ইয়ার দোস্তের সংখা নেহাত কম ছিল না। তাহারা আমার পয়সায় ফুর্তি করিত। দলবেঁধে গঙ্গা তীরবর্তী বাগান বাড়িতে বাঈজী বেশ্যা লইয়া হুল্লোড় চলিত।

কিন্তু কেন কী জানি আমাকে এ সকল ফুর্তি টানিত না। আমার মনোভাব ছিল সম্পূর্ন অন্য প্রকার। বলিতে পারেন আমি ছিলাম দৈত্যকুলে প্রহ্লাদ। যত্ন করিয়া লেখাপড়া শিখিয়াছিলাম। ইচ্ছা করিলে জজ ব্যারিস্টার হইতে পারিতাম।

মোবাইলে টাওয়ার উঁকি ঝুঁকি মারছে। মন ফস ফস করে উঠল। স্কাইপিটা একবার অন করতে পারলে হত। বৌ বেচারা নিশ্চই হা-পিত্যেশ করে বসে আছে। কিন্তু গাঁজাখোরের চোখ মুখ দেখে ভরসা হল না। অগত্যা –

যাহা হউক পিতৃদেবের আকস্মিক প্রয়ানের কারনে স্কুল কলেজের পড়াশোনা শেষ করিয়া পারিবারিক ব্যবসা দেখিতে শুরু করিলাম। যথাসময়ে পঁচিশ বৎসর বয়েসে ষোড়ষী কুসুমকুমারীর সহিত বিবাহ হইল।

অতঃপর বাহিরে ব্যবসা ও গৃহে কুসুমকুমারী। আমার জীবন রোমান্সে পূর্ণ হইয়া উঠিল। ইয়ার দোস্তরা কহিল সুরেশ ভাগ্যবান। কুসুমের ন্যায় স্ত্রী পাইয়াছে।

এইরুপে ছয় সাত বৎসর অতিবাহিত হইল। রোমান্সের প্রাথমিক উচ্ছ্বাস কমিয়া আসিল। স্বচ্ছন্দ গতি প্রাপ্ত হইয়া নিরুদ্বগে জীবনপ্রবাহ বহিতেছিল।

ইয়ার দোস্তদের মধ্যে গগন ছিল ধন সম্পদের দিক হইতে আমার সমকক্ষ। লম্বা চওড়া টকটকে ফর্সা সুপুরুষ গগনকে দেখিলে সাহেব বলিয়া ভ্রম হইত। আমার গৃহে ছিল তাহার অবাধ যাতায়াত।

প্রায়শই সন্ধ্যাকালে, বৌঠান কী করিতেছ? – বলিয়া হাঁক পাড়িয়া আমার গৃহে সে হাজির হইত। প্রথমে কিছু বুঝি নাই। দু–চারি দিন পরে বুঝিলাম গগন কুসুমকুমারীর প্রতি আকৃষ্ট হইয়াছে। আমি যেরূপ জানিতাম, কুসুমও জানিত গগন একটি দুর্দান্ত লম্পট। আমার ন্যায় কুসুমও গগনকে মনে মনে করুনা করিত। আমি নিশ্চিত ভাবে জানিতাম কিছুদিনের মধ্যে গগনের এ নেশা কাটিয়া যাইবে। সে অবধারিত ভাবে অন্য কোনও স্ত্রীলোকের প্রতি আকৃষ্ট হইবে।

কিন্তু কী আশ্চর্য্য ঘটনা সম্পূর্ন উল্টা খাতে প্রবাহিত হইল! ব্যবসাকার্য্য উপলক্ষে কিছুদিনের জন্য পটনা শহরে গিয়াছিলাম। কুসুম বা গগনকে লইয়া মনে শঙ্কার লেশমাত্র ছিল না। নিশ্চিন্তমনে কার্য্য সারিয়া গৃহে ফিরিয়া দেখিলাম কুসুম গগনের গৃহে অধিষ্ঠিত হইয়াছে। যাইবার পূর্বে তাহার সুছাঁদ গোটা গোটা হস্তাক্ষরে লেখা একখানি ক্ষুদ্র পত্র আমার জন্য রাখিয়া গিয়াছে।

– তোমার মতো সুভদ্র পুরুষ অপেক্ষা গগনের ন্যায় দুর্দান্ত পুরুষকে বশ করিবার রোমাঞ্চ আলাদা। তাই গগনের সহিত থাকিতে চলিলাম।

আমি পাগল হইলাম। সর্বক্ষন মনে হইত – এ কী হইল! এ কী হইল! কুসুমকে ভুলিবার জন্য কর্মচারীদের হাতে ব্যবসা ছাড়িয়া ভারত ভ্রমনে বাহির হইলাম। কিন্তু ভুলিতে পারিলাম কই।

তিন মাস পর দিল্লীগামী এক ট্রেনের এইরূপ নির্জন ফার্স্টক্লাস কুপে …।

হঠাৎ ভদ্রলোক উঠে দাঁড়ালেন। হাতে একগাছা দড়ি। দড়ি কোথা থেকে এল! ভাল করে কিছু বুঝে ওঠার আগেই দেখি দড়ির একদিক সিলিং ফ্যানের গোড়ায় জড়ানো। অন্য প্রান্তে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ভদ্রলোক ঝুলছেন! ঘাড় একদিকে কাত। চোখ ঠিকরে বেরিয়ে এসেছে।  আতঙ্কে চিৎকার করে চোখ বুজে ফেলেছি।

নাস্তা লিজিয়ে সাহাব। আট বাজে ডিনার মিলেগা।

চোখ খুলে দেখি নীল উর্দি পরা এক বেয়ারা টেবিলে একটা ট্রে রেখে কুপ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। উল্টোদিকের সিটে আগের মতো উদাস মুখে বসে রয়েছেন ভদ্রলোক। চোখ গেল ওনার গলার দিকে। একটা গোল কালচে দাগ স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। শিউরে উঠলাম।

#

আপনার আতঙ্কিত হইবার কোনও প্রয়োজন নাই। আমি জীবিত অবস্থায়  কাহারো ক্ষতি করি নাই। আমি কেবল আপনাকে সতর্ক করিলাম – স্ত্রী জাতিকে কখনও সম্পূর্ন বিশ্বাস করিবেন না। আচ্ছা চলি। ওহ। যাইবার পূর্বে আর একটি কথা। রাত্রি দশ ঘটিকায় আপনার ওই যন্ত্র মারফত কিছু দেখিতে পাইলেও পাইতে পারেন।

#

রাত দশটা। যথারীতি মোবাইলে টাওয়ার নেই। এর আগে বহুবার দিল্লী গেছি। কিন্তু মোবাইলের এত পুয়োর কানেক্টিভিটি কখনো দেখিনি।সন্ধের ঘটনা এখনও হজম হয় নি। ভয়ে ভয়ে ল্যাপটপ অন করলাম। কী দেখা যাবে রে বাবা?  কী দেখা যেতে পারে? হাঁ করে তাকিয়ে আছি স্ক্রীনের দিকে। পরিচিত আইকনগুলো জ্বল জ্বল করছে।

অনেকক্ষণ মাউস নাড়াচাড়া না করলে যা হয় তাই হল। স্ক্রীন অন্ধকার। পাওয়ার সেভিং মোডে চলে গেল যন্ত্র। এবার?

একী! অন্ধকার ফিকে হতে শুরু করেছে আপনা থেকে। একটা ঘর। আরে এতো আমারই বেডরুম! ওই তো খাটের মাথার দিকের দেওয়ালে যামিনী রায়ের পট চিত্র। মাছ মুখে বিড়াল। গত সপ্তাহে ঘর সাজানোর জন্যে কিনেছিল বৌ। দেওয়াল বেয়ে নামতে নামতে অদৃশ্য ক্যামেরা স্থির হল খাটের ওপর।

গোলাপ ছাপ বেডশিটের ওপর দুটো নগ্ন শরীর তুমুল উল্লাসে মেতে রয়েছে। ওই নারী শরীর আমার খুব চেনা।

দড়ি। এক্ষুনি একটা দড়ি চাই। নিজের অজান্তে চোখ চলে গেল সিলিঙের দিকে। দেখলাম একটা দড়ি পাক খুলতে খুলতে নেমে আসছে।

Advertisements

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.