পূর্ব বিবাহিত মহেশ ভট্ট ও সোনি রাজদানের গোপন বিয়ে ছিল ক্রাইম থ্রিলারের মতোই রোমাঞ্চকর

বি-টাউনে যখনি কোন তারকার বিয়ের খবর শোনা যায়‚ ভক্তদের এই নিয়ে কৌতূহলের শেষ থাকে না | বিয়ে হয়ে যাওয়ার বেশ কিছুদিন পরেও ভক্তরা তাদের প্রিয় তারকার বিয়ে সংক্রান্ত নানারকম মুখরোচক খবর নিয়ে আলোচনা করতে ভালোবাসে | বলিউডের অনেক তারকাই খুব ধূমধাম করে বিয়ে করেছেন | কিন্তু আবার অনেক স্টারই আছেন যাঁদের প্রায় লুকিয়ে বিয়ে করতে হয়েছে | এখনকার সুপারস্টার আলিয়ার বাবা মহেশ ভট্ট এবং সোনি রাজদানের বিয়ের আসরও লোকচক্ষুর আড়ালেই বসেছিল | সেই সময় ওঁদের বিয়ে নিয়ে চারিদিকে বেশ জলঘোলাও হয়েছিল | আজকে রইলো ওঁদের বিয়ের গল্প এবং কেন ওঁরা লুকিয়ে বিয়ে করেছিলেন তার খবর |

mahesh-1প্রযোজক-পরিচালক নানাভাই ভট্টের বড় ছেলে মহেশ ভট্ট ওঁর কেরিয়ার শুরু করেন বিজ্ঞাপন পরিচালনা দিয়ে | পরে ৭ দশকের শুরুতে উনি পরিচালক রাজ খোসলাকে অ্যাসিস্ট করেন | উনি বেশ কিছু জনপ্রিয় ছবি যেমন ‘ মেরে গাঁও মেরে দেশ ‘‚ ‘ দো চোর ‘ প্রভৃতিতে সহ পরিচালকের কাজ করেন | পরে ‘ মনজিলে অঔর ভি হ্যায় ‘ ছবিতে স্বাধীনভাবে ছবি পরিচালনা করার সুযোগ পান | তবে বলিউডে আসার বহু দিন আগে থেকেই উনি লোরেন ব্রিগেটের সঙ্গে প্রেম করছিলেন | মাত্র ২০ বছর বয়েসে মহেশ লোরেনকে বিয়ে করেন | বিয়ের পর লোরেন নিজের নাম পরিবর্তন করে কিরণ করে নেন | এবং বিয়ের এক বছরের মাথায় জন্ম হয় পূজা ভট্টের |

mahesh-2এর পরে পরেই মহেশ বলিউডে কাজ শুরু করেন | কিন্তু মহেশের পরিচালিত একের পর এক ছবি বক্স অফিসে অসফল হতে শুরু করে | এর প্রভাব ওঁর ব্যক্তিগত জীবনেও পড়ে | স্ত্রী কিরণের সঙ্গে এই সময় ওঁর সম্পর্ক তিক্ত হয়ে যায় | এইসবের মধ্যে মহেশ জনপ্রিয় অভিনেত্রী পারভিন বাবির প্রেমে পড়েন | তবে পারভিন এবং ওঁর সম্পর্কেও তিক্ততা কম ছিল না | উনি ওঁদের সম্পর্কের ভিত্তিতে ‘ অর্থ ‘ ছবি বানান | এই ছবি দিয়ে আরো একবার বলিউডে পরিচালক হিসেবে নিজের সফর শুরু করেন উনি | সফল মহেশের জীবনে আবার খুশির হাওয়া বইতে শুরু করে | এবং স্ত্রী কিরণের সঙ্গে সম্পর্ক আবার বেশ ভালো হয়ে যায় | এর ফলে রাহুলের জন্ম হয় | কিন্তু এই প্রেম ক্ষণস্থায়ী ছিল | কিছুদিনের মধ্যেই আবার তিক্ততায় ভরে ওঠে দুজনের জীবন | কিন্তু সন্তানদের খাতিরে বিবাহ-বিচ্ছেদের পথে যাননি ওঁরা | এই সময় মহেশের আলাপ হয় সোনি রাজদানের সঙ্গে |

mahesh-3সোনি রাজদান ভারতীয় হলেও বড় হয়েছেন ব্রিটেনে | উনি ‘ ৩৬ চৌরঙ্গী লেন ‘ ছবি দিয়ে অভিনয় শুরু করেন | এর পর ‘ মান্ডি ‘ ছবিতেও অভিনয় করেন | এই ধরণের সিনেমা করার সূত্রে ওঁর মহেশের সঙ্গে আলাপ হয় | এবং মহেশের পরিচালিত ছবি ‘ সারাংশ ‘ এও অভিনয় করেন উনি | প্রথম আলাপ থেকেই মহেশের এই বুদ্ধিদীপ্ত তরুণীকে বেশ ভালো লাগে | এবং কিছুদিনের মধ্যে ওঁরা প্রেমে পড়েন | মহেশের এই এক্সট্রা ম্যারিটাল অ্যাফেয়ারের কথা জানাজানি হয় যায় | ফলে ওঁরা সাবধান হয়ে যায় | এবং লুকিয়ে প্রীতিশ নন্দীর অব্যবহৃত বাড়িতে দেখা করা শুরু করেন |

mahesh-4এতদিনে মহেশের বিয়ে নামক প্রতিষ্ঠানের ওপর থেকে বিশ্বাস উঠে গিয়েছিল | সোনিও ওঁকে এই ব্যাপারে সমর্থন করতেন | কিন্তু বাধ সাধেন সোনির মা-বাবা | ওঁরা জানতে পারেন তাঁদের মেয়ে বিবাহিত মহেশের সঙ্গে প্রেম করছেন | এতে খুবই চিন্তিত হয়ে পরেন ওঁরা | মহেশ ওঁদের আশ্বস্ত করেন যে উনি সোনিকে ছাড়বেন না এবং বিয়েও করবেন সোনিকে | অনেক চেষ্টা করেও কিন্তু কিরণের কাছ থেকে বিবাহ বিচ্ছেদ চাইতে পারেননি না তিনি | কারণ উনি ওঁর সন্তানদের খুবই ভালোবাসতেন | এইসময় ওঁর এক বন্ধু ওঁকে ধর্ম পরিবর্তন করার পরামর্শ দেন | মহেশের মা মুসলমান ছিলেন | তই সহজেই মহেশ ধর্ম পরিবর্তন করে নেন |

mahesh-5১৯৮৬’র মাঝামাঝি মহেশ ধর্ম পরিবর্তন করে আশরফ ভট্ট হন এবং শাকিনা ( সোনির মুসলিম নাম ) কে বিয়ে করেন | ওঁদের লুকিয়ে ‘ নিকাহ ‘-র পরে ওঁরা তাজমহল হোটেলের এমারেল্ড জেড রুম বুক করে সোনির কয়েকজন আত্মীয়‚ কয়েকজন বন্ধু‚ যেমন কিরণ খের‚ নন্দিনী সেন প্রভৃতি এবং মহেশের কয়েকজন বন্ধু যেমন সেলিম খান‚ সূরজ সানিম এবং কুলজিৎ পাল করদের আমন্ত্রণ করেন | মহেশের ছোট ভাই মুকেশ ভট্টও উপস্থিত ছিলেন সেই অনুষ্ঠানে | ওঁদের বিয়ে নিয়ে এতটাই গোপনীয়তা ছিল যে মহেশের প্রথম স্ত্রী এই বিয়ের ব্যাপারে কিছুই জানতেন না | মহেশ নাকি এই বিয়ের খবর কিরণকে জানাতে চেয়েছিলেন | কিন্তু সোনি তা গোপন রাখতে চান | ওঁরা সিদ্ধান্ত নেন কয়েকদিন পরে ওঁরা ওঁদের বিয়ের খবর কিরণকে জানাবেন | এর কিছুদিন পরে একটা জনপ্রিয় ফিল্মি ম্যাগাজিনে ওঁদের বিয়ের খবর বেরোয় | এবং চারিদিকে হইচই পড়ে যায় | মহেশের প্রথম বিয়ে সফল না হলেও দ্বিতীয়বার সোনির সঙ্গে সুখী দাম্পত্য জীবন পান উনি | ওঁদের দুই সন্তানের জন্ম হয়‚শাহিন এবং আলিয়া |

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here