কাল সন্ধে ছ’টায় আসব

দীর্ঘক্ষণ পর ওর ঠোঁট থেকে ঠোঁট সরিয়ে জিগ্যেস করেছিলাম, ‘তোর ঠোঁটের স্বাদ এত ভালো কেন রে?’ তনিমা তখনই আমার বুকে মুখ লুকিয়েছিল। ওর ওই লজ্জা পাওয়া মুখ তুলে আমি কতবার চুমু খেয়েছিলাম।

আজও আবার ওর ঠোঁটের স্বাদ পাব। একবছর আগের মতো।

আজ তনিমার জন্মদিন।

রাজারহাটে আমার এই স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টে আজ আবার আমরা দুজন একা একঘরে। থাকব রাত পর্যন্ত। ঠিক গতবছরের আজকের দিনটার মতো। সেদিনই ছিল আমাদের প্রথম একা থাকা।

তনিমা বাড়িতে বলেছিল যে বান্ধবীরা ওর জন্মদিন সেলিব্রেট করবে। বাড়িতে আমার কথা বলতে পারত না কোনোভাবেই। এমনকী ওই সেলিব্রেশনেও আমি কোনোভাবেই যাচ্ছি না জানিয়েছিল তনিমা। কারণ, তনিমার মা আমাকে অপছন্দ করেন। উনি প্রায় বিশ্বাস করেন যে আমাদের মধ্যে কিছু আছে। তবে আমাকে অপছন্দের সঠিক কারণ আজও অজানা। তনিমা বারকয়েক জানতে চেয়েছিল ওর মায়ের কাছে। আর প্রতিবার তিনি খুব সংক্ষেপে উত্তর দিয়েছিলেন, ‘বাজে ছেলে, বড়লোকের বখে যাওয়া ছেলে’।

কিন্তু আমি কোনোভাবেই বখে যাওয়া ছেলে নই। তনিমার মা ছাড়া এই অভিযোগ আর কেউ করেনি আজ পর্যন্ত।

আমি মাঝেমধ্যেই এই অ্যাপার্টমেন্টে এসে একা একা থাকি। তাই আমাকে বাড়িতে কোনো অজুহাত দিতে হয়নি।

আজ তনিমা পরেছে জিনস আর টি-শার্ট। অপূর্ব লাগছে ওকে। আমি ওকে বলেছিলাম, ‘এমন কিছু একটা পরিস, যেটা আমার খুলতে ভালো লাগবে।’ শুনে ও হেসেছিল।

‘আজও কিন্তু আমিই রান্না করব। বাইরের খাবার চলবে না।’

‘আপনার যা ইচ্ছা, মহারাণি। কিন্তু মেনু হবে গতবারেরটাই। কষা মাংস আর পরোটা।’

তনিমা রাজি।

গতবার জন্মদিন পালনের সঙ্গে ফাঁকা অ্যাপার্টমেন্টে প্রেমিক-প্রেমিকা থাকলে যা যা হতে পারে সবই হয়েছিল স্বাভাবিকভাবেই। আর এখন, মঞ্চ ও আমরা তৈরি।

তবে এবারের জন্মদিন সেলিব্রেশনের প্ল্যানটা আমাদের আচমকাই হল গতকাল রাতে।

আসলে অনেকদিন পর কালই রাতে তনিমার সঙ্গে কথা হল।

যেদিন ওর বাড়ি থেকে অন্য ছেলের সঙ্গে তনিমার বিয়ে ঠিক করল, আর ও আমাকে ছাড়া থাকতে পারবে না বলে আত্মহত্যা করল, সে-ই সেদিনের পর কাল রাতে কথা হল আমাদের।

ও কাল বলেছিল, ‘ঠিক সন্ধে ছটায় আমি আসব।’

আজ ছটা বাজার একটু আগেই এসেছে তনিমা।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

3 Responses

  1. Amr gf arnam chilo Tanima..suicide korechilo..Reason ta chilo onno..tubuo porte porte sei diber kotha mone pore gelo..

Please share your feedback

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nayak 1

মুখোমুখি বসিবার

মুখোমুখি— এই শব্দটা শুনলেই একটাই ছবি মনে ঝিকিয়ে ওঠে বারবার। সারা জীবন চেয়েছি মুখোমুখি কখনও বসলে যেন সেই কাঙ্ক্ষিতকেই পাই