‘ কোনওদিনও যেন ভাল মেয়ে হোস না’‚ শেষ চিঠিতে মেয়েকে পরামর্শ ধর্ষিতা মায়ের

3240

বাঙালি মধ্যবিত্ত পরিবারের শ্যামলা মেয়ে  | ছোট থেকে শিক্ষা পেয়ে এসেছে থাকতে হবে ভাল মেয়ে হয়ে  | জীবনভর পালনও করেছে সেই শিক্ষা  | কিন্তু ভালত্বের মাশুল দিতে হল তাকে  | গণধর্ষিতা হয়ে  | তখন সে দুই সন্তানের মা‚ ভরভরন্ত সংসারের গৃহিণী  | কিন্তু লোকলজ্জার ভয়ে ডাক্তার-পুলিশ করল না তার শ্বশুরবাড়ি  | নিজের মনের কথা কিশোরী কন্যাকে জানাতে চিঠি লিখল মৃত্যুগামী মা  |

পুরোটাই এক কাল্পনিক পটভূমি  | এবং সেই পটভূমিতে কেমন হবে সেই কাল্পনিক চিঠি  ? ভেবে দেখার চেষ্টা করলেন দীপান্বিতা রায়

 

আমার সোনা মা,

রাত কেটে গেছে | জানলার ফাঁকে যখন কথাবার্তা সব হয়ে গেল‚ তখনই ঠিক করেছিলাম তোকে চিঠি লিখব | কিন্তু রাতে এমন একটা ওষুধ দিল যে চোখ খুলেই রাখতে পারলাম না | তবে ঘুম ভেঙে গেল ভোররাতে | কাগজ-কলম রাতেই এনে রেখেছিলাম | তাই বসে পড়লাম তাড়াতাড়ি |

জানিস সোনা‚ আমার ঘরের দক্ষিণের জানলাটা খোলা আছে | এইমাত্র একঝলক ঠান্ডা হাওয়া আমার মুখে হাত বুলিয়ে গেল | ছোটবেলায় ঘেমেচুমে বাড়ি ফিরলে‚ মা যেমন ঠান্ডা আঁচল দিয়ে মুখ মুছিয়ে দিত | ঠিক যেন তেমনটি | মায়ের গায়ের গন্ধটাও যেন পেলুম হঠাৎ | কত্তদিন পরে | ভুলেই গেছিলাম তো | কিন্তু দ্যাখ‚ চিনে নিতে একটুও দেরি হল না |

তোর মতো আমিও যে ভারি মা ন্যাওটা ছিলুম | মাকে ছাড়া একটুকুও থাকতে পারতাম না | তোর মামা যখন হল‚ রাতে মাকে ছাড়া শুতে হবে শুনে আমার কী কান্না‚ কী কান্না | ঠাকমা বলল‚ আদিখ্যেতা | মেয়েমানুষের এমন নেই আঁকাড়া স্বভাব ভাল নয় | শেষকালে মায়ের একটা পুরোনো শাড়ি জড়িয়ে ঘুমোলাম | অথচ দ্যাখ‚ কতদিন দেখিনি মাকে | কত বছর হয়ে গেল মা আর এই পৃথিবীতেই নেই | তবু তো আমি দিব্যি আছি | মায়ের কথা কতদিন সারাদিনে একবারও মনে পড়ে না | অথচ‚ সেদিন আমি যখন কাঁদছিলাম মা বলেছিল‚ ক্ষেপী মেয়ে‚ শ্বশুরবাড়ি যাবি কী করে ? আমি কি সঙ্গে যাব ?  

তোর দাদুর ছিল কেরানির চাকরি | টানাটানির সংসারে বড় হওয়া | দেখতে-শুনতেও সাধারণ | আমি যে এক নিতান্ত মামুলি মেয়ে‚ জেনে নিতে দেরি হয়নি একটুও | কিন্তু জানিস‚ আয়নার সামনে দাঁড়ালে দেখতাম‚ ছোট্ট কপালের নিচে টানা ভুরু | চোখের পাপড়ি ছায়া ফেলেছে গালে | হাসলে সামনের দাঁত অল্প উঁচু‚ চিবুকের নিচে তিল‚ আর বাঁ গালের টোল | মনে হত‚ খারাপ কী ? এই তো বেশ |

ভুল ভাঙতেও দেরি হত না অবশ্য | গরমের ছুটিতে দেওঘরে মামার বাড়ি | চড়া রোদে সামনের রাস্তায় বুড়ি-ডু-র ঘর কাটা | দম বন্ধ করে এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত ছুটে ছুটে খেলা | মাসতুতো দিদিদের কিন্তু ঘর থেকে বেরোন বারণ | মাসির কড়া হুকুম |

বাঃ! ও যে খেলছে‚ আমরা কী দোষ করলাম ?

না‚ বাইরে যাবে না‚ রোদে রঙ কালো হয়ে যাবে |

অমন করে বলছ কেন দিদি‚ আমার মেয়ের রঙ তো মাজা | মায়ের ক্ষীণ প্রতিবাদ হেসেই উড়িয়ে দিত মাসি |

ওসব মাজা-ঘষা কিছু হয় না রে | মেয়ে তোর কালো |

সেদিনই আমি দিব্যি বুঝে গেছিলাম আমি কালো‚ আমি মামুলি |  

কিন্তু কেমন মজা দ্যাখ‚ কালো মেয়ের ভাল হতে কোনও বাধা নেই | বরং ভাল হওয়াটা বড্ড জরুরি | বিধাতা যা দেননি তার প্রায়শ্চিত্ত তো করতে হবে মানুষকেই | নিরবচ্ছিন্ন ভালত্বে মুড়ে ফেলতে হবে নিজেকে | চারধারে তুলে দিতে হবে নিষেধের নিগড়‚ নিয়মের কঠিন বেড়াজাল | টানা আছে লক্ষ্মণের গণ্ডি | খড়ির সেই দাগ পেরোতে নেই ভাল মেয়েদের | রোজকার কথাবার্তা‚ আদর‚ আহ্লাদের গতানুগতিক পথেই এই নিয়ন্ত্রণ রেখা চারিয়ে যাচ্ছিল আমার শরীরে |

আমার শির-উপশিরা বেয়ে নিঃশব্দে ঢুকে পড়ছিল আমার হৃৎপিণ্ডে |রক্তবাহিকা নালির সূক্ষ্মজাল বেয়ে দখল নিচ্ছিল আমার শরীর কোষের | আমি আস্তে আস্তে হয়ে উঠছিলাম একজন নিখুঁত ভাল মেয়ে |

সেই দিনটার কথা বেশ মনে আছে আমার | শ্রাবণ মাসের শেষদিন | তার দুদিন আগেই আমার জন্মদিন ছিল | ভাতের থালার পাশে পায়েসের বাটি সাজিয়ে দিয়েছিল মা | বিকেলে বাথরুমে গিয়ে ভয় পেয়ে গেলাম | আমার কি কোনও কঠিন অসুখ করেছে ? মাকে বলতেই মায়ের মুখ ফ্যাকাসে | ঠাকুমাও কেমন যেন অস্থির‚ বিরক্তও | ভাইয়ের সঙ্গে একখাটে বসে খেলা যাবে না | আমি এখন অশুচি‚ অপবিত্র | রাতে শুয়ে কানের পাশে চাপা গলার উপদেশ | বড় হয়ে গেছো কিন্তু | এবার সাবধানে থেকো | যা খুশি করা বারণ হল এখন থেকে | আমার দুচোখ বেয়ে তখন গরমজলের উথাল-পাথাল স্রোত | আমি তো চাইনি‚ তবু কেন বড় হয়ে গেলাম ?

প্রথম যেদিন তোকে কোলে নিয়ে মুখের দিকে তাকালাম‚ তোর কচি ঠোঁট আমার স্তনবৃন্ত স্পর্শ করল‚ হঠাৎ মনে পড়েছিল শ্রাবণের সেই দিনটির কথা | সেদিন কেউ আমাকে বলেনি কেন‚ এ তোমার জীবনে বড় শুভদিন | আজ থেকে শুরু হল তোমার পৃথিবীকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি |

জানিস সোনা‚ ভাল মেয়ে হওয়ার অনেক জ্বালা | তুই তো এখন বড় হয়েছিস‚ তাই চুপিচুপি তোকে বলি‚ আমার মত মামুলি মেয়েও কিন্তু পারত হঠাৎ করে কারওর মনে রঙ ধরিয়ে দিতে | হেমন্তের বিকেলে শীরিষ গাছের নিচে আমার জন্যও অপেক্ষা করত একজন | আমার তখন টিয়া রঙের শাড়ির সঙ্গে লাল ব্লাউজ | লম্বা বিনুনি পিঠের ওপর | কলেজ ফেরতা বন্ধুদের সঙ্গে কলকল শেষে বাড়ির পথে |

ফাঁকা রাস্তায় নিজের বুকের ধকধক নিজেই শুনতে পেতাম | ছিপছিপে চেহারা | নাকের নিচে সরু গোঁফ | নওলকিশোরের সঙ্গে কথা বলতে মনের ভিতর আকুলি-বিকুলি | কিন্তু মনের চারপাশে যে ভালত্বের বিধিনিষেধ সঙ্গীন উঁচিয়ে খাড়া | পায়ের গতি বাড়ত | হতাশ‚ বিষণ্ণ দৃষ্টি মিলিয়ে যেতে দেখতাম শেষ বিকেলের ধোঁয়াশায় |  

অমন করে যারা অপেক্ষায় থাকত‚ তাদের কথা বন্ধুরা জানত | মাকে বলিনি কখনও | কিন্তু আরও অনেকে ছিল‚ যাদের কথা কাউকে কখনও বলতে পারিনি | তাদের দেখলে বুকের ভিতর প্রচণ্ড ভয় হাঁকডাক শুরু করত | আর্তনাদের ইচ্ছায় গলার ভিতরটা চিরে চিরে রক্তাক্ত হয়ে উঠত | ইচ্ছে করত হাত-পা গুটিয়ে ছোট্টটি হয়ে মায়ের কোলের ভিতর ঢুকে পড়ি‚ যাতে কেউ আমাকে খুঁজে না পায় | মায়ের গলা জড়িয়ে ধরে চিনিয়ে দিই তাদের | কিন্তু বলতে পারিনি | ভাল মেয়েদের অমন কথা বলতে নেই যে !

আমি তখন ভয় পেতাম | কিন্তু ভয়ের আর্তনাদ গুমরে গুমরে মরে যেত আমার মনের ভিতরেই | আসলে কেউ তখন আমাকে দুর্গা সোরেনের গল্প বলেনি তো | তোর মনে আছে‚ তুই যখন আট বছরের‚ তখন তোকে কোলে বসিয়ে বলেছিলাম সেই গল্প ? আসলে আমি চাইতাম‚ আমার মত তুই যেন কখনও ভয়ে কুঁকড়ে না যাস | কোনও খারাপ লোক তোর সঙ্গে অসভ্যতা করলে তোকে যেন চোখ নামিয়ে সরে যেতে না হয় | দুর্গা সোরেনের মত তুইও যেন তার চোখে চোখ রেখে বজ্রের মত কঠিন শব্দে ধ্বনিত করতে পারিস তোর প্রতিবাদ |

মামুলি‚ ভাল মেয়ের নিয়ম মেনেই আমারও তোর বাবার মত মামুলি ছেলের সঙ্গে বিয়ে | চাকুরে‚ মধ্যবিত্ত সংসার | শ্বশুর‚ শাশুড়ি‚ অবিবাহিত ননদ | সকালের ভাত-ডাল-পোনা মাছের ঝোল‚ রাতে রুটির সঙ্গে আলু-কুমড়োর ছক্কা | দুবছরের মাথায় তুই | আরও তিন বছর পরে তোর ভাই | ঘরকন্না‚ ছেলের স্কুল‚ মেয়ের টিউশন‚ শাশুড়ির বাতের ওষুধ‚ শ্বশুরের ইনহেলার এসবের পরে অ-সুখের অবকাশ নেই এতটুকুও | সুযোগও নেই | ছোট সংসারে স্বামীর কথাই আইন | ভাল মেয়ের মত আইন মেনে চলাই আমারও চিরকালের অভ্যাস |

তবে‚ জানিস সোনা‚ লুকিয়ে-চুরিয়ে আইন যে ভাঙার ইচ্ছা হত না তা কিন্তু নয় | আজ তোর কাছে কিছুই লুকোব না | ভাড়াবাড়ির দোতলার ছাদে‚ টবে লাগিয়েছিলাম গন্ধরাজের চারা | রোজ বিকেলে জল দিতে উঠতাম | তখন গা ধোয়া সারা | হলুদ ধনেখালি ডুরেতে যে আমাকে ভাল মানায় সে কথাও জানি | আঁট করে বাঁধা খোঁপায় পাতাসুদ্ধ একটি গন্ধরাজ গুঁজে নিতে ভুলতাম না | একজন থাকত কোণাকুণি তিনটে বাড়ির পরের ছাদে | গায়ে সুতির পাঞ্জাবি | ঠোঁটে আনমনা সিগারেট | সময়ে ভুল হয়নি কোনওদিন |

তবে মামুলি মেয়ের সংসারে অশান্তি ছিল না কোনও | সম্পর্কগুলো সবই যেন খাপে-খাপে বসানো | নিয়ম মেনে শুধুই নিখুঁত পা ফেলা | শুধু অবকাশ নেই নিজের খুশিমত এতটুকু এলোমেলো নিঃশ্বাস নেওয়ার | মাঝে মাঝে মধ্যরাতে চোখ খুলে চেয়ে থাকতাম খোলা জানলা দিয়ে এসে পড়া রাস্তার আলোর দিকে | সংসারের চাকা তো দিব্যি ঘুরছে | তবে কেন এমন নেই-ঘুমবিলাস ? কোন এক অজানা ঘুণপোকার শব্দ কানের কাছে বাজত‚ করর করর |

সেগুন কাঠের খাট | বিয়ের সময় বাবার দেনা হয়েছিল বানাতে | ভাবতাম সকালে উঠে খুঁজে দেখব কোথা থেকে ঝরে পড়ছে সম্পর্কের গুঁড়ো | সেদিনটা ছিল একেবারে অন্য দিনের মতোই | অঘাণের শেষ | সকাল থেকেই আকাশে মেঘ করে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছে | সন্ধের পর খেয়াল হল তোর ঠাকুমার বাতের ব্যথার ওষুধ ফুরিয়েছে | পাড়ার ক্লাবে ব্রিজ কম্পিটিশন চলছে | এসময় তোর বাবার সেখান থেকে বেরোন অসম্ভব | ছাতাটা নিয়ে তাই আমাকেই বেরোতে হল | ওষুধ কিনে জোর পায়ে ফিরছি | মাঝে স্কুলের পাশে ফাঁকা গলি | দত্ত বাড়ির ভাঙা পাঁচিল | গোঙানির অস্পষ্ট আওয়াজে চমকে গিয়েছিলাম |

হ্যালোজেনের আলো আবছাভাবে পড়ছে গাঙ্গুলিদের বোবা মেয়েটার গায়ে | ছাপা ম্যাক্সি থেকে বেরিয়ে আছে পায়ের গোছ | ওরা কি চারজন না পাঁচজন ? বোঝার চেষ্টা করিনি | পাঁচিল পেরিয়ে ছুটে ঢুকতে গিয়ে উড়ে গেছিল ছাতা‚ শাশুড়ির ওষুধ নর্দমায় গড়াগড়ি | নতুন শিকার পেয়ে জন্তুদের সবুজ চোখে তখন আদিম হিংস্রতা |

হাসপাতালে নিয়ে যায়নি আমার মামুলি বর | তোর দাদু-ঠাকুমা বারণ করেছিল | পুলিশে খবর দেওয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না | বাড়ির বউ এমন কেলেঙ্কারি ঘটালে তাকে ঢাকা-চাপা দেওয়াই তো নিয়ম |

বোবা মেয়েটার ওপর ওরা অত্যাচার করছিল !

করত‚ তাতে তোমার কী ?

একটা বোবা মেয়ে‚ মুখ দিয়ে লালা গড়ায়

পালিয়ে আসতে পারলে না ভাল মেয়ের মত | নাকি নিজেরও চেখে দেখার ইচ্ছে হয়েছিল ?

পনেরো বছর ধরে সংসার করা বরের কথায় চোখের নোনতা জলে উথলে উঠল মনের ভিতরকার সন্দেহের বিষ | তাহলে কি আমি ভাল মেয়ে নই ?

পাড়াপড়শিদের ফিসফাস চলছিলই | দত্তবাড়ির মাসিমার হঠাৎ মনে পড়ে গেল শ্বশুরের তিন বছর আগে সেরে যাওয়া অম্লশূলের ব্যথার কথা | বাড়ি বয়ে খোঁজ নিতে এসে আড়ে আড়ে তাকাচ্ছিলেন | বউয়ের বুঝি শরীর খারাপ‚ অসময়ে শুয়ে যে ? শরীর-গতিকের তত্ত্ব-তালাশ নিতে‚ ভুলে যাওয়া আত্মীয়দের ঘনঘন ফোন |

তোর মায়ের জন্য কারওর কাছে আর মুখ দেখানোর উপায় রইল না | স্কুল থেকে ফিরে যখন জুতোর ফিতে খুলছিলিস‚ শুনলাম তোর ঠাকুমার গলা | দেখলাম ঠাকুমার গুণগুণ কথায় তোর চোয়ালের হাড় শক্ত | পড়ার ঘর থেকে বইয়ের পাঁজা তুলে এসে বসলি আমার খাটের পাশে |

জরায়ুর ক্ষত তখন বিষিয়ে উঠেছে | অসহ্য যন্ত্রণায় ছটফট দিনরাত | কাল কেউটের ছোবলে ধীরে ধীরে নীল হচ্ছে শরীর | মুখময় অরুচি | মরে যাবে নাকি ? আরও বড় কেলেঙ্কারির ভয়ে শেষপর্যন্ত বন্ধু ডাক্তারকে খবর |

এতো সাংঘাতিক অবস্থা | শেষ করে এনেছো প্রায় | এখুনি হাসপাতালে দাও | তাতেও বাঁচানো কঠিন |

হাসপাতাল মানেই তো লোক জানাজানি | বাড়িতে করা যায় না কিছু ?ইঞ্জেকশন‚ দু-চারটে কড়া ওষুধ | টাকা-পয়সা কিছু না হয় খরচ হলই |

তোর বাবার করুণ অনুরোধে কানই দিল না | চায়ের পেয়ালা ঠক করে প্লেটের উপর নামিয়ে উঠে চলে গেল ডাক্তার |

ডাক্তাররা ওরকম বলে | হাসপাতালের কথা ভাবিস না খোকন‚ বলেছিল তোর ঠাকুমা |

কিন্তু আমার বর ভীতু মানুষ | আজকাল আইন-কানুন কড়া হয়েছে | বাড়িতে মরলে আমার গরিব বাবা যদি পুলিশে খবর দেয়  ? সে অনেক হ্যাপা | তার থেকে চেনা নার্সিংহোমে ঝামেলা চুকিয়ে নেওয়াই ভাল |

কথা-বার্তা সব হয়ে গেছে রাতেই | তোর বাবা বন্ডে সইও করে দিয়েছে | একটু পরেই ওরা আমাকে পিঠ খোলা নীল জামা পরিয়ে দেবে | অনেকদিন পরে চুলে টাইট করে বেঁধে দেবে দু-বিনুনি | এগারটায় অপারেশন | সাদা চাদরে গলা পর্যন্ত ঢেকে তুলে নেবে স্ট্রেচারে | আমি জানি সিঁড়ির মুখে বাবার সঙ্গে তুই দাঁড়িয়ে থাকবি | তেরো বছরের কচি মুখ | শুকনো চোখে থমথমে কান্না | ইশারায় ডেকে নেব তোকে | কাছে টেনে সন্তানের শরীরের দুধগন্ধ ভরে নেব মস্তিস্কের কোষে কোষে | শেষবারের মতো | তারপর তোর হাতে গুঁজে দেব এই চিঠিখানি | কথা বলব না কোনও | যা বলতে চাই‚ যা বলে যেতে চাই‚ লিখে দিলাম এই শেষ লাইনে |

মনে রাখিস মা‚ কোনওদিনও যেন ভাল মেয়ে হোস না |

—-তোর মামুলি মা 

Advertisements

6 COMMENTS

  1. খুব খুব ভালো,.. পড়তে পড়তে অক্ষর গুলো যেন বলছিল “.. তোমাকে ভাবাবই ভাবাবো…”

  2. অসাধারন এবং অতিসুন্দর একটা লেখা। পড়ে অনেক ভালো লাগল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.