তন্ময় চট্টোপাধ্যায়
জন্ম ১৯৭৩ সালে | বাঁকুড়া খ্রিশ্চান কলেজ থেকে ইংরাজি সাহিত্যে স্নাতক | স্নাতকোত্তর রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে | পড়াশুনা শেষে সরকারি স্কুলে শিক্ষকতা | সাহিত্যের প্রতো ভালোবাসা ছেলেবেলা থেকেই | সাহিত্য পাঠের আনন্দই মৌলিক লেখালেখির অনুপ্রেরণা | আনন্দমেলা পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত গল্প 'সন্ধি' |

ক’মাস বেশ আনন্দেই ছিল নীলু। কাকভোরে ফুরফুরে একটা রোম্যান্টিক ঘোর আর তার রেশটুকু নিয়ে রঙিন সারাটা দিন। হুট করে ভাগ্যাকাশে যে এমন মেঘলা নামবে তা স্বপ্নেও ভাবেনি সে।

পড়ার টেবিলে বসে ব্যাজার মুখে নীলু ভাবছিল, ডাকাবুকো সাহসটাও যদি ভগবান তাকে দিতেন তাহলে এতদিনে লিলি মল্লিকের কাছে মনের ঝাঁপি মেলে ধরত সে।

তবে ওপরওলাকে খামোকা দোষারোপ করতে চায়না নীলু। সত্যি বলতে কি, যে সিকোয়েন্স তিনি তৈরি করেছিলেন তা বাঘা বাঘা চিত্র- পরিচালকরাও করে উঠতে পারতেন কি না সন্দেহ। কাকভোর। নির্জনে পড়ে থাকা রাস্তা। আর রাস্তার এদিক থেকে নীলু আর ওদিক থেকে লিলি। লেখার হাত থাকলে এই নিয়ে “রোমান্স এট ডন” লিখত নীলু।

ভোর শিকারী দুজনেই, তবে তাগিদ আলাদা। লিলির মর্নিং কলেজ আর নীলুর মর্নিং ওয়াক। খোঁজখবর নিয়ে নীলু জেনেছে লিলির বিদ্যাসাগর মর্নিং । ইংলিশ অনার্স ফাস্ট ইয়ার।

Banglalive-8

পরিচয় নেই, তবে লিলিকে নীলু চেনে অনেকদিন আগে থেকেই। চেনে তার গলার সুবাদে। নামের মতই লিরিক্যাল তার গলা। নীলুদের ক্লাব “কল্যান সঙ্ঘের” সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গানের প্রতিযোগিতায় বিগত তিন বছর ধরে ফাস্ট প্রাইজ পেয়ে আসছে লিলি। পাশের পাড়াতেই তার বাড়ি।

Banglalive-9

নীলুর বিশ্বাস লিলিও তাকে চেনে। নামেই চেনে। মোটে বছর তিন আগে পাড়া কাঁপানো এইচ. এস এর রেজাল্ট করেছিল নীলু। তার রেশ এলাকায় এখনো ফিকে হয়নি। নীলুর এখন থার্ড -ইয়ার ম্যাথ্‌স অনার্স।

তবে না, মুখচেনা থাকলেও এর আগে তার প্রেমে কখনো হাবুডুবু খায়নি নীলু। তার মর্নিং-ওয়াকার হয়ে ওঠার পিছনেও কোনো লিলি-ফ্যাক্টর জুড়ে নেই। কাকভোরে হাঁটাহাঁটি নীলুর পুরনো অভ্যাস। লিলি তো এ পথে সবে সাড়ে তিন মাস।

তবে এটা ঠিক যে এই সাড়ে তিন মাসে সকালের হাঁটাহাঁটিটা একটা বিশেষ ব্যাপার হয়ে উঠেছে তার কাছে। রাতে তার ঘুম হয়না ঠিকঠাক। এলোমেলো স্বপ্ন, মনে হু হু ভাব। সারা রাত ধরেই যেন পুব আকাশে আলো ফোটার অস্থির প্রতীক্ষা।

ঘুম-উড়ে যাওয়ার ঘটনার বয়েস তখন সবে মাত্র সপ্তা-খানেক। মনে বেজায় চাপ। সামলাতে না পেরে নীলু সব কিছু খুলে বলেছিল সুমিতের কাছে। সুমিত বলেছিল “বলিস কী? শেষ মেস তোকেও এই রোগে?

সুমিত এ রোগের পুরনো পেশেন্ট। বেশ অভিজ্ঞ। দু – দুটো প্রেমের ধাক্কা সামলে ইদানীং প্রেম নিয়ে কিঞ্চিৎ বৈদান্তিক হয়ে পড়েছে সে। তার প্রেম নিয়ে লেখা অনু কবিতা – “ওরা যায়, ওরা আসে, মিলন শুধু স্বপ্ন সহ-বাসে” তাদের কলেজের ছেলেদের মুখে মুখে ঘোরে। এমন অভিজ্ঞ অথচ উদাসীন প্রেম-বিশেষজ্ঞের টিপস পাওয়া রীতিমত ভাগ্যের ব্যাপার। তাই তাকে বেশ চেপেচুপে ধরল নীলু।

সুমিত শুধু সহপাঠী নয়, নীলুর ছেলেবেলার বন্ধু। অনেক ভেবেচিন্তে সে বলল, “দেখ নীলু, তোর যা কনফিগারেশন তাতে প্রেমের জন্য হ্যাংলামি তোর ধাতে সইবে না। আমার মনে হয় “সাইলেন্ট রোমান্স”ই তোর পক্ষে মঙ্গলের। নিঃশব্দে প্রেম। কনসেপ্টটা ব্যাকডেটেড হলেও বেশ রোম্যান্টিক। দরকার বলতে শুধু একটাই জিনিস – রেগুলারিটি । এতটাই রেগুলার হতে হবে যাতে তোর সাথে দেখা হওয়াটা তার কাছে অভ্যাসের মত হয়ে যায়। মুখোমুখি হলে টুকটাক তাকাবি। দেখাদেখি, চোখাচোখি করতে করতেই দেখবি একদিন নাটক জমে যাবে।”

আরও পড়ুন:  সব নারী ঘরে ফেরে...

সুমিতের গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ গুরুমস্তিস্কে ধারন করেছিল নীলু। তারপর থেকেই শুরু করেছিল তার “সাইলেন্ট রোমান্স”এর কর্মসুচী।

আনুমানিক ৭০ মিটারের মত লম্বা পথে দুজনের মিলিত হাঁটাহাঁটি। নির্জন রাস্তা। হ্যাংলা আর যেকোনো প্রেমিক হলে এতদিনে মনের ভাঁড়ার উজাড় করে দিত । কিন্তু নীলুর নিঃশব্দ প্রেমে সে সুযোগ নেই। কোনো হাই নেই, হ্যালো নেই, বত্রিশ পাটি দেখানো নেই, ঘাড় হেলানো কুশল বিনিময় নেই। শুধু উলটো দিক থেকে পরস্পরের দিকে নিঃশব্দে হেঁটে আসা, আর তারপর উল্টো মুখে কেটে পড়া। দেখা হওয়ার এই একটুকরো সময়কালকে কিঞ্চিৎ বাড়ানোর লক্ষ্যে তার চলার গতিকে যথাসাধ্য কমিয়ে এনেছিল নীলু।

চোখাচোখির ব্যাপারে নীলুর হাজারো সমস্যা। কে যেন হাতুড়ী পেটায় তার বুকের ভেতরে। অনেক চেষ্টায় সাড়ে তিন মাসে লিলির সাথে সে চোখ মিলিয়েছে মোটে চার বার।

প্রথম দু একবার ভালোমানুষের মত চোখ নিয়ে তাকিয়ে শুভদৃষ্টি টা বেশ হয়েছিল। গোলমাল হল চতুর্থ বারে। চোখে পাপবোধ ফুটে উঠেছিল কিনা কে জানে – তাকাতে গিয়ে নীলুর চোখে পড়ল লিলির কটমটে দৃষ্টি। ব্যস, আর সাহস হয়নি নীলুর। তারপর থেকে শত্রু প্রতিবেশির মত অধোবদনে – অতিক্রম নীতিতে লিলিকে ক্রশ করে যাচ্ছিল সে। শুধু মাঝে মধ্যে হাঁচি আর খুক-খুকে কাশি দিয়ে নিজের অস্তিত্ব জানান দিছিল সে। সুমিতের অভ্যাস – তত্ত্ব কোনো না কোন দিন প্রেমের ফুল ফোটাবে – এই আশাতেই বুক বেঁধে ছিল নীলু।

তারপর এই সেদিন হুস করেই নীলুর আশার ফানুস উড়ে গেল। বিনামেঘে বজ্রপাতের মতোই অমাবস্যা নেমে এল নীলুর ভাগ্যে। রাজ্য জুড়ে মহিলা নিরাপত্তা নিয়ে শোরগোল তুলল বেশ কটা খবরের কাগজ। আর তাতেই বোধহয় নড়েচড়ে বসল মল্লিক বাড়ি। কম বয়সী মেয়ে, ভোরের পথে কী না কী হয়ে যায়! তাই বাড়ি থেকে বাস স্ট্যান্ডের পথে লিলির ডাবল বডি-গার্ড নিযুক্ত হল – লিলির দশাশই অকৃতদার কাকা আর তাদের কুচকুচে কালো কুকুর। নরকের রাজা প্লুটোর কুকুরের মতই ভয়াবহ সেই জিনিস।

(২)

গত সাত দিন ধরে এই জোড়া রক্ষীর দাপটে কেমন যেন মিইয়ে গেছে নীলু। কুকুরে তার বড্ড ভয়। ছোট বয়সে এক কুকুরের ছোট্ট এক আঁচড়ের মাসুল গুনতে চোদ্দটা ইনজেকশনের অত্যাচার হজম করেছে সে। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি আর ঘটাতে চায়না নীলু। তাই ঝুঁকি না নিয়ে ঊল্টো ফুটপাত ধরে নিয়েছে সে।

আরও পড়ুন:  নো বেঙ্গলি টক, প্রমিস?

কাকা আর কুকুরের যুগলবন্দিতে এক সপ্তাহের মধ্যেই তালগোল পাকাল তার মাথায়। অগত্যা আবার সে ঝুলি পাতল সেই সুমিতের কাছেই। তবে এবার সুমিতও ঠিকঠাক সাহস দিলে না। শুধু বলল, “সাড়ে তিম মাসেও যখন হল না, তখন মনে হচ্ছে আর আশা নেই। ও রাস্তা তুই ছেড়ে দে নীলু।”

মনটা ভেঙ্গে গেল নীলুর। তবু হাঁটাহাঁটি সে ছাড়েনি এখনো। আগে দূর থেকে লিলির দিকে নজর রাখলেও এখন তার নজর থাকে লিলির কাকার হাতে ধরা কুকুরের দিকে। তাকে দেখে কুকুরটা যেভাবে চেন ছেঁড়ার চেষ্টা করে তাতে মনে হয় খাদ্য হিসেবে তাকে তার বেশ পছন্দ।

হাল প্রায় ছেড়েই দিয়েছিল নীলু। হয়ত ঐ রাস্তাও ছাড়ত যদি না সাহস যোগাত মিলন। মিলন বলল, “আপসোস না করে একটা শেষ চেষ্টা করে দেখ নীলু। লিখে ফ্যাল, মনের ঝুড়িতে যা জমেছে সব ঢেলে দিয়ে একটা কবিতা কিংবা গল্প নামিয়ে দে। ক্লাবের ওয়াল-ম্যাগাজিনের পুজো সংখ্যায় বের করব লেখাটাকে। এ পাড়ার ও পাড়ার সকলেই তো দেখবে ম্যাগাজিনটা। যে বোঝবার বুঝবে। আর না বুঝলেই বা কী? হারাবার তো কিছু নেই।”

কথাটা মনে ধরল নীলুর। সংস্কৃতির নৌকোয় চড়ে তাদের পাড়ার কতজনের প্রেমের যে হিল্লে হয়ে গেল – তা তার অজানা নয়। ক্লাবের জলসায় দু-কলি রোম্যান্টিক গান গেয়ে পোর্টেবল-স্বপন পটিয়ে ফেলল জগাদার মেয়ে মিলিকে। আর মহাষ্টমীতে ধুনুচি নাচ নেচে সত্যদা হেলায় গলিয়ে দিল রাইফেল স্যুটার মধুশ্রিদিকে।

নীলু ভাবল, তার সাহিত্যজ্ঞানের যা বহর তাতে বড় গল্প বা বড় মাপের কবিতা লেখা বেশ চাপের হয়ে যাবে তার কাছে। অনেক সাধ্য সাধনায় একটা অনুকবিতা লিখে ফেলল নীলু। ছন্দ মিলিয়ে লিখতে সপ্তাহখানেক লাগল তার। নাম দিল “স্বপ্নভঙ্গ”। লেখাটা সে জমা দিল মিলনের হাতে।

দেখতে দেখতে পুজো এসে গেল। সেদিন মা দুর্গার বোধন। সন্ধ্যে বেলায় এলাকার বিশিষ্ট এক প্রমোটার ফিতে কেটে উদ্বোধন করলেন ক্লাবের দেওয়াল পত্রিকার। নীলু দেখল পত্রিকার ঠিক মাঝখানে বেশ বড় বড় হরফে লেখা হয়েছে তার কবিতাটাকে । পাঠকের চোখ এড়ানোর উপায় নেই। মনে মনে সে ধন্যবাদ দিল মিলনকে। জীবনের প্রথম কবিতাটাকে আরো একবার পড়ে নিল সে।

স্বপ্ন ভঙ্গ

নীলাদ্রি বসু

জেগে উঠে কাকভোরে, হেঁটে গেছি ধীরে ধীরে,

চোখ তুলে তাকায়নি কেউ।

গ্রীষ্ম বরষা গেল, সোনালী শরত এল,

সাগরে উঠলো কত ঢেউ।

আশা নিয়ে রোজ কাটে, হৃদয়ের খোলা মাঠে

আসবে সে বাজিয়ে নুপুর

স্বপ্ন বিফলে গেল, সুখ সাধ গিলে খেল

কুচকুচে প্লুটোর কুকুর।

নিজের কাব্য প্রতিভায় নিজের ওপর গর্ব হচ্ছিল নীলুর। এবার তার পরীক্ষা। মা দুর্গা কে প্রণাম সেরে পরীক্ষা পাশের প্রার্থনা জানাল নীলু।

আরও পড়ুন:  কেতজেল পাখি (পর্ব ১৮)

সেদিন রাত একটু বাড়তেই পুজো প্যান্ডেল জমজমাট। ভল্যানটিয়ার হয়ে ভিড় সামলাচ্ছিল নীলু। হঠাৎ দেওয়াল পত্রিকার সামনে একদল মেয়ের জটলার মধ্যে নীলু আবিষ্কার করল লিলিকে। পত্রিকার পাতায় চোখ রেখেছে সে একমনে । তা দেখে একরাশ আনন্দের সাথে অজানা একটা টেনশান এসে হানা দিল নীলুর মনে। হালকা হালকা ঘাম জমতে শুরু করল তার কপালে। বেশ ক’বার মা দুর্গা কেও মনে মনে ডেকে নিল নীলু।

দুর্গতিনাশিনী বোধ হয় শুনেই ফেললেন তার মনের কথা। আর তাই, এত লোকজনের মধ্যেও নীলু পড়ে গেল লিলির মুখোমুখি। না চাইতেই চোখাচোখি হয়ে গেল। শাড়ী পরে সেজেগুজে লিলি – বেশ একটু অন্যরকম লাগছে তাকে। মুখোমুখি কয়েকটা সেকেন্ড। কিন্তু মোটে ওইটুকুই, তার পরেই যেন হুস করে উবে গেল নীলুর সাহস। বুকের ভেতর হাতুড়ী পেটার আওয়াজ পেতে লাগল সে। আর তাই চোখ নামিয়ে নিল নীলু। ভেতরে আঠারো আনা ইচ্ছে। তবু দ্বিতীয়বার চোখ তুলতে গিয়ে থমকে গেল নীলু। কেমন যেন ভ্যাবলা হয়ে দাঁড়িয়ে রইল সে।

হঠাৎ পায়ের কাছে “কেইইইইই” করে এক আওয়াজে চমকে উঠলো নীলু। পদপিষ্ট হওয়ার ভয়ে শান্তশিষ্ট এক রোডেসিয়ানের করুন চিৎকার। তবু সেই আওয়াজে তিড়িং করে লাফিয়ে উঠল নীলু। তার লাফের বহর দেখে সেই শীর্ন ঘিয়ে-ভাজাটাও পুনরায় আর একটা “কেইইইইই’ আওয়াজ ছাড়ল।

আচমকা লাফিয়ে, টাল সামলাতে না পেরে লিলির সঙ্গে হালকা একটা ধাক্কা হয়ে গেল নীলুর। কেমন যেন ধাঁধাও লাগল তার দু- চোখে।

প্রথমে বেশ একটু লজ্জায় পড়ে গেল নীলু। কিন্তু চট করেই নিজেকে সামলে নিয়ে “সরি” বলার জন্য সে তাকাল লিলির দিকে। এবার কিন্তু তার অবাক হওয়ার পালা। কোথায় সেই গম্ভীর রূপ! লিলি তখন হাসছে, হেসেই চলেছে অনর্গল। সেই হারজিরজিরে রোডেসিয়ানের দিকে তাকিয়ে সে যেমন হাসছে, তেমনি হাসছে নীলুর দিকে তাকিয়ে। কেমন যেন থতমত খেয়ে গেল নীলু। প্রথমটায় যেন বিশ্বাস হচ্ছিল না নিজের দুটো চোখকে। তারপর সে বুঝল – না, মিথ্যে তো নয়, লিলি তো তাকাচ্ছে তারই দিকে। চোখে চোখ পড়ছে, লিলি চোখ সরিয়ে নিচ্ছে না। সাহসটা যেন হুট করেই বেড়ে গেল নীলুর। কাছে এগিয়ে গিয়ে “সরি” বলতেই লিলি আলতো স্বরে বলে উঠল, “প্লুটোর কুকুর খুব দুষ্টু, না?”

নিজের কানকে যেন বিশ্বাস হচ্ছিল না নীলুর। কী আর বলবে সে? কুকুরের দুষ্টুমিকে এত মিষ্টি কোনোদিন মনে হয়নি তার। আনন্দে হু হু করে জল এসে গেল তার দুচোখে।

মা দুর্গার বোধনের দিনেই নীলুর প্রেমের খুঁটিপুজোটা হয়ে গেল।

4 COMMENTS

এমন আরো নিবন্ধ