বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন সভ্যতা হল মিশরীয় সভ্যতা। পিরামিডের এই দেশে লুকিয়ে রয়েছে নানা অজানা কাহিনী যা আজও বিশ্বে বহু ঐতিহাসিক, প্রত্নতত্ত্ববিদ এবং স্থপতিদের বিস্মিত করে। মরুভূমি বেষ্টিত মিশরে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেছিল নীলনদ। নীলনদকে কেন্দ্র করে মিশরের মানুষরা কৃষিকাজ শুরু করেছিল। বিজ্ঞানীরা বলেন, বর্তমানে নীলনদ প্রায় বিপন্ন। কিন্তু অনেকেই জানেন না এই নীলনদকে কেন্দ্র করে প্রচলিত রয়েছে এক অদ্ভুত উৎসবের কথা। যে উৎসবের রীতি হল জনসম্মুখে হস্তমৈথুন করা !

যৌনতাকে কেন্দ্র করে সারা পৃথিবী জুড়ে মানুষের মধ্যে রয়েছে নানা রকমের বিশ্বাস, যার খোঁজ পাওয়া যায় বিভিন্ন প্রাচীন লোকগাথায়। পৃথিবীর নানা দেশের নানা উপজাতিদের মধ্যে যৌনতা বা হস্তমৈথুন নিয়ে নানা রীতি-রেওয়াজের খোঁজ পাওয়া যায়। প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতায় জাঁকজমক করে পালন করা হত গণস্বমেহন উৎসব!

সবথেকে আশ্চর্যের বিষয় হল, মিশরীয় সভ্যতায় যৌনতা এবং হস্তমৈথুন একটা খুবই সাধারণ বিষয় ছিল। আজকের সমাজে যৌনতাকে যেভাবে ট্যাবু হিসেবে ধরা হয়, প্রাচীন মিশরীয়দের কাছে তা ছিল আর পাঁচটা সাধারণ বিষয়ের মতোই। এমনকী মিশরীয়দের মধ্যে খুব কম বয়সে বিয়ে হয়ে যাওয়ার রেওয়াজ ছিল। ষোলো বছরে পা দিলেই সেখানে ছেলে-মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেওয়া হত। এবং ওই বয়সে যৌনতাকে কোনওরকম কুনজরে দেখা হত না।

Banglalive-8

Banglalive-9

প্রাচীন মিশরীয়দের বিশ্বাস ছিল, স্বমেহন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেখানকার প্রাচীন ধ্যান-ধারণা অনুসারে, মনে করা হয়,  মিশরীয় দেবতা অটাম হলেন এই বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টিকর্তা। তিনি স্বমেহনের মাধ্যমে এই পৃথিবীকে সৃষ্টি করেছেন। এমনকী এও মনে করা হয় যে, ঈশ্বরের একাধিকবার স্বমেহনের মাধ্যমেই নীল নদের সৃষ্টি। আর এই কারণেই প্রাচীন মিশরীয়রাও খোলা আকাশের নীচে নীলনদের জলে হস্তমৈথুন করে নিজেদের বীর্য দান করতেন। শুধু তাই নয়, প্রাচীনকালে ফ্যারাওদের মধ্যেও বছরের বিশেষ একটি সময়ে নীলনদের জলে হস্তমৈথুন করার একটা রেওয়াজ ছিল বলে জানা যায়। ওই বিশেষ দিনে ফেরাওরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিলিত হয়ে একসঙ্গে নীলনদের তীরে উপস্থিত হতেন। সেইসঙ্গে নীলনদের তীরে পুজো-পাঠেরও আয়োজন করা হত। খোলা আকাশের নীচে পোশাক খুলে রেখে নগ্ন হয়ে চলত গণস্বমেহন। এই রীতিকে অবলম্বন করে উৎসবের মেজাজ তৈরি হত মিশরীয়দের মধ্যে।

আরও পড়ুন:  নয় নয় করে সাতজন পুরুষ এসেছিলেন মধুবালার জীবনে কিন্তু মৃত্যুশয্যায় পাশে ছিলেন না কেউ

মনে করা হত, নীলনদে বীর্যদানের মাধ্যমে মিশরীয় দেবতা অটাম সন্তুষ্ট হবেন। শুধু তাই নয়, মনে করা হত হস্তমৈথুন করে নীল নদে বীর্য দান করলে নীলনদের এই জলপ্রবাহ বজায় থাকবে। এর ফলে মরুভূমি বেষ্টিত মিশর হয়ে উঠবে শস্য-শ্যামলা। মিশরের বিভিন্ন শিলালিপি, প্রাচীন লোকগাথা এমনকী মিশরের পিরামিডের গায়েও এই উৎসবের বিবরণ পাওয়া গিয়েছে। তবে এই নিয়ে আজও রহস্য রয়ে গিয়েছে।

NO COMMENTS