মাতৃপদত্ত নাম। যারা ‘নামেন পরিচিয়তে’ বিশ্বাস করেন, তাদের কাছে শ্যাওলা পড়া সত্তরোর্ধ্ব জনৈক ‘বুডঢা আদমি।’ আদতে কচি ঢ্যাঁড়স। পিছন টিপে পরীক্ষা প্রার্থনীয়। আগ্রহ সাহিত্য ও অর্থনীতিতে। জন্ম পূর্ব মেদিনীপুরে, কর্ম কলকাতায়। পত্রিকা সম্পাদনার পাশাপাশি এফ এম রেনবো ও গোল্ডে বকবকম। কাঠিবাজিতে সুনাম নেই। জীবনের আপ্তবাক্য, ‘মাথা গরম করবেন না, খুসকি বাড়বে’।

কামশাস্ত্রে অভিজ্ঞ কৃষ্ণ। তাঁর হাতে দলিত-মথিত রাধার শরীর। রাতভর। ভেসে যায় রক্তের স্রোত। অতএব হোলি হ্যায় ……। আদিম রং-কানেকশনে রমাপদ পাহাড়ি

Banglalive

 

শর্মি : কৃষ্ণ করলে লীলা, আর আমরা করলে বিলা?

নীল : ধ্যুস, সেই কোন আদ্যিকালের একটা ছ্যাঁতলাপড়া কোট আওড়ালি গুরু!

রিমঝিম : তোর এই এক ঘোড়া রোগ মাইরি। সবেতেই আপডেটেড ডায়লগ চাই।

সুজান : হবে না, ও শালা তো আর ডাইনোসরের ডিম ফেটে বেরোয়নি! যাদবপুর ইউনি-র কম্পারেটিভ লিটারেচার! সেন্ট পারসেন্ট ক্যালকেশিয়ান। তোর-আমার মতো কি আর হুকাকাশি! গোবর্ধনপুরের মাল!

রিমঝিম : অ্যায়, পুটেকে একটু ফোন কর না। এখনও কেন আসছে না!

নীল : ও শালা একটা জ্ঞানের ক্যাপসুল। দেখ গিয়ে, ডকুমেন্টারির জন্য কোন অলিগলিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে!

রিমঝিম : পুটের কথা ছাড়, ব্রহ্মবৈর্বত্য পুরাণটা একবার খোল না!

(কাকিমার প্রবেশ)

কাকিমা : এই নে তোদের খাবারদাবার। তা তোদের হোলি নিয়ে ডকুমেন্টারির কাজটা কদ্দুর এগোল রে?

নীল : এই তো আজ বসে ইনফোগুলো নিয়ে একটা খাঁচা তৈরি করব, তারপর স্ক্রিপ্টটা রেডি করে শুটিং।

রিমঝিম : আরে খেতে খেতে পুরাণটুরাণগুলো বের কর না!

শর্মি : ও-ম্মা! রাধা-কৃষ্ণ লীলা সম্পর্কে ব্রহ্মবৈর্বত্য পুরাণে কী বলেছে জানিস?

সুজান : কী রে?

শর্মি : শুনলে কানে আঙুল দিবি! এ-ম্মা, এইসব করেছে কৃষ্ণ?

রিমঝিম : কী আছে ঝেড়ে কাশ দেখি।

শর্মি : অ্যায় নীল, তুই-ই পড়। আমি ওসব পারব না।

নীল : হ্যাঁ, লজ্জাই তো শর্মির ভূষণ। বেশি আদিখ্যেতা দেখাস না তো। ঠিক আছে, আমিই পড়ছি। ব্রহ্মা বলেছেন, হে বৎস! আমার আজ্ঞানুসারে আমার নিয়োজিত কার্য করিতে উদযুক্ত হও। জগদ্বিধাতা ঈশ্বরের বাক্য শ্রবণ করিয়া রাধা কৃষ্ণকে প্রণাম করত: নিজ মন্দিরে গমন করিলেন। ব্রহ্মা প্রস্থান করিলে দেবী রাধিকা সহাস্যবদনে সকটাক্ষ নেত্রে কৃষ্ণের রদনমন্ডল বারংবার ……’’

পুটে : কী রে রদন-মদন কী সব বলছিস?

শর্মি : এই যে লেট কামার! এখন চুপটি করে বসো। একটা ইন্টারেস্টিং জায়গায় আমরা পৌঁছে গিয়েছি। পড় পড় নীল …

নীল : পড়ছি পড়ছি …। এই শালা পুটেশ্বরটা এসে সব গুলিয়ে দিল।হ্যাঁ তারপর লিখেছে…! একটু আগের থেকেই পড়ি … ব্রহ্মা প্রস্থান করিলে দেবী রাধিকা সহাস্যবদনে সকটাক্ষ নেত্রে কৃষ্ণের রদনমন্ডল বারংবার দর্শন করত: লজ্জায় মুখ আচ্ছাদন করিলেন। অত্যন্ত কামবাণে পীড়িত হওয়াতে রাধিকার সর্বাঙ্গ পুলকিত হইল।

রিমঝিম : কী রে পুটে, খুব পুলক লাগছে না? এসেই অশ্লীল সুড়সুড়ি দিতে শুরু করলি! অ্যায়, সরে বস, সরে বস বলছি …

নীল : আমাকে দেখছি পড়তেই দিবি না!

সুজান : আরে না না পড় পড় …

নীল : ‘… পুলকিত হইল। তখন তিনি ভক্তিপূর্বক কৃষ্ণকে প্রণাম করত: তাহার শয়নাগারে গমন করিয়া কস্তুরী কুমকুম মিশ্রিত চন্দন ও অগুরুর পঙ্ক কৃষ্ণের বক্ষে বিলেপন করিলেন এবং স্বয়ং কপালে তিলক ধারণ করিলেন।’

আরও পড়ুন:  হোমোসেক্সুয়ালিটি আমাদের এখানে ক্রিমিনালাইজড : ঋদ্ধি সেন

শর্মি : তাহার পর কী হইলো রে নীল?

নীল : ‘তৎপর কৃষ্ণ রাধিকার কর ধারণ করিয়া স্বীয় বক্ষে স্থাপন করত: চতুর্বিধ চুম্বনপূর্বক তাহার বস্ত্র শিথিল করিলেন। হে সুমেৎ, রতিযুদ্ধে ক্ষুদ্র ঘন্টিকা সমস্ত বিচ্ছিন্ন হইল, চুম্বনে ওষ্ঠরাগ, আলিঙ্গনে চিত্রিত পত্রাবলী, শৃঙ্গারে করবী ও সিন্দুর তিলক এবং বিপরীত বিহারে অলঙ্কাঙ্গুর প্রভৃতি দূরীভূত হইল। রাধিকার সরসঙ্গম বশে পুলকিত হইল। তিনি মুর্চ্ছিতা প্রায় হইলেন। তার দিবা-রাত্র জ্ঞান থাকিল না।‘

রিমঝিম : মানে কেস জন্ডিস …

পুটে : সে আর বলতে! চালিয়ে যা চালিয়ে যা নীল, যেভাবে আবেগে গদগদ হয়ে …

নীল : আরে শোন না এরপর কী হল। পুরাণে রয়েছে, ‘কামশাস্ত্র পারদর্শী …’

শর্মি : ওরে আস্তে আস্তে, ভয়েসটাকে একটু লো কর না শালা … মার কানে …

নীল : করছি করছি। ‘কামশাস্ত্রে পারদর্শী কৃষ্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দ্বারা রাধিকার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আলিঙ্গন করত: অষ্টবিধ শৃঙ্গার করিলেন।’

সুজান : এ মাইরি হচ্ছেটা কী? রাধার জ্ঞান নেই আর কৃষ্ণ ব্যাটা অষ্টবিধ শৃঙ্গার করছে। এখন হলে পুরো রেপ কেসে ফেঁসে যেত …

নীল : যা লেখা আছে তাই পড়ছি। মেলা ফ্যাচরফ্যাচর করিস না। ‘পুনর্বার সেই বক্রলোচনা রাধিকাকে হস্ত ও নখ দ্বারা সর্বাঙ্গ ক্ষত-বিক্ষত করিলেন’।

রিমঝিম : কী রে শর্মি, তোর কৃষ্ণের ক্যারেক্টার তো পুরো বাঁধিয়ে রাখার মতো!

শর্মি : তবুও তিনি পুরুষোত্তম, গীতাটা পড়ে দেখিস।

সুজান : শোন ইয়ার, যে যত ইন্টেলেক্ট তার পিটুইটারি তত অ্যাক্টিভ। দেখিস না, সেলিব্রিটিদের কতগুলো করে বিয়ে!

নীল : তোরা কী শুনবি? নাকি …

রিমঝিম : যব্বাবা, হোলি খেলাটা কী করে এল সেটা বল না …

নীল : তোরা তো বলতেই দিচ্ছিস না। শোন, ‘ শ্রীকৃষ্ণ কর্তৃক নিষ্ঠুর ভাবে শরীর ক্ষতবিক্ষত হওয়ায় এবং সারা রাতভর যৌন নিপীড়নের কারণে প্রভাতকালে দেখা গেল রাধিকার পরিহিত বস্ত্র এত বেশি রক্ত-রঞ্জিত হইয়া পড়িয়াছে যে, লোকলজ্জায় রাধিকা ঘরের বাহিরে আসিতে পারিতেছেন না। তখন কৃষ্ণ দোলপূজার ঘোষনা দিয়া হোলি খেলার আদেশ দেন।’

শর্মি : এতক্ষণে অরিন্দম কহিলা বিষাদে … তা তোরও কি ইচ্ছে করছে নাকি রে নীল?

রিমঝিম : ‘আবার তুই বাগড়া দিচ্ছিস? থাম না একটু …

নীল : এরপর আর কী! সবাই সবাইকে রং দিয়ে রাঙিয়ে দিতে শুরু করল। আর তাতে রাধিকার কাপড়ে লেগে থাকা রক্তের দাগ রঙের আড়ালে ঢাকা পড়ে গেল। এবং সেই থেকে হোলির প্রচলন।

রিমঝিম : দ্যাখ দ্যাখ শর্মি, তোর কৃষ্ণকে। একটা রেপ কেস কেমন রং দিয়ে ঢেকে দিল। শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মতো।

শর্মি : তুই আর কী বুঝবি? তুই তো আর প্রেমে পড়লি না সেভাবে। যন্ত্রণা পেয়েও যে কত সুখ …

পুটে : এক্ষুনি সব অ-সুখে ধরে যাবে গুরু। তা এই রেপ কেসটা কী আমাদের ডকুতে দেখানো হবে?

আরও পড়ুন:  পরের বার সানস্ক্রিন কেনার আগে জেনে নিন কয়েকটি জরুরি বিষয়

নীল : না, ঠিক তা নয়। একটা শ্যাডোগ্রাফি আনা যেতে পারে বা সিলুটে …

রিমঝিম : একটু আউট অফ ফোকাস করে … কিছু সিম্বলিক ওয়েতেও দেখানো যেতে পারে …

শর্মি : শোন, সিম্বলিক মানে কী ওই প্যানপ্যানে বাংলা সিনেমায় যেমন দেখায়! হিরো-হিরোইনের দুটো ঠোঁট বিগ ক্লোজআপে এলো, আর তারপর গাছের মাথায় ক্যামেরা লুক-থ্রু করল, সেই রকম?

রিমঝিম : আরে না না, ঠিক তা বলছি না। ধর, কৃষ্ণ রাধার ঘরে ঢুকল – এমনটা দেখিয়ে তারপর কিছুটা ডার্ক শটে গিয়ে ব্যাকগ্রাউন্ডে কিছু ভয়েস এবং তারপর রাধার মুর্চ্ছা যাওয়া …

পুটে : একটা কাজ করা যেতে পারে জানিস, এরপর কৃষ্ণের যে অষ্টবিধ শৃঙ্গার আছে, সেগুলো একেবারে বাৎসায়ন থেকে ওয়ান টু ওয়ান শৃঙ্গারের ছবিগুলো দেখানো যেতে পারে।

সুজান : তা আর কী কী মালমশলা পেলি বল দেখি?

কাকু : কী রে তোরা কতক্ষন? বাব্বা এতো দেখছি সিনেওয়ালাদের হাট বসেছে!

রিমঝিম : বাবা, তোমাকে বলেছিলাম না, আমাদের একটা প্রোজেক্ট জমা দিতে হবে। সেই ব্যাপারে কথা হচ্ছে।

কাকু : প্রোজেক্টটা কীসের উপর?

শর্মি : হোলির উপর একটা ডকু ফিল্ম।

পুটে : কাকু আপনি বসুন না। শোন, আমি ঘেঁটেঘুঁটে হোলির এইসব তথ্যগুলো পেয়েছি।

সুজান : অত খাবি না খেয়ে কী পেয়েছিস বল না!

পুটে : দ্যাখ, ‘দোল’ শব্দের অর্থ হচ্ছে গিয়ে ইতস্তত সঞ্চালন। কৃষ্ণ এক দুরন্ত অসুরকে হত্যা করবার পর দোলায় বসে বিশ্রাম ও সুখলাভ করেছিলেন।

শর্মি : সেই অসুরটা তুই নয় তো রে!

পুটে : অ্যায় শর্মি, অলটাইম ফুট কাটিস না তো। শোন, এই দোলা থেকেই নাকি ‘দোল’ শব্দের উৎপত্তি। স্কন্দপুরাণেও ফাল্গুন মাহাত্ম্য নিয়ে দীর্ঘ একটি অধ্যায় রয়েছে। ফাল্গুন-মাহাত্ম্যে রয়েছে হোলিকা রাক্ষসীর গল্প। হোলিকা রাক্ষসীর সূত্রেই ‘হোলি’ শব্দের উৎপত্তি। কিন্তু তাই বলে দোল বা হোলিকে হিন্দু উৎসব বলার কোনও কারণ নেই।

কাকু : বা: পুটেশ্বর, ঠিকই বলেছ …

পুটে : বলছিলাম, হোলি শুধুমাত্র হিন্দু উৎসব নয়। বঙ্কিমচন্দ্র ও রবীন্দ্রনাথই শুধুমাত্র তাঁদের সাহিত্যে মুসলমান অন্তঃপুরের হোলি খেলার বিবরণ দেননি, ইতিহাসেও তার উল্লেখ রয়েছে।

কাকু : আচ্ছা, তার আগে বলো দেখি, দোল আর হোলির মধ্যে ফারাক কোথায়?

নীল : কাকু, হোলি হল গিয়ে বিহারীদের, আর দোলটা বাঙালির।

কাকু : উঁহু, অতটা সরল অঙ্ক কষলে হবে না হে মহামহিম পুটেশ্বর!সারা উত্তর ভারতেই এর নাম হোলি বা হোরি। শুধু বিহারে নয়।

রিমঝিম : কিন্তু বাবা দোল বলো বা হোরি, ব্যাপারটা তো একই।

কাকু : হ্যাঁ, কিন্তু তোরা যখন ডকু ফিল্ম বানাচ্ছিস, সেখানে তথ্যগুলো ঠিকঠাক হওয়া দরকার। উত্তর ভারত বা অন্যান্য হিন্দি ভাষী অঞ্চলে এটা হোলি বা হোরি। আবার দক্ষিণ ভারতে এর নাম কামায়ন বা মদন-দমন।

পুটে : কা-মা-য়-ন?

আরও পড়ুন:  জেনে রাখুন পান পাতার ১৫টি উপকারিতা

কাকু : বুঝেছি, তোমার একটু মদন দেবতার প্রতি আগ্রহ বেশি। আর শোন, এসব নিয়ে লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই। কিছু কথা বলতে তোরা হয়তো লজ্জা করবি, কিন্তু ওই যে কথায় আছে না, ছেলে আর বাবার জুতোর মাপ এক হয়ে গেলে বাপ-ছেলে বন্ধু হয়ে যায়।

শর্মি : তোমার কিন্তু মেয়ে!

কাকু : ওই হলো, যাহা বাহান্ন তাহা তিপান্ন। … আচ্ছা, দোলের মূল বিষয়টা কী বল দেখি?

সুজান : কী আবার, রং মাখানো।

কাকু : আসলে হল গিয়ে ‘পোড়ানো’। অবশ্য তোদের দোষ নেই। তোরা তো এসব দেখিস নি। কিন্তু ইন ফিউচার, ফিল্ম নিয়ে করেকম্মে খেতে গেলে এগুলোও জানতে হবে। যাই হোক, আমরা ছোটবেলায় হোলি উৎসবে কত কিছু পুড়িয়েছি। মেড়া পোড়ানো, বুড়ির ঘর পোড়ানো, চাঁচর পোড়ানো, সঙ্গে  আলু, লাল আলু আরও কত কী! এমনকী আগে জীবন্ত ভেড়া পোড়ানো হতো। এখনও কোথাও কোথাও প্রতীকীভাবে খড় দিয়ে ভেড়ার মূর্তি তৈরি করে বা জ্যান্ত ভেড়ার গায়ে আগুন ছুঁইয়ে প্রথাটাকে ধরে রাখা হয়েছে। আবার হিন্দিভাষী অঞ্চলে মানুষের কুশপুত্তলিকাও পোড়ানো হয় কোথাও কোথাও। কলাগাছ, ভেরেন্ডা গাছও পোড়ানো হয়।

রিমঝিমঃ বেশ ইন্টারেস্টিং তো!

কাকুঃ তোরা তো এই দোলের দিনে গৌরাঙ্গের জন্মের কথা জানিস, তাই সেবিষয়ে যাচ্ছি না। যেটা বলার, তা হল, কারও কাছে এটি যৌবনের উৎসব, আবার অনেকের কাছে নববর্ষের উৎসবের একটি রূপ। আর তোরা তো হোলিকা রাক্ষসীর ব্যাপারটাও জানিস।

শর্মিঃ কাকু, ওই যে পোড়ানোর কথা বলছিলে, সেটা ঠিক কেন?

কাকু : ওই যে ভেড়া পোড়ানো, সেটা আসলে শস্যদেবতার কাছে বলি প্রদান। একটা আদিম প্রথা। আগুনে যা কিছু দেওয়া হয়, সেগুলোর ছাই মাঠে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ধারণা, ফসল ভালো হবে। আর সেই রাধাকৃষ্ণের রতিক্রীড়ার ব্যাপারটা কি জানিস?

নীল : ব্রহ্মবৈর্বত্য পুরাণের কেসটা তো কাকু?

কাকু : ওরে ব্বাবা। এ যে মাসির কাছে মায়ের গল্প। হ্যাঁ, সেটার কথাই বলছি। আরেকটা কথা বলি, দোলের উৎসব ও সংস্কৃতি কিন্তু রং খেলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না কোনওদিন। নাচগান এর মধ্যে অন্যতম। উত্তর ভারতে দোলের নাচগান বেশ প্রচলিত। কিছু কিছু আদিবাসী সমাজেও দোলকেন্দ্রিক উৎসবে নাচটাচ হয়। আর হয় কৃত্রিম যুদ্ধ ও মদ্যপান।

সুজান : এই নাচের পেছনেও কি কোনও যুক্তি আছে?

কাকুঃ লোকবিশ্বাসে এর উত্তর অবশ্য পাওয়া যায়। এই প্রসঙ্গে এইচ আর রো-র কথা বলি। তিনি বলেছেন, হোলি উৎসবে অশ্লীল নাচগানের মাধ্যমে অপদেবতাদের দূরে রাখা হয়। অশ্লীল গান শুনে অপদেবতারা দূরে থাকেন, এটাই তাঁদের বিশ্বাস।

পুঁটে : কিন্তু অশ্লীল গান শুনে দেবতারা কি আরও দূরে থাকবেন না কাকু?

কাকু : একটা জব্বর প্রশ্ন পেড়েছিস পুঁটে। এই প্রশ্ন তুলেই ডকু ফিল্মটা শেষ করতে পারিস।

         

2 COMMENTS

  1. অসাধারণ। পুরাণ শাস্ত্রের তত্ত্ব কথাগুলো কী অনায়াসে মজা করতে করতে বলেছে। রমাপদ ধন্যবাদ।