সেবা না পারি‚ পিটিয়ে মারি

আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে ! কারণ এর পিছনে একটা খবর। গত দুতিনদিন ধরে তোলপাড় ফেলে দিয়েছে প্রিন্ট মিডিয়ায়, ভিশন চ্যানেলে। চর্চিত হচ্ছে মানুষের মুখে মুখে। একটি সরকারি হাসপাতালের কয়েকজন শিক্ষার্থী সেবিকা ( আহা ! শব্দটি কি পবিত্র এবং সুমধুর ) তাদের হাসপাতাল চত্বরে একটি নয়, দুটি নয় ষোল ষোলটি পুঁচকে পুঁচকে কুকুরছানাকে খুব ইন্টারেস্টিং কায়দায় পিটিয়ে মেরেছেন। এদের মধ্যে যে দুচারটে অতি অভদ্র, পালিয়ে বাঁচতে কাছেই একটি পাইপের মধ্যে গিয়ে লুকোলে, অতি পবিত্র ক্রোধে সেখানেই তাদের ইহলীলা সাঙ্গ করেছেন খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে। পরবর্তীতে গ্রেফতার হয়ে এসব কথা খুব নির্বিকারভাবে কবুলও করেছেন তারা। এর বিপক্ষে এক বিপুল জনমত তৈরি হয়েছে একথা যেমন সত্যি আবার এর পক্ষে দাঁড়াবার মানুষজনও নেহাত কম পড়িতেছে বলে তো মনে হচ্ছে না। ইতিমধ্যেই নার্স দিদিমনিদের সংগঠন এই অসহায়া, অবলা, পবিত্র ঘাতকদের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার করেছে। এদেরই এক প্রতিনিধি টিভি ক্যামেরার সামনে জোরেসোরে দাবি তুলেছেন হাসপাতাল চত্বরকে কুকুরমুক্ত করতে হবে কারণ কুকুররা তাদের কামড়েছে। আহা ! কি অকাট্য এবং মহান যুক্তি

এধরনের নির্ভুল যুক্তি আমরা আগেও অনেক শুনেছি। যেমন গরিব মানুষ পোকামাকড়ের মত ফুটপাতে শোয় কেন? তাহলে তো তারা সেলেব্রেটির এসইউভি গাড়ির তলায় চাপা পড়বেই। হাতি লোকালয়ে ঢোকে কেন? তাহলে তো তারা ৮৮০ ভোল্টের ইলেকট্রিক শক খেয়ে মরবেই। বেচারা কুকুরকুল ! তারা তো আর নবারুণ ভট্টাচার্যর ‘লুব্ধক’ উপন্যাসটা পড়েনি (যেখানে শহুরে মানুষের অসম্ভব মিষ্টি মিষ্টি এবং অভিনব সব নির্মমতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে পথকুকুরেরা সমবেতভাবে এ শহর ছেড়ে চলে গেছিল)। পড়লে হয়তো তারা এ শহর ছেড়ে অনেক আগেই তল্পিতল্পা গোটাত। তিলোত্তমাকে সারমেয়মুক্ত করার প্রয়োজনই পড়তো না। লেখাটা বোধহয় পড়েননি সেইসব মহীয়সী সেবিকাকুলও। পড়লে তারা কী করতেন আমার জানা নেই।

যাক গে, হাটান এসব পাঁচপ্যাঁচালি কাওতালি। বরং চলুন আপনাদের একটা গপ্পো শোনাই। একটা বাচ্চা মেয়ের গল্প। অদৃশ্য কোন টাইম মেশিনে চড়ে পিছিয়ে যাই শদেড়েক বছরেরও বেশি সময়।

ইংল্যান্ডে জন্ম মেয়েটার। প্রতিবেশী এক মেষপালক রজারের ক্যাপ নামে শেপার্ড জাতের কুকুরটার সঙ্গে খুব বন্ধুত্ব ছিল ওর। স্কুলে যাওয়ার পথে আর স্কুল থেকে ফিরে ক্যাপের সঙ্গে খেলা চাই রোজ। ওর ইশকুলে যাওয়া আসার সময়টায় প্রত্যেকদিন দরজার সামনে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকত ক্যাপ।

অতঃপর একদিন। স্কুলে যাবার পথে বাড়ির দরজায় ক্যাপকে আর দেখতে পেল না মেয়েটা। এবং কি আশ্চর্য ! ফেরার পথেও না। বাড়িতে ঢুকে মালিক রজারকে সে কথা জিগ্যেস করতেই রজার জানালো যে ক্যাপ পায়ে সাঙ্ঘাতিক রকম আঘাত পেয়েছে। কারণ পাড়ার কয়েকটা ছেলে (আজকের এই সেবিকাদের ভাই-ভাতিজা হবে হয়তো) স্রেফ খেলার ছলে ক্যাপকে একটা বড়সড় পাথর ছুঁড়ে মেরেছে। শুনে দৌড়ে ঘরের মধে ঢুকে গেছিল মেয়েটা। একটা আলমারির নীচে বিমর্ষ যন্ত্রনাকাতর মুখে শুয়েছিল ক্যাপ। বন্ধুকে দেখে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে আর ল্যাজ নাড়তে নাড়তে কোনমতে বেরিয়ে এল আলমারির তলা থেকে। সামনের একটা পা ফুলে ঢোল। ক্যাপের কী হবে প্রশ্ন করায় রজার জানালো যে ক্যাপকে সে মেরে ফেলবে কারণ সে একজন অতি দরিদ্র মেষপালক, ক্যাপ তার ভেড়ার পাল পাহারা দেয় আর সেই কাজটাই যদি ও না করতে পারে তাহলে ওকে বসিয়ে বসিয়ে খাওয়ানোর ক্ষমতা রজারের মত গরিব মানুষের নেই। তাই ক্যাপকে ও মেরে ফেলবে। কথাটা শোনামাত্র ঘর থেকে বেরিয়ে গেল মেয়েটি এবং ছুটতে ছুটতে সোজা গিয়ে হাজির হল স্থানীয় গির্জার পাদ্রীমশাইয়ের কাছে। খুলে বলল সব কথা। পাদ্রীমশাইটি দয়ালু মনের দরদী মানুষ। অল্পবিস্তর চিকিৎসাবিদ্যাও জানা ছিলো তাঁর। মেয়েটিকে নিয়ে তিনি এলেন রজারের বাড়িতে। প্রথমেই ভালো করে পরীক্ষা করলেন কুকুরটিকে। তারপর রজারকে বললেন কুকুরটির আঘাত তেমন গুরুতর নয়। একটু যত্ন নিয়ে চিকিৎসা করলেই ক্যাপ সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠবে। অতঃপর সেই বালিকার অক্লান্ত সেবায় সপ্তাহখানেকের মধ্যে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠল ক্যাপ। সেদিন ওর মায়াবী চোখদুটো দেখে মেয়েটির মনে হয়েছিল ক্যাপ যেন ওকে বলতে চাইছে -’থ্যাঙ্ক ইউ !’

ঘটনার দিনদুয়েক বাদে রাতে স্বপ্ন দেখল মেয়েটি। ওর সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন পরম করুণাময় ঈশ্বর। তিনি ওকে নির্দেশ দিচ্ছেন – “আজ থেকে জীবে সেবাই তোমার নিয়তি। সেই মহান কর্মে নিয়োজিত কর নিজেকে।” সেই নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছিল সে। যোগ দিয়েছিল নার্সিং সার্ভিসে। নাম ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল। ১৮৫৩ সালে ক্রিমিয়ার যুদ্ধের সময় হাসপাতালে আহত সৈনিকদের সেবা করেছিল অক্লান্তভাবে, রাতদিন এক করে। মাসের পর মাস। টানা চার চারটি বছর। গভীর রাতে সবাই যখন ঘুমে অচেতন তখনও ঘুরে বেড়াত ফ্লোরেন্স, হাতে বাতি নিয়ে। যদি কারো কোন সাহায্যের প্রয়োজন হয়। সৈনিকরা ফ্লোরেন্সের নাম দিয়েছিল – ‘লেডি উইথ দ্য ল্যাম্প’।

ভাবতে অবাক লাগে, দেড়শ বছর পেরিয়ে এসে সেই ফ্লোরেন্সের কিছু উত্তরসুরি (সবাই নয়) কিনা এরকম একটা ভয়ঙ্কর মর্মান্তিক কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলল আপাত মানবিকতায় মোড়া আমাদের এ শহরে !

অবাক লাগে শব্দটা ঠিক লিখলাম কি ? বোধকরি না। কারণ এদের আত্মীয়স্বজনরা তো ছড়িয়ে আছে সারা দেশে, গোটা বিশ্বে। এরাই তো ‘জাস্ট টাইম পাস’ করতে পাথর ছুঁড়ে মেরেছিল ক্যাপকে। এরাই তো কলকাতার রাস্তায় পথকুকুরকে ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে পিটিয়ে মারে, ছোট্ট বেড়ালছানাকে তারের ফাঁসে বেঁধে সুন্দরভাবে পার্কের রেলিঙে ঝুলিয়ে দেয়। কেরলে অ্যাসিডে পুড়িয়ে মারা কুকুরকে হাতের মুঠোয় ঝুলিয়ে সগর্ব সেলফি তোলে এবং ফেসবুকে পোষ্ট করে। ক্যালিফোর্নিয়ানিউ ইয়র্কে এরাই তো মোটা টাকার বাজি ফেলে কুকুরের লড়াইয়ে সাঙ্ঘাতিক রকম আহত, মৃতপ্রায় পিটবুল কুকুরটির মাথায় সীসেভর্তি কশব্যাগ তথা মুগুরের বাড়ি মেরে তার ভবলীলা সাঙ্গ করে, গ্রেহাউন্ড রেসে পরাজিত, পাভাঙ্গা গ্রেহাউন্ডটিকে সিক্স লেন হাইওয়েতে ছেড়ে দিয়ে আসে ভীমকায় ট্রাকের চাকার তলায় যাবার জন্য। হায় ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল ! তোমার দিন গিয়াছে ! তার বদলে এখন মৌটুসি আর সোমাদের যুগ। জানিনা, স্বর্গ বলে কিছু আছে কিনা। সেখান থেকে নাকি সবকিছু দেখা যায়। তবে না থাকলেই বোধহয় ভালো। সেক্ষেত্রে বীভৎস, নৃশংস এই অবলোকন যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়েছ তুমি। ভালো থেকো।

পরিশেষে। এই লেখাটি উৎসর্গ করলাম আমার সেইসব বন্ধু ও সহনাগরিকদের, যারা মনে করেন শুধু মানুষ নয়, সমগ্র নামানুষী প্রাণীজগৎ এমনকি একটা কেঁচোরও বেঁচে থাকার সমানাধিকার রয়েছে এই পৃথিবীতে। একই সঙ্গে সেইসব হাসপাতাল কর্মীরা, যারা এই ঘটনার প্রতিবাদ করেছেন এবং ক্যামেরায় ছবি ধরে রেখে অপরাধীদের সনাক্তকরণে সাহায্য করেছেন।

সুপ্রিয় চৌধুরী
জন্ম ও বেড়ে ওঠা উত্তর কলকাতার পুরোনো পাড়ায়। বহু অকাজের কাজী কিন্তু কলম ধরতে পারেন এটা নিজেরই জানা ছিল না বহুদিন। ফলে লেখালেখি শুরু করার আগেই ছাপ্পান্নটি বসন্ত পেরিয়ে গেছে। ১৪২১ সালে জীবনে প্রথম লেখা উপন্যাস 'দ্রোহজ' প্রকাশিত হয় শারদীয় 'দেশ' পত্রিকায় এবং পাঠকমহলে বিপুল সাড়া ফেলে। পরবর্তীতে আরও দুটি উপন্যাস 'জলভৈরব' (১৪২২) এবং 'বৃশ্চিককাল' (১৪২৩) প্রকাশিত হয়েছে যথাক্রমে পুজোসংখ্যা আনন্দবাজার এবং পত্রিকায়। এছাড়া বেশ কিছু প্রবন্ধ এবং দু চারটি ছোটগল্প লিখেছেন বিভিন্ন পত্রপত্রিকা আর লিটিল ম্যাগাজিনে। তার আংশিক একটি সংকলন বই আকারে প্রকাশিত হয়েছে 'ব্যবসা যখন নারীপাচার' শিরোনামে। ২০১৭ সালে পেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি পুরস্কার।

10 COMMENTS

  1. emon marmosparshi lekha anekdin parini.emon shaktishali kalam jeno evabe aar kaje lagate nahoi.pashuder bhalo na basun atyachar korben na .

  2. স্যার, জানেন তো বিপ্লব করতে সবার ইচ্ছে করে, কিন্তু শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পারিনা, মূল সমস্যাকে বোঝার চেষ্টা করি না। তাই হালকাপুলকা একটা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে গলা ফাটিয়ে আওয়াজ তুলুন। ওদের পরিস্থিতিতে দিনের পর দিন থেকেছেন? যতদিন আগুন নিজের গায়ে না লাগছে ওম নিতে ভালোই লাগে। কখনো তো দেখেননি জলাতঙ্ক রোগী, কখনো তো দেখেননি সদ্যজাতকে মুখে করে টেনে নিয়ে যাচ্ছে কেউ, কখনো তো দেখেননি রোগীর খাবার খেয়ে নিচ্ছে কেউ, কিংবা নোংরা রোগজীবাণু ছড়াচ্ছে। কুকুর কে না ভালোবাসে স্যর? কিন্তু মানুষের ক্ষতি করে আমি কুকুরকে ভালোবাসব না। কি বললেন? দুজনের ই বাঁচার অধিকার আছে? তাহলে কি করবেন? ঐযে প্রথম লাইনটা পড়ুন, আওয়াজ তুলুন, আমিও আপনার পাশে দাঁড়াবো। তা না হলে, যাদের আপনার মত সৌভাগ্য নেই, সেই হাজার হাজার ‘কুকুরাধম’ গরীব মানুষ ও তাদের পিছনে প্রাণপাত করা কিছু সেবিকাদের (ওদের সাথে কথা বলুন না, ফ্লোরেন্সের মত কত গল্প পেয়ে যাবেন) অযথা বিপদ নাই বা বাড়ালেন। কুকুরকে পেটানো ঠিক হয়নি, একেবারেই, যাদের পেটাতে হত, তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন কি?

  3. emon likhlen jeno kukur manusher chanake bhujhe sujhe tene nea jai ba rogjibanu ora uddesha pronoditobhabe charachhe.2%/4%kukur badagi ba hingshra hote pare tai bole manusher sange tulona koa jai! OTHER APORADH karar khamata kothai.kukuradham shabdata banate holo!kintu naradham!chirokal ache.jara abola jibke pitea mare tara prakito naradhaml

  4. প্রিয় শ্রী চয়ন মান্না মহোদয়,

    এই প্রতিবেদনটির উত্তরে আপনার মন্তব্যটি পাঠ করলাম এবং কবির ভাষায় যাকে বলে – ‘ধন্য হলেম !’ সত্যি, নামটি সার্থক আপনার। কি অসামান্য সুন্দর সব বাক্যবন্ধ চয়ন করেছেন ভাই। বিপ্লব, শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ইত্যাদি ইত্যাদি… আপনি এই প্রতিবেদককে কদ্দুর চেনেন জানা নেই। বিপ্লব করতে পারিনি কিন্তু সেই ৭০- দশক থেকে নিয়ে জঘন্য বাবরি মসজিদ ধ্বংসকান্ড, সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম হয়ে বিভিন্ন গণ-আন্দোলন, প্রায় সবকয়টিতেই প্রতিবাদ করছি, ঘরে বসে নয়, রাস্তায় নেমে। এর জন্য মূল্যও চোকাতে হয়েছে কিঞ্চিৎ। ফলে বলতে পারি এসবের পিছনে রামসেতু বন্ধনে পাতি কাঠবেড়ালীর মত অতি ক্ষুদ্র, নগণ্য, অকিঞ্চিৎকর হলেও কিছুটা ভুমিকা ছিল এই অধম প্রতিবেদকের। বিপ্লব হয়তো করতে পারিনি কিন্তু করতে চেয়েছিলাম মনেপ্রাণে, মাইরি, বিশ্বাস করুন স্যার। মা কালীর দিব্যি অথবা সোয়ার অন লেনিন ! সেসব কথা আমার সামান্য লেখালেখি অথবা ক্রিয়াকলাপের সঙ্গে যারা পরিচিত তারা জানেন। এবার প্রশ্ন, সেসব দিনে আপনি রাস্তায় ছিলেন কি? থাকলে হয়তো এই অধমকে একাধটু চিনলেও বা চিনতে পারতেন। আর সেসব ক্ষেত্রে আমাদের প্রতিপক্ষরা নেহাত কম শক্তিশালী ছিলনা। কি বলেন স্যার? অতঃপর আসি আপনার পরবর্তী প্রশ্নগুলির উত্তরে। আপনি লিখছেন আপনি কুকুর ভালোবাসেন কিন্তু মানুষের ক্ষতি করে নয়। কথাটা না স্যার ওই অনেক অনেক শিক্ষিত ভদ্রলোকের মত হয়ে গেল যারা বলেন – “এমনিতে আমি খুব অসাম্প্রদায়িক, ওসব জাতপাত ধম্মোটম্মো কিচ্ছু মানিনা কিন্তু মোল্লা শালারা খুব বাড় বেড়েছে। ওদের ঠেঙিয়ে পাকিস্তান ভাগাও !” কুকুরদের তো পাকিস্তান নেই স্যার। ওরা যাবে কোথায়? তাই অ্যাসিডে পুড়ে, বেধড়ক লাঠির ঠ্যাঙানি খেয়ে মরাটাই বোধহয় ওদের ভবিতব্য। আপনার মহামূল্যবান মতামত জানার অপেক্ষায় রইলাম স্যার। পরিশেষে ক্ষুদ্র বোকা বোকা কয়েকটি প্রশ্ন আপনাকে। কুকুরদের বংশবৃদ্ধির পিছনে কারণ তো প্রশাসনিক গাফিলতি। সেই একই অজুহাতে তো তাহলে বংশবৃদ্ধির কারনে সদ্যোজাত কোটি কোটি দরিদ্র এবং প্রান্তিক পরিবারে জন্মানো মানবসন্তানকেও পিটিয়ে মারতে হয় কারণ সমীক্ষা বলছে তথাকথিত দরিদ্র এবং অশিক্ষিত পরিবারেই বংশবৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি। জবাবটা কি পাবো স্যার? এবার প্রশ্ন, আপনি জীবনে কটা জলাতঙ্ক রোগী অথবা জলাতঙ্কগ্রস্থ কুকুর দেখেছেন স্যার? অভিজ্ঞতা থাকলে এটাও জানা থাকতো সব কুকুর কামড়ালেই জলাতঙ্ক অথবা রেবিজ হয়না। মুখ থেকে অনর্গল লালা ঝরছে, কঙ্কালসার চেহারা, প্রায় পঙ্গুত্বপ্রাপ্ত – সেটা একনজর দেখলেই বোঝা যায়। তবু কুকুর কামড়ালে মানুষ হাসপাতালে যায়। প্রতিষেধক ইঞ্জেকশন নেয়। নেয়াটাই উচিৎ। কারণ রিস্ক নেয়া কখনই উচিৎ নয়। সময়মত প্রতিষেধক নিলে শতকরা ১০০ ভাগ প্রাণরক্ষা হয় এটাও বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত সত্য কিন্তু যে দাঙ্গাবাজ ও যুদ্ধবাজ সব রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রনায়কদের আক্রমণে তলওয়ারের কোপে, বোমার আগুনে পুড়ে লাখ লাখ মানুষ নিত্যরোজ গ্যারান্টি দিয়ে মারা যায় তার প্রতিবাদে কখনো রাস্তায় নেমেছেন কি? নাকি সেসব কেবল ফেসবুকেই সীমাবদ্ধ? জানার খুব ইচ্ছে রইলো স্যার। প্রশ্ন আরো আছে মহোদয়। আপনার ভাষায় ওই ‘হাল্কাপুল্কা’ প্রতিপক্ষরা সত্যিসত্যিই ততটা ‘হাল্কাপুল্কা’ তো? সেদিন হাসপাতালে সমর্থনের তোড়জোর, সংখ্যা আর শ্লোগানের ভল্যুম দেখিয়া তো তাহা মনে হইল না কোনভাবেই। সেবিকারা সবাই যে একইরকম নিষ্ঠুর, নির্মম আর হৃদয়হীন নয় সেকথা আগেই লিখেছি। তাদের অনেকের মধ্যেই ফ্লোরেন্সের গল্প থাকবে এটাই তো স্বাভাবিক। কুকুরের নির্বীজকরণের পক্ষে যদি কখনও কোন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয় তাহলে অবশ্যই জানাবেন, পাশে দাঁড়াবো। তবে ঐ ‘সেবিকা’ নাম্নী ঘাতকদের পাশে কখনোই নয়। শুভেচ্ছা নেবেন ও ভাল থাকবেন।

  5. ধন্যবাদ স্যার, আপনি দ্বিতীয় লেখক, যিনি আমার কোন বক্তব্যের উত্তর দিলেন। কিন্তু straw man fellacy বা ad hominem fellacy তে যাচ্ছেন কেন, আপনার লেখাটি পড়ে মনে হল, আপনি অযথা একটি দায়িত্বশীল ও মমতাময়ী পেশাকে আক্রমণ করেছেন। দুজন মানুষ কি করেছে, তাদের জন্য সমগ্র পেশাকে খারাপ, দিন ফুরিয়েছে এইসব বলা কেন। অবশ্যই পিটিয়ে মারা সমাধান নয়, তাদের আইন অনুযায়ী শাস্তি হোক, আমিও চাই, কিন্তু আমার বক্তব্য কুকুর হাসপাতালে থাকা যে একটা সমস্যা, সেটা স্বীকার করছেন না কেন? নাকি চাইছেন তারা ওখানেই থাকুক। হাসপাতালে কুকুর থাকার সমস্যা কি সেই প্রসঙ্গে আমি জ্বলাতঙ্ক, রোগজীবাণু এগুলোর কথা বলেছিলাম। এই সমস্যার সমাধান, হাসপাতাল কুকুরমুক্ত করা, ও তাকে তার জায়গায় পাঠানো। প্রশাসনের তরফে, অতীন ঘোষের বক্তব্য শুনলাম, তাঁরা পশুপ্রেমী সংগঠনের সাথে কথা বলেছিলেন, কিন্তু কেউ নাকি দায়িত্ব নিতে চাইনি, দায়িত্ব আমার মতে অবশ্যই সরকারের। যাইহোক আপনি বোধহয় আমার বক্তব্য একটু অন্যভাবে বুঝেছেন, তাই পয়েন্ট আকারে লিখে দিলাম, ১ কুকুর মারার ঘটনায় রগরগে বক্তৃতা, মিছিল, ও প্রবল ঘৃণা স্বাস্থ্য কর্মীদের প্রতি সমর্থন করি না, এরচেয়ে বলতেন, যারা মেরেছে শাস্তি পাক, ভালো লাগতো। ২ যারা অপর মানুষদের প্রভাবিত করার সমর্থ রাখেন, তারা যদি, একটু হলেও ঘটনার পিছনে থাকা কারণগুলো তুলতেন, ও সেগুলির প্রতিকার ও চাইতেন তাহলে ভালো হত।

  6. স্যার,,

    আমার বক্তব্য বুঝতে বোধয় আপনার কোথাও একটা অসুবিধে হয়েছে। আমি আমার প্রতিবেদনেই নার্সরা সবাই এরকম নয় কথাটা লিখেছিলাম। আপনার প্রশ্নের জবাবে আবারও লিখেছি যে নার্সরা সবাই এরকম নয়। আর কতবার লিখব বলতে পারেন? তবে ঘাতকদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি থেকে একচুলও সরছিনা । হসপিটালে কুকুর থাকা উচিৎ নয় এটা যেমন ঠিক তেমনি তাদের বিকল্প বাসস্থান এবং গ্রাসাচ্ছাদনের ব্যবস্থা না করে , পিটিয়ে মারাটাও কোনও সঠিক সমাধান নয়। ভাল থাকবেন।

  7. এই দ্বিতীয় পোস্ট দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল না, এইটা শুধুমাত্র ” প্রিয়….. প্রশ্ন আরো আছে মহোদয়” অবধি ঐ ৮০ শতাংশের জন্য। প্রথম যে তিন চার লাইন, আপনি আত্মপরিচয় দিয়েছেন, তারজন্য অবশ্যই আপনার কুর্নিশ প্রাপ্য। আপনি লড়াই করেছেন যখন, তখন আবার প্রশ্ন তুলুন না? আমি কি করেছি, এটা এখানে অপ্রাসঙ্গিক। আপনাকে না চিনলে, আপনার লেখার বিরুদ্ধমত হওয়া যাবে না? আপনি যখন রাজার বিরুদ্ধে নেমেছিলেন, তখন আপনিও তাদের তুলনায় ক্ষুদ্র ছিলেন, তাতে আপনার বিরুদ্ধতা আটকায়নি। কুকুর, মোল্লা, পাকিস্তান প্রসঙ্গ কেন আনলেন, বুঝলাম না (বুঝি ভেবেছেন আমি হোয়াটস্অ্যপ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র) , মানুষের ক্ষতি করে নয়, অর্থ যা মানুষের পক্ষে ক্ষতিকর। এতই সহজ এটা। নাহলে মশা মাছিও মারা যাবেনা। ঘরে সাপ ঢুকলেও দুধ কলা নিয়ে প্রস্তুত থাকতে হবে। এমনকি চোর ঢুকলেও। বা বিমানবন্দরে পাখি ঢুকলে? ওরা কোথায় যাবে? উত্তর ওরা ওদের জায়গায় থাকবে, মানুষের হাসপাতালে নয়। আর চোর কেন চুরি করে, তাকে কাজ দেওয়ার বা অন্য জীবজন্তু কোথায় যাবে, সেটা দেখার দায়িত্ব প্রশাসনের। বংশবৃদ্ধি বাড়লে পিটিয়ে মারতে হয়? কে কোথায় কবে বলল?তা নিয়ে দীর্ঘ লিখেছেন। আমার লেখার শেষ লাইনে দেখুন, পেটানো সমর্থন করছি না। জ্বলাতঙ্কগ্রস্হ কুকুরের কথা বলিনি, মানুষের কথা বলেছি, সিস্টাররা এরকম বহু রোগী দেখেছেন,জ্বলাতঙ্ক হলে কেউ বেঁচে থাকে না, তাই তাদের মধ্যে ভয় কাজ করে, ( মান্টোর ‘খোল দো’ দ্রষ্টব্য)। শেষে বললেন, যুদ্ধের কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা যায়, অবশ্যই এর প্রতিবাদ করা উচিত।
    সংযোজন ১ : আমি কতবার নেমেছি আর আপনি কতবার নেমেছেন, ফেসবুকে নেমেছেন (অস্বীকার করবেন না, ফেসবুকের ক্ষমতাকে, মিশর বিপ্লব দ্রষ্টব্য) না রাস্তায় নেমেছেন, এটা বড় কথা নয়। বড় কথা, সমস্যাকে সমস্যা বলে স্বীকার করা ও তার সমাধান খোঁজা।
    সংযোজন ২ : শেষ কুড়ি শতাংশ, যদি আপনাকে তারা অশালীন কথা বা নিগ্রহ করে থাকে তা সমর্থন যোগ্য নয়, কিন্তু তা না হলে মানতে হবে, তারা কিছু মানুষের হলেও সমর্থন পেয়েছেন। ফেসবুকেও তাই দেখছি, অনেকেই পক্ষেও আছেন
    সংযোজন ৩ : ব্যক্তিগত কথা তুলে শ্লেষ ও টিপ্পনী ভালো লাগে না, তবু চলেই আসে। আপনি লেখক। আমার তো সাহিত্য পড়তে দারুণ লাগে। পক্ষে বিপক্ষে মতামত তো চলতে থাকবেই। let’s agree to disagree. ভালো থাকুন, আমার প্রণাম নেবেন।

  8. আপনি এখনই জবাব দেবেন ভাবতে পারিনি, তাহলে দ্বিতীয় অংশটুকু লিখতাম না, ওটা লেখার ফাঁকে আপনার জবাব চলে এসেছে, দেখছি, যাহোক এখানে আর লিখতে এসব ভালো লাগছে না, আপনি যে কষ্ট করে পড়ছেন ও জবাব দিচ্ছেন, এটাই অনেক, অন্য কোন ভাবে যোগাযোগ করা গেলে বলবেন, ডিলিট করা যাচ্ছে না, নাহলে আমি নিজেই আগের লেখাগুলো ডিলিট করে দিতাম। আমার মেল, joyoflearning06@gmail.com

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.