সুমন সরকার
পড়াশুনা প্রেসিডেন্সী কলেজে স্ট্যাটিস্টিকস নিয়ে । বর্তমানে আইএসআই , কলকাতায় ডক্টরেট করছেন । ২০১৪ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে লেখালিখি শুরু । যেভাবে গীটার বাজিয়ে গান গাইতে ভালো লাগে , সেভাবে লিখতে ভালো লাগে , তাই লেখেন । লিখেছেন রম্যগদ্যের দুটো বই- 'লাকি থারটিন' , 'ফাউ' ।

কিছু কিছু কথা সবার সামনে বলা যায় না । যেমন  ধরুন ,টিউশনির ব্যাচে যেখানে একগাদা ছেলেমেয়ে রয়েছে সেখানে কেউ কি বলতে পারবে – ‘স্যার,পায়খানা পেয়েছে’! বড় জোর ,একটু ভয়ে – ‘স্যার একটু বাথরুম যাবো’। ‘একটু’  শব্দটা এই ভয় থেকেই উচ্চারিত । কাজকর্ম সেরে আসতে দেরী হলে ,স্যার  যদি কুরুম হন তাহলে সকলের সামনে প্রেস্টিজ-প্যান্টুল নামিয়ে জিগাইবেন – ‘তুই কি পাইখানা গেচিলি ?’ ব্যাস আপনি খবর হয়ে গেলেন । ‘কনডোম’এমন একটা শব্দ ,দুম করে কারো সামনে বলা যায় না । স্বাভাবিক ব্যাপার ,কনডোম পেটখারাপ ,জ্বর বা চুলকুনির সঙ্গে জড়িত নয় ,জড়িত সঙ্গমের সঙ্গে । তাই ঢাক ঢাক গুড় গুড় ।   তবে এ বিষয়ে কিছু বলার আগে একটা পুরনো জোক একটু ঝালিয়ে নিলে মন্দ হয় না । এক গ্রামে একজন স্বাস্থ্য অধিকর্তা গেছেন , কনডোমের ব্যাপারে গ্রামবাসীদের বোঝাবেন । গ্রামে জনসংখ্যা হু হু করে বাড়ছে । সেই হু হু ব্যাপারটা দেখে , হু (WHO)  হুড়কো দিয়েছে । বিলিতি হুড়কো খেয়ে ,ঘুষের চোঁয়া ঢেঁকুর তুলে ভুঁড়ি দুলিয়ে সরকারী অফিসার গ্রামবাসীদের ডেকে কনডোম এর প্রয়োজনীয়তা বোঝাবেন । সেই অফিসার অনেক আমতা আমতা করে একটা কনডোম প্যাকেট থেকে বার করে বললেন – “এই জিনিসটাই আপনাদের দরকার । মনে রাখবেন ছোটো পরিবার ,সুখী পরিবার । ঠাকুর বলেছেন যত পেট তত পাত । ফলে পেট কমান ,পাতও কমবে । আমার হাতের জিনিসটা ব্যবহার করা খুব সহজ ।” তারপর সেই অফিসার নিজের একটি আঙুল কনডোমে ঢুকিয়ে ব্যাপারটা বললেন । একবারও কনডোম শব্দটা উনি উচ্চারণ করে উঠতে পারেননি । দুবছর পর দেখা গেলো ,গ্রামে জনসংখ্যা  হেবি বেড়েছে । হু ( WHO ) খিস্তি মেরে লাট করছে  । গ্রামবাসীদের বলা হয়েছিল ,’আগে কনডোম পরে সঙ্গম’ । কনডোম পরতে হয় ,নইলে পেট হতে হয় । এদিকে গ্রামের লোকজন আঙুলে কনডোম গুঁজে দিব্যি সঙ্গম করে গেছে । কারণ,স্বাস্থ্য দপ্তরের সেই অফিসার আঙুলে কনডোম গুঁজে ব্যাপারটা বুঝিয়েছিলেন । আগে তাও গ্রামের লোকজন একটু রয়ে সয়ে করতো ,এবার আঙুলে কনডোম গোঁজার ফলে ,জাগলে কামনা জাম্প টু বিছানা । কন্ট্রোল ব্যাপারটা ট্রোলড হয়ে গেছে । সেই অফিসার আবার গ্রামে গিয়ে সভা ডেকেছেন । দুর্ভাগ্যক্রমে এবারও তিনি কনডোম শব্দটি উচ্চারণ করতে পারেননি । তিনি নিজের মাথায় একটু হনুমান টুপি পরিয়ে ,কনডোম পরিধানের শিক্ষা দেবার চেষ্টা করেন ,তারপর সেই হনুমানটুপিযুক্ত মাথা একটি গোটানো কম্বলে ঢুকিয়ে আর বার করে গোটা ব্যাপারটা ডেমনসট্রেট করেন ।  কিন্তু, দুঃখের কথা জানেন ,তারপরও গ্রামে জনসংখ্যা কমেনি । গ্রামের লোকেরা মাথায় হনুমানটুপি পরে  লেপে ঢুকে যা করার করে গেছে । এরপর সেই অফিসার শিবির করতে গেলে গ্রামের লোকেরা তাঁকে  কেলিয়ে আধমরা করে দিয়েছে । কারণ,হনুমানটুপি পরা সবাইকেই একরকম লাগে , এই সুযোগ নিয়ে অনেকেই অন্যের বউয়ের খাট গরম করে এসেছে ।  ব্যাপারটা জানাজানি হতেই গ্রামবাসীরা ঠিক করেছিল সেই হনুমানটুপির নিদান দেওয়া অফিসারকে মেরে পুঁতে ফেলবে ।

Banglalive

টিভির বিজ্ঞাপনে কত সহজে ওষুধের দোকান থেকে কনডোম কেনার সিন দেখি আমরা । ‘ভাইসাব ছতরি হে । আরে কনডোম !’কনডোমকে স্বনামে ডাকতে কেমন একটা হেঁচকি উঠেই আসে । বেলুন ,ছাতা ,টুপি ,হেলমেট এরকম কতই না এর নাম । কিন্তু,যেটা বলছিলাম ,টিভির বিজ্ঞাপনের মতোই কি এত সহজে বাঙালিরা ওষুধের দোকান থেকে কনডোম কিনতে পারে !আরে ,টিভিতে তো দেখায় অমুক প্রকাশনীর বই পড়লেই মাধ্যমিকে লেটার ,অমুক জায়গায় পড়লেই চাকরী ,অমুক সাবান মাখলেই মধুবালা ,অমুক ওষুধ খেলেই কষা পায়খানা মাখা সন্দেশের মতন । এসব কি থোড়াই বাস্তবে হয় । বাস্তবে কী হয় তাহলে শুনুন ।

আরও পড়ুন:  ধর্মঘট

ওষুধের দোকানে গিয়ে দেখবেন সামনেই কাঁচের পেছনে নানান কনডোম এর পসরা । কনডোমের প্যাকেটে একজোড়া ছেলেমেয়ের অসব্য ছবি । সমকামীদের ব্যাপারটা এখনো মাথায় আসেনি ওইসব কনডোম নির্মাতাদের । তাহলে নিশ্চয় ছেলেছেলে , মেয়েমেয়ে ছবিও থাকতো । তো আপনি জেলুসিল কিনতে গেলেও ওইদিকেই চোখ যাবে । এবার যখন কনডোম কিনতে যাবেন চোখ রাখতে হবে জেলুসিলের দিকে কিন্তু চাইতে হবে কনডোম । দোকানে ভিড় থাকলে একাজ করা অসম্ভব । আপনি তাই একটু অপেক্ষা করবেন ,কখন দোকান ফাঁকা পাবেন ,আর মনের কথা বলবেন । এদিকে দোকানের ভিড় পাতলাই হতে চায় না । ওষুধের দোকানের সঙ্গেই ডাক্তাররা বসেন । ফলে ,ওঁরা এমন ওষুধ লেখেন যে সারা পৃথিবীতে ওই ওষুধ একমাত্র ওই ওষুধের দোকানেই পাওয়া যাবে । তাই ,ডাক্তার রুগী ছাড়ছে আর দোকানে ভিড় বাড়ছে । আপনি ভাবছেন ,এর চেয়ে অনেক সহজে প্রেমিকাকে প্রপোজ করেছিলেন । আপনি দোকানের টুথব্রাশ , ঝুলন্ত টুং-টাং ,বাচ্চার দুধের প্যাকেটের ভালুক সব চোখ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে অবাক চোখে দেখছেন ,যেন বিদেশী পর্যটক তাজমহলের ভেতরের কারুকার্য দেখছে । মাঝখানে দোকানদার গলা খেঁকিয়ে বলবে – ‘আরে দাদা আপনি তো বলছেনই না ।’  অনেক সময় আমরা কোনো দোকানে গিয়ে ,পাশের লোক যেটা কিনলেন ওইটা দেখিয়ে বলি – ‘উনি যেটা কিনলেন সেটাই আমায় দিন’। অনেকেই হয়তো নামটা উচ্চারণ করতে পারেন না । তাই,আপনি হয়তো অপেক্ষা করবেন যদি পাশের কোনো আগুন্তুক কনডোম কিনতে আসেন ,আর আপনি তাঁকে দেখিয়ে বলবেন – ‘উনি যেটা কিনলেন সেটাই দিন’। এ অনেকটা পরীক্ষার হলে অঙ্ক আটকে যাবার মতন । যদি পাশের ছেলের খাতাটা দেখে ম্যানেজ দেওয়া যায় । কিন্তু,সেই আগুন্তুকও যে আপনার মতোই । সেও মন কি বাত বলে উঠতে পারেনি ।

চ্যাংড়া ছেলেদের কথায় আসি । একদিন বাড়ি ফাঁকা পাওয়া গেছে । ফলে ,এতদিনের হাওড়া-শিয়ালদা ফ্যান্টাসির জগৎকে সাময়িক বিদায় জানিয়ে বহু কাঙ্ক্ষিত ওয়ান ডে গালাখেলা । তাই, বেপাড়ার একটা ওষুধের দোকানে ফিসফিস করে – ‘দাদা,  একটা কনডোমের প্যাকেট’। লোকটা একটা রাগী দৃষ্টি দেবে সেই চ্যাংড়ার দিকে । শালা ,প্যান্টের ভেতরে এখনো নব গণিত মুকুল ,তবু শখ তার হায়ার অ্যালজেব্রা !  সে দোকানের কর্মীকে বলবে – ‘একটা কুড়ি দাও’। একটা সাদা খামে তিনটে কনডোমযুক্ত প্যাকেট । ছেলেটা বুঝে যাবে – ‘কুড়ি’হল কোড ওয়ার্ড । ফলে , এরপর দোকানে সেই জিনিসটি কিনতে গেলেই – ‘দাদা একটা কুড়ি দেবেন ।’  এসব চ্যাংড়া ছেলেদের ব্যাপার আলাদা । মাথায় সেক্স উঠে বসে থাকলে ,এরা যা খুশি করে ফেলতে পারে । কিন্তু,বাকিরা !এই ধরুন ভালো ছেলে অনিলের সদ্য বিয়ে হয়েছে । কিন্তু,পাড়ার দোকান থেকে কী করে কনডোম কিনবে ! ওঁর দাদা অবশ্য ডাকাবুকো ছিল । বিয়ের পর সোজা গিয়ে দোকানে বলত – ‘কাকা ,এক প্যাকেট ডিওরেক্স’। সে চলে গেলে বুড়ো দোকানে মালিক চশমা খুলে রুমালে চোখ মুছতে মুছতে বলেন – ‘এইটুকু ছিল যখন মায়ের সঙ্গে দোকানে ভিক্স লজেন্স কিনতে আসতো । আজ কত বড় হয়ে গেছে ,ভিক্সের জায়গায় ডিওরেক্স কিনে নিয়ে গেলো ।’অনিলের সে ধক নেই । সে নিজের পাড়া থেকে বেশ খানিকটা দুরে খুঁজে খুঁজে একটি চলে না এমন ওষুধের দোকান পেয়েছে । সেখানে কনডোম চাইতে ,লোকটি কেমন একটা খারাপ দৃষ্টি দিয়ে বলেছে – ‘আপনি নতুন মনে হচ্ছে । শুনুন ,আমরা অথেনটিক কনডোম সেল করি । অন্য দোকানে জানেনই না ,কাকে কীরকম কনডোম সেল করতে হয় । যেমন দেখবেন একজন ভালো হোসিয়ারি দোকানের বিক্রেতা  বুঝতে পারেন কোনো মহিলার সঠিক ব্রা এর সাইজ কী হওয়া উচিত । তেমনি আমরা পেনিসের মাপ অনুযায়ী কনডোম সেল করি । আমরা কাস্টমারের পেনিসটা চেক করে সেই মাপ অনুযায়ী সেরা কনডোমটা দিই । আপনি দোকানের ভিতরের রুমে আসুন ,আপনাকে পরীক্ষা করব ।’অনিল ভেতরে যাবার পর ওঁকে প্যান্ট খুলতে বলা হয় । অনিল সাইকেলটা চাবি দিয়ে আসছি বলে , সে যাত্রায় রক্ষা পায় । পালাবার আগে দেখে দোকানের নাম ‘গে মেডিসিন স্টোর’। আসলে নামটা – ‘গেদে মেডিসিন স্টোর’, ‘দে’শব্দটা সাইনবোর্ড থেকে ঝরে পড়েছে কখনো । গেদে অঞ্চলে বড় হওয়া মালিক ভদ্রলোক সত্যিই গে ,এবং তাঁর কুকীর্তির জন্য দোকানে মাছি ছাড়া অনেককাল কেউ আসেনি । পথভোলা অনিল কনডোমের খোঁজে এসে আর একটু হলেই ফেঁসে যাচ্ছিল ।

আরও পড়ুন:  বাঙালীর বিশ্বকাপ এবং কমলাকান্তের পুনরার্বিভাব

কনডোম একটা সাধারণ জিনিস ,তবু এই নিয়ে ওষুধের দোকানদার আর ক্রেতার মধ্যে একটা তাৎক্ষনিক কেমিস্ট্রি বেশ মজার । দুজনেই খুব ক্যাজুয়াল হবার ভান করলেও , পরস্পরের দিকে একবার আড়চোখে তাকাবেই । ক্রেতার দৃষ্টিতে লজ্জা  আর দোকানদারের দৃষ্টিতে কৌতূহল ,কীরকম সেক্স ,বিয়ের আগে না পরে !তবে কিনতে কিনতে অভ্যাস হয়ে যায় । আজকাল তো ডটেড ,সুপার ডটেড ,এক্সট্রা ডটেড,আর কতরকম ফ্লেভার । অনেকসময় চেনা দোকানদার নিজেরাই নতুন আমদানি সাজেস্ট করে দেন । আরে দাদা আজ লিচু নিয়ে যান ,কাল জামরুল ট্রাই করতে পারেন । শুনেছি একজন বলেছিল – ‘দাদা,বৌদির তো সারাক্ষণ পান মুখে দেখি । নতুন পান ফ্লেভার এসেছে নিয়ে যান । আর এটার সুবিধা হল, শুধু পানের ফ্লেভারই নয় ,এটা ব্যবহার করলে মুখে পিক আসবে । ফলে যাদের পিক ফেলার অভ্যাস তাঁদের বিলা সুবিধে ।’  কোথায় যেন শুনেছিলাম নতুন বিয়ে হওয়া এক স্বামী ফোনে তাঁর নতুন বউকে বলছে – ‘বাজারে খুব ভালো পেঁয়াজকলি উঠেছে নিয়ে নিলাম ,আর জ্যান্ত ট্যাংরা । দোকানে তোমার প্যাড কিনতে গিয়ে বলল ,ম্যানফোর্সের শুটকি ফ্লেভারের এসেছে । তোমরা তো বাঙাল । কিনে নিয়েছি ,আজ জমে যাবে বলো !’  

যদিও আজকাল অনলাইনে বাঘের দুধও কিনতে পাওয়া যায়,কনডোম কি চিজ !  কিন্তু,অনলাইনে খুব কম মানুষই কেনাকাটা করেন । তাই,কনডোম কেনার সঙ্গে সেই সংকোচ ,লজ্জা ,ভয় ইত্যাদি জড়িয়ে থাকেই বাঙালির জীবনে । আর মাঝে মাঝে কোনো এক ‘হঠাৎ’জেঠুর উদয় হয় কনডোম কেনার সময় । যিনি ওষুধের দোকানে দাঁড়িয়ে,আপনি না জিজ্ঞাসা করলেও নিজের ইউরিক অ্যাসিড,সুগার ইত্যাদির হিসেব আপনাকে জানাবেন,পশ্চিমবঙ্গে সিপিএমই কেন ভালো ছিল সেটা বোঝাবেন,আর আপনাকে বার বার জিজ্ঞাসা করবেন ,আপনি কী কিনতে এসেছেন । যতক্ষণ না অবধি উনি দেখতে পাচ্ছেন একটা ব্রাউন খামে ভরা চৌকো প্যাকেট আপনি ব্যাগে ভরলেন ,  উনি আপনাকে ছাড়বেন না ।

আরও পড়ুন:  দুষ্টু-বৃষ্টি-নায়িকা

তবে মনে রাখবেন কনডোম একশো পার্সেন্ট প্রোটেকশন দেয় না । এমন কেস আমি জানি,কনডোম লিক করে ,একটি বীর শুক্রাণু ঠিক জায়গায় পৌছে গিয়ে কাজের কাজটি করে দিয়েছে । তাই,’ভিকি জানেন না ও মারজারিন খাচ্ছে’, এই কথাটা পালটে ‘ভিকি জানেই না ওঁর কনডোম ফেটে গেছে’এটাও হতে পারে । দ্বিতীয়টা যে অনেক বেশি রিস্কি সেটা আর বলে বোঝাবার দরকার নেই আশা করি । কনডোম কিনতে একেবারেই ভয় পাবেন না । গব্বর সিং বলেছেন , জো ডর গয়া সমঝো মর গয়া । যদি ,গব্বর শুনলে কালচারের ডোজ কম মনে হয় তাহলে ,ওই কথাটা মনে করুন – 

“চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির ,
কনডোম কিনতে গিয়ে ধেড়িয়েছে কত বীর !” 

ভয় কে জয় করুন ,ভিক্স লজেন্সের মতনই দোকানে গিয়ে কনডোম কিনুন ।

দাঁড়ান , আর কটা কথা আছে একটু বলে নিই । কিছুদিন আগে কাগজে পড়লুম , সন্ধ্যা ৬ টা থেকে ১০ টা অবধি টিভিতে কনডোমের বিজ্ঞাপন দেখানো যাবে না । সেসব দেখলে নাকি বাচ্চারা পেকে যাবে । বিজ্ঞাপন মাত্রই ঢপকীর্তন ,এতে কোনো সন্দেহ নেই । বেশিরভাগ কনডোমের অ্যাড হল কিছুক্ষণের সুড়সুড়ি মার্কা হাফ থুড়ি কোয়ার্টার  পানু । সেসব বিজ্ঞাপনের দেখলে এটাই মনে হয় যে অমুক কোম্পানির কনডোম ব্যবহার করলে মিলন ওই যে অন হবে আর অফই হতে চাইবে না । বাংলাদেশের একটি কনডোমের বিজ্ঞাপনে জামাইকে ‘ভূমিকম্প স্পেশালিষ্ট’বলা হয়েছে । জামাই শ্বশুরবাড়ি এলেই এমন সেক্স করেন যে গোটা বাড়ি কাঁপতে থাকে ,সবই নাকি অমুক কনডোমের জাদু । উফ ,আর নেওয়া গেলো না ! হিন্দি ফিল্মে সানি লিওন দুঃখের সিন করলেও পানুর এক্সপ্রেশন দেন । আর যদি ওঁকে দিয়ে কনডোমের বিজ্ঞাপন করানো হয় , তাহলে তো মিটেই গেলো । নটি আমেরিকা হঠাৎ হাজির কুসুম দোলার মাঝে । কিন্তু, আসল কথাটা কেউ বলে না ।  কনডোমে চারটে ডট বেশি থাকার সঙ্গে ,কিমবা সেটির ফ্লেভারের সঙ্গে সেক্স বেশিক্ষণ হবার বা সেটি দুর্দান্ত হবার কোনো সম্পর্ক নেই । কনডোম যৌনরোগ থেকে প্রোটেকশনের জন্য ,কিমবা প্রেগনেন্সি আটকাতে ।  মনে রাখবেন – “কনডোম পরলে প্রোটেকশন ,না পরলে টেনশন” ।   

10 COMMENTS

  1. ওফ সুমন ! আবার এক খান ফাটাফাটি লিখা ।
    আসলে এ জাতটাই হইল এরম । আসলি সময়ে লাজে মাইরা যায় । আরে বাওয়া অত লাজের কি আচে । এমনই তে দ্যাশটা লোক জনসংখ্যার বিষ্ফোরণে নাভিশ্বাস তুলতাসে ।
    তাই আইস সব্বাই আওয়াজ উঠাই
    পরো কন্ডম
    কারো সঙ্গম
    দ্যাশ বাঁচবে তায় ।
    অন্ন জুটবে
    হাসি ফুটবে
    দ্যাশ এগিয়ে যায় ॥

  2. অসাধারণ সুমন। মানুষ করো একটু ছেলে গুলো কে।
    খুব ভালো লিখেছো।

  3. কনডোমের লেখা পড়ে মনে হচ্ছে কমান্ডোর স্ক্রিপ্ট পড়লাম।জিও বস্।

এমন আরো নিবন্ধ