সুপ্রিয় চৌধুরী
জন্ম ও বেড়ে ওঠা উত্তর কলকাতার পুরোনো পাড়ায়। বহু অকাজের কাজী কিন্তু কলম ধরতে পারেন এটা নিজেরই জানা ছিল না বহুদিন। ফলে লেখালেখি শুরু করার আগেই ছাপ্পান্নটি বসন্ত পেরিয়ে গেছে। ১৪২১ সালে জীবনে প্রথম লেখা উপন্যাস 'দ্রোহজ' প্রকাশিত হয় শারদীয় 'দেশ' পত্রিকায় এবং পাঠকমহলে বিপুল সাড়া ফেলে। পরবর্তীতে আরও দুটি উপন্যাস 'জলভৈরব' (১৪২২) এবং 'বৃশ্চিককাল' (১৪২৩) প্রকাশিত হয়েছে যথাক্রমে পুজোসংখ্যা আনন্দবাজার এবং পত্রিকায়। এছাড়া বেশ কিছু প্রবন্ধ এবং দু চারটি ছোটগল্প লিখেছেন বিভিন্ন পত্রপত্রিকা আর লিটিল ম্যাগাজিনে। তার আংশিক একটি সংকলন বই আকারে প্রকাশিত হয়েছে 'ব্যবসা যখন নারীপাচার' শিরোনামে। ২০১৭ সালে পেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি পুরস্কার।

‘দিল সাচ্চা অওর চেহরা ঝুটা …’। সুপার হিট হিন্দি ফিল্মের গানের কলি। ঠোঁট সরু করে শিস দিতে দিতে সুকিয়া ষ্ট্রীট ধরে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিল সমর। শ্রীমানি বাজারের সামনে আসতেই পা-দুটো বরফের মতো জমে গেল মাটিতে। রামমোহন লাইব্রেরীর সামনে থেকে পুরো এলাকাটা কর্ডন করে রেখেছে মিলিটারি। ভেতরে ঢুকে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালাচ্ছে সি আর পি আর লোকাল থানার পুলিশ। বুকের ধুকপুকুনিটা এক লাফে কয়েকশ গুন বেড়ে গেল মুহূর্তের মধ্যে। গতকালই গোটা ছয়েক চটি বই রাখতে দিয়ে গেছে সজলদা। ‘গেরিলা যুদ্ধের কলাকৌশল’। কে সি নাগের অঙ্কের বইয়ের তলায় রাখা আছে তাকের ওপর। বাড়িতে ঢুকে সার্চ হলে … বাকিটা আর ভাবতে পারছিল না সমর। দু-চার পা পিছিয়ে এসে টুক করে সেঁধিয়ে গেল কালু ঘোষ লেনের গলিতে। পৃথ্বীশদের বাড়ি। পৃথ্বীশ। পাশের পাড়ার বুজুম ফ্রেন্ড। ক্লাস ইলেভেন দুজনেই। স্কুলও এক। বাপ-জ্যাঠাদের বনেদি পারিবারিক ব্যবসা। দু’তিন পুরুষের। বিশাল লাল ইঁটের বাড়িটায় অস্টিন গাড়ি, জিইসি রেডিও, কাকাতুয়া, অ্যালসেশিয়ান আর পর্বতপ্রমান ফ্রিজিডেয়ার ছাড়াও একটা গোবদা কালো রঙের টেলিফোন আছে (সেসময় পাড়ায় বড়জোর দু-তিনটে বাড়িতে এসব জিনিস থাকতো)। একতলায় রাস্তার ওপরই পৃথ্বীশের ঘর (একা নিজের একটা ঘর। এটাও বিরল ছিল সেসময়)। “লোলে (পৃথ্বীশের ডাকনাম), আবে লোলে!” দাঁতে দাঁত চেপে ফিসফিস করে ডাকলো সমর। “কী হলো বে?” জানলার পর্দা সরিয়ে উঁকি মারল পৃথ্বীশ। “ওরকম ছুঁচোর মতো ফ্যাঁসফ্যাস কচ্চিস কেন?” “হেব্বি বিপদ মাইরি! পুরো পাড়া মামুরা ঘিরে ফেলেছে! এক্ষুনি একবার ফোন করতে হবে ডাক্তার জ্যেঠুদের বাড়িতে”। “দাঁড়া”। পর্দার আড়াল থেকে দ্রুত সরে গেল পৃথ্বীশ। সেকেন্ড তিনেক বাদে বার্মা টিকের ভারী দরজায় আধমণি খিল নামানোর ‘ঘটাং’ শব্দ। দরজার ফাঁকে পৃথ্বীশের মুখ। “ঢুকে আয় তাড়াতাড়ি।”

Banglalive

বিকেলবেলা। বাবা-জ্যাঠারা কাজে। মা-কাকিমারা দোতলায় উত্তম-সুচিত্রা, মানিকতলা বাজারে পাঁঠার মাংস পাঁচ থেকে বেড়ে ছ’টাকা কিলো … ইত্যাদিতে মগ্ন। একতলায় বৈঠকখানা ঘর। নির্জন। এক কোণে  তেপায়া ছোট গোল টেবিলে সেই কালো রঙের পেল্লায় গাম্বাট টেলিফোন। ওপরে কুরুশের কাজ করা লেস কভার। চাকতি ঘুরিয়ে নম্বর ডায়াল করলো পৃথ্বীশ। “রিঙ হচ্ছে নে ধর।” বলে রিসিভারটা ধরিয়ে দিল সমরের হাতে। “কেএএএ।” লাইনের ওপারে ডাক্তার জেঠিমার কাংসবিনিন্দিত কণ্ঠস্বর (যাকে পাড়ার সবাই বেশ সমঝে চলে)। “জেঠিমা আমি সমু, দিদি-জামাইবাবুকে একবার ডেকে দেবেন? খুব জরুরী দরকার।” আকুল আর্তি সমরের। “ওরে মিলি, সমুর ফোন এয়চে। বলচে খুব জরুরী …।” লাইনের এপার থেকেও স্পষ্ট শোনা গেল। মিনিট তিনেক বাদে ফোনে দিদির উদ্বিগ্ন গলা – “কী হয়েছে রে?” অতঃপর সংক্ষেপে এবং চাপা গলায় সমগ্র ঘটনার বিবরণ। পরমুহূর্তেই পাশ থেকে পাড়ার হারুদা থুড়ি জামাইবাবুর তীব্র চাপা গর্জন “ফোনটা আমাকে দাও!” অতঃপর গোদা বাংলায় যাকে বলে গিয়ে উদোম ঝাড়। “বাঞ্চোৎ! একবার ধরা পড়লে গেরিলা যুদ্ধের কলাকৌশল তোমার পেছন দিয়ে ঢুকবে (যদিও ‘পেছন’-এর প্রতিশব্দটা আরও বেশি আনসেন্সরড ছিল।)।” একই সঙ্গে রিসিভার নামিয়ে রাখার ‘খটাশ’ শব্দ এবং জেট স্পীডে দিদি-জামাইবাবুর দ্রুত গৃহে প্রত্যাবর্তন। ছ-ছটা চটি বই উনুনে গুঁজে পোড়ানো। তাতেও নিশ্চিন্ত না হয়ে সেই ছাই পায়খানার প্যানে ফেলে এবং বালতি বালতি জল ঢেলে তবে নিশ্চিন্তি। সেদিন শেষ অবধি সমরদের বাড়ি রেইড হয়নি কিন্তু গেরিলা যুদ্ধের কলাকৌশল পয়ঃপ্রণালীতে আত্মগোপন করতে বাধ্য হয়েছিল।

প্রিয় পাঠক, উপরোক্ত ঘটনাটি বর্ণনা করার চেষ্টা করলাম একারনেই, যারা এখনও চল্লিশের কোঠা পেরোননি অথবা মাঝ চল্লিশে তাদের পক্ষে সময়টাকে ধরতে হয়তো কিছুটা সুবিধে হবে। আর যারা পঞ্চাশের শেষভাগে অথবা ষাট টপকেছেন তারাও স্মৃতির ছিঁড়ে যাওয়া তারগুলোকে ঝালিয়ে নিতে পারবেন আরেকবার।

সময়টা সত্তর দশক। বেজায় ক্ষ্যাপাটে আর ঝোড়ো দিনকাল। পাড়ার রাস্তায় আর গলির মোড়ে রোগা রোগা, রাগী রাগী চেহারার সব ছেলেছোকরার দল। কোমরে গোঁজা ভোজালি আর পাইপগান, হাতের মুঠোয় পেটো। পাড়া আর ইস্কুল কলেজের দেয়ালে দেয়ালে লেখা হচ্ছে “নকশালবাড়ি লাল সেলাম!”, “সশস্ত্র কৃষিবিপ্লব জিন্দাবাদ!”, “বুর্জোয়া শিক্ষা বয়কট করুন!” … আরও কত স্লোগান। স্টেনসিলে আঁকা হচ্ছে চেয়ারম্যান মাওয়ের মুখ … ঝড়ের ডানা মেলে উড়ে যাওয়া চার-পাঁচটা বছর। বাতাসে বারুদের গন্ধ, বোমা-বন্দুক, এনকাউন্টার-অ্যামবুশ, ল্যাম্পপোস্টের ঝাপসা আলোর নীচে বুলেটে সেলাই হয়ে যাওয়া লাশ … অতঃপর বিপুল ক্ষয়ক্ষতি আর প্রাণের বিনিময়ে একদিন বিদায় সত্তর। সেই নকশালবাড়ির পঞ্চাশ বছর বয়স হয়ে গেল এই কিছুদিন আগে। প্রায় প্রতিটা খবরের কাগজ আর ম্যাগাজিনে কত তাত্ত্বিক-বিদগ্ধজনদের কত লেখাই না বেরোল। আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি, সাফল্য-ব্যর্থতা, ভবিষ্যৎ নিয়ে কত না চুলচেরা বিশ্লেষণ আর কাটাছেঁড়া। সবিস্ময়ে লক্ষ্য করলাম এইসব লেখায় সম্পূর্ণ অবহেলিত হয়ে থেকে গেল বড়রাস্তা আর গলির মোড়ের সেইসব ‘ফুট সোলজার্স’-রা, আমার কাছে যারা পাড়ার ছেলে আর তাত্ত্বিক লেখকদের চোখে – ‘লুম্পেন’। কিছু না জেনেবুঝেই স্রেফ অ্যাডভেঞ্চারের লোভে ভিড়ে গেছিল আন্দোলনে। বিজ্ঞজনদের কারো কারো লেখা পড়ে তো এও মনে হল যে শহরে লড়াইটা শুধুমাত্র যেন হয়েছিল কফিহাউস, প্রেসিডেন্সি, যাদবপুর আর মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসগুলোয়। মূলতঃ মেধাবী, স্কলার (তাত্ত্বিক ভাষায় ক্রিম অফ দ্য সোসাইটি) ছাত্রদের হাত ধরে। অথচ এরা কেউ খোঁজ রাখেন না (অথবা ভেবেই দ্যাখেননি কোনদিন) যে সেই অস্থির উথালপাথাল সময়ে পার্ক ইনস্টিটিউশন, কুমার আশুতোষ, টাউন আর সুরেন্দ্রনাথ-বঙ্গবাসীর মতো এতিপেতি স্কুল-কলেজের অতি সাধারণ ছেলেপুলেগুলো ঠিক কী ভেবেছিল। কালবোশেখি ঝড়ের মুখে কীভাবে খুলে দিয়েছিল নিজেদের নৌকোর গিঁট? ঝড় থেমে যাবার পরই বা তাদের পরিনতি কী হয়েছিল? সেইসব সাধারণ ছেলেপুলে থুড়ি ‘লুম্পেন’-দের কয়েকটা গল্প শোনাব এবার।

আরও পড়ুন:  দিনে নায়িকা...রাতে হাই-ফাই গণিকা!!

কলেজ ষ্ট্রীট ধরে হেদোর দিকে এগোতে গেলে প্রেসিডেন্সির গায়ে বুকস্টলগুলো যেখানে শেষ হয়েছে, ভবানী দত্ত লেনের মোড়ে একটা ফুট তিনেকের তেকোনা শহীদ বেদী। বিবর্ণ, ঝাপসা, প্রায় পড়াই যায় না এরকম নটা নাম। অনুপ, শঙ্কু, বিধু, কেষ্ট … তালিকায় পাঁচ নম্বর নামটা সুকুমারদার। সুকুমার ভট্টাচার্য। বেঁটেখাটো পেটা চেহারা। ওয়েলিংটনে এসওপিসি-র বক্সিং রিং-এ চ্যাম্পিয়ন লাইটওয়েট বক্সার। শুরুতে ফাটাকেষ্টর চ্যালা ছিল। মস্তানি করে বেড়াত পাড়ায়। অ্যাকশনের সময় একবার ওকে তুলে নিয়ে আসে নকশাল ছেলেরা। অনুপদাদের সঙ্গে কথা বলে অ্যাতোটাই মুগ্ধ হয়ে গেছিল যে গুণ্ডামি ছেড়েছুড়ে সরাসরি ঝাঁপ দেয় আন্দোলনে। এই অধম প্রতিবেদক তখন ক্লাস টেন। উত্তর-মধ্য কলকাতার স্কুল কমিটির ক্যুরিয়ার। সঙ্গে অন্য স্কুলের আরেকজন। কলারের ভাঁজে চোরপকেটে গোপন চিঠি আর জাঙ্গিয়ার ভেতরে দেশব্রতী নিয়ে যায় ইশকুলে ইশকুলে। হিন্দু-হেয়ারে যাতায়াতের সূত্রে আলাপ সুকুমারদার সঙ্গে। প্রথম দিনই নিয়ে গেছিল প্রেসিডেন্সির পিছনে নির্জন ফাঁকা মাঠটায়। পকেট থেকে বের করে এনেছিল ধারালো ঝকঝকে একটা ক্ষুর। “সোন (শোন), আলফাল মাকু সেনিসতরু (শ্রেণীশত্রু) হলে হেবি চোট দেবার দরকার নেই। হাল্কা করে পোঁদে একটু ছুঁইয়ে দিলেই হবে, ব্যাস!” কি, এলিট বিপ্লবীদের নাক কুঁচকে গ্যালো তো? তবে গপ্পোটা এখনও শেষ হয়নি। সেই সুকুমারদা। ১৯৭০-এর শেষদিকে রমাকান্ত মিস্ত্রি লেনের এক শেল্টার থেকে ধরা পড়ে যায়। শত অত্যাচারের পরেও একজন কমরেডের নামও বের হয়নি মুখ দিয়ে। মারবার আগে আক্ষরিক অর্থেই বেয়নেট দিয়ে অনেকক্ষণ ধরে খুঁচিয়েছিল রুনু অ্যান্ড কোং। সেদিন সুকুমারদা মুখ খুললে ফুট তিনেকের শহীদ বেদীটা দৈর্ঘ্যে আরও ফুট দশেক লম্বা হতো সন্দেহ নেই। কারণ এলাকায় আত্মগোপনকারী বহু কমরেডের শেল্টারের ব্যবস্থা করার ভারও ছিল সুকুমারদার হাতেই।

রাণাদাকে চেনেন? রনজয় দত্ত। বৌবাজারের বনেদি দত্তবাড়ির ছেলে। বিশাল শরিকি এজমালি বাড়ির একফালি ঘরে বেড়ে ওঠা। হেয়ার স্কুলের প্রাক্তনী। ঠোঁটের ডগায় সর্বদা কিটস, টেনিসন, কোলরিজ …। সত্তরের আগুনে ঝাঁপ দিয়ে পরিণতিতে কারাবাস। বছর সাতেক জেল খেটে বেরিয়ে এসে উন্নততর বামফ্রন্ট জমানায় ফেকলু এক্কেবারে। একই সঙ্গে বাড়ি থেকে বহিষ্কৃত। শুনেছি জেলখানায় প্রায়ই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়তেন জঙ্গল সাঁওতাল। এড়িয়ে যেতেন অন্তর্দ্বন্দ্বে শতধা বিভক্ত বিদগ্ধ নেতারা। রাত জেগে জঙ্গল সাঁওতালের সেবা করতো রানাদা। সেই রাণাদা। ওদিকটা দিয়ে যাতায়াতের পথে মাঝেমধ্যে দেখা হয়ে গেছে রাস্তায়। বড় বড় উজ্জ্বল একজোড়া চোখ। একগাল খোঁচাখোঁচা দাড়ি। পরনে তেলচিটে ময়লা জামা আর ছেঁড়াখোঁড়া লুঙ্গি। ঠোঁটে উজ্জ্বল মিষ্টি একটা হাসি। খানিকটা অপ্রকৃতিস্থ। যতবার দেখা হয়েছে প্রত্যেকবারই প্রশ্ন করেছে – “আচ্ছা, এরকম একটা সয়েলফুল রেভল্যুশনারি মুভমেন্ট এরকমভাবে ডেস্ট্রয়েড হয়ে গেল কেন বলতো?” কী উত্তর হয় এ প্রশ্নের। তাই ম্লান হেসে চলে এসেছি সামনে থেকে। লুম্পেন রাণাদা। কারেন্ট অ্যাড্রেস – ‘কেয়ার অফ বৌবাজার ফুটপাত’। বিছানা-বালিশ বলতে আধলা থান ইট, পুরোন পলিথিন আর ছেঁড়াফাটা একটা কাঁথা। এখন পাড়ার যত জমানা অনুযায়ী জার্সি পাল্টানো মস্তান, হাফ মস্তানদের বাচ্চাগুলোকে পড়ায়। বিনিময়ে পারিশ্রমিক – ফুটপাতের হোটেলগুলোয় মস্তানদের বলে দেয়া চারবেলার খাওয়া। সঙ্গে দু-তিন বাণ্ডিল বিড়ি। ওদের কাছে রণজয় দত্ত এখন ‘নকশালের রাণাদা’। এক সময় ঘ্যামা ফাইট লড়েছিল। এখন খেতে পায় না কিন্তু ধান্দাবাজ নয়। রেস্ত অনুযায়ী কখনও খালাসিটোলা, কখনও শ-বারে খাওয়াতে নিয়ে যায় ওরাই। মালের আসরে শিক্ষিত কারো সঙ্গে তর্ক বেঁধে গেলে (বাধবেই অবধারিত) সবাই মিলে হৈ হৈ করে ওঠে – ‘আপনি কি আমাদের মুখ্যু ভাবেন নাকি মশাই? জানেন কার সঙ্গে ওঠাবসা আমাদের? অ্যাই রাণাদা! একটু ইংলিশে স্পিক করে দে তো।” প্রিয় পাঠককূল। লুম্পেন, ভ্যাগাবন্ড রাণাদারা কিন্তু আজও বেঁচে আছে মশা-মাছি-মহাপুরুষসংকুল আমাদের এ শহরে।

আরও পড়ুন:  কেতজেল পাখি (দ্রোহজ ২) পর্ব ৩

গল্পটা শুনেছিলাম মিত্যুন্দার কাছে। মৃত্যুঞ্জয় সাহা। নিবাস দমদম মাড়োয়ারিবাগান কলোনি। জন্ম পঞ্চাশের দশকে। কলোনির ছ্যাঁচাবেড়া আর টালিখোলার এক চিলতে ঘরে। তবে মিত্যুনদার গল্পটা শোনানোর আগে একটা অন্য গল্প শোনাবো। সেসময়কার এক আগুনখোর তাত্ত্বিক নেতা। উত্তর চব্বিশ পরগণা ডিস্ট্রিক্ট কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছে (রয়েছেন শব্দটা ব্যবহার করলাম না সচেতনভাবেই। এতটাই অশ্রদ্ধা এবং ঘৃণা!) সেদিন দমদম জোনাল কমিটির মিটিং। নির্ধারিত সময়ের প্রায় একঘণ্টা দেরিতে এল সেই নেতা। ছেলেবুড়ো সবাইকে সে আপনি বলে সম্বোধন করে। বাচনভঙ্গিটা অনেকটা শম্ভু মিত্রের মত। এসে প্রথমেই সরাসরি আক্রমণ সভায় উপস্থিত সর্বকনিষ্ঠ এই অধম প্রতিবেদককে। “কমরেড, শুনেছি আপনি নাকি খুব গল্পের বইটই পড়েন? (কোন শুভাকাঙ্ক্ষী কানে খবরটা তুলে দিয়েছিল মনে হয়।)” “হ্যাঁ” ঘাড় নাড়লাম ভয়ে ভয়ে। অতঃপর সরাসরি ফতোয়া। “ওসব সুকুমার, বিভূতিভূষণফুষন পড়বেন না কমরেড। ওগুলো বুর্জোয়া ভাইসেস। তার চেয়ে বরং সি এম, শশাঙ্কর যুবছাত্রদের কর্তব্য সম্পর্কে দুচারটে লেখা আর রেডবুকটা পড়ে নেবেন। তাতেই সব পড়া হয়ে যাবে।’

এই অবধি বলে মিত্যুনদার গল্পটায় ফিরি আবার। একাত্তরের মাঝামাঝি গ্রেফতার হয় খড়দহের একটা শেল্টার থেকে। লকআপে যতবার পিঠে ডাণ্ডা পড়েছিল ততবার চীৎকারে লকআপ ফাটিয়ে স্লোগান দিয়েছিল – “নকশালবাড়ি লাল সেলাম!” ফলে ডাণ্ডার পরিমাণটা বেড়েছিল স্বাভাবিকভাবেই। উল্টোদিকে আগুনখোর সেই নেতা। ধরা পড়ার পর নিয়ে যাওয়া হয় টালিগঞ্জের রিট্রিটে। বড় বড় নেতাদের জেরা করা হতো ওখানে। বাজারে কানাঘুষো, একটি মারও নাকি খরচ করতে হয়নি অ্যান্টি নক্সালাইট স্কোয়াডের গোয়েন্দা অফিসারদের। তার আগেই ঝাড়া আট পাতার একটা বিবৃতি দিয়েছিল কথায় কথায় লেনিন-স্তালিন-মাও-সি এম ওগরানো নেতা মহোদয়। ফলে গোটা উত্তর চব্বিশ পরগণা জুড়ে শয়ে শয়ে শেল্টার রেইড হয়েছিল। গ্রেফতারের সংখ্যা অগুনতি। শহীদ অনেকে। মিত্যুনদা ধরা পড়ার আগেই দু তিনবার রেইড হয়ে যাওয়া খড়দার ওই শেল্টারও ছিল তার মধ্যে।

মিত্যুনদা। এখন দমদম স্টেশনের গায়ে একটা ছোট লেদ কারখানা চালায়। মাঝেমধ্যে গেলে চা মুড়িমাখা খাওয়ায়। বেশ কয়েকবার দেখা হয়েছে সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের মিছিলে। নীরবে পথ হাঁটছে। অবিচল। পাল্টে দেবার স্বপ্নটা আজও হারিয়ে যায়নি দুচোখ থেকে। চাইলে এরকম অন্ততঃ শখানেক সমর, সুকুমারদা, রাণাদা, মিত্যুনদার গল্প শোনাতে পারি এই মুহূর্তে। তাতে লেখাটা দীর্ঘায়িত হবে বই আর কিছু নয়। তার চেয়ে বরং চলুন একটু খুঁজে দেখার চেষ্টা করা যাক কী এমন ঘটেছিল ষাট সত্তরের দশকে, বিশেষত সাতষট্টি থেকে একাত্তর, এই পাঁচ বছরে যা শহর ও শহরতলির হাজার হাজার পাতি মধ্যবিত্ত পাড়ার ছেলেকে টেনে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল আগুনের আঙিনায়। যদিও নিজস্ব রাজনৈতিক জ্ঞান অত্যন্ত কম আর পড়াশুনার একান্তই অভাব তবু কারণটা খুঁজতে গিয়ে বারবার মনে হয়েছে – সময়। আসলে সময়টাই ছিল ওইরকম। বিদ্রোহ তখন জয়ী হচ্ছে চারদিকে। সরবোর্ণ থেকে হাভার্ড হয়ে যাদবপুর, বিদ্রোহের আগুনে টগবগ করে ফুটছে সারা দুনিয়ার কলেজ-ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসগুলো। প্যারিসের রাস্তায় দ্য গলের সেনাবাহিনীর ট্যাঙ্কের সামনে ঠোঁটে ঠোঁট রেখে দাঁড়িয়ে পড়ছে ছাত্রছাত্রীরা। “শুট দেম!” অর্ডার দিচ্ছেন জেনারেল। আদেশ অমান্য করছেন সেনাবাহিনীর তরুন অফিসার। অসহায়ভাবে বলছেন – “স্যর, হাউ কুড আই শুট আ কিস?” সারা পৃথিবীকে মুক্ত করার স্বপ্ন দুচোখে নিয়ে বলিভিয়ার জঙ্গলে শহীদ হয়ে যাচ্ছেন ডঃ আর্নেস্তো চে গেভারা, ভিয়েতনামে রোগা রোগা খর্বকায় সব ভিয়েৎকং গেরিলাদের হাতে মার খেয়ে ল্যাজ তুলে পালাচ্ছে প্রবল প্রতাপান্বিত মার্কিন সেনাবাহিনী। পাশেই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে লাল চিন, খোদ আমেরিকার বুকেই বিশাল বিশাল যুদ্ধবিরোধী মিছিল বেরোচ্ছে রোজ। বুকে প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে রাস্তা হাঁটছেন মায়েরা। প্ল্যাকার্ডে লেখা – ‘হাজার হাজার মাইল দুরে এশিয়ার ওই গরিব দেশটার মানুষগুলোর সঙ্গে আমাদের কোন শত্রুতা নেই। সো ব্রিং আওয়ার সনস ব্যাক।’ মায়েদের পাশে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে হাঁটছেন জাঁ লুক গোদার, জন লেনন। গাইছেন – “গিভ পিস আ চান্স।” আর ঠিক তখনই এখানে, এই বাংলায় বিদ্রোহের আগুনে আগুনে পুড়ে যাচ্ছে নকশালবাড়ি। আর সেই আগুন মাড়িয়ে ফিনিক্স পাখির মতো উঠে আসছেন তরাইয়ের সেই শীর্ণ, খর্বকায় মানুষটি। চির হাঁফানির রুগী, বগলে অক্সিজেন সিলিন্ডার, মাইনাস পাওয়ারের চশমা। চশমার আড়ালে উজ্জ্বল একজোড়া চোখ। তার চেয়েও উজ্জ্বল মুখের হাসিটা। সঙ্গে যোগ্য সহযোদ্ধা, কমরেড, আগুনপাখি সেই সম্পাদক। হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা জুটি। সেই জাদু বাঁশির সুরে পাগল হয়ে রাস্তায় বেড়িয়ে এসেছিল হাজার হাজার পাড়ার ছেলে। ওরাই তো প্রথম বলেছিলেন – যুদ্ধে শুধু সাধারণ সৈনিকরা প্রান দেবে সে তো বুর্জোয়া যুদ্ধের নিয়ম। সর্বহারার যুদ্ধে জেনারেলদেরও প্রাণ দিতে হতে পারে।” অক্ষরে অক্ষরে সে কথা রেখেছেন দুজন। যুদ্ধের প্রথম সারিতে দাঁড়িয়ে প্রাণ দিয়েছেন হাসতে হাসতে। ভারতে কম্যুনিস্ট আন্দোলনে ওরাই প্রথম (এবং শেষ) যাদের সরল সোজা কথাবার্তাগুলো বুঝতে পেরেছিল সাধারণ পাড়ার ছেলেরা। গলা টসকে টসকে কোন কঠিন, জটিল তত্ত্বের গুলিয়ে দেয়া কচকচি নয়। নয় অহেতুক চয়ন করা বাক্যবন্ধের জাগলারি। স্পষ্ট কথাটা স্পষ্ট করে বলা। আর তাতেই কেঁপে গিয়েছিল কলকাতা। বাকিটা ইতিহাস!

আরও পড়ুন:  সাগর আই লাভ ইউ‌ (পর্ব ২৬)

এতগুলো বছর কেটে গেছে তারপর। নকশালবাড়ির পঞ্চাশ বছরে সেটা আজও অমলিন এই অধম প্রতিবেদকের মতো আরও অনেক, অনেক পাতি সাধারণ পাড়ার ছেলের কাছে। এখনও মাঝে মাঝে রাতে ঘুম ভেঙে বিছানায় উঠে বসি। কানে ঠক ঠক করে পেরেক ঠোকে রাণাদার কথাগুলো – “… এরকম একটা সয়েলফুল রেভল্যুশনারি মুভমেন্ট এরকমভাবে …।” রাণাদার মতোই সেই কবে বেকার, বেমতলব বাতিল হয়ে যাওয়া পাড়ার সেইসব ফালতু ফুট সোলজার্সদের প্রশ্নও কিন্তু ওই একটাই। জবাবটা আছে কি আজকের কোন তাত্ত্বিক নেতার কলম, ডেস্কটপ, ল্যাপটপ অথবা পেনড্রাইভে?  

 

আসছে  ‘কেতজেল পাখি’ (দ্রোহজ-২) উপন্যাস, লেখক – সুপ্রিয় চৌধুরী

প্রাক কথন:

২০১৪ সালে শারদীয় দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল লেখকের জীবনের প্রথম উপন্যাস ‘দ্রোহজ’। প্রকাশ হওয়ামাত্র পাঠকমহলে বিপুল সাড়া ফেলে উপন্যাসটি। উপন্যাসের পটভূমি সত্তর দশক। আরও বিশদে বলতে গেলে এই শহর কলকাতা। সত্তরের কলকাতা। বাতাসে গুলি-বারুদের গন্ধ। অ্যাকশন এনকাউন্টার- অ্যামবুশ। অলিতেগলিতে রাতবিরেতে ভারী বুটের দাপাদাপি। রাস্তার মোড়ে উপুড় হয়ে পড়ে থাকা গুলিবিদ্ধ লাশ। পাড়া আর স্কুল কলেজের দেয়ালে দেয়ালে লেখা হচ্ছে –‘নকশালবাড়ি লাল সেলাম।!’, ‘বুর্জোয়া শিক্ষা বয়কট করুন!’ … আরও কত কত শ্লোগান। এরকম একটা অস্থির সময়ে সুদীপ্ত, উত্তর কোলকাতার স্কুলে ক্লাস টেনের ছাত্র, নিজেকে বাঁচাতে পারেনি সময়ের আঁচ থেকে অথবা বলা ভাল চায়নি। কৈশোর-যৌবনের ধর্ম অবাধ্যতা, বিদ্রোহ। এই ধর্ম মেনেই ঝাঁপ দিয়েছিল দ্রোহাগ্নির দাবানলে। সঙ্গে বাবা অসিত, বড়দা মৃন্ময়, স্কুল আর পাড়ার বন্ধুরা আর সবার ওপরে পূর্ণেন্দু। স্কুলে প্রিয়তম বন্ধু। দুর্দান্ত, দুর্দমনীয়, স্কুল টিমের একনম্বর গোলকিপার। পাড়ায়-স্কুলে বিখ্যাত পুনে নামে। সুদীপ্ত আর পুনে … হাতে হাত রেখে আগুনের ডানায় ভর দিয়ে উড়ে যাওয়া ঝোড়ো দু-তিনতে বছর … অবশেষে উত্তর শহরতলীর এক শেল্টার থেকে গ্রেফতার সুদীপ্ত। এর আগেই ধরা পড়ে পুনে। কিন্তু রাষ্ট্রের কারাগার মাস কয়েকের বেশি তার পেটে গিলে রাখতে পারেনি চিরস্বাধীন এই কিশোরটিকে। কয়েকজন সঙ্গীর সঙ্গে জেল ভেঙ্গে পালায় পুনে। অতঃপর বহু প্রান আর ক্ষয়ক্ষতির বিনিময়ে একদিন বিদায় সত্তর। বছর ছয়েক কারাবাসের পর মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফেরে সুদীপ্ত। কিন্তু কোথায় পুনে? কিছুদিন বাদে একটা চিঠি আসে সুদীপ্তর নামে। পালামৌর একটা আদিবাসী গ্রাম থেকে। জঙ্গলের রাস্তায় ফের নতুন করে পথ হাঁটছে পুনে। স্বপ্নভঙ্গের পর আবার স্বপ্ন দেখা শুরু নতুন করে।

উপন্যাসটি প্রকাশিত হবার পর বহু মানুষ ফোন করে, চিঠিতে, অন্তর্জালের মাধ্যমে বহু কথা বলেছিলেন, উৎসাহ দিয়েছিলেন, প্রশ্ন করেছিলেন লেখককে। প্রশ্ন মূলতঃ একটাই। শেষ অবধি কি হল পুনের? সেই আবেগমথিত প্রশ্নের উত্তর নিয়েই banglalive.com ওয়েব ম্যাগাজিনে আগামী মাস থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে চলেছে – ‘কেতজেল পাখি’ (দ্রোহজ-২) উপন্যাস। যাঁরা দ্রোহজ পড়েননি তাঁরা লেখাটিতে একটু চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন শুরুর আগে। না পড়লেও সমস্যা নেই। বুঝতে এতটুকু অসুবিধা হবে না।)

33 COMMENTS

  1. দ্রোহজ পড়ে কয়েকদিন খুব অস্থির লাগত। মনে হত বৃথা নষ্ট করছি একটা জীবন। এখনও মনে হয়। খুব আগ্রহ জাগছে দ্বিতীয় পর্ব পড়ার। এই লেখাটি অসাধারণ।

  2. ‘ফুট সোলজার্স’-রা, আমার কাছে যারা পাড়ার ছেলে আর তাত্ত্বিক লেখকদের চোখে – ‘লুম্পেন’। “সুকুমারদার। সুকুমার ভট্টাচার্য। ” – তারপর পড়লাম – ” লুম্পেন রাণাদা। কারেন্ট অ্যাড্রেস – ‘কেয়ার অফ বৌবাজার ফুটপাত’”। “মৃত্যুঞ্জয় সাহা”। — অসাধারন লাগলো। আপনার মত লেখন প্রতিভা যখন স্মৃতির পাতা উলটে সহ যোদ্ধা মানুষ গুলির কথা বলেন – তখন আমাদের মনে বারে বারে ফিরে আসে “দ্রোহজ” সুদীপ্ত আর পুনের কথা। “কেতজেল পাখী” র আত্মপ্রকাশ তার কেতজেল হবার প্রমাণ স্বরূপ। আপনার সার্বিক শুভ কামনা করি। আরও লিখুন এবং বাংলাকে আরও সমৃদ্ধ করুন, এই বাসনা মনে পোষণ করি।

  3. এমন একটি লেখার জন্য সত্যিই অনেক দিন অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু একবার পড়তে শুরু করলে আর অপেক্ষা করা যায় না। মনে হয় কখন সবটা পড়ব, জানবো। আমাদের সৌভাগ্য যে আমরা আপনার অভিজ্ঞতার কিছুটা হলেও অংশীদার হতে পারছি আপনার অপূর্ব সব লেখার মাধ্যমে। ধন্যবাদ।

  4. Darun….sottorer doshok manei presidency , jadavpur er bright cheleder kothai hoi….amra bhulei jai sukumar, rajar moto ‘ lumpen’ der….tader ke mone koranor jonyo osonkhya dhonyobad

  5. Faltu foot soldiers der ebhabe mone koranor jonyo osonkhya dhonybad….asole amra sabai kosto pai sei sab bright chele der jonyo jara presidency jadavpur e porte porte andolon e jhapiye porechilo….ei ranada, sukumarda der kotha amra to bhulei gechilam

  6. অনেক দিন অপেক্ষা করতে হয় পাঠককে এরকম একটি লেখা পড়ার জন্য। আর একবার পড়তে শুরু করলে অপেক্ষা করা যায় না বাকীটা পড়ার জন্য। কিন্তু আমাদের অপেক্ষা করতেই হবে এই ধারাবাহিক লেখার জন্য, যতদিন না বই হয়ে বের হচ্ছে। ধন্যবাদ সুপ্রিয় বাবু, আপনার অভিজ্ঞতার সঙ্গী করার জন্য। এককথায় অনবদ্য।

  7. Excellent narrative. A very persuasive ethnographic account, Babpida’s (as he is known to his close-ones) reminiscences shall help scholars to put the Naxalbari movement in a proper perspective. This is also a lively account of a phase of India’s revolutionary movement that rattled those who held onto the conventional conceptualizations of human existence, especially in a post-colonial society, like India. I compliment Bapida for the effort that he undertook in putting before us, in a very eloquent and persuasive manner, the stories of those unsung heroes who sustained the zeal for change in adverse circumstances. Keep it up Bapida.

  8. Rater Tara ra to acchei din er aloe… haeto parae ba rastae patho Sishu der majhe. Kabir Suman er kathae ” Je jekhane lore jae amader e lara”.
    Darun laglo . KETJEL PAKHI o nischai larai er kathai bolbe. Karon Supriya Chowdhury r lekha to Manus er Struggle for existence er kathai bale.

  9. Rater Tara ra to Diner aloteo thake. Haeto para e ba Rastae Patho Sishu der majhe. Kabir Suman er kathae ” Je jekhane lore jae amader e lara”. Darun laglo. KETJEL PAKHI o nischai larai er kathai bolbe. Karon Supriya Chowdhury r lekha to Manus er Struggle for existence er kathai bale.

  10. লেখকের দ্রোহজ পড়ে কোনরকম অতিরঞ্জন বা অতিকথনের অভিযোগের পরোয়া না করে তখনই তাঁকে যা জানিয়েছিলাম তা আজও বলছি। তাঁর ঐ উপন্যাস বিশ্বমানের ও তা পড়ে আমি হেমিংওয়ের রচনাশৈলীর স্বাদ পেয়েছি। একই প্রতিক্রিয়া হয়েছিল তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস জলভৈরব পড়ে। সামাজিক পরিস্থিতির ইতিহাস ও তৎকালীন সময়কে একটুও বিকৃত না করে বা ভুল ব্যাখ্যা না করে,তা সঠিকভাবে বিম্বিত করে ও সামাজক দায়বদ্ধতা থেকে একটুও বিচ্যুত না হয়ে অসাধারণ নান্দনিক ও মৌলিক রচনাশৈলীর প্রয়োগ ঘটিয়ে তিনি নিঃসন্দেহে বিশ্বসাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন। তাঁর এই ”পাড়ার ছেলের নকশাল বাড়ি” এমনই একটা দৃষ্টিকে ঝলসে দেওয়া ছোট্ট হীরকখণ্ড যা ভেতরটা দুলিয়ে দিল ভীষণভাবে। মুচড়ে দিল ভীষণভাবে। ফিনিক্স পাখির মতো জেগে ওঠা আবেগে বাকরূদ্ধ করে স্মরণ করিয়ে দিল সেই আবেগময় ঝড়ের দিনগুলো। সেই দুরন্ত সময়। যাতে কমবেশি জড়িয়ে গেছিল আমাদের অনেকেরই প্রথম যৌবন। কী অসামান্য ডিটেলিং! কী অনবদ্য ভিসুয়ালাইজেশন! ভিভিড বর্ণনা। এলিটিসিজমকে উড়িয়ে দিয়ে ননএলিট ফুট সোলজারদের প্রতি কী দারুণ মমত্ববোধ!তাদের প্রতি ও প্রকৃত ইতিহাসের প্রতি কী দারণ সৎ দায়বদ্ধতা! আবার প্রচণ্ড মুগ্ধ ও আপ্লুত হলাম আমি। ‘কেতজেল পাখি’ (দ্রোহজ-২) পড়ার জন্যে সাগ্রহে প্রতীক্ষা করছি।

  11. অনবদ্য লেখাটি। এক অসাধারণ ডকুমেন্টেশন।

  12. লেখকের দ্রোহজ ও জলভৈরব উপন্যাসদুটো পড়ে অতিরঞ্জনের অভিযোগের কোন পরোয়া না করে তাঁকে তখন আমার যা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলাম, তার পুনরাবৃত্তি করে বলছি আমার বিচারে তাঁর রচনা বিশ্বমানের ও আমি তাঁর লেখার মধ্যে হেমিংওয়ের রচনাশৈলীর স্বাদ পেয়েছি। কলেবরে অতিক্ষুদ্র হলেও ‘’পাড়ার ছেলের নকশালবাড়ি’’ এমনই একটা ক্ষুদ্র হীরক খণ্ড। কী অসামান্য ডিটেলিং! কী অনবদ্য ভিসুয়ালাইজেশন ও ভিভিড বর্ণনা চরিত্রগুলোর ঐ স্বল্প পরিসরে! এলিটিসিজমকে গুরুত্ব না দিয়ে লড়াকু ও ভয়ানকভাবে অত্যাচারিত ফুট সোলজারদের প্রতি কী গভীর সহানুভূতি! ইতিহাস ও সময়কে একটুও বিকৃত না করে কী সঠিক ভাবে বিম্বিত করা! আবার ভীষণ মুগ্ধ ও আবেগে আপ্লুত হলাম। পড়ার অপেক্ষায় থাকলাম দ্রোহজের দ্বিতীয় খণ্ডের।

  13. সুপ্রিয় চৌধুরীর দ্রোহজ ও জলভৈরব উপন্যাসদুটো পড়ে অতিরঞ্জনের অভিযোগের কোন পরোয়া না করে তাঁকে তখন আমার যা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলাম, তার পুনরাবৃত্তি করে বলছি আমার বিচারে তাঁর রচনা বিশ্বমানের ও আমি তাঁর লেখার মধ্যে হেমিংওয়ের রচনাশৈলীর স্বাদ পেয়েছি। কলেবরে অতিক্ষুদ্র হলেও ‘’পাড়ার ছেলের নকশালবাড়ি’’ এমনই একটা ক্ষুদ্র হীরক খণ্ড। কী অসামান্য ডিটেলিং! কী অনবদ্য ভিসুয়ালাইজেশন ও ভিভিড বর্ণনা চরিত্রগুলোর ঐ স্বল্প পরিসরে! এলিটিসিজমকে গুরুত্ব না দিয়ে লড়াকু ও ভয়ানকভাবে অত্যাচারিত ফুট সোলজারদের প্রতি কী গভীর সহানুভূতি! ইতিহাস ও সময়কে একটুও বিকৃত না করে কী সঠিক ভাবে বিম্বিত করা! আবার ভীষণ মুগ্ধ ও আবেগে আপ্লুত হলাম। পড়ার অপেক্ষায় থাকলাম দ্রোহজের দ্বিতীয় খণ্ডের।

  14. ভালো লাগল, তবে হয়তো একটু অন্যরকম কিছু আশা করেছিলাম। আবেগের জায়গা অনেকটাই ছিল, সেটা প্রকাশও পেয়েছে। কিন্তু এর আর একটা দিকও ছিল। এ সময়ে আমার মতো বেশ কিছু মানুষ ছিল ‘তরুণ প্রজন্মে’ ( আমি তখন স্কুলের শেষ গণ্ডি থেকে কলেজ জীবনের শুরুতে) , যারা এই ভাবনায় বেশ কিছুটা উদ্দীপিত হয়েছিল। কিন্তু তার মধ্যে যখন এসে গেল আন্দোলনের চেয়েও সাধারণ মানুষের উপর আক্রমণের ব্যাপার ( হ্যাঁ, সেটা আমার জানার মধ্যেই ঘটেছে) তখন অনেকেই সরে এসেছিল। তাদের বিষয়ে কিছু কথা থাকতে পারত। এই আন্দোলনের ভিতরে এমন শক্তি ঢুকে পডেছিল, আন্দোলন বানচাল করে দেওয়া যার মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল। তাই যখন মনে হল, এদের দিয়ে যা কাজ ছিল তা মিটে গেছে, তখন দাও শেষ করে। একদিন সকালে ১০টা নাগাদ বাডির খুব কাছ থেকে বারে বারে বন্দুকের গর্জন শুনলাম। পরে জানা গেল, আলিপুর সেন্ট্রাল জেল থেকে কিছু নকশাল বন্দী shot while trying to escape–এর তাৎপর্য সবাই জানে– রাস্তার উপর ছেডে দিয়ে পিছন থেকে গুলি। এ সময়ের অনেক তা বড ‘অগ্নিস্ফুলিঙ্গ’ পুলিশের কাছে মুচলেখা দিয়ে বিদেশে গিয়ে fat cat এ পরিণত হয়েছে। আমার এক স্কুলের সহপাঠী পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারায় বোধ হয় ১৭-১৮ বছর বয়সে। আরও কেউ কেউ এখন অন্ধ মোদীভক্ত ! এই ট্রাজেডি কেন ঘটল?

  15. KOLKATAR ITIHASHE NAKSHALBARI ANDOLONER CHOMOTKAR EK DOLIL-AKHYAN,SHEDINER KOTHIN NKOMOLE GORA SHOMAJMONER PORICHOY, BORNONA CHOMOTKAR SHWOTOSFURTOTAY LEKHOK LIKHECHHEN.LEKHOK KE OJOSRO SHDUBAD,OVINONDON JANAI.

  16. KOLKATAR ITIHASHER EKTI MULYOBAN DOLIL NIPUN GODYOSHOILE TE LEKHA HOYECHHE.LEKHOK KE OJOSRO OVINONDON JANAI.

  17. Sattarer dashak khoob choto thakle o barir lokera sakalei pray ei andolon e otoproto bhabe jariye jaoay smritir patay sei jhoro samay ekhon amalin.khoob kach theke dekhechi ei sab foot soldier der so called lumpender .jader katha Naxal barir 50 bachore seminar hall er thanda ghore alochito holona anya sav gana andoloner moto.ei lekhati sei sav so called lumpender katha jara kichu tattawa na bujheo sudhu sabai sama bhabe bachar swapne nisarthha bhabe pran diyechilo.anurodh roilo 2nd phase e rana da sukumarda mityun dar moto aro aro der katha lekha hok.manush januk kolkatay Naxal bari andolon sudhu presidency jadavpur medical clg er ujjawal chatro ra koreni ei pati sadharan chatrora o kandhe kandhe miliye lorechilo.naxalbari niye lekha bishesh porina karan ekta chapa dambanddha kashtta bodher theke .ei lekha sei kashtte kichuta prolep dilo.

  18. Gana Andolon jader hate satyikarer mausher janya manusher andolon hoye othe padapradiper niche thaka seisab joddhader katha parar cheler naxalbari lekhati te uthe ashar janya abhinanandan.kalam chalte thakuk.ketjel pakhi porar pratikhay roilam.

  19. কোনটা আমাকে একেবারে থাপ্পড় মেরে বসিয়ে দিয়েছে? লেখকের বাচনভঙ্গি ? সেটা নিয়ে তো সাহিত্য সমালোচকরা আছেনই , ঘটনাগুলো? এটাই তো peoples’ history . লু সুন্ কি এরকম লিখতেন ? কলকাতায় চেলাকাশ লেখা হলে কেমনটা হতো? এই লেখকরা কতটা পরস্পরের লেখা পড়েন জানিনা , সুপ্রিয়দা পড়েছেন। কিন্তু তাঁর লেখাটা কলকাতার পথের ইতিহাস। সুমনা সিনহার নাম টা বারে বারেই ঘুরে ফায়ার মাথায় আসছে ,আহা উনি যদি পড়তেন লেখা টা!!!! কাহিনীগুলোই এখানে নায়ক, কুশীলব , অনেকদিন পরে এক লেখক কে তারা পাকড়ে ফেলেছে, এমন এক জনকে যে নিজেই একটা বিষয়, সে ও তাদেরই এক কাতারের এক একটা ভূত [অর্থাৎ সেই প্রাক্তন যা আজ বিদ্যমান, আরো বেশি করেই প্রাসঙ্গিক, বাংলা ভাষায় এসে এই শব্দটি সংস্কৃত ব্যাকরণ থেকে মুক্ত হয়ে এসে একটা নতুন বর্তমান , একটা চলমান বাস্তব হয়ে আজ হাজার হাজার সম্ভাবনার জন্ম দে, তাই সে বাংলা ভাষায় “ভূত”] লেখা যেখানে নিজেকে লেখায়, সত্যি গুলোকে গল্প বানিয়ে, এই সেই বাস্তব , যা “পরা-” বা “অপরা”, কোনো ম্যাজিক না থেকেও অসাধারণ জাদু। সত্ত্বের জাদু। এখানে কাহিনী রা বাঙময়, তাদের কুর্নিশ

  20. E to Jibonta Dalil hoeche. Tor sahakormi ho a kotobar tukro tukro kore montra mugdher monto shunechi sediner kotha. Amon kothin bastab kotha eto sajbhabe bolarkhamata, sathik chitrayan aaj r karur pokhai sambhab noi. Ai mithya r ashikhar jagate khoob proyojan, aaj somaje khoob darkat amon sottyo bhasaner

  21. দ্রোহজ পড়েছি
    এবার কেতজেল পাখি পড়তে চাই

    এরকম আরো আরো রাজনৈতিক বৈপ্লবিক উপন্যাস পড়তে চাই

    সুপ্রিয় বাবুকে ধন্যবাদ

  22. কানে ঠক ঠক করে পেরেক ঠোকে রাণাদার কথাগুলো – “… এরকম একটা সয়েলফুল রেভল্যুশনারি মুভমেন্ট এরকমভাবে …।”…..
    জবাবটা আছে কি আজকের কোন তাত্ত্বিক নেতার কলম, ডেস্কটপ, ল্যাপটপ অথবা পেনড্রাইভে?
    কে দেবে জবাব?
    সুকুমারদা, রাণাদা, মিত্যুনদাকে বোঝা এত সহজ নয়। বন্দুকের সামনে বুক রাখা অত সহজ নয়। এই ইতরের দেশে…. ছ্যাঃ। চালিয়ে যান দ্রোহজ। আমরা আছি। পালটে আমরা দেবই।

  23. During a revolution, millions and tens of millions of people learn in a week more than they do in a year of ordinary, somnolent life. For at the time of a sharp turn in the life of an entire people it becomes particularly clear what aims the various classes of the people are pursuing, what strength they possess, and what methods they use.
    কথাগুলো লেনিনের।
    ঐ যে সার্প টার্ন, ঐ যে কনডেন্সড শিক্ষার অভিঘাত, ওটাই মার্কসবাদী তথা বিপ্লবী চেতনা‍। ওর এলিট সাবল্টার্ন নেই‌। ওখানে প্রেসি যাদবপুর আর এন্টালি পামার বাজার মিলেমিশে যায় আজো‌। আজো হাসনাবাদে ইছামতির পাড়ে নামমাত্র অসুধের দোকানী মিলনদা ও তার মত কত ফুট সোলজার আজো নকশাল। ওর তো নাকি আজ বেঁচে থাকার কথা ই না‌। বুলেটটা তো একেবারে কানঘেসেই বেরিয়ে গেছিল।
    আজো কিন্তু সে বা তারা যে কোন ব্র‍্যন্ডের নকশাল দের রেডী শেল্টার। এদের কথা কি লিখে শেষ করা যাবে? ফুট সোলজারস লাল সালাম!

  24. দ্রোহজ পড়ার পরে একটা অদ্ভুত অনুভূতি আমাকে অনেকক্ষণ গ্রাস করেছিল। লেখককে দ্বিতীয় পর্বটির জন্য অনেকবার অনুরোধ করেছিলাম। …পড়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় রইলাম। আর এই লেখাটির আরো কলেবরবৃদ্ধির দাবি রইল। সত্তরের দশকের ‘ফুটসোলজারস্’দের সম্পর্কে আরো আরো জানতে চাই।

  25. আহা সুপ্রিয়দা এমন লেখা তোমার পক্ষেই সম্ভব। এমন ডিটেলিং অসামান্য!

  26. সুপ্রিয় এমনই। সুপ্রিয় না দ্রোহজর সুদীপ্ত? বরাবর এমনই সোজাসাপটা। অকপট। অকুতভয়। সামনাসামনি কথা বললেও লাগাম ছাড়া।
    দ্রোহজ পড়ে যেমন মুগ্ধ হয়েছিলাম, এবারও তেমনই হলাম। ছোট ছোট বাক্য। অসাধারণ ডিটেলিং। মানুষটাকে দেখে মনে হয় না, এমন অসাধারণ কলমের মালিক ও। দ্রোহজ আর জল ভৈরব পড়ে আমি ওঁর ফ্যান হয়ে গেছি। আবার কেতজলে গা শিউরে দেবে আশা রাখি। অপেক্ষায় থাকলাম সুপ্রিয়।

  27. খুব ভাল লাগল। উনি যে লুম্পেনদের কথা বলেছেন তাদের প্রতি ওনার শ্রদ্ধা স্পটই ফুটে উঠেছে। তবে, জাত লুম্পেনদের দুচারটে নমুনা দেওয়া উচিত ছিল।আমি ৭০-৭১ সালে সাউথ সিটি কলেজে পড়তাম( হেরম্বচন্দ্র)। একদিন দুটো বোমা কলেজের দেওয়ালে ছুঁড়ে দিয়েই ৫-৬টা ছেলে, বিপ্লব লাল সেলাম, এই জাতীয় দু চারটে অস্পষ্ট শ্লোগান দিতে দিতে বীর বিপ্লবীরা তীরবেগে পালাল।
    প্রশ্ন, এদেরকে লেখক লুম্পেন বলবেন? না আদর্শববাদী? লেখক যেসব লুম্পেনদের কথা বলেছেন তারা ছাড়া আসল, লুম্পেন্দের উদাহরন কয়েকটা থাকলে ভাল হত। তাদের কিছু উদাহরণ পেলে ভাল লাগত।
    যাই হোক, খুব ভাল লাগল। যারা ভিন্নমত কিম্বা বিরুদ্ধমত ( আমার মতো), অনবদ্য লিখন শৈলীর গুনে গতিশীল এই লেখাটি পড়ে তাদেরও আমারই মতো ভালো লাগবে আশা করি।

  28. i like supriyada’s narration each time i read.this write up is a bit different in form but the touch is very much there.the world does not know how unknown persons silently contributed to all its changes.this write up focuses on them and exposes hypocrites at the same time.and above all,the leader,the piper sacrificed his own life along with his soldiers.a great admirer of rabindranath,he recited ” birer e roktosrot/matar e asrudhara”
    when a minister came to tease him.keep it up,supriyada.anjan chakraborty

  29. a different form,but superb as usual.the focus is on the neglected heroes tirelessly striving to change the world.the pseudo revolutionary is also exposed.and above all,the general,though erred,laid down his life along
    with petty soldiers.an admirer of tagore,he recited”birer e roktosrot,matar e asrudhara” when teased by a minister continuing still.thanks supriyoda for a comprehensive presentation.

  30. BAPI…ASADHRAN…EI MANUSGOLOR KOTHA KEU SEBHABE BALINI….TUI TULE ANLI.
    EI ROKOM BAHU CHELE AJO ACHE JARA SAMAYER DAK KE PHERATE PARINI.
    TADER KOTHA AAJ UR SE BHABE KEU BHABE NA…TUI LEKH TADER KOTHA…EI SIKRITA TADER
    PRAPYA…BHUL–THIKER ANEK KECHAL TO HOLO….SAJAL DA.

এমন আরো নিবন্ধ