মহামূর্খ কালিদাসই কবিবর হয়ে আষাঢ়স্য প্রথম দিবসে লিখেছিলেন মেঘদূতম !

মহামূর্খ কালিদাসই কবিবর হয়ে আষাঢ়স্য প্রথম দিবসে লিখেছিলেন মেঘদূতম !

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

আষাঢ়স্য প্রথম দিবসে অন্য কাউকে নিয়ে লেখা নৈব নৈব চ | বলতেই হবে মহাকবি কালিদাসের কথা | ফরমান এসেছিল আগেই | তাই আজ ভারতের শেক্সপিয়ারকে স্মরণ | কারণ এই দিনেই নাকি তিনি শুরু করেছিলেন মেঘদূতম রচনা |

এটা কিন্তু বাঙালিরা ভাবতে বেশি ভালবাসে | তাদের রোম্যান্টিসিজম পরিপুষ্ট হয় | কালিদাসের জন্মকাল নিয়েই সংশয় | তো কবে তিনি মেঘদূতম রচনা শুরু করেছিলেন

ছোটবেলায় আমরা সবাই শুনেছি মূর্খ কালিদাসের কথা | তারপর সে কী করে দেবী সরস্বতীর আশীর্বাদে বিক্রমাদিত্যের রাজসভায় হয়ে উঠলেন অন্যতম রত্ন | কী করে রাজকন্যার বরমাল্য এসে পড়ে তাঁর গলে | বড় হয়ে পড়লাম হায় রে কবে কেটে গেছে কালিদাসের কাল‚ পণ্ডিতেরা বিবাদ করে লয়ে তারিখ সাল

কালিদাসকে বলা হয় সরস্বতীর আশিসধন্য | অথচ তাঁর নামে দেখুন দেবী কালিকার উপস্থিতি | সেইসঙ্গে প্রবলভাবে বঙ্গজ স্পর্শ | যদিও প্রামাণ্য তথ্য বলছে তিনি কলিঙ্গ সম্পর্কিত হলেও হতে পারেন | বঙ্গ সংযোগ প্রতিভাত হয়নি | আর যে স্থান অবিচ্ছেদ্য ভাবে জড়িয়ে আছে তাঁর সঙ্গে‚ তা হল প্রাচীন উজ্জয়িনী |

সেইসঙ্গে গবেষকদের আর এক সংযোজন হল কাশ্মীর | ঊনবিংশ শতাব্দীর কাশ্মীরি পণ্ডিত লক্ষ্মী ধর কাল্লা তো কালিদাসকে কাশ্মীরের ভূমিপুত্র ছাড়া অন্য কিছু মানতেই নারাজ | তাঁর দাবি হল‚ জন্মভূমি কাশ্মীর থেকে ক্রমশ দক্ষিণে অগ্রসর হয়েছিলেন কবিবর |

কুমারসম্ভব কাব্যে যে বিবিধ বর্ণনা আছে‚ যেমন জাফরান‚ দেবদারু গাছ‚ কস্তুরী মৃগ‚ এসব সহজলভ্য ছিল ভূস্বর্গেই | কলিঙ্গ বা উজ্জয়িনীতে নয় | কল্লার মতে‚ কালিদাসের অভিজ্ঞান শকুন্তলম-ও কাশ্মীরের শৈব দর্শন দ্বারা প্রভাবিত |

স্থানের পরে এ বার তাঁর কাল | নৃপতি বিক্রমাদিত্যর রাজসভা না হলে কী করে নবরত্ন হবে ?এখন এই বিক্রমাদিত্য কে ? প্রথমেই চলে আসে গুপ্ত বংশের দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের কথা | তিনি এই উপাধির আড়ালে উজ্জ্বলতম শাসক | শাসন করেছিলেন ৩৮০-৪১৫ খ্রিস্টাব্দ |

আর এক বিক্রমাদিত্য ছিলেন যশোধর্মণ | মালব্যের রাজা | গুপ্ত বংশের একটি শাখা এখানে বিকশিত হয়েছিল ষষ্ঠ খ্রিষ্টাব্দে | তবে অধিকাংশ গবেষক মনে করেন দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের সভাসদই ছিলেন কবি কালিদাস | যাঁর খ্যাতি দীপ্যমান ছিল পরবর্তীকালে কুমারগুপ্ত ও স্কন্ধগুপ্তের শাসন অবধি | অর্থাৎ ভারতীয় ইতিহাসে স্বর্ণযুগ বলে পরিচিত গুপ্তযুগ সমুজ্জ্বল ছিল কালিদাসের দীপ্তিতে |

কালিদাসের নামোল্লেখ পাওয়া যায় এমন প্রাচীনতম নিদর্শন হল মান্দাসৌরের সূর্যমন্দির | আবার কর্ণাটকে হরিষেণের আইহোল প্রশস্তিতে রয়েছে কালিদাস ও ভারবির প্রসঙ্গ |

আবার অনেক ভারত বিশেষজ্ঞ ভারতীয় পণ্ডিত বলেন কালিদাস কোনও নির্দিষ্ট একজন কবি ছিলেন না | পরবর্তীকালে এটা হয়ে উঠেছিল একটি পদের নাম | সেই পদাসীন বহু কবি মিল্লিতভাবে সৃষ্টি করে গেছেন চির শাশ্বত সংস্কৃত সাহিত্য |

একা হোক‚ আর একাধিকই হোক‚ কালিদাসের সৃষ্টিতে এমন উপাদান ছিল যা কালোত্তীর্ণ হয়েছে | তাঁর বিরচিত তিনটি নাটক এখনও অবধি জানা যায় |

মালবিকাগ্নিমিত্রম‚ যেখানে রাজা অগ্নিমিত্র পাগল হয়েছিলেন দাসী মালবিকার প্রণয়ে | পরে জানা যায় মালবিকাও এক রাজতনয়া | এরপর বিখ্যাত দুষ্মন্ত-শকুন্তলা পর্ব নিয়ে অভিজ্ঞানশকুন্তলম | রাজা পুরুরবা ও অপ্সরা ঊর্বশীর প্রণয়কে উপজীব্য করে বিক্রমোর্বশীয়ম | বারবার তাঁর লেখার কেন্দ্রীয় চরিত্র হয়ে উঠেছে হিন্দু পুরাণ |

কালিদাস রচিত মহাকাব্য হল কুমারসম্ভব ও রঘুবংশম |  প্রথমটি হল কুমার বা কার্তিকেয় বা সুব্রহ্মণ্যম-এর জন্ম নিয়ে |  তার আগে বর্ণিত  হয়েছে পার্বতীর জন্ম-যৌবন ও শিবের সঙ্গে তাঁর প্রণয়-পরিণয় |  রঘুবংশম লেখা হয়েছে প্রাচীন ভারতের বিখ্যাত রঘু বংশের রাজাদের নিয়ে | সেইসঙ্গে এক ও অদ্বিতীয় মেঘদূতম |  বিরহী যক্ষ যেখানে মেঘের মাধ্যমে বার্তা পাঠাতে চান প্রেয়সীর কাছে |  এছাড়াও আরও কিছু কাব্য আছে যাঁর রচয়িতা মহাকবি কালিদাস | বেশিরভাগই রচিত মন্দাক্রান্তা ছন্দে |

তত্ত্বকথার পরে এ বার আসি প্রচলিত লোককথায় | যেখানে বলা হয়‚ মূর্খ কালিদাস ছিলেন এক সামান্য ব্যক্তি | এতই বোকা‚ গাছের যে ডালে বসেছিলেন সেই শাখাটিই কাটছিলেন | মস্করা করার লক্ষ্যে তাঁকে পাঠানো হয় উজ্জয়িনীর রাজসভায় | রাজকন্যা বিদ্যাবতী ( বা বিদ্যাধরী )-র স্বয়ম্বর সভায় | কন্যার শর্ত ছিল যে তাঁর প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে তার গলায় বরমাল্য পরাবেন |

দেশবিদেশের রাজন্যরা ব্যর্থ হয়েছিলেন | কালিদাসের পালা যখন এল তখন তাঁর দিকে একটি আঙুল তুলেছিলেন রাজকুমারি | উত্তরে দুটি আঙুল তোলেন কালিদাস | অভিভূত বিদ্যাবতী তাঁকেই স্বামী মনোনীত করেন | কারণ তাঁর প্রশ্নের উত্তর ছিল দুই | আর কালিদাস ভেবেছিলেন রাজকুমারী তাঁর এক চোখ কানা করে দেবেন বলছেন | তাই জবাব দিয়েছিলেন তিনি রাজকুমারির দুই চোখ গেলে দেবেন |

বিয়ের পর স্বামীর মূর্খামি ধরা পড়ে যাওয়ায় মর্মাহত হয়ে পড়েন রাজকুমারি | তিনি তাঁর সঙ্গে প্রায় সম্পর্ক ছিন্ন করেন | মনের দুঃখে আত্মঘাতী হতে বনে যান কালিদাস | সেখানেই দর্শন দিয়ে তাঁকে আশীর্বাদ করেন দেবী সরস্বতী | বলেন‚ তিনি তাঁর জিহ্বায় অধিষ্ঠান করবেন | এরপরই মূর্খ কালিদাস হয়ে ওঠেন মহাকবি | বিদ্যাবতী তাঁকে স্বামীরূপে বরণ করে নেন যোগ্য সমাদরে | আবার প্রচলিত এই গল্পকথাই বলে‚ স্বর্ণলঙ্কা বা প্রাচীন সিলনে গিয়েছিলেন কালিদাস | রাজা কুমারদাসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে | সেখানে তাঁকে হত্যা করেছিলেন কয়েকজন ঈর্ষাপরায়ণ ষড়যন্ত্রী |

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

Leave a Reply

pandit ravishankar

বিশ্বজন মোহিছে

রবিশঙ্কর আজীবন ভারতীয় মার্গসঙ্গীতের প্রতি থেকেছেন শ্রদ্ধাশীল। আর বারে বারে পাশ্চাত্যের উপযোগী করে তাকে পরিবেশন করেছেন। আবার জাপানি সঙ্গীতের সঙ্গে তাকে মিলিয়েও, দুই দেশের বাদ্যযন্ত্রের সম্মিলিত ব্যবহার করে নিরীক্ষা করেছেন। সারাক্ষণ, সব শুচিবায়ু ভেঙে, তিনি মেলানোর, মেশানোর, চেষ্টার, কৌতূহলের রাজ্যের বাসিন্দা হতে চেয়েছেন। এই প্রাণশক্তি আর প্রতিভার মিশ্রণেই, তিনি বিদেশের কাছে ভারতীয় মার্গসঙ্গীতের মুখ। আর ভারতের কাছে, পাশ্চাত্যের জৌলুসযুক্ত তারকা।