আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলেন পপ ক্যুইন স্বপ্না চৌধুরী!?

সারা শরীর কালো সালোয়ার-পাটিয়ালা-ওড়নায় মোড়া। হাতে কাচের চুড়ি। হাল্কা মেক-আপ। কানে বড়ো বড়ো ইয়ারিং। কোথাও অশ্লীলতা নেই। কোনও ভালগারিটি নেই। এই অতি সাধারণ এই সাজে তিনি যখন দুলে ওঠেন নাচের ছন্দে, পুরুষ দর্শকদের সামনে, যেন এফোঁড়-ওফোঁড় হয়ে যায় তাদের হৃদয়। শরীরের বাঙ্ময় লাস্যে আক্ষরিক অর্থেই বধ তাঁরা। মাচার এই মেয়েই স্বপ্না চৌধুরী। হরিয়ানার পপ ক্যুইন। লেটেস্ট সেনসেশন। শুধু নাচের তালে যিনি আঠেরো থেকে আশিকে আশ্লেষে গলাতে পারেন লহমায়। পয়সা-কড়ি? অভাব নেই। পার পারফর্মমেন্স পিছু তাঁর মূল্য তিন-চার লাখ টাকা। যশ-খ্যাতি? ইনস্টাগ্রামে তাঁকে ফলো করেন ১.৬ মিলিয়ন। ২০১৮-য় তিনি গুগল সার্চে তিন নম্বরে ছিলেন। চলতি লোকসভা নির্বাচনে তাঁকে দলের প্রচারে পেতে চেয়েছিল বিজেপি-কংগ্রেসের মতো রাজনৈতিক দল। বিতর্ক? তার তো বান্ডিল তিনি। এতোর পরেও স্বপ্না আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলেন! কেন?

কারণ, নাচের দুনিয়ায় তিনি বিপ্লব এনেছিলেন বলে। একবার এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিলেন, অনেকেই তো নাচতে পারেন। কিন্তু আপনার মতো তাঁদের নাচে শরীর তো কথা বলে না! কোথা থেকে শিখলেন এই হৃদয় তোলপাড় করা নাচ? সেদিন সামান্য বাঁকা হাসি হেসেছিলেন নর্তকী। তারপর মৃদু স্বরে বলেছিলেন, ‘হরিয়ানার একটি ট্র্যাডিশনাল নাচ আছে, খোডিয়া। ওটা বন্ধ দরজার পেছনে মেয়েরা শেখেন বিয়ের সময় বা আগে। বিয়ের পর স্বামীর শরীর জাগানোর জন্য। ছোটোবেলায় এক আত্মীয়ের বিয়েতে গিয়ে সেই নাচ আমি দেখেছিলাম। আমায় দেখতে দেওয়া হয়েছিল কারণ সবাই মনে করেছিলেন আমি ওই স্টেপ তুলতে পারব না। কিন্তু কেউ বোঝেননি, নাচ নিয়ে আমি জন্মেছি। বাড়ি এসে সবার আড়ালে সেই নাচ প্র্যাকটিস করেছি। বন্ধ দরজার পেছনের সেই নাচকেই আমি সামনে এনেছি। এটাই হয়তো আমার বিশেষত্ব।’

প্যাশন যে পরে পেশা হবে একেবারেই কিন্তু জানতেন না স্বপ্না। স্টেজ পারফর্মার হতে বাধ্য হলেন যখন ২০০৮-এ মাত্র ১৮ বছর বয়সে পিতৃহীন হলেন। অভাব কাকে বলে? হাড়ে হাড়ে টের পেলেন স্বপ্না। একবেলাই খাওয়া জোটে না মা-মেয়ের। পরের দিনটা কাটবে তো? এই আতঙ্ক তাড়া করে ফিরত সবসময়। পেটের তাগিদে নাচকেই পেশা হিসেবে বাছতে বাধ্য হলেন তাই। ‘প্রথম প্থম ঘন্টার পর ঘন্টা নেচে মাত্র তিন হাজার টাকা পেতাম। কিন্তু ওই খোডিয়া স্টেপই  আমায় দ্রুত জনপ্রিয়তা পেতে সাহায্য করেছিল।’ এভাবেই পারফর্ম করতে করতে স্বপ্নার ভিডিও বেরোলো ‘তেরি আঁখা কা ও কাজল।’ টি সিরিজের মতো কোনও নামি কোম্পানি সেই ভিডিও প্রকাশ করেনি। তারপরেও স্বপ্নার ওই নাচের ভিউয়ার্স  ইউটিউবে ৩৮০ মিলিয়ন! স্বপ্না সুপারহিট।

২০১৬-য় তিনি মঞ্চে আনেন হরিয়ানার আরেকটি ট্র্যাডিশনাল নাচ ’৩৬ জাঠ রাগিনী’। এই নাচ যদিও বন্ধ দরজার পেছনের নাচ নয়। কিন্তু অত্যধিক শরীরী ইশারা থাকায় স্বপ্নাকে সোশ্যাল মিডিয়া এবার ট্রোল করতে শুরু করল। সবাই তাঁকে তকমা দিল ‘বারবধূ’র। জাঠ সমাজ প্রায় একঘরে করে ফেলল তাঁকে। বিপক্ষ তকমা সেঁটে দিল ‘দু’টাকার নাচনেওয়ালি’র। কুতসিৎ অঙ্গভঙ্গি করা ফেক ভিডিওয় ছেয়ে গেল স্বপ্নার সাইট। তাঁর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনে কোর্টে নালিশ ঠুকল জাঠ সমাজ। লজ্জায়, অপমানে, আত্মগ্লানিতে বিষ খেলেন স্বপ্না। কিন্তু মায়ের চোখ এড়াতে পারেননি। ফলে, সে যাত্রায় বেঁচে গেলেন। এরপরেই হাইকোর্ট মামলা থেকে রেহাই দিল তাঁকে। স্বপ্না ফের অনন্যা। ২০১৭-এ তাঁর ডাক পড়ল ‘বিগ বস’-এর ঘরে। এরপর আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি স্বপ্নাকে। কিন্তু আজও ‘গো-শালা’ বা মাচায় পারফর্ম করলে এক পয়সাও নেন না তিনি। এই মাচাই যে তাঁর সফলতার নেপথ্য কাহিনি।         

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here