গোপনে বিয়ের পর হোটেলে হোটেলে পালিয়ে বেড়াতেন বিনোদ-বিন্দিয়া!?

vinod mehra bindiya goswami

বিন্দিয়া গোস্বামী। সাতের দশকের বহু পুরুষ দর্শকদের স্বপনচারিণী। তাঁদের চোখে, কাচপোকার টিপের মতোই নাকি ঝিলমিলে বিন্দিয়া। ভালো করে মেয়েবেলা কাটার আগেই এক পার্টিতে চোখ টানেন হেমা মালিনীর মায়ের। তখনকার দিনে সুন্দরী দেখলেই তাঁকে মায়ানগরীতে নিয়ে আসার চেষ্টা করত ইন্ডাস্ট্রি। কোমর ছাপানো চুল, দীঘল চোখ, মুক্তো হাসির মায়া নিয়ে এই মোহিনী যখন পর্দায় এসেছিলেন তখন তিনি মাত্র ১৪! ভালো করে দুনিয়া চেনার আগেই হৃষিকেশ মুখোপাধ্যায়ের ‘গোলমাল’-এ অমল পালেকরের সঙ্গে অভিনয় করে রাতারাতি স্টার বিন্দিয়া গোস্বামী। বাসু চ্যাটার্জির ‘খাট্টামিঠা’ আরও জনপ্রিয় করল তাঁকে। বিন্দিয়ার তখন ধুলোমুঠি সোনা।

নায়িকার কেরিয়ার যখন তুঙ্গে তখন বলিউডে পা রাখলেন ভদ্র-রোম্যান্টিক নায়ক বিনোদ মেহেরা। দু’জনে জুটি বেঁধে কাজ করলেন ‘খুদ্দার’ ছবিতে। বিন্দিয়া ততদিনে বলিপাড়ার স্টাইলিশ নায়িকা। চার বছর ধরে দাপিয়ে রাজত্ব করছেন। বিনোদ-বিন্দিয়া জুটি চোখের রিলিফ দিল দর্শকদের। ফলে, পরিচালকরা এঁদের জুটি করে ছবি বানাতে লাগলেন একের পর এক।

গোল বাঁধল এখানেই। পর্দায় প্রেম করতে করতে সত্যি সত্যি বিবাহিত বিনোদের প্রেমে পড়লেন বিন্দিয়া। বিন্দিয়াকে ‘না’ বলতে পারলেন না বিনোদও। বিনোদ-ঘরনি মীনা ব্রোকারকে লুকিয়ে-চুরিয়ে দেখা করতে লাগলেন তাঁরা। প্রায় ১৯৮০ পর্যন্ত দু’জনে লুকিয়ে রেখেছিলেন এই সম্পর্ক। যখন টের পেল টিনসেল টাউন ততদিনে লুকিয়ে বিয়েটাও সেরে ফেলেছেন বিনোদ-বিন্দিয়া! নায়িকা তখন মাত্র আঠেরো!

প্রেম প্রকাশ্যে আসতেই ঝড় উঠল দুই পরিবারে। বিনোদের শালাবাবুরা রীতিমতো হুমকি দিলেন বিন্দিয়াকে, ‘হয় বিনোদকে ছাড়। নয় নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ কর।’ বিন্দিয়ার বাড়িও খুশি নয় এই বিয়েতে। তাঁরাও বেপথু মেয়েকে পথে ফেরানোর চেষ্টায় নামলেন কোমর বেঁধে। দুই পক্ষের সাঁড়াশি আক্রমণে প্রাণ যায় যায় দশা দম্পতির। সম্পর্ক বাঁচাতে, বিয়ে বাঁচাতে এবং সর্বোপরি নিজেদের বাঁচাতে এক হোটেল থেকে আরেক হোটেলে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তাঁরা। যেন মানুষ খুনের থেকেও জঘন্য পাপ করে ফেলেছেন!

কিন্তু কতদিন এভাবে পালিয়ে পালিয়ে বেড়ানো সম্ভব? সারাক্ষণ ভয়ে ভয়ে থাকতে গিয়ে অভিনয়ে মন বসাতে পারছেন না দু’জনের একজনও। বিন্দিয়ার জনপ্রিয়তা অটুট থাকলেও কেচ্ছা-কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে বলি আকাশে বিনোদ তখন প্রায় নিভু নিভু তারা। বিনোদ-বিন্দিয়া বুঝলেন, জীবন ভীষণ নির্মম। বাস্তব বড়ো রূঢ়। সেখানে আবেগের কোনও জায়গা নেই। এভাবে চললে হারিয়ে যাবেন দু’জনেই। বাধ্য হয়ে প্রেম গিলে, ব্যক্তিগত অনুভূতির গলা টিপে মেরে যে, যাঁর ঘরে ফিরলেন চুপচাপ। ঝড় থামল। বিন্দিয়া আবার কাচপোকার টিপের মতো চমকালেন। শুধু ব্যর্থ ভালোবাসা গোপন ক্ষতের মতো ছাপ রেখে গেল বিনোদ-বিন্দিয়ার জীবনে।                

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here