এই খাবারগুলি কখনওই মাইক্রোওয়েভে গরম করা উচিত নয়

4773

দৈনন্দিন জীবনে মাইক্রোআভেন খুবই গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। রোজকার ব্যস্ততার মাঝে চটজলদী সমাধান হল মাইক্রোআভেন। কিন্ত, কেউ যদি মনে করে থাকেন যে মাইক্রোওয়েভ মানেই যেকোনও খাবার গরম করে নেওয়া যাবে, তাহলে তা সম্পুর্ণ ভুল। অনেকেই হয়তো জানেন না, যে সব খাবার মাইক্রোওয়েভে গরম করা যায় না। এতে একদিকে যেমন খাবারের খাদ্যগুণ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তেমনই খাবারটিও নষ্ট হয়ে যেতে পারে। জেনে নিন কোন কোন খাবার মাইক্রোওয়েভে গরম করবেন না।

১) ডিম – ডিমের মধ্যে অনেক বেশি পরিমাণে প্রোটিন এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্টস থাকে। তবে রান্নার পরে তা পুনরায় গরম করলে ডিম থেকে টক্সিন তৈরি হবে যা থেকে বদহজমের সম্ভাবনা বাড়ার আশঙ্কা থাকে।

২) মাতৃদুগ্ধ বা অন্যান্য বেবি ফুড- মাতৃদুগ্ধ পাম্প করে বের করে নেওয়ার পর তা কখনওই মাইক্রোওভেনে গরম করা উচিত নয়। দরকার পড়লে মাইক্রোআভেনে জল গরম করে নিয়ে সেই জল একটি পাত্রে রেখে তাতে দুধের বোতল বসিয়ে নিয়ে দুধ গরম করে নেওয়া ভাল। সরাসরি মাইক্রোআভেনে গরম করা হলে মাতৃদুগ্ধের পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়।

৩) দুগ্ধজাত দ্রব্য- দুধ থেকে তৈরি যেকোনও খাবারই মাইক্রোআভেনে গরম না করাই ভাল। সেক্ষেত্রে তা নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়।

৪) মাশরুম- বলা হয় মাশরুম রান্না করে তা সঙ্গে সঙ্গেই খেয়ে নেওয়া ভাল। মাশরুম যত বেশি গরম করা হবে ততই তার পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যাবে। সেজন্য মাশরুম মাইক্রোআভেনে গরম না করাই ভাল।

৫) ভাত- ব্রিটেনের ফুড স্ট্যান্ডার্ড এজেন্সির মতে, রান্না না করার আগে চালের মধ্যে কিছু ব্যাকটেরিয়ার সঞ্চার ঘটে। রান্না হওয়ার পর মাইক্রোআভেনে ভাত গরম করলে ওই ব্যাকটেরিয়াগুলি আরও শক্তি সঞ্চয় করে। যা ফুড পয়েজনিং-এর কারণ হতে পারে।

৬) মাংস- অনেকেই সময় বাঁচানোর জন্য একবারেই অনেকটা মাংস রান্না করে নিয়ে পরপর কয়েকদিন ধরে খেয়ে থাকেন। কিন্তু জেনে রাখা ভাল যে, মাংস কখনও গরম করে খাওয়া উচিত নয়। কারণ মাংসে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে। রান্নার পরে পুনরায় তা গরম করলে প্রোটিনের কম্পোজিশন বদলে গিয়ে তা থেকে হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৭) আলু- আলু রান্না বা সেদ্ধ হওয়ার পর ঠাণ্ডা হওয়ার সময় তাতে একধরনের ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়। এবং পুনরায় তা গরম করলে এই ব্যাক্টেরিয়ার সংখ্যাগুলি বেড়ে গিয়ে ফুড পয়জনিং হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে।

৮) চা- চা ঠান্ডা হয়ে গেলে পুনরায় গরম করা উচিত নয়। কারণ চায়ের মধ্যে থাকে ট্যানিক অ্যাসিড। ফলে এটি লিভারের ক্ষতি করতে পারে।

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.