যা আছে মহা ভারতে তাই আছে মহাভারতে | পাণ্ডবদের মহাপ্রস্থানের পরেও শেষ হয়ে যায়নি এই মহাকাব্য | আজও তা বহমান | শুধু সংস্কৃতিতে নয় | বংশধারাতেও | জানেন কি ভারতে আজও আছেন পাণ্ডবদের বংশধর ? তাঁরা আজ ইসলামে ধর্মান্তরিত | পরিচয় মেয়ো মুসলিম বলে | কিন্তু এই গোষ্ঠী সগর্বে দাবি করে‚ তাঁরা পাণ্ডবদের উত্তরসুরী | 

Banglalive

কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পরে অভিমন্যুর ছেলে পরীক্ষিতের হাতে রাজ্যভার দিয়ে মহাপ্রস্থানে যান পঞ্চপাণ্ডব | শ্রীমদ্ভগবৎগীতা অনুযায়ী অনুযায়ী পাণ্ডবদের বংশতালিকা হল‚ অর্জুন-অভিমন্যু-পরীক্ষিৎ-জন্মেয়জয়-শতানীক-সহস্রানীক-অশ্বমেধজ-অসীমাকৃষ্ণ-নেমিচক্র-চিত্ররথ-সূচিরথ-বৃষ্ঠিমান-সুষেণ-সুনীত-নীচাক্ষু-সুখীনল-পরিপ্লব-সুন্যায়-মেধভি-নৃপাঞ্জয়-দুর্বা-নীমি-ক্ষেমক |

এর মধ্যে নেমিচক্রর শাসনে রাজধানী হস্তিনাপুর থেকে সরে গিয়েছিল কৌশাম্বীতে | কারণ প্রবল বন্যায় বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছিল হস্তিনাপুর | যাই হোক‚ পাণ্ডব বংশের উত্তরাধিকার স্বরূপ সর্বশেষ নাম হল ক্ষেমক | এরপর অন্য কোনও বংশের হাতে তাঁরা পরাজিত হন এবং বিস্মৃত হন |

আবার তাঁদের সম্বন্ধে শোনা গেল মধ্যযুগে | ভারতের দরজায় তখন পরাক্রমশালী বাবর | তাঁকে প্রবল বাধা দেন মেওয়াতি রাজা | উত্তর প্রদেশ‚ হরিয়ানা এবং রাজস্থান জুড়ে বিস্তৃত মেওয়াত অঞ্চল | বাবরের কাছে পরাজিত হন মেওয়াতি রাজা | তারপর থেকে ভারতীয় জনধারায় আসে নতুন শাখা | মেওয়াতি মুসলিম বা মেয়ো মুসলিম | ধর্মান্তকরণের পরে তাঁরা ইসলাম অনুযায়ী একেশ্বরবাদী | কিন্তু হিন্দু ধর্মের বহু রীতি পালন করেন | কারণ তাঁদের বিশ্বাস‚ তাঁরা মহাভারতের পাণ্ডব বংশজাত |

শ্রীরামচন্দ্র‚ কৃষ্ণ এবং পাণ্ডবদের বংশধর হিসেবে এঁরা দশেরা‚ হোলি ও দিওয়ালির মতো পার্বণ পালন করেন | ভারতে প্রায় ৪ লক্ষ মেওয়াতি মুসলিমের বাস | লোকশিল্পে অত্যন্ত দক্ষ এই সম্প্রদায় নিজেদের শিকড়ের কাহিনী বলে চলেন | ঐতিহ্যের প্রতি খুব যত্নশীল | মেয়ো মুসলিমদের বিয়েতে পালিত হয় হিন্দু ও মুসলিম দুই সম্প্রদায়ের রীতিনীতি | তাঁদের অনেকের নামের সঙ্গে আছে  সিং পদবী |

অনুমান করা হয় দ্বাদশ থেকে ষোড়শ শতকের মধ্যে তাঁরা ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়েছিলেন | আজ হিন্দু বা মুসলিম কোনও সম্প্রদায়েই তাঁদের গ্রহণযোগ্যতা নেই | হিন্দুরা তাঁদের মুসলিম বলে দূরে সরিয়ে রাখে | মুসলিমরা বলে‚ তাঁরা প্রকৃত মুসলিম নন | 

এঁরা ছাড়া জারিয়াল রাজপুত এবং ভারত-চিন সীমান্তে নিতি গ্রামের বাসিন্দারাও নিজেদের পাণ্ডবদের বংশধর বলে মনে করেন |  

আরও পড়ুন:  খেলনায় সর্পভ্রম ! ভাবা হল ভয়ঙ্কর বিষধর‚ দেখা গেল...

NO COMMENTS