কিশোরীর নিথর দেহে লেগে থাকা ডিএনএ অপরাধীকে ধরিয়ে দিল ৪৬ বছর পরে

1588

দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার এগারো বছর বয়সী লিন্ডা ওকোফি নিখোঁজ হয়েছিল ১৯৭৩ সালে। অনেক খোঁজ লাগিয়েও কোনও হদিশ পাওয়া যায়নি। একদিন আচমকাই তার দেহ ভেসে ওঠে ক্যালিফোর্নিয়ার সমুদ্রতটে। পুলিশ সূত্রে জানা যায় খুন করা হয়েছিল এগারো বছরের ওই মেয়েটিকে। লিন্ডার মৃতদেহে পাওয়া খুনির ডিএনএ-র নমুনা সংগ্রহ করে রেখেছিল গোয়েন্দা দফতর। কিন্তু খুনির কোনও সন্ধান দিতে পারেনি দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার পুলিশ। লিন্ডা যে অঞ্চলে খুন হয়েছিল, সেই নিউপোর্ট বিচ থানায় দীর্ঘদিন ধরে তার একটা ছবি টাঙানো ছিল। সেই ছবি দেখলেই গোয়েন্দাদের মনে পড়ে যেত অমীমাংসিত এই হত্যাকাণ্ড ।

লিন্ডা ওকোফি খুনের পরে কেটে গিয়েছে প্রায় পঁয়তাল্লিশ বছর । কিন্তু গত বুধবার দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার পুলিশ দাবি করেছে, কলোরাডো থেকে গ্রেফতার হয়েছে এক ব্যক্তি, যিনি ১৯৭৩ সালে রহস্যজনকভাবে মৃত লিন্ডা ওকোফির খুনের দায়ে অভিযুক্ত। কী করে পাওয়া গেল এমন সমাধান সূত্র ? গোয়েন্দা সূত্রে খবর, আমেরিকার বেশকিছু নাগরিক নিজেদের পুর্বপুরুষদের সম্পর্কে জানার জন্য সরকারের কাছে নিজেদের ডিএনএ নমুনা জমা দিয়েছেন। জমা পড়া ডিএনএ-এর নমুনার তালিকায় একজনের সঙ্গে লিন্ডা ওকোফির খুনির ডিএনএ-এর মিল পায় গোয়েন্দা দফতর। আর তার পরেই চার দশকেরও বেশি পুরনো এই খুনের মামলার নতুন করে তদন্ত শুরু করে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার পুলিশ।

গোয়েন্দা বিভাগের তরফে জানানো হয়েছে, বর্তমানে ডিএনএ-র নমুনার সাহায্যে এমন অনেক মামলার সমাধান সম্ভব যেগুলো সমাধানের আশা প্রায় থাকেই না । পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত ব্যক্তির নাম জেমস নিয়েল। বয়স ৭২। কলোরাডো স্প্রিংস থেকে গ্রেফতার করা হয় তাকে। জেমস যে বাড়িতে ভাড়া থাকত, তার মালিকের কথায়, তাকে দেখে তো ভাল লোক বলেই মনে হত। তিনি ভাবতেই পারছেন না যে জেমস এমন নৃশংস ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন বলে। তবে, এই ঘটনার বিষয়ে তার পরিবারের তরফ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.