বিনামূল্যে ‘অটো অ্যাম্বুলেন্স’ পরিষেবা নিয়ে দিল্লির রাস্তা চষে বেড়ান ৭৬-এর যুবক হরজিন্দর সিং

harjinder singh auto ambulance

হরজিন্দর সিং-এর অটোর পেছনে লেখা ‘পথ দুর্ঘটনায় আহতদের জন্য বিনামূল্যে অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা’, লাল রঙের বড় হাতের হরফে লেখা। এই বাক্যটিই তাঁর অটোকে অন্যগুলির থেকে আলাদা করে চিনিয়ে দিচ্ছে দিল্লির ব্যস্ত রাজপথে। ৭৬ বছরের এই প্রবীণ ছিলেন প্রাক্তন ট্রাফিক ওয়ার্ডেন। পরোপকারী উদার মানুষ। কিছুক্ষণ তার অটো এমনি ভাড়া খাটে। অটোর জ্বালানি খরচের জন্য কিছুক্ষণ যাত্রী তুলে পয়সা তোলেন। বাকি সময়ে তাঁর অটো দরকার মত পথ দুর্ঘটনায় আহতদের জরুরি পরিষেবা দেয়। এটিই শহরের একমাত্র ‘অটো অ্যাম্বুলেন্স’।

সাধারণ নিয়মিত অটোকে অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে ব্যবহার করেই সিং মহাশয় প্রায় একশ’ মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন। পথ দুর্ঘটনায় আহত হয়ে অনেকে রাস্তায় পড়ে থাকে। যানের অভাবে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া যায় না বলে অনেকেরই প্রাণ যায় অকালে। কিন্তু হরজিন্দর সিং এর অটোতে চড়িয়ে অনেককেই নিয়ে যাওয়া গেছে হাসপাতালে, প্রাণও বেঁচেছে তাদের। গড়ে প্রতিদিন অন্তত একজনের প্রাণ বেঁচেছে তাঁর অটো অ্যাম্বুলেন্সের হাত ধরে । ‘আমি তো সর্বব্যাপী ঈশ্বর হতে পারব না, কিন্তু শেষ নিঃশ্বাস ফেলার মুহূর্ত অবধি আমি রাস্তায় দুর্ঘটনায় আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে যাব’, সংবাদমাধ্যমকে জানান হরজিন্দার সিং। ‘ট্র্যাফিক ওয়ার্ডেন হিসেবে আমি অসংখ্য পথ দুর্ঘটনা দেখেছি। সাধ্যমত চেষ্টা করেছি তাদের সাহায্য করতে, নিজের একটা অটো কিনে ফেলার পর এই কাজটা অনেক সহজ হয়ে গেছে’।

তিনি শহরের বিভিন্ন দুর্ঘটনা প্রবণ অঞ্চলগুলির আশেপাশে তাঁর অটো নিয়ে ঘোরাফেরা করেন। ‘ভগবান মাফ করুন, যদি কখনও কোনও দুর্ঘটনায় আহত দেখি, সঙ্গে সঙ্গে তাকে নিয়ে চলে যাই নিকটবর্তী হাসপাতালে যাতে জীবনটা বেঁচে যায়। ‘প্রথম দিন থেকেই এই সাহায্যের কাজ শুরু করার পর কখনোই পেছন ফিরে তাকাইনি বা সরে আসার কথা ভাবিনি’। অটোর ভেতরে একটা ‘ডোনেশন বক্স’ রেখেছেন তিনি। কারও থেকেই মুখ ফুটে সাহায্য চান না, যার ইচ্ছে হয় সে দেয়। যদি কিছু টাকা ওঠে তা দিয়ে তিনি জরুরি অবস্থার সময়ে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র কেনেন। যাদের সাহায্য করেন, বিপদমুক্ত হয়ে যাবার পর যে ভালোবাসা আর কৃতজ্ঞতা তারা জানায় তার প্রতি, তাই-ই তাঁর পাথেয়। এই প্রেরণা দিয়েই তিনি এগিয়ে যান। একটি সংসার টানতে হয় এই প্রবীণকে। পরিবারের লোকজনও তাঁকে সমর্থন করে এই কাজে। তিনি বলেন, কত সময়ে সঠিক সময়ে সাহায্য পায় না বলে কত মানুষ রাস্তায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে মারা যায়, কিন্তু তাদের তো বাঁচানো সম্ভব। ঠিক মত হাসপাতালে পৌঁছে দিয়ে চিকিৎসা দিতে পারলেই কত প্রাণ অকালে ঝরে যায় না’। তাই সাধ্য মত প্রতিটি প্রাণ তিনি রক্ষা করতে চান। কত সময়ে আমরা রাস্তায় দুর্ঘটনা কবলিত বা অসুস্থ হয়ে পড়া মানুষকে কাতরাতে দেখি, একজনও সময় নষ্ট করে বা ঝামেলা মাথায় নিয়ে এগিয়ে আসে না। কিন্তু হরজিন্দর সিং-এর মত মানুষদের দিকে তাকালে মনে হয় এখনও কিছুটা আশা আছে হয়ত বা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.