১০০ বছরের কোম্পানির ৯৬ বছর বয়সী স্কুলছুট সিইও-র বেতন ২১ কোটি টাকা

6842

ভারতীয় ভোগ্যপণ্যের বাজারে কোন সিইও সবথেকে বেশি বেতন পান‚ জানেন ? কোনও ম্যানেজমেন্ট পাশ ঝা চকচকে তরুণ নন | তিনি একজন ৯৬ বছর বয়সী বৃদ্ধ | দু বছর আগে আর্থিক বর্ষে তাঁর বেতন ছিল ২১ কোটি টাকা | যা নাকি টেক্কা দিয়ে গেছে গোদরেজ‚ হিন্দুস্তান ইউনিলিভার‚ আইটিসি-র মতো সংস্থার সিইও-র বেতনকে | সবথেকে বেশি বেতন পাওয়া এই বৃদ্ধের নাম ধর্মপাল গুলাটি |

ধর্মপালকে কিন্তু আপনিও অনেকবার দেখেছেন | কীভাবে ? টেলিভিশনে MDH মশলার বিজ্ঞাপন দেখেছেন ? এক পাগড়ি পরা  বৃদ্ধ বসে খাবারের গুণাগুণ বিচার করেন ? তিনিই ধর্মপাল | রোজ বাজারে যাওয়া‚ ডিলারদের সঙ্গে কথা বলা‚ কারখানায় যাওয়া‚ সব নিয়ম করে করেন তিনি | বাড়ি থাকেন না রবিবারেও | ব্যবসার খুঁটিনাটি থেকে বিজ্ঞাপন‚ সবেতেই সক্রিয় ধর্মপাল | দাদাজি বা মশায়জি নামে পরিচিত ধর্মপালের ছবি থাকে MDH-এর সব মশলার প্যাকেটেও |

মশলাপাতির ছোট্ট দোকান শুরু করেছিলেন তাঁর বাবা চুনীলাল | ১৯১৯ সালে শিয়ালকোটে | দেশভাগের পরে পাততাড়ি গুটিয়ে চলে আসেন ভারতে | দোকান খোলেন দিল্লির করোলবাগে | প্রায় ৬০ বছর আগে পৈতৃক ব্যবসায় আসেন ধর্মপাল | শিক্ষাগত যোগ্যতা ক্লাস ফাইভ ড্রপ আউট | তাঁর হাত ধরেই আজ সারা দেশে ১৫ টা কারখানা মহশিয়ান দি হাট্টি বা MDH-এর | রফতানি করা হয় ১০০ টি দেশে | সংস্থার অধীনে আছে স্কুল ও হাসপাতালও | ব্যবসায় ৮০% শেয়ার ধর্মপালের |

১৫০০ কোটি টাকার ব্যবসার মূল মন্ত্র হল গুণমানের সঙ্গে আপস না করা | উৎকৃষ্ট মশলা আনা হয় কর্নাটক রাজস্থান থেকে | এমনকী মশলা আসে সুদূর ইরান, আফগানিস্তান থেকেও |

ভারতীয় মশলার বাজারে এখন এক নম্বর হল এভারেস্ট | তারপরেই MDH | দৈনিক বিক্রি হয় কয়েক কোটি প্যাকেট | প্রায় ৬০ টি প্রোডাক্টের মধ্যে সবথেকে বেশি চাহিদা থাকে MDH-এর দেগ্গি মির্চ‚ চাট মশলা আর চানা মশলার | বাজারে এখন বহু প্রতিযোগী | কিন্তু MDH-এর দাবি‚ বাজারদর নির্ধারণ করে তারাই |

এক শতক হতে বাকি আর দু বছর | সংস্থাকে আরও কয়েক শতকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তাঁর ছেলে এবং ছয় মেয়ের সঙ্গে সমান সক্রিয় ৯৪ বছরের চির তরুণ ধর্মপাল |

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.