কাঁকড়াবিছের দংশনে চোখের সামনে দিদিকে নিস্তেজ হতে দেখে ডাক্তার হওয়ার প্রতিজ্ঞা…ডাক্তার হয়ে ধরলেন কলম

3927

তারুণ্যে দেখেছিলেন কাঁকড়াবিছের দংশনে ছটফট করতে করতে ক্রমশ নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে দিদি | সেদিনই প্রতিজ্ঞা করেছিলেন‚ একদিন চিকিৎসক হবেন | হয়েওছিলেন | আবার অন্যদিকে একের পর এক ভিন্ন স্বাদের সাহিত্য উপহার দিয়েছেন বাংলা ভাষাকে | তিনি নীহাররঞ্জন গুপ্ত | কিরীটি ও কালো ভ্রমরের স্রষ্টা |

# আদতে বাস ছিল বাংলাদেশের যশোরের লোহাগড় গ্রামে | বাবা কর্মসূত্রে থাকতেন কলকাতায় | এই শহরেই জন্ম নীহাররঞ্জনের | ১৯১১ সালের ৬ জুন |

# তাঁর বাবা ছিলেন সত্যরঞ্জন গুপ্ত ও মা লাবণ্যপ্রভা দেবী | তাঁদের বংশের আদি পেশা ছিল কবিরাজি |

# বাবার কাজের সূত্রে বাংলার বিভিন্ন জেলার স্কুলে পড়াশোনা করেছেন তিনি | ১৯৩০ সালে ম্যাট্রিকুলেশন উত্তীর্ণ হন কোন্নগড় হাই স্কুল থেকে | কৃষ্ণনগর কলেজ থেকে ISc পাশ করার পরে তিনি ভর্তি হন কার্মাইকেল মেডিক্যাল কলেজে | এখনকার আর. জি কর মেডিক্যাল কলেজ |

# দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে চিকিৎসক হয়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে ঘুরেছিলেন বিশ্বের নানা দেশ | এরপর ইংল্যান্ড থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন | স্পেশালাইজিং করেন ডার্মাটোলজিতে | দেশে ফিরে যোগ দেন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে | দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন তিনি | দেশভাগের পরে তাঁর পরিবার পুরোপুরি চলে আসে কলকাতায় |

# ডাক্তারির ছুরি-কাঁচি-স্টেথোস্কোপের পাশাপাশি নিশির মতো ডাকত কালি কলম মন | শৈশব থেকেই সাহিত্যে অমোঘ আকর্ষণ | শান্তিনিকেতনে গিয়ে গুরুদেবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিয়ে এসেছিলেন অটোগ্রাফও |

# ইংল্যান্ডে থাকতে স্বাদ পেয়েছিলেন ইংরেজি রহস্য রোমাঞ্চ নভেলের | দেখা করেছিলেন আগাথা ক্রিস্টির সঙ্গেও | দেশে ফেরার পরে চিকিৎসক নীহাররঞ্জনের কলম থেকে জন্ম নেয় গোয়েন্দা কিরীটি রায় ও খলনায়ক কালো ভ্রমরের মতো চরিত্র |

# মাত্র ১৮ বছর বয়সে প্রকাশিত হয়েছিল প্রথম উপন্যাস রাজকুমার | উপন্যাস‚ গল্প‚ ছোট গল্প‚ নাটক‚ প্রবন্ধ মিলিয়ে তাঁর সৃষ্টিসংখ্যা প্রায় ২০০ | ছদ্মনাম ছিল বাণভট্ট |

# রহস্য গল্প ছাড়াও লিখেছেন অনেক গল্প | তাঁর অসংখ্য কাজ থেকে তৈরি হয়েছে বাংলা ও হিন্দি ছায়াছবি | উল্লেখযোগ্য হল উল্কা‚ বাদশা‚ লালুভুলু‚ উত্তরফাল্গুনী‚ মায়ামৃগ এবং হালফিলের কিরীটি  | ছোটদের পত্রিকা সবুজ সাহিত্য সম্পাদনাও করেছেন তিনি |

# বইপোকা বাঙালির দীর্ঘ গ্রীষ্মের দুপুর‚ বর্ষাভেজা সন্ধে‚ শীতের রাতকে নতুন মাত্রা দিয়েছিল তাঁর কলম | ১৯৮৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি‚ প্রয়াত হন এই বহুমুখী সাহিত্যিক |

বাংলাদেশে সাহিত্যিকের পৈতৃক ভিটে এখন ভগ্নদশায় খণ্ডহর হয়ে দাঁড়িয়ে আছে | অতীতের কথা বলবে বলে |

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.