এই শহরে যে পরিবারে যত বেশি সন্তান‚ তত বেশি সরকারি টাকা ও সাহায্য

যত দিন যাচ্ছে জন্মহার কমছে জাপানে। ১৯৭০-এর দশক থেকেই এই ট্রেন্ড নজরে পড়ছে। পরিসংখ্যান বলছে ২০১৭ সালে জাপানে জন্ম নিয়েছে মাত্র এক লক্ষ শিশু, যেখানে মৃত্যু হয়েছে প্রায় ১৩ লক্ষ মানুষের । সেদেশের স্বাস্থ্য ও শ্রম মন্ত্রকের দাবি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে আর কখনওই এক বছরে এত মানুষ মারা যায়নি । জাপানের জনসংখ্যা ১২ কোটি ৭০ লক্ষ। তার মধ্যে মাত্র ১২.৩ শতাংশ শিশু। ভারতে মোট জনসংখ্যার ৩১ শতাংশ শিশু, চিনে ১৯ শতাংশ এবং আমেরিকায় ১৭ শতাংশ শিশু। জাপানি বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ২০৬৫ সালের মধ্যে সেদেশের জনসংখ্যা ৮ কোটি ৮০ লক্ষ কমে যাবে।

আর এই জন্যেই জনসংখ্যা বাড়াতে জাপানের নাগি শহর নিয়েছে এই অনন্য সিদ্ধান্ত। জাপানের এই ছোট্ট শহর নাগি-র জনসংখ্যা মাত্র ৬ হাজার। আর তাই সেখানে জনসংখ্যা বাড়ানোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে নগদ টাকা। শহরের নিয়ম অনুযায়ী, যে পরিবার যত বেশি সন্তান জন্ম দেবে সেই পরিবার পাবে তত বেশি টাকা। প্রথম সন্তানের জন্মের পরে দেওয়া হবে ১ লক্ষ ইয়েন (ভারতীয় মূল্য ৬১ হাজার টাকা), দ্বিতীয় সন্তান জন্মালে দেড় লক্ষ ইয়েন (ভারতীয় মূল্য ৯২ হাজার টাকা), তৃতীয় সন্তান জন্মালে ৪ লক্ষ ইয়েন (ভারতীয় মূল্য ২ লক্ষ ৪৩ হাজার টাকা)। ২০০৫ সালে দেখা যায়, নাগি শহরে মহিলা পিছু সন্তান ধারণের হার মাত্রই ২.৪ শতাংশ। তার পরে সন্তানের জন্মদানে উৎসাহ দেওয়ার জন্য ওই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এর ফলে সেখানে মহিলা পিছু সন্তান ধারণের হার বেড়ে হয়েছিল ২.৮শতাংশ । কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে এই হার কমে দাঁড়ায় ১.৯ শতাংশে।

শুধু তাই নয়, সন্তান জন্মানোর পরে সস্তায় ঘর ভাড়া পান দম্পতিরা। সন্তানদের টিকাকরণেও কোনও খরচ হয় না। সে যদি বাইরের কোনও বিদ্যালয়ে পড়াশোনার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়, প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার যাবতীয় খরচ বহন করা হয়। অসুস্থ শিশুদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা প্রদানের ব্যবস্থাও করে সরকার।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

Please share your feedback

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ওয়র্থ ব্রাদার্স সংস্থার লেটারহেড

মায়ার খেলা

চার দিকে মায়াবি নীল আলো। পেছনে বাজনা বাজছে। তাঁবুর নীচে এ প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে উড়ে বেড়াচ্ছে সাদা ঝিকমিকে ব্যালে