কেরালায় রেস্তোরাঁয় খাবার পরিবেশন করছে রোবটরা

robot waiters Kerala

এলিনা, হেলেন অথবা জেন কোনও সাধারণ ওয়েট্রেস নয়। একটু অন্য রকমের তাদের চাল-চলন,ব্যবহার আর দেখতেও ভারি অদ্ভুত তারা ! কারণ তারা তো রক্তমাংসের মানুষই নয়। তারা রোবট। হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন, এই রোবটরাই খাবার পরিবেশন করছে খোদ ভারতবর্ষের এক রেস্তরাঁয়, কেরালাতে। রোবট ওয়েটারদের নিয়েই খোলা হয়েছে এই নতুন খাবারের দোকান, ‘বি@ কিয়িজো’। হপ্তাখানেক আগেই কন্নৌরে খোলা হয়েছে এই রেস্তোরাঁ, যা প্রায় সাড়া ফেলে দিয়েছে গোটা দেশে।

অন্য রেস্তোরাঁগুলির চাইতে এই দোকান একেবারেই স্বতন্ত্র এই কারণেই যে এখানে রোবট ওয়েটাররা আপনাকে আপ্যায়ন করবে। যার পরিচালনায় এই রকম একটা নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেই মানিয়ানপিল্লা রাজু জানিয়েছেন, ‘এরকম রোবট ওয়েটার বিদেশে প্রায়ই দেখা যায়, চেন্নাইয়ের দু’একটি জায়গাতেও অবশ্য আছে। কিন্তু কেরালায় এই প্রথম রোবট ওয়েটার নিয়ে রেস্তোরাঁ খোলা হয়েছে। আশা রাখি এই নতুন অভিজ্ঞতা বেশ ভালোই হবে’। অঞ্চলের মানুষরা স্বাভাবিক ভাবেই খুব উত্তেজিত আর কৌতূহলী হয়ে পড়েছেন। কেমন করে রোবটরা খাবার পরিবেশন করে এই নতুন রকম অভিজ্ঞতার স্বাদ নিতে তারা খুবই উৎসাহী হয়ে ভিড় জমাবেন এই রেস্তোরাঁয় বলেই বিশ্বাস উদ্যোক্তাদের। হোটেল ব্যবসায় ভালো লোকজন, কর্মী পাওয়া ক্রমশই দুরূহ হয়ে পড়েছে। রোবটের ব্যবহার এই হোটেল শিল্পে বিপ্লব ঘটাবে বলে আশা করছেন হোটেল ব্যবসায়ীরা। খদ্দেরদের জন্য এ এক বড়ই আকর্ষণীয় ব্যাপার হবে। বিক্রিও বাড়বে স্বাভাবিক ভাবেই। ‘এখানে এটা সফল হলে আমরা অন্যান্য জায়গাতেও এই পরিকল্পনা কার্যকরী করব’।

কয়েক মাস আগে একটি মোবাইল অ্যাপ নিয়ে এই নবীন ব্যবসায়ী গোষ্ঠী প্রথম প্রবেশ করে এই হোটেল শিল্পের বাজারে। কিয়িজো ফুড ডেলিভারি নামক এই অ্যাপটির মাধ্যমে নানা জায়গায় খাবার পৌঁছে দিত তারা। এরপর এই ব্যবসাকে আরও সম্প্রসারিত করতে চাইলে এই নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয় তারা। এই ব্যবসার আর এক অংশীদার নিজামুদ্দিন সি ভি ও তার স্ত্রী সাজমা জানিয়েছেন এমনটাই। ‘এই ব্যবসায় যখন একটু থিতু হলাম, প্রথম থেকেই রোবটদের ওয়েটার হিসেবে কাজে লাগানোর কথা ভাবিনি। কিন্তু যখন প্রযুক্তির অগ্রগতিকে কীভাবে এই হোটেল ব্যবসায়ে কাজে লাগানো যেতে পারে, তা নিয়ে ভাবনা চিন্তা শুরু করি, তখনই রোবটের কথাটা মাথায় এল। মনে হল রোবটদের ওয়েটার হিসেবে কাজে লাগানোটা বেশ সুবিধাজনক আর অর্থকরী হতে পারে, কারণ এ দেশে এটা বেশ বিরল। এই রেস্তোরাঁতে রোবটগুলি রান্নাঘর থেকে খাবার নিয়ে টেবিলে টেবিলে পৌঁছে দেবে। প্রতি টেবিলে যাতায়াতের জন্য নির্দিষ্ট ইলেকট্রনিক পথ থাকবে। রান্নাঘর থেকে খাবারের ট্রে সাজিয়ে তারা নিয়ে এসে পরিবেশন করবে অভ্যাগতদের। প্রতিটি টেবিলের সামনে একটি রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন টোকেন থাকবে যার সাহায্যে টেবিল চিনে যেতে পারবে এই রোবটগুলি। কোন টেবিলে যেতে হবে সেই নম্বরটি তাদের যান্ত্রিক অঙ্গে নির্দিষ্ট করে দিলেই তারা সেই মত চলে যাবে টেবিলে টেবিলে। যদিও তারা যত্রতত্র বিচরণ করতে পারে কিন্তু এ ক্ষেত্রে সুবিধার জন্য তাদেরকে এমন ভাবেই প্রোগ্রাম করা হয়েছে যাতে একটি নির্দিষ্ট পথেই যাতায়াত করবে। তারা ইংরাজিতেই কথাবার্তা বলবে, কিন্তু মুখে বলবে না, যান্ত্রিক ভাবে বলবে। এই প্রকল্পের প্রযুক্তিগত দিকটি দেখছেন ভিনিত এম কে, যিনি এই ব্যবসার আর এক জন অংশীদার।

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.