চারবার ফাঁসির দড়ি ছিঁড়ে ফেলা এই বিদ্রোহী নেতাকে নাকি চুনগোলায় ডুবিয়ে হত্যা করেছিল ব্রিটিশরা

চারবার ফাঁসির দড়ি ছিঁড়ে ফেলা এই বিদ্রোহী নেতাকে নাকি চুনগোলায় ডুবিয়ে হত্যা করেছিল ব্রিটিশরা

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

ভাঙতে না পারলেও ব্রিটিশ শক্তিকে নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা দিয়েছিল ১৮৫৭-র মহাবিদ্রোহ | সিপাই বিদ্রোহের উৎপত্তি কেন্দ্র ছিল মীরাট | ১৮৫৭-র ১০ মে ভারতীয় সিপাইরা প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে | তারপর এর আগুন ছড়িয়ে পড়তে সময় লাগেনি | বিদ্রোহের বেশিরভাগ নেতাই আজ বিস্মৃত | তাঁদের মধ্যে একজন বাবুরাও সেড়মাকে | তিনি ছিলেন গোন্ড উপজাতির নেতা | আজকের মহারাষ্ট্র মধ্যপ্রদেশ জুড়ে বিস্তৃত অঞ্চলে বসবাস ছিল এই উপজাতির |

বাবুরাও ছিলেন চন্দ জেলার বসবাসকারী | আজকের মহারাষ্ট্রর গড়চিরৌলি ও চন্দ্রপুর তখন ব্রিটিশ শাসিত সেন্ট্রাল প্রভিন্সের চন্দ জেলা | নাগপুরের রাজা অপুত্রক অবস্থায় প্রয়াত হলে লর্ড ডালহৌসির কুখ্যাত স্বতবিলোপ নীতির ফলে এই জেলা ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ শাসনের আওতায় এসেছিল | 

তখন সেখানে জমিদারি ব্যবস্থা পূর্ণমাত্রায় বহাল | রাজ-গোন্ড সম্প্রদায়ের মানুষ বেশিরভাগ স্থানে ছিলেন জমিদার | তাঁরা মারাঠা অভ্যুত্থানের আগে থেকেই রয়েছেন | জমি হস্তগত করতে এলে ইংরেজদের প্রবল বাধ দিলেন তাঁরা | এরকম এক জমিদারি ছিল মোলাম পাল্লি | চব্বিশটা গ্রামের সেই জমিদারির জমিদার তখন বাবুরাও সেড়মাকে ‚ পঁচিশ বছর বয়সের তরতাজা যুবক | তাঁর জন্ম ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে‚ গড়চিরৌলি জেলায়‚ আহেরি তহশিলে | এর বেশি তাঁর পূর্ব জীবন নিয়ে বিশেষ জানা যায় না | 

১৮৫৮-র মার্চে বাবুরাও এক বিশাল প্রতিরোধ বাহিনী গড়ে তুললেন | গোন্ড‚ মারিয়া ও রোহিল্লা জেলা থেকে দলে দলে যুবক যোগ দিলেন তাঁর সেনাবাহিনীতে | চন্দ জেলার রাজগড় পরগনা দখল করল বাহিনী | এই খবর পৌঁছোলো চন্দ্রপুর জেলার সদরে | ব্রিটিশ প্রশাসন বাহিনী পাঠাল | বাবুরাও ও ব্রিটিশ‚ দুজনের বাহিনী মুখোমুখি হল নন্দগাওঁ ঘোসাড়ি এলাকায় | সেটা ১৮৫৮-র মার্চ মাস | দু পক্ষের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে জয়ী বাবুরাও | তাঁর পরাক্রমে ব্রিটিশ বাহিনীর প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল | 

এরপর বাবুরাওয়ের পাশে দাঁড়ালেন আড়পল্লী ও ঘোটের জমিদার বনকত রাও | দুজনে সম্মিলিত বাহিনী গড়ে তুললেন | রোহিল্লা ও গোন্ড সম্প্রদায়ের বারোশর বেশি যুবককে নিয়ে তৈরি হল বাহিনী | জানার পরে আরও একবার বাহিনী পাঠাল পাঠাল ব্রিটিশরা | কিন্তু এবারও তাদের পিছু হঠতে হল | পাহাড়ের উপর থেকে পাথরবৃষ্টি করে তাদের তাড়িয়ে দিল দুই জমিদারের মিলিত বাহিনী | 

এরপর আরও দুবার বাবুরাওয়ের হাতে পর্যুদস্তু হয় ইংরেজ বাহিনী | শেষে তারা পাল্টে ফেলল যুদ্ধনীতি | শক্তিতে না পেরে তারা এগোলো কূটনীতিতে | ব্রিটিশরা হাত মেলাল আহেরির জমিদারনি লক্ষ্মীবাঈয়ের সঙ্গে | বলল‚ যে করে হোক‚ দমাতেই হবে বাবুরাওকে | এ বিষয়ে যদি তিনি ব্রিটিশদের সাহায্য না করেন‚ তবে নিয়ে নেওয়া হবে তাঁর জমিদারী | 

হুমকিতে কাজ হল | লক্ষ্মীবাঈয়ের লোকলস্কর ১৮৫৮-র জুলাইয়ে বন্দি করল বাবুরাওকে | ভোপালপতনম থেকে তাঁকে যখন বন্দি করে আহেরি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল‚ তখন রোহিল্লাদের সাহায্যে পালাতে সক্ষম হন বাবুরাও | এরপর তিনি ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে গুপ্ত আক্রমণ চালিয়ে যেতে থাকেন | কিন্তু তা বেশিদিন চলল না | ক’মাস পরেই ধরা পড়লেন আবার লক্ষ্মীবাঈয়ের লোক লস্করের হাতে | বিদ্রোহী যোদ্ধাকে পেশ করা হল ব্রিটিশ শক্তির সামনে |

বিচারে নানা অপরাধে দণ্ডিত করে বাবুরাওকে ফাঁসি দিতে বিলম্ব করেনি ইংরেজরা | চন্দ্রপুর জেলে তাঁকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল | জনশ্রুতি‚ তিনি এতই শক্তিধর ছিলেন যে চারবার ফাঁসির দড়ি ছিড়ে পালিয়েছিলেন | শেষ অবধি নাকি তাঁকে চুনগোলায় চুবিয়ে হত্যা করেছিল ব্রিটিশরা | আরও একটি কিংবদন্তি বলে‚ তাঁকে নাকি চন্দ্রপুর জেলের সামনে একটি অশ্বত্থ গাছে ঝুলিয়ে নির্মম অত্যাচার করে হত্যা করা হয়েছিল তিলে তিলে | তাঁর বেশিরভাগ সঙ্গীকেও ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল | কয়েকজনকে পাঠানো হয়েছিল দ্বীপান্তরে |

তবে একজন ব্রিটিশ নজর এড়িয়ে বেঁচে গিয়েছিলেন | তিনি বনকত রাও | পালিয়ে গিয়েছিলেন বস্তারে | সেখানকার শাসক তাঁকে প্রথমে আশ্রয় দিলেও পরে ধরিয়ে দেন ইংরেজদের কাছে | সব সম্পত্তি হস্তগত করে ব্রিটিশরা তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছিল | এর সঙ্গেই এই অঞ্চলে সিপাহি বিদ্রোহ অস্তমিত হয় |

অন্যদিকে জমিদারনি লক্ষ্মীবাঈ পুরস্কৃত হয়েছিলেন | আরহপল্লী ও ঘোটের জমিদারি ছিল ৬৭ টি গ্রামের | সে সব অর্পণ করা হয়েছিল তাঁকে | আর তাঁর সাহায্যে বুদ্ধির জোরে বিদ্রোহ দমন করে পদোন্নতি হয় মেজর ক্রিশটনের | পেয়েছিলেন ‘ Companion of the Bath’ খেতাব | আর বাবুরাও ? তাঁর প্রাপ্য ? চন্দ্রপুরে যেখানে ফঁসি হয়েছিল‚ সেখানে একটা ফলক‚ একটা ডাকটিকিট আর বিস্মরণ |

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

Leave a Reply

Handpulled_Rikshaw_of_Kolkata

আমি যে রিসকাওয়ালা

ব্যস্তসমস্ত রাস্তার মধ্যে দিয়ে কাটিয়ে কাটিয়ে হেলেদুলে যেতে আমার ভালই লাগে। ছাপড়া আর মুঙ্গের জেলার বহু ভূমিহীন কৃষকের রিকশায় আমার ছোটবেলা কেটেছে। যে ছোট বেলায় আনন্দ মিশে আছে, যে ছোট-বড় বেলায় ওদের কষ্ট মিশে আছে, যে বড় বেলায় ওদের অনুপস্থিতির যন্ত্রণা মিশে আছে। থাকবেও চির দিন।