ঠগ্‌স অফ হিন্দোস্তান : যত খারাপ বলা হচ্ছে, ছবিটা সত্যিই ততটা খারাপ কি?

রিলিজের দিন তিন-চারের মাথায় এই রিভিউ যখন লিখতে বসছি, ততক্ষণে তো প্রায় যেন ঝড় বয়ে গেছে ছবিটা নিয়ে। ফেসবুক একবার জাস্ট খুললে হল। দেখতে পাচ্ছি, যে যার মত করে পারছে বিষ উগরে দিচ্ছে ছবিটার নামে। চরম চরম সব খিল্লি চলছে সেখানে। সেগুলো তো সব নিশ্চয় এতক্ষণে দেখেই ফেলেছেন আপনি।

শুধু সিনেমা সংক্রান্ত খবর দেয়, এমন একটা জাতীয় স্তরের ওয়েবসাইট দেখলাম ছবিটার রিভিউ লিখতে গিয়ে রেটিং দিয়েছে পাঁচে মাত্র এক! সত্যি বলছি দাদা, দেখে আকাশ থেকে আছড়ে পড়লাম প্রায়। সত্যি এটা এত খারাপ ছবি? আরও ধাঁধা কেন লাগল জানেন? খুব খাজাস্য খাজা ছবিকেও ওই ওয়েবসাইট পাঁচে চার রেটিং দিয়ে থাকে। দেবে না কেন, বলুন? বিশেষ এক সূত্রে জানি, মোটা টাকার বিনিময় করে ওই সাইটে ফিল্ম রিভিউয়ের রেটিং পয়েন্ট কেনা-বেচা করা হয়। সেই তারাও কিনা এই ছবিটাকে একেবারে ডাহা ফেল করিয়ে দিল?

মাথাটা পুরো ঘুলিয়ে যাচ্ছিল যেন। হলটা কি যশরাজ ফিল্মসের এবার? যে, এত রদ্দি সিনেমা বানাল তারা? নাকি কোন বিশেষ কারণে লোকজন সব ছবিটা নিয়ে ওভার-রিয়্যাক্ট করে যাচ্ছে একের পর এক?

এই সব ধাঁধা সঙ্গে করে ঢুকে পড়লাম সেই ১৭৯৫ সালের গপ্পে। রৌনকপুর রাজ্য। ব্রিটিশ আক্রমণে ছারখার হচ্ছেন রাজা  মির্জা সিকান্দর বেগ (রণিত রায়)। ওদের হাতে খুন হয়ে গেলেন রাজা, রানি, রাজকুমার – সবাই। ঠিক সেই সময়ে সেনাপতি খুদা বক্সের (অমিতাভ বচ্চন) সাহায্যে ব্রিটিশ শত্রুর থাবা এড়িয়ে পালিয়ে যাচ্ছে রাজার ছোট্ট মেয়ে জাফিরা (দেশনা দুগার)। আর সত্যি বলছি, এই পালানোর দৃশ্যটা এত ভাল কোরিওগ্রাফ্‌ড যে দেখতে গিয়ে আমার অন্তত গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠেছিল তখন।

এটা ছবির জাস্ট শুরু। বিগিনিং ক্রেডিট স্ক্রিনে আসতে তখনও একটু দেরি। নিজেই নিজের কাছে জিজ্ঞেস করছিলাম, এই যে এটুকু দেখলাম, এর মধ্যে কি প্রবলেম আছে কোন? অমিতাভ বচ্চনের যে রকম বয়স হয়ে গ্যাছে, সেই বয়সে ঘোড়ার পিঠে যুদ্ধক্ষেত্রে তুমুল ওই সব অ্যাকশন সিন তাঁর পক্ষে করা সম্ভব নয়, ওগুলো যে তাঁর বডি ডাবল-এর করা, সেটা বুঝতে পারছি বলেই কি গল্পের সঙ্গে কানেক্ট করতে প্রবলেম হচ্ছে কিছু? কিন্তু সেটা যদি ধরতে হয়, হিন্দি সিনেমায় কটা স্টান্ট সিন কটা নায়ক নিজে নিজে করে বলুন?

ইন ফ্যাক্ট, শুরুর এই অংশটুকুতে অ্যাকশন যা দ্যাখান হয়েছে, সেটা চমকে দেওয়ার মত তো বটেই, তার সঙ্গে ইংরেজ সেনাধিপতি জন ক্লাইভের (লয়েড আওয়েন) বলা একটা ডায়ালগ তো বুকে একেবারে যেন গেঁথে বসে গেল আমার। সেই যে সেই কথাটা, যখন রাজা মির্জা সিকান্দর বেগের সঙ্গে চা খেতে বসে কী অবলীলায় ক্লাইভ বলে দিচ্ছেন যে, ‘আনেওয়ালা ওয়াক্ত মে হর বাদশাকা ডোর বানিয়েকে হাথ মে হোগি’।

ক্লাইভের এই একটা কথার মধ্যে সঙ্গে সঙ্গে যেন ঢুকে পড়ল বলে মনে হল আজকের আস্ত ভারতবর্ষ, সকালে বেরনো খবর কাগজের ফার্স্ট পেজগুলো সব।

ক্লাইভের কথা উঠল যখন, তখন একটা ব্যাপার স্পষ্ট করে বলে রাখি যে, একটু খেয়াল করে ছবিটা দেখলে বুঝতে পারবেন যে, লোকটার পুরো নাম জন ক্লাইভ। সেটা খেয়াল না করে লোকে দেখলাম জাস্ট ‘ক্লাইভ’ সারনেমটুকু শুনে বাই ডিফল্ট ধরে নিচ্ছে লোকটাকে রবার্ট ক্লাইভ বলে। কে একজন দেখলাম খেটেখুটে ফেসবুকে একটা পোস্টও দিয়ে ফেলেছে এই বলে যে, ১৭৭৪ সালে তো রবার্ট ক্লাইভ মারাই গেছিলেন, তাহলে ১৭৯৫ সালে কোন আক্কেলে এই ক্লাইভকে দ্যাখান হল স্ক্রিনে?

ওই যে বললাম না, ছবিটা যে রকমই হোক না কেন, তালে-গোলে ওভার রিয়্যাকশনও হচ্ছে কিন্তু বেশ।

ফেরত আসুন ছবির গল্পে। শুরুর ক্রেডিট দ্যাখানোর পর গল্প এবার এক ঝটকায় এগিয়ে গেল ১১ বছর। ছোট্ট জাফিরা বড় হয়ে তুখোড় ধনুর্ধর এক কন্যা (অভিনয়ে ফতিমা সানা শেখ) হয়েছে এখন। খুদাবক্স আর সে মিলে তৈরি করেছে বাগী বিদ্রোহীদের দল। ইংরেজদের আক্রমণ করে খতম করে ফ্যালাই ওদের লক্ষ্য। এখানে একটা প্রশ্ন উঠতে পারে যে, এই জাফিরা কিংবা খুদাবক্সের দলবলকে ছবিতে ‘ঠগ্‌স’ কেন বলা হবে?

এখন মুশকিল হল, ছবির নামে যে ‘ঠগ্‌স’ শব্দটা ব্যবহার করা হয়েছে, সেটা তো আসলে ইউজ করা হয়েছে ইংরেজদের দৃষ্টিকোণ থেকে। তাদের কাছে তো এক ব্র্যাকেটে নেটিভ নিগারদের দুনিয়াশুদ্ধু ‘ঠগ’! বাই ডিফল্ট ‘ঠগ’ বলতেই কেউ ‘ঠগী’ বলে ধরে নেবেন না প্লিজ। সেখানে তাহলে আবার একটা গণ্ডগোলের কেস হয়ে যাবে কিন্তু।

‘ঠগী’ দস্যুদের সিন ছবিতে রয়েছে মাত্র একটা। আর ফিলিপ মেডস টেলর-এর ‘কনফেশনস অফ আ ঠগ’ যদি পড়ে থাকেন, তাহলে এটাও বুঝতে পারবেন যে সত্যি যে ভাবে লুঠ করত ঠগী দস্যুদের দল, তার সঙ্গে এ সিনেমায় ঠগীদের নিয়ে যে সিনটা দ্যাখান হল, তার কিন্তু বেশ কিছুটা ফারাক। বণিকদের দলে ভিড়ে গিয়ে ফিরাঙ্গি মাল্লা (অভিনয়ে আমির খান) বাঁশিতে ফুঁ লাগাবে, আর সেটা শোনা মাত্র ঠগী দস্যুদের বাকি পুরো দল আড়াল থেকে শিকারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে – ওদের অপারেশনের প্যাটার্ন কিন্তু এরকম ঠিক নয়। তাই ইতিহাস বা রিয়্যালিটির লেন্স দিয়ে বলিউডের সিনেমা মাপতে যাওয়ার ভুল করবেন না প্লিজ!

কারণ ওই লেন্স দিয়ে দেখতে গেলে গলতি তো গণ্ডা গণ্ডা পাবেন। যেমন শুরুর দিকের ওই সিনটা ধরুন। সুকৌশলে ইংরেজদের জাহাজে হামলা করার সিন। প্রায় পিরামিডের প্যাটার্নে মানুষের ওপর মানুষ দাঁড়িয়ে আছে, এরকম একটা মূর্তি দ্যাখান হয়েছে এখানে। সিকোয়েন্সটা আরও কিছুটা এগোলে আপনি বুঝতে পারবেন, মানুষের ওপর মানুষ সাজানো ওই মূর্তিটা আসলে মূর্তি নয়, ওখানে দাঁড়ান লোকগুলো আসলে খুদাবক্স আর জাফিরার সেই বিদ্রোহীদের দল। এখন এটা আপনি রূপকথা ভেবে দেখতে থাকলে ঠিক আছে। কিন্তু রিয়্যালিটি মাপতে গেলে তো প্রথমেই মনে হবে যে ওগুলো যদি মূর্তি না হয়ে রিয়্যাল মানুষই হবে, তাহলে পুরো স্কাল্পচারটার টোটাল হাইট অত ছোট হল কেন? সত্যি যদি একের ওপর এক মানুষ দাঁড়িয়ে পড়তে থাকে, সেই মূর্তির হাইট কী হবে, বুঝতে পারছেন সেটা?

হাইট নিয়ে যখন কথা উঠল, তখন আরেকটা কথাও লিখি। আমির খানের হাইট ৫ ফুট ৪। আর অমিতাভের হাইট হল ৬ ফুট ১। এখন দুজন যখন পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে, তখন দেখবেন যে, দুজনের হাইট দ্যাখাচ্ছে মোটের ওপর একই রকম প্রায়। এখন মেক-বিলিভ সিন বানানোর এটুকু লাইসেন্স না পাওয়া গেলে ছবি কী করে তৈরি হবে বলুন?

তবে একটা ব্যাপার খারাপ লেগেছে দেখে যে, এমন মাপের একটা ছবিতে স্পেশ্যাল এফেক্টস, ভিএফএক্স আর গ্রাফিক্সের যে রেলাটা থাকতে হয়, এখানে সেটা বাড়াবাড়ি ভাবে কম! বেশ কয়েকটা ঘটনা তো দর্শককে বুঝে নিতে হচ্ছে নিজের মতন করে, বাজেটের চাপে বোধহয় সেগুলো দ্যাখান গেল না স্ক্রিনে। যেমন ধরুন ছবির ফার্স্ট হাফের শেষদিকের সেই সিন। দুর্গাপুর দুর্গের একটা ঘরে খুদাবক্স আর ফিরাঙ্গি দুজনে আটকে। মুখোমুখি তরোয়ালের লড়াই হয়েছে শুরু। এদিকে পাশে সমুদ্র থেকে দুর্গের সেই ঘরের দিকে কামান দাগছে ইংরেজদের জাহাজ।

গোলমালটা হল এই যে, এই কামান দাগা আর কামানের সেই গোলা সোজা দুর্গে গিয়ে আছড়ে পড়ার সিন কিন্তু ছবিতে পুরো গোটা শটে নেই! পুরো সিকোয়েন্সটা টুকরো টুকরো করে কেটে কেটে তৈরি করা! একবার দ্যাখান হচ্ছে জাহাজ থেকে গোলা ছোঁড়ার সিন। তারপর কাট টু দ্যাখান হচ্ছে দুর্গের ঘরের ভেতর, খুদাবক্স আর ফিরাঙ্গি যেখানে দাঁড়িয়ে, গোলার কী ইমপ্যাক্ট হল সেখানে। দেখতে গিয়ে মনে হচ্ছিল চেঁচিয়ে বলি, আরে দ্যাখাবি যদি তো এটা দ্যাখা যে, সমুদ্রটা দুর্গের ঠিক কতটা দূরে, বা জাহাজ থেকে ছোঁড়া গোলা কী ভাবে গিয়ে পড়ছে দুর্গটাতে।

এবার এই সিকোয়েন্সেরই শেষটা একটু ভাবুন। খুদাবক্স দুর্গ থেকে একটা বারুদ ঠাসা ছোট জাহাজে করে সমুদ্রে গিয়ে পড়বেন সোজা। আত্মঘাতী জঙ্গি স্টাইলে এগিয়ে যাবেন ব্রিটিশ তরীর দিকে। এখন এই ব্যাপারটাও আপনাকে বেশ আভাসে বুঝতে হবে, কারণ এই সিনের পুরোটাও কিন্তু এখানে দ্যাখানো নেই। দুর্গের গেট ভেঙে জাহাজে চেপে বেরিয়ে আসছেন খুদাবক্স, একটা সিনে এটা। এরপর কাট করে সোজা দ্যাখান হল, খুদাবক্সের বারুদ-ভরা জাহাজ সমুদ্রে ভেসে এগিয়ে যাচ্ছে ইংরেজদের দিকে!

কিন্তু জাহাজটা যে দুর্গ থেকে বেরনোর পর সমুদ্রে নামল কী করে গিয়ে, সেটা কোথাও এই ছবিতে নেই!

হলিউড তো ছেড়েই দিলাম, ভারত থেকেও তো এখন ‘বাহুবলী’ বা ‘রোবট’-এর মত মেগাস্কেলের মুভিগুলো সব তৈরি হচ্ছে ভাই। সেগুলো দ্যাখার পর এই গোঁজামিল কি আর হজম হতে পারে?

ভিস্যুয়াল এই ধাক্কাগুলো তো এখানে-ওখানে আছেই। তার সঙ্গে স্ক্রিপ্টেও কোথাও কোথাও জোড়াতালি দেওয়া কেস! ছবির সেকেন্ড হাফে যখন নতুন করে ফেরত এল খুদাবক্স ওরফে আজাদ, অনেকক্ষণ অবধি ওই কিকটা হজম করতে পারি নি আমি। বারুদ-ঠাসা জাহাজ ব্লাস্ট হওয়ার পরেও যে কেউ এভাবে অক্ষত দেহে ফেরত আসতে পারে, সেটা মানতে পারাটা সত্যি যে খুব চাপের!

আর ওই সিনটা যখন দ্যাখান হবে, তখন দেখবেন ওর সঙ্গেই দ্যাখান হচ্ছে সমুদ্রের জলে অচেতন হয়ে খুদাবক্সের ভেসে থাকবার সিন! যুক্তি দিয়ে ভাবতে গেলে, এখানেও তো ধাক্কা খাবেন আপনি। মনে হবে,অচেতন হয়ে জলে কি কেউ ভাসতে পারে নাকি? বডি তো ভেসে ওঠে প্রাণ বেরিয়ে যাওয়ার পর! তার ওপর আরও খুঁটিয়ে যদি সিনটা দ্যাখেন তো মনে হতে পারে, জলে কি সত্যি সত্যি বচ্চন ভেসে, নাকি ওঁর মত দেখতে একটা পুতুল ভাসছে কোন?

গল্পের বেশ কয়েকটা দিক তো অসংলগ্ন বেশ। যেমন ধরুন ফিরাঙ্গির বন্ধু শনিচর (মহম্মদ জিশান আয়ুব) নামের লোকটা। খেয়াল করে দেখুন, এর ইনট্রো হচ্ছে যখন, তখন বলা হচ্ছে যে এ নাকি জ্যোতিষ শাস্ত্রে তুখোড়, আর তাই কোন অভিযানে বেরতে গেলে একে সঙ্গে রাখাটা মাস্ট। কিন্তু ভেবে দেখুন, বাকি গোটা সিনেমার অভিযানে এর জ্যোতিষচর্চার কী আর কোন ভূমিকা রয়েছে তেমন?

বা ধরুন নাচনেওয়ালি সুরাইয়া (ক্যাটরিনা কাইফ) নামে ওই মেয়েটার কথা। কী সুন্দর লেগেছে দেখতে ওকে। কিন্তু পৌনে তিন ঘণ্টার ছবিতে ওর কিনা কুল্যে পৌনে তিনটে সিনও নেই? ওরকম একটা মেয়েকে কি গল্পে রাখা হয়েই ছিল নাচ-গানের সিনে নিছক গা দ্যাখানোর জন্য? আর অন্য কিচ্ছু না? অথচ ভেবে দেখুন, গল্পে ওর ভূমিকা আরও ভাইটাল হলে মজা কি অনেকগুণ বেড়ে যেত না? 

তবে এত ত্রুটি থাকার পরেও এটা না লিখে পারছি না যে, এত চুলচেরা বিচার করে কে আর কবে মেনস্ট্রিম হিন্দি সিনেমা দ্যাখে? রিজনেবল প্রাইস দিয়ে টিকিট কেটে একবার দেখতে কি খারাপ লাগে ছবিটা? আর কিছু না হলেও শুধু বর্ণাঢ্য সেট, আমির-অমিতাভ কম্বিনেশন আর চোখ ধাঁধানো যুদ্ধের সিন দ্যাখার জন্যে তো একবার অন্তত ছবিটা দেখে ফ্যালাই যায়!

গোলমালটা আসলে হয়েছে কোথায় জানেন? ট্রেলার দেখে আপনি এটাকে ‘বাহুবলী’ লেভেলের কিছু একটা ভেবে বসবার পর। ফুল ফ্যামিলি মাল্টিপ্লেক্সে দেখবেন বলে মোটা টাকা খসিয়ে সিট বুক করেছেন যে! তারপর এক্সপেকটেশনটা ম্যাচ না করায় ছটফটিয়ে শেষ হয়েছেন খালি!

আর এর ঢেউ লেগেছে গিয়ে বক্স অফিসে সোজা। ছবির বিজনেস হু-হু করে পাতালের দিকে তলিয়ে যাচ্ছে যেন! খাস কলকাতায় একটা সিঙ্গেল স্ক্রিনে লোক হচ্ছে না বলে এ ছবির শো ক্যানসেল হয়ে গেল, ভাবতে পারছেন এটা?

ধামাকা ছবি বানাতে গিয়ে সাবধানী আর ক্যালকুলেটিভ বড় হাউসও যে কেমন ভুলভাল করে ফ্যালে, তার একটা কেস স্টাডি হয়ে রয়ে গেল যেন এটা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here