৪০ এর পরেও সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখুন ওজন!

2461

আপনার বয়স চল্লিশের কোঠায়! এই সময় বয়সের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে ওজন। ২০ এর কোঠায় ওজন কমানো যত সহজ, চল্লিশের কোঠায় ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা ততটাই কঠিন। কারণ হল, চল্লিশ বছর পার হবার পর মেটাবলিজমের গতি ধীর হয়ে যায়, ফলে ক্যালোরি গ্রহণের মাত্রা কমিয়ে দিতে হয়। অন্যদিকে, এ সময়ে নারীদের মেনোপজ শুরু হয় বলে শরীরে ইনসুলিন রেজিসটেন্স দেখা দেয়, ফলে মিষ্টি খাবার খাওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে। তারমানে এই নয় চাইলেও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন না। জেনে নিন কী কী করলে চল্লিশে পৌঁছেও আপনি থাকতে পারবেন স্লিম এন্ড ট্রিম।

ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তুলুন
কুড়ি বা তিরিশের কোঠায় নিয়মিত হাঁটলে বা ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ় করলেই ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে৷ কিন্তু চল্লিশের পর শুধু সেটুকুতে ওজন কমবে না। তিন ধরনের ব্যায়াম আপনার রোজের শরীরচর্চার রুটিনে রাখতেই হবে, তবেই নিয়ন্ত্রণে থাকবে ওজন। দৈনিক অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম করা উচিত। এর পাশাপাশি দিনে অন্তত দশ হাজার পা হাঁটাও উপকারী। এর সাথে সপ্তাহে চার পাঁচ দিন রেজিসটেন্স ট্রেইনিং আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজে আসবে। এই সময়ে চট করে রেজাল্ট দেখতে পাবেন না, ধৈর্য ধরে ব্যায়াম চালিয়ে যেতে হবে৷

ডায়েটের দিকে নজর দিন
দিনের বেলা অপরিমিত চা-কফি, চিনি মিশ্রিত শরবত, প্যাকেটজাত পানীয়, খাওয়া বন্ধ করতে হবে৷ তাজা শাকসবজি-ফলমূল খাওয়ার উপর জোর দিন৷ ময়দা, ভাতের বদলে ভুষিসমেত আটা, রোলড ওটসের মতো জটিল কার্বোহাইড্রেট রাখুন খাদ্য তালিকায়৷ রান্নায় তেল-মশলার পরিমাণ কমান। পছন্দের খাবার খান তবে পরিমানে কম। এ ছাড়া ফাইবারযুক্ত খাবার যেমন ফল ও সবজি বেশি খাওয়ার অভ্যাস করুন।

ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ নিন
ইন্টারনেট, পত্রপত্রিকার সূত্রে ওজন কমানোর হাজারটা পদ্ধতির সবার কাছেই আছে৷ কিন্তু আপনার শরীরের জন্য কোনটা সঠিক সেটা একমাত্র একজন চিকিত্সকই বলতে পারবেন৷ তাই একজন ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ নিতে পারলে আপনারই ভাল৷ এই সময় থেকে হাড়ের ক্ষয় শুরু হয়, হৃদরোগের আশঙ্কা বাড়ে, সে সব মাথায় রেখে রোজের প্রোটিন, ক্যালশিয়াম, ফ্যাট, কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ ঠিক করতে হবে৷

বয়স চল্লিশ হয়ে গেছে বলেই যে কঠিন ডায়েটিং শুরু করতে হবে, তা নয়। শুরুতে খাওয়া-দাওয়া নিয়ন্ত্রণ আপনার জন্য কঠিন মনে হবে। কিন্তু নিজেকে বলুন, এটা আপনার ভালোর জন্যই করতে হচ্ছে। এ ছাড়া আরেকটি বিষয়ে খেয়াল রাখুন। ওজন কমানোর একই পদ্ধতি সবার জন্য কাজ করে না। যে পদ্ধতিটি আপনার উপকারে আসছে, সেটাই অনুসরণ করতে থাকুন। কোনও একটি পদ্ধতিতে কাজ না হলে অন্য কিছু চেষ্টা করে দেখুন।

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.