যে পরিচালকের রক্ষিতা আজীবন‚ তাঁর দুই ছেলেই খুন করায় এই সুন্দরী নায়িকাকে

11559

পরিণতির দিক দিয়ে শ্রীদেবীর থেকেও হতভাগ্য প্রিয়া রাজবংশ | অতীতের এই অভিনেত্রীকেও নিথর অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল বাথরুমে | প্রথমে বলা হয়েছিল প্রচুর মদ্যপানে স্বাভাবিক মৃত্যু | তারপর বলা হল আত্মহত্যা | শেষে ময়নাতদন্ত নিশ্চিত করল শ্বাসরোধ করে মৃত্যু | যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত এক পরিচালকের দুই ছেলে এবং আরও দুই ষড়যন্ত্রী |

প্রিয়া ছিলেন সিমলার মেয়ে | জন্মগত নাম বীরা সুন্দর সিং | পড়াশোনা সিমলার সাহেবি স্কুল ও কলেজে | উচ্চপদস্থ বাবার দৌলতে পাঠ নিয়েছিলেন লন্ডনের Royal Academy of Dramatic Art বা RADA-তেও | ছোট থেকেই শখ ছিল অভিনয়ের | তাঁর একটি ফোটোগ্রাফ কোনওভাবে চলে আসে চেতন আনন্দের হাতে |

দেব ও বিজয় আনন্দের ভাই পরিচালক চেতন তখন নতুন মুখ খুঁজছিলেন তাঁর আসন্ন ছবি হকীকৎ-এর জন্য | সুযোগ পেলেন বীরা | নতুন নাম হল প্রিয়া রাজবংশ | ১৯৬৪ সালে তৈরি ওই ছবি হিন্দি ভাষার ওয়র ফিল্মের মধ্যে অন্যতম | প্রিয়ার হিন্দি উচ্চারণ ছিল আড়ষ্ট | বিদেশি টান স্পষ্ট সেখানে | ফলে অন্য পরিচালকের কাছে সুযোগ পাননি | চেতনের পরিচালনায় অভিনয় করেছেন হকীকৎ‚ হীর রঞ্ঝা‚ হিন্দুস্তান কি কসম‚ কুদরত্‚ হাথো কি লকীড়েঁ-এর মতো ছবিতে |

ফিল্মি কেরিয়ারে সাফল্য এসেছে মিশ্র | কিন্তু বাণিজ্যিক সম্পর্ক পেরিয়ে চেতন-প্রিয়া তখন ব্যক্তিগত পরিসরে | চেতনের প্রথম স্ত্রী ছিলেন উমা | অ্যাঙ্কর উমা অভিনয়ও করেছিলেন নায়িকা হিসেবে | কিন্তু সে বিয়ে সুখের হয়নি | বিবাহবিচ্ছিন্ন চেতন আঁকড়ে ধরলেন বয়সে ষোল বছরের ছোট প্রিয়াকে |

দুজনে লিভ ইন করতেন | যদিও প্রিয়ারও আলাদা ফ্ল্যাট ছিল মুম্বইয়ের জুহুতে | দুর্দান্ত ডিগনিফায়েড এই সুন্দরী কোনওদিন বিয়েই করেননি | তাঁর একমাত্র আশ্রয় তখন চেতন | প্রিয়ার দুই ভাইই ততদিনে বিদেশে সেটলড | একজন আমেরিকায় | অন্যজন ইংল্যান্ডে |

এমন এক পরিস্থিতিতে বজ্রাঘাত | ১৯৯৭ সালে প্রয়াত হলেন চেতন |

তাঁর বিশাল বাংলো নিয়ে এ বার টানাটানি | জুহুতে রুইয়া পার্কে চেতনের সুবিশাল সেই বাংলো তিন ভাগ করা ছিল উইলে | চেতন উইল করে গিয়েছিলেন এর এক তৃতীয়াংশ প্রিয়ার | বাকি অংশ দুই ভাগে বিভক্ত চেতনের দুই ছেলে কেতন ও বিবেক আনন্দের মধ্যে |

সেই বাংলোর বাথরুমে ২০০০ সালের ২৭ মার্চ পাওয়া যায় নিহত প্রিয়াকে | স্বাভাবিক মৃত্যু-আত্মহত্যা-সহ নানা অনুমান-জল্পনার ধাপ পেরিয়ে ময়নাতদন্তে জানা যায় শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছিল প্রিয়াকে |

ষড়যন্ত্রী হিসেবে গ্রেফতার করা হয় কেতন ও বিবেক আনন্দ‚ বাড়ির পরিচারিকা মালা চৌধুরী এবং এক কর্মচারী অশোক চিন্নাস্বামীকে | পুলিশি জেরায় তারা স্বীকার করে বাংলো নিয়েই বিবাদ | আর্থিক অভাবে নিজের মালিকানার অংশ বেচতে চেয়েছিলেন প্রিয়া | কিন্তু বাধা দেয় দুই ভাই‚ কেতন-বিবেক | বাবার বাংলোয় বিবাহ সম্পর্ক বহির্ভূত নারীর অধিকার মানতে পারেনি তারা | তাদের চক্রান্তে মালা ও অশোক শ্বাসরোধ করে প্রিয়াকে খুন করে বলে তদন্তে প্রকাশ |

চেতনের মতো তাঁর দুই ছেলের বিবাহিত জীবনও সুখের ছিল না | কেতন আনন্দের জার্মান স্ত্রী আত্মঘাতী হয়েছিলেন | বিবেকের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক ছিল পরিচারিকা মালার | প্রিয়ার দুই খুনি মালা-অশোক ও খুনের দুই চক্রী কেতন-বিবেকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয় নিম্ন আদালতে | কিন্তু পরে হাইকোর্টে জামিনও পেয়ে যান | তাঁরা জামিনে | তবে মামলা চলছে | বলা হয়‚ জুহুতে প্রিয়ার যে নিজস্ব ফ্ল্যাট ছিল সেটাও নাকি ভূতুড়ে |

(পুনর্মুদ্রিত )

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.