টেলিফোন কল

1268

মূল গল্প – রোবের্তো বোলান্যিও

অনুবাদ জয়া চৌধুরী

*************************

খ অনুস্বরের প্রেমে পড়েছে | নিশ্চিতভাবে একটা অসুখী প্রেমের চেষ্টা করছে | খ ওর জীবনের এই পর্বে অনুস্বরের জন্য সব করতে রাজী | প্রেমিক প্রেমিকারা মোটের ওপর যা যা বলে, সব করতে চায় সে | অনুস্বর খ পুরুষটির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে দেয় | ছিন্ন করে টেলিফোন কোরে | প্রথম প্রথম খ এর কষ্ট হয় | কিন্তু কিছু সময় চলে গেলে যেমন হয়, সে সামলে নেয় | জীবন, সিরিয়ালে যেমন হয়, চলতেই থাকে | বছরের পর বছর চলে যায় |

একদিন রাতে কোনোকিছু করবার নেই দেখে খ চেষ্টা করে | দুবার ডায়াল করার পর টেলিফোনে অনুস্বরকে ধরতে পারে | দুজনের কেউই যুবক যুবতী নেই আর | সেটা স্পেনের একপ্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে যাওয়া ফোনকলের পাওয়া গলার আওয়াজ শুনলেই বোঝা যাচ্ছে | বন্ধুত্বটা আবার জেগে উঠল, এবং কদিন কেটে গেলে তারা সিদ্ধান্ত নিল আবার দেখা করবে | দুপক্ষই বিবাহবিচ্ছেদ, নতুন নতুন অসুখ বিসুখ আর হতাশা বয়ে নিয়ে চলেছে | খ যখন অনুস্বরের শহরে যাওয়ার ট্রেনে উঠল তখন আর প্রেম নেই খ এর মনে | প্রথম দিনটা অনুস্বরের বাড়িতে বসে থেকে নিজেদের জীবনের কথা বলতে বলতেই কেটে গেল (বাস্তবে অনুস্বর বলে গেল আর কচ্চিত কখনো খ জিজ্ঞেস করল দু-একটা কথা) | রাতে অনুস্বর তার বিছানায় খ-কে ডাকল | খ-এর মনে অনুস্বরের সঙ্গে এক বিছানায় শোয়ার কোনো ইচ্ছে ছিল না, কিন্তু আমন্ত্রনটা নিয়ে নিল | পরদিন সকালে ঘুম ভেঙে উঠবার পরে খ আবার অনুস্বরের প্রেমে পড়ে গেল | কিন্তু সে কি অনুস্বরের প্রেমে পড়ল, না প্রেমে পড়ার ধারণাটার প্রেমে পড়ল? সম্পর্কটা সমস্যাপূর্ণ আবার গভীরও | অনুস্বর প্রতিদিন আত্মহত্যার কাছাকাছি ঘোরাফেরা করছে | সে মানসিক চিকিত্সা করাচ্ছিল (বড়ি, অনেক অনেক বড়ি, যদিও একটাও কোনো কাজে আসছে না) | প্রায়ই কান্নাকাটি করে এবং দেখে মনে হয় সেটা কোনো কারণ ছাড়াই | তাই খ অনুস্বরকে পাহারা দেয় | তার সাহায্য আদরমাখা, সজাগ আর বকর মতো | তার সেই সাহায্যগুলো ঠিক যেন ভালোবেসে করা সাহায্যকে নকল করে | খ এটা খেয়াল করতে দেরী করে নি | ভাবে যেন অনুস্বর তার হতাশা থেকে বেরিয়ে আসে | কিন্তু বারবারই দেখে সে একটা অন্ধগলিতে আটকে গেছে অথবা অনুস্বর ভাবে যে সেখান থেকে সে নিজে বের হতে পারবে না |মাঝে মাঝে যখন সে একা থাকে বা অনুস্বরকে ঘুমোতে দেখে তখন খ-ও ভাবতে থাকে অন্ধগলি থেকে বেরোনোর কোনো পথ নেই | পাল্টা ওষুধ প্রয়োগ করবার জন্য তাদের পুরনো প্রেমের ঘটনাগুলো মনে করতে থাকে | ভাবে চায় যে সে অনুস্বরকে ছাড়াই বাঁচতে পারবে বা একাই বাঁচতে পারবে | একদিন রাতে অনুস্বর তাকে বলল সে যেন চলে যায় | সে ট্রেন ধরে এবং শহর ছেড়ে চলে যায় | স্টেশনে অনুস্বর তাকে বিদায় জানাতে যায় | বিদায়টি ভালবাসা মাখা অথচ আশাহীন | খ রিজার্ভ করা আসনে ভ্রমণ করছিল তবুও অনেকক্ষণ দুচোখের পাতা একা করতে পারে নি | শেষ পর্যন্ত ঘুম যখন এল স্বপ্ন দেখল একটা বরফের বাঁদর মরুভূমির ওপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে | বাঁদরের চলার পথটা সীমাবদ্ধ আর ব্যর্থতার দিকে তার মুখ ঘোরানো | কিন্তু বাঁদরটা এটা না জানতেই চাইল | তার ধূর্তামি তখন সদিচ্ছায় পরিনত হলো | রাতে হাঁটতে লাগলো, শীতল তারারা যেমন মরুভূমি ভাসিয়ে নিয়ে থাকে | জেগে উঠে খ, (ততক্ষণে বার্সেলোনার স্যান্স স্টেশনে গাড়ি পৌঁছেছে ) মনে করে সে স্বপ্নটার মানে বুঝতে পেরেছে (যদি আদৌ কোনো মানে থাকে ) | এবং সেটি তার বাড়ি ফিরে যাওয়ার ন্যুনতম সান্ত্বনা হয়ে দাঁড়িয়েছে | সেই রাতে সে অনুস্বরকে ফোন করে এবং স্বপ্নটা বলে | অনুস্বর কিছুই বলে না | পরের দিন সে আবার অনুস্বরকে ফোন করে | তার পরের দিন আবারও | প্রতিবার অনুস্বরের ব্যবহার আরো শীতল হতে থাকে | যেন যত সময় যেতে থাকে খ তার প্রতিটি ফোনের সাথে সাথে অনুস্বরের কাছ থেকে অনেক দূরে সরে যেতে থাকে | আমি মুছে  যাচ্ছি – ভাবে খ | এই কাজটা আমাকে মুছে দিচ্ছে | আর সে জানে যে কী হয় আর কেন হয়? একদিন রাতে খ অনুস্বরকে ধমক দেয় যে পরের দিন ট্রেন ধরে তার বাড়ি চলে আসবে | অনুস্বর বলে এটা তোমার মাথায় আসে না | আমি যাবই –খ বলে | আমি আর এইসব টেলিফোন কল সহ্য করতে পারব না | তুমি যখন কথা বল আমি তখন তোমার মুখ দেখতে চাই | তোমায় দরজা খুলে দেব না –বলে অনুস্বর, তারপর ফোনটা কেটে দেয় | খ কিছু বুঝতে পারে না | অনেকক্ষণ ধরে ভাবতে থাকে এটা কী করে সম্ভব যে একজন মানুষ তার ইচ্ছা আর অনুভূতির চরম সীমার একপ্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে এমন করে বদলে যায় | তারপর প্রচুর মদ খেয়ে নিজেকে বইয়ের মধ্যে গুঁজে সান্ত্বনা খোঁজে সে | দিন কেটে যায় | ছ মাস পড়ে একদিন রাতে খ অনুস্বরকে ফোন করে | তার গলা চিনতে দেরী হয় অনুস্বরের | – আঃ তুমি? – বলে সে | অনুস্বরের শীতলতা কেমন যেন চুল খাড়া করে দেয় | খ ভেবে নেয় যে যাই হোক, অনুস্বর কিছু বলতে চায় | – ও আমার কথা শুনছে, যেন এর মধ্যে এতটা সময় কেটে যায় নি – ভাবল খ – যেন গতকালও আমরা কথা বলেছি | কেমন আছ? – বলে সে – কিছু বল | অনুস্বর একাক্ষরে উত্তর দেয় এবং শেষ হওয়া মাত্র ঘটাং করে ফোনটা রেখে দেয় | হতচকিত হয়ে খ তার ফোন নাম্বারটা ডায়াল করে | যখন উত্তর দেয় তখন বলাবাহুল্য খ চুপ করে থাকাই শ্রেয় মনে করে | ওপর প্রান্ত থেকে অনুস্বরের কন্ঠ বলে ওঠে – কে বলছেন? – নিস্তব্ধতা | তারপর –বলুন – বলে সে নীরব হয়ে থাকে | – সময়, সময় খ কে অনুস্বরের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে, অথচ খ সেটা বুঝতেই পারে না, লাইনটা ধরেই থাকে, আঁকড়ে থাকে, দীর্ঘ সময় ধরে থাকে | তার স্বাভাবিকত্ব ছেড়েই দেয় | খ খেয়াল করে না যে সে কাঁদতে শুরু করেছে | সে জানে যে অনুস্বর জানে যে কে ফোন করছে |তারপর নিঃশব্দে ফোনটা ছেড়ে দেয় |

এই পর্যন্ত গল্পটা অশ্লীল | দুঃখের, কিন্তু অশ্লীল | খ বুঝে যায় তার কক্ষনো অনুস্বরকে ফোন করা উচিত নয় | এক দিন দরজায় কে কড়া নাড়ে | দুজন পুলিশ ক আর চন্দ্রবিন্দু | তারা তাকে জেরা করতে চায় | খ এর কারণ জিজ্ঞাসা করল | ক এর উত্তর দিতে চাইছিল না | অনেক ঝোলাঝুলির পর চন্দ্রবিন্দু একটা বুদ্ধুর মতো সরেজমিনে সব দেখে উত্তরটা দিলো | তিনদিন আগে স্পেনের বিপরীত প্রান্তে কে বা কারা অনুস্বরকে খুন করে রেখে গেছে | প্রথমে খ ভেঙে পড়ল | তারপর বুঝতে পারল সে নিজে অন্যতম সন্দেহভাজন | এবং বেঁচে থাকার তাগিদে সে নিজেকে রক্ষা করতে তত্পর হলো | ঠিক দুটো দিন ধরে পুলিশ তাকে জেরা করল | খ মনে করতে পারে না সে কী করেছে | সেইসব দিনগুলোয় সে কার সঙ্গে দেখা করেছে | সে জানে কী করে না জেনে থাকা যায়, সে বার্সেলোনা থেকে কোত্থাও নড়ে নি, আরো নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে সে নিজের এলাকা থেকেই বেরোয় নি, বাড়ি থেকেও নয় | কিন্তু তা প্রমাণ করতে পারল না | পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে গেল | থানায় রাত কাটাল খ |

জেরার কোনো এক সময়ে তাকে ওরা অনুস্বরের শহরে নিয়ে গেল, অদ্ভুতভাবে | সম্ভবত তাকে অকুস্থলে নিয়ে ভেঙে ফেলার জন্য, কিন্তু শেষ পর্যন্ত টা হলো না | ওরা তার আঙুলের ছাপ নিয়ে গেল আর তার রক্ত পরীক্ষা করবারও অনুমতি চাইল | খ রাজী হলো | পরের দিন সকালে ওরা তাকে বাড়ি ফেরবার জন্য ছেড়ে দিলো | সরকারী ভাবে খ গ্রেফতার হয়নি | শুধু একটা হত্যার ব্যাপারে তদন্তের জন্য পুলিশ তার সাহায্য নিয়েছে | বাড়ি ফিরে খ বিছানায় ছুঁড়ে দিলো নিজেকে এবং সঙ্গে সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়ল | একটা মরুভূমির স্বপ্ন দেখল, অনুস্বরের স্বপ্ন দেখল | ঘুম ভাঙার একটু আগে বুঝতে পারল দুটো একই | মরুভূমিতে হারিয়ে গিয়েছিল বলে অতটা কষ্ট হলো না তার |

রাতে একটা ব্যাগে কিছু দড়ি ঢোকালো | তারপর অনুস্বরের শহরে যাবার ট্রেন যে স্টেশন থেকে ছাড়ে সেদিকে রওয়ানা হলো | স্পেনের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে যাওয়ার সময় ট্রেনে ঘুমোতে পারল না | পুরোটা সময় ভাবতে ব্যস্ত থাকলো যে – কি কি সে করতে পারল আর তার সঙ্গে কি কি হলো | কি কি সে অনুস্বরকে দিতে পারত অথচ দেওয়া হলো না | – আর এও ভাবল যে – যদি আমি এভাবে মরে যেতাম অনুস্বর উল্টোটা করত না যেমন আমি যাচ্ছি এখন | – আর তাই ভাবল সে – আমিই বেঁচে আছি | যাত্রাপথে তন্দ্রার ঘোরে অনুস্বরকে তার সত্যিকারের চেহারায় দেখল সে | মনের মধ্যে তার জন্য আবার ভালবাসা জেগে উঠলো | নিজেকে আমল দিতে চাইল না সে, খানিকটা অনিচ্ছুকভাবেই | শেষবারের মতো | অনেক আগেই ভর ভর পৌঁছে গিয়ে অনুস্বরের ভাইয়ের বাড়ির দিকে রওনা হলো | অনুস্বরের ভাই অবাক হয়ে গেল | কিছুটা আশ্চর্যও | যাই হোক ভেতরে আসতে বলল, এক কাপ কফিও দিলো | তখনো তার পুরো পোশাক পরা হয়নি, শুধু মুখটা ধোয়া | সে স্নান করে নি, একথা খ জেনে নিল | কেবল মুখ ধুয়ে চুলে জলের হাত বুলিয়ে নিয়েছিল | খ কফিটা খেল | পড়ে বলল যে সে অনুস্বরের খুনের কথা জানতে পেরেছে, পুলিশ তাকে জেরা করেছিল, এবং জেরার সময় কী ঘটেছিল সব সে বলেছে | রান্নাঘরে কফি বানাতে বানাতে অনুস্বরের ভাই – এটা খুব দুঃখজনক ঘটনা | কিন্তু আমি তো বুঝতে পারছি না এর মধ্যে তোমার ভূমিকাটা কী ? – পুলিশ ভাবছে আমি খুন করতে পারি ওকে – বলল খ | অনুস্বরের ভাই হেসে উঠলো | -তোমার সবসময় কপালটা পোড়াই রয়ে গেল | খ ভাবল এরকম অদ্ভুত কথা কেন বলল ওর ভাই, যখন কিনা সংক্ষেপে আমি বেঁচেই রয়েছি | তবে একই সঙ্গে তার নিরপরাধতা নিয়ে সন্দেহ করে নি দেখে খুশি হলো | পরে ওর ভাই কাজে বেরিয়ে গেল, আর খ বাড়িতেই রয়ে গেল | এক মুহূর্ত পরেই খুব ক্লান্ত হয়ে গভীর ঘুমে ঘুমিয়ে পড়ল | আর অনুস্বর নিজেকে আটকে রাখতে পারল না, তার স্বপ্নে এসে হাজির হলো |

জেগে উঠে ভাবল সে জানে খুনী কে | সে তার মুখটা দেখেছে | সেদিন রাতে অনুস্বরের ভাইয়ের সঙ্গে বেরোল | পানশালায় ঢুকলো তারা | হাবিজাবি কথা বলে কাটালো | যতই মাতাল হতে চাইছিল ততই সে হচ্ছিল না | নির্জন শুনশান রাস্তা দিয়ে তারা যখন বাড়ি ফিরছিল. খ তাকে বলল যে একদিন সে অনুস্বরকে ফোন করেছিল, অনুস্বর কথা বলে নি | হারামি মেয়েছেলে – বলল অনুস্বরের ভাই | খ বলল – শুধু একবার সে ফোন করেছিল | কিন্তু তারপর সে বুঝেছিল অনুস্বর এরকম ফোন পেতে ভালবাসত | – ও বিশ্বাস করত যে সেটা আমি, বুঝলে? – খ বলল | -খুনী এইসব অজানা ফোন কলারদেরই কেউ হবে? অনুস্বরের ভাই জিজ্ঞেস করল | – ঠিক তাই – বলল খ | – আর অনুস্বর ভাবত কিনা সেই কলার আমি | অনুস্বরের ভাই চোখের তলাটা কচলাল | – আমার মনে হয় খুনী ওর পুরনো প্রেমিকদের কেউ | – বলে সে | – আমার দিদির অনেক প্রেমিক ছিল | খ উত্তর না দেওয়াই শ্রেয় মনে করল (দেখে মনে হলো অনুস্বরের ভাই বিভ্রান্ত), দুজনে চুপচাপ বাড়ি পর্যন্ত হেঁটে এল |

লিফটে উঠে খ এর মনে হলো বমি করে দেয় | – বমি করব – বলে সে | – সহ্য করো – বলে অনুস্বরের ভাই | তারপর বারান্দা দিয়ে দ্রুত হেঁটে গেল | অনুস্বরের ভাই দরজা খুলল | তীরের মতো কলঘরের দিকে ছুটে গেল খ | কিন্তু সেখানে পৌঁছে বমি করার ইচ্ছেটা হারিয়ে ফেলল সে | সে ঘামছিল | পেটটা ব্যথা করছিল তার | কমোডের ঢাকনা খুলে তার মনে হচ্ছিল যেন একটা আঠালো মুখ তার দিকে তাকিয়ে হাসছে | অথবা অন্য কেউ হাসছে | তার কাছে একই মনে হলো | মুখ ধুয়ে আয়নায় তাকাল | মুখটা কাগজের মতো সাদা | বাকি রাতটা ঘুম প্রায় এলই না | ভাবল পড়ে কাটিয়ে দেবে | অনুস্বরের ভাইয়ের নাক ডাকার আওয়াজ শুনে কাটল | পরদিন সকালে তার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে খ বার্সেলোনায় ফিরে এলো | আর কক্ষনো এই শহরে ফিরব না – ভাবল খ | – আর তো অনুস্বর নেই |

এক সপ্তাহ পরে খুনীকে পুলিশ ধরেছে সেকথা বলার জন্য অনুস্বরের ভাই তাকে ফোন করল | আসামী অনুস্বরকে অজানা ফোন করে উত্তক্ত্য করত | খ উত্তর দিলো না | পুরনো প্রেমিক – বলল অনুস্বরের ভাই | -জেনে খুশি হলাম – বললো খ | – ফোন করার জন্য ধন্যবাদ | তারপর অনুস্বরের ভাই ফোনটা কেটে দিলো | খ একা বসে রইল |

Advertisements

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.