সংসারের হাল ধরতে বাবার রাখা ক্ষুর-কাঁচিই হাতে তুলে নিল দুই কন্যা

সমাজই মানুষকে যুগ যুগ ধরে জানিয়ে দিয়েছে কোন কাজগুলো করবে পুরুষ আর কোন কাজগুলো নারীর | নারী সামলাবে ঘর‚ আর পুরুষ সামলাবে ঘরের বাইরের কাজ  এমন ধারণায় আজও বিশ্বাস করেন বহু মানুষ | কিন্তু চিরাচরিত ধ্যানধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নারীও নেমে পড়েছে পৃথিবীর কর্মক্ষেত্রে | আর তারই উদাহরণ উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরের দুই কন্যা |

২০১৪ তে ১১ বছরের নেহা ও ১৩ বছরের জ্যোতির বাবা ধ্রুবনারায়ণের স্ট্রোক হওয়ার পর তিনি প্যারালইসিসড হয়ে পড়েন | সহায় সম্বলহীন দুই বোনের কাছে শয্যাগত বাবার সেলুনটি চালানো ছাড়া রুজি রোজগারের আর কোনও পথ খোলা ছিল না | মেয়ে হয়েও সেলুন চালাবার খোঁটা থেকে নিজেদেরকে বাঁচাতে নিজেদের চুলই ছেলেদের মত ছোট করে কেটে পুরুষের মত সাজসজ্জায় সেলুনের গ্রাহকদের চুল  দাড়ি কাটার কাজে লেগে পড়ে দুই মেয়ে |

সেলুনের যাবতীয় খরচ ও ভাড়া মিটিয়ে দিনে ১০ ঘন্টা কাজ করে একশো  দুশো টাকা রোজগার করত দুই বোন | বছরের পর বছর নিজের মেহনতে গ্রাহক সংখ্যা বাড়িয়ে এখন দিনে প্রায় চারশো থেকে পাঁচশো টাকার মত রোজগার হয় তাদের | তাদের চূড়ান্ত দুর্দশার দিনে আঞ্চলিক রাজনীতিবিদ বা জেলার কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে কেউই তাদের সাহায্য করতে আসেননি | আঞ্চলিক কিছু সংবাদ মাধ্যম তাদের সংগ্রামের কাহিনি মানুষের সামনে আনলে তা মানুষের নজর কাড়ে | সাহায্যের হাত বাড়তে এগিয়ে আসেন কুশিনগর এলাকার মহকুমা শাসক অভিষেক পান্ডে এবং স্থানীয় সাংসদ মানি ত্রিপাঠি | তাঁরা দুই বোনকে অর্থ সাহায্য করেন | তাছাড়াও মহকুমা শাসক অভিষেক পান্ডে জানান যে মেয়েরা যাতে সব কাজেই এগিয়ে যেতে পারে তাই এই সাহায্য | তিনি জানিয়েছেন নেহা ও জ্যোতি যাতে একটি বিউটি পার্লার খুলে তাতে কাজ করতে পারে তার জন্য রাজ্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাবেন তিনি |

অজুহাত দিয়ে কাজ এড়িয়ে যাওয়া মানুষদেরকে যথাযোগ্য শিক্ষা দিতে পারে এই দুই হার  মানা  মেয়ে |

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

Please share your feedback

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Illustration by Suvamoy Mitra for Editorial বিয়েবাড়ির ভোজ পংক্তিভোজ সম্পাদকীয়

একা কুম্ভ রক্ষা করে…

আগের কালে বিয়েবাড়ির ভাঁড়ার ঘরের এক জন জবরদস্ত ম্যানেজার থাকতেন। সাধারণত, মেসোমশাই, বয়সে অনেক বড় জামাইবাবু, সেজ কাকু, পাড়াতুতো দাদা