মাথার চুল উঠে যাচ্ছে? তাহলে হেয়ার ট্যাটু আপনার জন্য আদর্শ

265

ট্যাটুর কালচার পশ্চিমবঙ্গে বেশ পুরনো। তার আগে পর্যন্ত মেলার মাঠের উল্কি দিয়ে নিজের প্রিয়জন বা ঠাকুর-দেবতার নাম খোদাই করার চল ছিল। আমাদের অবাঙালি বন্ধু-বান্ধবের ঠাকুমা-দিদার হাতে এই ধরণের উল্কি দেখা যায়। কিন্তু আজকের জেন এক্স বা ওয়াই-এর মধ্যে উল্কির কনসেপ্ট বেশ পুরনো। একটা সামান্য প্রজাপতি বা পাখীর ছবি থেকে শুরু করে গোটা শরীরে যীশু খ্রীস্ট সবই এখন স্টাইলে ইন। কিন্তু হালফিলের ফ্যাশনে বিশেষভাবে জায়গা করে নিয়েছে ‘হেয়ার ট্যাটু’।

হ্যাঁ ঠিকই শুনেছেন। এতে আপনার মনে হতে পারে একেই মাথার চুল উঠে টাক পড়ে যাচ্ছে, তার মধ্যে আবার ট্যাটু! মাথার চুল উঠে যাওয়াই যদি সমস্যা হয়, তাহলে এটাই আপনার জন্য আদর্শ। এবার নিশ্চয়ই মনে প্রশ্ন জাগছে কী এই হেয়ার ট্যাটু? মূলত এটি চুলের উপর করা ডিজাইন, যা মাথার চুলে কাটিং বা কলপ বা কালার-এর সাহায্যে করা হয়ে থাকে। সাধারণ ট্যাটুর মতো হেয়ার ট্যাটুও কাসটোমাইজ করা যেতে পারে, ব্লন্ড কালার এখন খুব ইন। এই ধরনের হেয়ার ট্যাটু আবার তিন রকমের হয়ে থাকে। সাধারণত যেভাবে ট্যাটু হয়, সেভাবেই ন্যাড়া মাথায় নিডেলের সাহায্যে বিভিন্ন ডিজাইন করে তাতে পড়ে নানান রঙের ছোঁয়া। আর একরকম হয়ে থাকে যে, চুল কেটেই বিভিন্ন রকমের ডিজাইন করে বানানো হয় ট্যাটু। আর একরকম মেটাল স্ট্রিপ হয় যা আপাতভাবে হেয়ার ব্যান্ডের মতো দেখতে হয়, মেটাল স্ট্রীপের নীচে লাগানো থাকে আঠা। এবার সেই আঠা খুলে চুল বরাবর লাগিয়ে নিলেই হল।

কোথা থেকে এল এই ইউনিক কনসেপ্ট?
বিখ্যাত ফ্যাশন স্টাইলার ক্যানি ওয়েস্ট-কে এই স্টাইলের স্রষ্টা হিসেবে ধরা হয়। একবার একটি ফ্যাশন শো-তে মডেলদের চুল বাঁধার ধরণ কি হবে তা ভাবতে ভাবতে তিনি এই ধরনের হেয়ার স্টাইলটি পরীক্ষামূলকভাবে কাজে লাগান, পরে সেটাই ধীরে ধীরে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে আসেন তিনি। যদিও বলে রাখা ভাল যে, আমাদের দেশে মেয়েরা চুলের কাটিং বা কালার নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করলেও এই স্টাইল স্টেটমেন্ট এদেশে এখনও সেভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি।

বিদেশের বেশকিছু হেয়ার স্টাইলারের কথায় হেয়ার ট্যাটু ছোট, বড় বা মাঝারি যে-কোনও চুলের উপরেই করা যেতে পারে। বিদেশে প্রচলিত কয়েকটি হেয়ার ট্যাটু হল-
* ব্ল্যাক র‍্যাবিট হেয়ার ট্যাটু, যেখানে চুলের উপর কাটিং এবং ডাইং করে মিষ্টি একটি খরগোসের ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়।

* পিঙ্ক সিগনেচার, মুলত আপনার সই চুলের কাটিং এবং রঙের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়। মেয়েরা সাধারণত গোলাপী রং বেশি পছন্দ করে বলেই এমন নামকরণ।

* কসমিক কমিক, চুলকে ভীষণ আকর্ষণীয় করে তোলে। লাল, নীল, হলুদ, সবুজ ইত্যাদি নানা রঙে রাঙিয়ে নেওয়া যেতে পারে চুলকে।

*আন্ডার দ্য সি, এতে মূলত সমুদ্রের দুটি রং ব্যবহার করা হয়ে থাকে- নীল এবং সবুজ।

* ক্লিন লাইন, এতে সাধারণ একটা লাইন টানা হয়, যা সোজা হতে পারে আবার কার্ভও হতে পারে।

* অটমস সিক্রেট, চুলের মধ্যে ফুটিয়ে তোলা হয় এক টুকরো শরতকাল, ম্যাপল-এর পাতা এবং রডোডেনড্রন ফুটিয়ে তোলা হয়ে চুলের ছাঁটে।

সবশেষে একটা কথা বলতেই হয় যে, ‘প্যাহলে দর্শনধারী’, স্টাইল স্টেটমেন্ট সেটাই হওইয়া উচিত যা আপনার ব্যক্তিত্ত্বের সঙ্গে মানানসই। কারণ ঝোঁকের বশে এমন স্টাইল কখনওই করা উচিত নয় যাতে তা কোনওভাবে দৃষ্টিকটূ বা উদ্ভট দেখায়।

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.