খরাপীড়িত প্রান্তে সাধুর অভিশাপের ফসল এই প্রাসাদ আজ রাজকীয় পর্যটক-আবাস

খরাপীড়িত প্রান্তে সাধুর অভিশাপের ফসল এই প্রাসাদ আজ রাজকীয় পর্যটক-আবাস

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

বিশ্বের সেরা হোটেলগুলি নিয়ে ২০১৫ তে একটি সমীক্ষা চালানো হয়েছিল ৷ মূলত ভ্রমণকারীদের মতামতের ভিত্তিতেই এই সমীক্ষা ৷ একটি ভ্রমণ সংস্থা এই সমীক্ষা চালিয়েছিল ৷ বিশ্বের সমস্ত নামী-দামী হোটেলে যাঁরা থেকেছেন, তাঁদের মতামত বিচার করার পরই বিশ্বের পয়লা নম্বর নির্বাচিত হয় যোধপুরের উমেদ ভবন প্যালেসটি৷

মহারাজা উমেদ সিং-এর সময়ে এই প্রাসাদটি তৈরি করা হয়েছিল৷ ১৯২৮ সালে এর কাজ শুরু হয়, শেষ হয় ১৯৪৩ সালে। এই উমেদ ভবন প্রাসাদ নির্মাণের পিছনে একটি ছোট্ট গল্প রয়েছে৷ শোনা যায়, সেই সময়ে এক সাধুর অভিশাপে ১৯২০ সাল নাগাদ রাজ্যে পরপর তিন বছর খরা ও তার ফলে দুর্ভিক্ষের সৃষ্টি হয় ৷ অসহায় কৃষকেরা তখন মাওয়ারের ৩৭ তম শাসক উমেদ সিং-এর শরণাপন্ন হয়৷ তিনি এই কৃষকদের কর্মসংস্থানের জন্য এই মহিমান্বিত প্রাসাদ নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নেন৷


প্রায় ১৪ বছর ধরে স্থপতি হেনরি ভন ল্যাঞ্চেস্টারের তত্ত্বাবধানে এক কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি করা হয়েছিল এই উমেদ ভবন। এই ভবনটি রয়েছে ২৬ একর জায়গা জুড়ে। হোটেলটির মাথায় রয়েছে ইউরোপিয়ান সংস্কৃতিতে গড়ে ওঠা ৩২ মিটার উঁচু মনুমেন্ট। আবার অন্য দিকে রাজপুত সংস্কৃতির আদলে টাওয়ারও। পুরো রাজবাড়িটাই গোল্ডেন স্যান্ডস্টোন দিয়ে তৈরি। যা এই হোটেলের রয়্যাল লুকের অন্যতম কারণ। মারকানা মার্বেল-বার্মিজ টিক উডের অন্দরে পাবেন ৩৪৭ টি ঘর এবং একটি বিশাল ব্যাঙ্কোয়েট হল। এতে প্রায় ৩০০ অতিথির আপ্যায়ন সম্ভব। প্রতিটি দেওয়ালে রয়েছে রাজকীয় ছাপ৷ মার্বেলে উজ্জ্বল মেঝে, বিস্তৃত সাজানো বাগানে রয়েছে ময়ূরের আনাগোনা, যা অভিভূত করে দেয় এখানে আসা অতিথিদের৷

যোধপুর শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে পাহাড়চূড়ায় রয়েছে উমেদ ভবন । প্রথমে এর নাম ছিল চিতৌর প্যালেস। চিতৌর পাহাড় থেকে পাথর কেটে এই রাজবাড়ি তৈরি হওয়ায় জন্যই এই নামকরণ করা হয়েছিল । এটি ভাড়া নিতে খরচ হবে ন্যূনতম ৫০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা অবধি। এই খরচ শুধুমাত্র সাধারণ ঘর পিছুর গড় হিসেব। এর সঙ্গে রয়েছে অন্যান্য আলাদা খরচ।

রাজা উমেদ সিংহের নাতি দ্বিতীয় গজ সিংহ ১৯৭৭ সালে তাজ হোটেলিয়ার গোষ্ঠীকে এই ভবনের লিজ দিয়েছিলেন। সেই থেকে তাজ গ্রুপ এই প্রাসাদের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে। এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্ ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রাসাদ । শুধুমাত্র দেশের সেলিব্রিটিরাই নন, দেশের বাইরের অনেক সেলিব্রিটিরাও তাঁদের ডেস্টিনেশন ওয়েডিংয়ের জন্য বেছে নিয়েছিলেন এই ভবনটি। সম্প্রতি প্রিয়াঙ্কা ও নিকের বিবাহ সম্পন্ন হয় এই ভবনেই। এবং মুকেশ আম্বানির কন্যা ঈষার প্রিওয়েডিং এর অনুষ্ঠানও সম্পন্ন হয়েছে এখানেই।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

Leave a Reply

Handpulled_Rikshaw_of_Kolkata

আমি যে রিসকাওয়ালা

ব্যস্তসমস্ত রাস্তার মধ্যে দিয়ে কাটিয়ে কাটিয়ে হেলেদুলে যেতে আমার ভালই লাগে। ছাপড়া আর মুঙ্গের জেলার বহু ভূমিহীন কৃষকের রিকশায় আমার ছোটবেলা কেটেছে। যে ছোট বেলায় আনন্দ মিশে আছে, যে ছোট-বড় বেলায় ওদের কষ্ট মিশে আছে, যে বড় বেলায় ওদের অনুপস্থিতির যন্ত্রণা মিশে আছে। থাকবেও চির দিন।