ঘি তো নয়‚ যেন অমৃত !

ঘি তো নয়‚ যেন অমৃত !

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

ঘি বাঙালির কাছে অমৃতসমান | কয়েকফোঁটা ঘি আনতে পারে স্বাদের জাদু | নানা ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানেও ঘিয়ের ব্যবহার আছে | কিন্তু শুধু এখানেই সীমিত নয় ঘিয়ের গুণ | নিরাময়ক গুণ ছাড়াও ঘিয়ে রয়েছে ত্বকের ও স্বাস্থ্যের নানান উপকারিতা | ঘি ওমেগা৩ ফ্যাটি অ্যাসিড‚ ভিটামিন এ‚ বিউটিরিক অ্যাসিড ও হেলদি ফ্যাট সমৃদ্ধ | হজম ক্ষমতা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে ঘি | প্রয়োজনীয় ভিটামিনগুলি সরবরাহ করে ঘি প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে যার ফলে ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য ভাল থাকে | এছাড়াও ঘিয়ের যে সমস্ত উপকারীতাগুলি রয়েছে‚ আসুন জেনে নেওয়া যাক তাদের কথা |

হজমে সাহায্য করবে ঘি | রোজ রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে এক কাপ গরম দুধে ২ চামচ ঘি মিশিয়ে খেয়ে নিন | এতে থাকা বিউটিরিক অ্যাসিড কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ে সহায়তা করবে | অন্ত্রে খাদ্য শোষণেও সহায়তা করবে |

ঠান্ডা লাগলেই সঙ্গে সঙ্গে অনেকগুলি উপসর্গ দেখা দেয় শরীরে | নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে নিশ্বাঃস নিতে কষ্ট হওয়া‚ মুখের স্বাদ চলে যাওয়া এবং মাথাব্যথার মত উপসর্গগুলি চেপে বসে কাঁধে | নাক বন্ধ হওয়ার সমস্যার থেকে সমাধান পেতে সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই কয়েকফোঁটা ঈষদুষ্ণ ঘি নাকের মধ্যে দিয়ে দিন | তৎক্ষণাত বন্ধ নাক খুলে যাবে এবং গলা অবধি ইনফেকশন কমাতে অনেকখানিই সাহায্য করবে ঘি |

ঘিয়ে থাকা অ্যামাইনো অ্যাসিড ফ্যাট মেটাবলাইজ করতে সাহায্য করে যার ফলে ফ্যাট কোষগুলির বাড়বাড়ন্ত হওয়ার সুযোগ থাকে না | ওমেগা৩ ও ওমেগা৬ ফ্যাটি অ্যাসিডও ওজন কমাতে সাহায্য করবে | তাই ওজন কমাতে খাবারের সঙ্গেই মিশিয়ে নিতে পারেন ১ চামচ বাড়িতে বানানো বিশুদ্ধ ঘি |

আপনি যদি ডায়বেটিক রোগী হন তবে শুধুমাত্র ভাত বা রুটি খাওয়া আপনার জন্য সঠিক নয় | কারণ ভাত বা রুটির গ্লাইসেমিক ইনডেক্স অনেকটাই বেশি থাকে | ভাত বা রুটি খাওয়ার আগে তাতে অল্প একটুখানি ঘি মিশিয়ে নিলে তার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স অনেকখানিই কমে যাবে যার ফলে সেটি ডায়বেটিক রোগীদের জন্য উপকারী হয়ে উঠবে |

ত্বকের যত্নে ঘিয়ের জুড়ি মেলা ভার | একটি পাত্রে ২ চামচ ঘি‚ ২ চামচ বেসন‚ ১ চামচ কাঁচা হলুদ বাটা বা হলুদ গুঁড়ো আর অল্প একটি জল নিয়ে ভাল করে মিশিয়ে একটি মিশ্রণ বানিয়ে নিন | এবারে এই মিশ্রণটি সারা মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে তারপরে ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন | ঘিয়ের ফ্যাটি অ্যাসিড আপনার ত্বকের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সাহায্য করবে | ভাল ফল পেতে সপ্তাহে অন্তত দুদিন এই মিশ্রণটি ব্যবহার করার চেষ্টা করুন |

ফ্যাটি অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ঘি চুলের স্বাস্থ্য ভাল রাখার ক্ষেত্রেও খুবই উপকারী | ২ চামচ ঘিয়ের সঙ্গে ১ চামচ অলিভ অয়েল ভাল ভাবে মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে ২০ মিনিট রাখার পরে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন | এই মিশ্রণ আপনার চুলকে করে তুলবে কোমল | চুলে জট পড়বে না | খুশকির সমস্যা থাকলে ঘিয়ের সঙ্গে পাতিলেবুর রস মাথার স্ক্যাল্পে ভাল ভাবে মাসাজ করে আধঘন্টা পর শ্যাম্পূ করে নিন | খুশকি দূর হবে |

ঠোঁটের সুন্দর গোলাপি রং বজায় রাখতে রোজ রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে একটুখানি ঘি ঈষদুষ্ণ গরম করে ঠোঁটের উপরে লাগিয়ে নিন | ঘুম থেকে সকালবেলায় উঠে দেখতে পাবেন ঠোঁটের উপরে সাদা সাদা আঁশের মত জমে আছে | সেগুলোকে পরিষ্কার করে ধুয়ে ফেলুন জল দিয়ে | কয়েকদিন এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করলে নিজেই ঠোঁটের গোলাপি রং ফিরে আসতে দেখতে পাবেন |

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

Leave a Reply

Handpulled_Rikshaw_of_Kolkata

আমি যে রিসকাওয়ালা

ব্যস্তসমস্ত রাস্তার মধ্যে দিয়ে কাটিয়ে কাটিয়ে হেলেদুলে যেতে আমার ভালই লাগে। ছাপড়া আর মুঙ্গের জেলার বহু ভূমিহীন কৃষকের রিকশায় আমার ছোটবেলা কেটেছে। যে ছোট বেলায় আনন্দ মিশে আছে, যে ছোট-বড় বেলায় ওদের কষ্ট মিশে আছে, যে বড় বেলায় ওদের অনুপস্থিতির যন্ত্রণা মিশে আছে। থাকবেও চির দিন।