ঘি তো নয়‚ যেন অমৃত !

ঘি বাঙালির কাছে অমৃতসমান | কয়েকফোঁটা ঘি আনতে পারে স্বাদের জাদু | নানা ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানেও ঘিয়ের ব্যবহার আছে | কিন্তু শুধু এখানেই সীমিত নয় ঘিয়ের গুণ | নিরাময়ক গুণ ছাড়াও ঘিয়ে রয়েছে ত্বকের ও স্বাস্থ্যের নানান উপকারিতা | ঘি ওমেগা৩ ফ্যাটি অ্যাসিড‚ ভিটামিন এ‚ বিউটিরিক অ্যাসিড ও হেলদি ফ্যাট সমৃদ্ধ | হজম ক্ষমতা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে ঘি | প্রয়োজনীয় ভিটামিনগুলি সরবরাহ করে ঘি প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে যার ফলে ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য ভাল থাকে | এছাড়াও ঘিয়ের যে সমস্ত উপকারীতাগুলি রয়েছে‚ আসুন জেনে নেওয়া যাক তাদের কথা |

হজমে সাহায্য করবে ঘি | রোজ রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে এক কাপ গরম দুধে ২ চামচ ঘি মিশিয়ে খেয়ে নিন | এতে থাকা বিউটিরিক অ্যাসিড কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ে সহায়তা করবে | অন্ত্রে খাদ্য শোষণেও সহায়তা করবে |

ঠান্ডা লাগলেই সঙ্গে সঙ্গে অনেকগুলি উপসর্গ দেখা দেয় শরীরে | নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে নিশ্বাঃস নিতে কষ্ট হওয়া‚ মুখের স্বাদ চলে যাওয়া এবং মাথাব্যথার মত উপসর্গগুলি চেপে বসে কাঁধে | নাক বন্ধ হওয়ার সমস্যার থেকে সমাধান পেতে সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই কয়েকফোঁটা ঈষদুষ্ণ ঘি নাকের মধ্যে দিয়ে দিন | তৎক্ষণাত বন্ধ নাক খুলে যাবে এবং গলা অবধি ইনফেকশন কমাতে অনেকখানিই সাহায্য করবে ঘি |

ঘিয়ে থাকা অ্যামাইনো অ্যাসিড ফ্যাট মেটাবলাইজ করতে সাহায্য করে যার ফলে ফ্যাট কোষগুলির বাড়বাড়ন্ত হওয়ার সুযোগ থাকে না | ওমেগা৩ ও ওমেগা৬ ফ্যাটি অ্যাসিডও ওজন কমাতে সাহায্য করবে | তাই ওজন কমাতে খাবারের সঙ্গেই মিশিয়ে নিতে পারেন ১ চামচ বাড়িতে বানানো বিশুদ্ধ ঘি |

আপনি যদি ডায়বেটিক রোগী হন তবে শুধুমাত্র ভাত বা রুটি খাওয়া আপনার জন্য সঠিক নয় | কারণ ভাত বা রুটির গ্লাইসেমিক ইনডেক্স অনেকটাই বেশি থাকে | ভাত বা রুটি খাওয়ার আগে তাতে অল্প একটুখানি ঘি মিশিয়ে নিলে তার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স অনেকখানিই কমে যাবে যার ফলে সেটি ডায়বেটিক রোগীদের জন্য উপকারী হয়ে উঠবে |

ত্বকের যত্নে ঘিয়ের জুড়ি মেলা ভার | একটি পাত্রে ২ চামচ ঘি‚ ২ চামচ বেসন‚ ১ চামচ কাঁচা হলুদ বাটা বা হলুদ গুঁড়ো আর অল্প একটি জল নিয়ে ভাল করে মিশিয়ে একটি মিশ্রণ বানিয়ে নিন | এবারে এই মিশ্রণটি সারা মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে তারপরে ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন | ঘিয়ের ফ্যাটি অ্যাসিড আপনার ত্বকের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সাহায্য করবে | ভাল ফল পেতে সপ্তাহে অন্তত দুদিন এই মিশ্রণটি ব্যবহার করার চেষ্টা করুন |

ফ্যাটি অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ঘি চুলের স্বাস্থ্য ভাল রাখার ক্ষেত্রেও খুবই উপকারী | ২ চামচ ঘিয়ের সঙ্গে ১ চামচ অলিভ অয়েল ভাল ভাবে মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে ২০ মিনিট রাখার পরে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন | এই মিশ্রণ আপনার চুলকে করে তুলবে কোমল | চুলে জট পড়বে না | খুশকির সমস্যা থাকলে ঘিয়ের সঙ্গে পাতিলেবুর রস মাথার স্ক্যাল্পে ভাল ভাবে মাসাজ করে আধঘন্টা পর শ্যাম্পূ করে নিন | খুশকি দূর হবে |

ঠোঁটের সুন্দর গোলাপি রং বজায় রাখতে রোজ রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে একটুখানি ঘি ঈষদুষ্ণ গরম করে ঠোঁটের উপরে লাগিয়ে নিন | ঘুম থেকে সকালবেলায় উঠে দেখতে পাবেন ঠোঁটের উপরে সাদা সাদা আঁশের মত জমে আছে | সেগুলোকে পরিষ্কার করে ধুয়ে ফেলুন জল দিয়ে | কয়েকদিন এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করলে নিজেই ঠোঁটের গোলাপি রং ফিরে আসতে দেখতে পাবেন |

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here