পকোড়ার দোকান চালিয়েও খুলল ‘গেট’-এর রাস্তা

544
pakora seller cracks GATE

পকোড়ার দোকান চালিয়েও খুলল ‘গেট’-এর ভাগ্য। উত্তরাখণ্ডের এক গ্রামীণ নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের যুবক প্রথম বারের চেষ্টাতেই সাফল্য পেল ‘গেট’ পরীক্ষায়। উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলার পিপালকোটি গ্রামের যুবক সাগর শাহ। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশোনার পাশাপাশি দেখাশোনা করতেন পারিবারিক ব্যাবসা। ‘শাহজি’স পকোড়া শপ’- তাদের দোকানের নাম।

প্রত্যন্ত পিপালকোটি গ্রামে ও তার আশেপাশের অঞ্চলে এই ধরণের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য নেই কোনও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। শুধুমাত্র কঠোর অধ্যবসায় আর ধৈর্য দিয়েই যে সাফল্যকে করায়ত্ত করা সম্ভব, সাগর তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। একটি সরকারি উচ্চবিদ্যালয় থেকে দ্বাদশ শ্রেণী উত্তীর্ণ হয়ে সাগর দেরাদুনে চলে আসেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করতে। অর্জন করেন ডিপ্লোমা। তাদের গ্রামের বেশিরভাগ ছেলেকেই মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠ শেষ করে কোনও কাজে ঢুকে পড়তে হয় জীবিকার তাগিদে। কিন্তু সাগর ভেবেছিল একটু অন্য ভাবে। তাঁর চোখে ছিল আরও বড় স্বপ্ন। আর সেইমতই লক্ষ্যে অবিচল থেকে লড়ে যাচ্ছিলেন তিনি।

চামোলির চোখের মণি এই তরুণ তুর্কী এখন অঞ্চলের সমস্ত পরিশ্রমী বিদ্যার্থীদের কাছে উচ্চাশা আর স্বপ্ন সাকারের অনুপ্রেরণা। ‘গেট’ পরীক্ষায় সাফল্যের পেছনে মা, বাবা মোহিত শাহ এবং তার কাকার অশেষ অবদান আছে বলে জানিয়েছেন সাগর। উত্তরাখণ্ডের মত প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চলেও অনেক মেধাবী, পরিশ্রমী ও প্রতিশ্রুতিবান ছাত্রছাত্রী আছে বলে এক সাক্ষাৎকারে জানান সাগর। আরও বেশি আত্মবিশ্বাস আর অধ্যবসায় নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে তাঁদের। ‘গেট’ পরীক্ষা হল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর প্রতিযোগিতামূলক প্রবেশিকা পরীক্ষা। বিজ্ঞান ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ের ওপর কতটা দখল বা আগ্রহ তা খতিয়ে দেখা হয় এই পরীক্ষায়। দ্বাদশ শ্রেণীর পর ইঞ্জিনিয়ারিং বা প্রযুক্তি বিষয়ে চার বছরের পাঠ শেষ করা ডিগ্রি বা ডিপ্লোমা প্রাপকরা বসতে পারেন এই পরীক্ষায়। এছাড়া বিজ্ঞান, গণিত, রাশিবিজ্ঞান বা কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনে স্নাতকোত্তরেরাও ‘গেট’ পরীক্ষা দেওয়ার যোগ্য প্রার্থী। ইন্ডিয়ান ইন্সটিউট অব সায়েন্স ও আরও সাতটি আইআইটি মিলে সংগঠিত ‘গেট’ এর জাতীয় কো-অর্ডিনেশন বোর্ড। ভারত সরকারের মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক এবং উচ্চশিক্ষা বিভাগীয় দপ্তরের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় এই পরীক্ষা। এত বড় সর্ব ভারতীয় প্রতিযোগিতায় সফল হয়ে কার্যতই উচ্ছ্বসিত সাগরের পরিবার ও তাঁর গ্রামের অধিবাসীরা।

এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েই সাগর সুযোগ পেয়েছেন কোটিয়াসলেনে ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়তে। আর পড়া শেষ করে ডিগ্রী পেলেই মিলবে মনোমত চাকরি বা আরও উচ্চতর শিক্ষা অথবা গবেষণার সুযোগ। জীবনের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্য স্থির থাকলে কোনও কিছুই যে বাধা হতে পারে না, অদম্য আত্মবিশ্বাসী এই তরুণ তা প্রমান করে দিয়েছেন নিজের পরিশ্রম আর নিষ্ঠা দিয়ে। পরিবারের আর্থিক অস্বচ্ছলতা, প্রত্যন্ত অঞ্চলে পড়াশোনার অসুবিধে, অনুপযুক্ত প্রশিক্ষণ কিছুই দমিয়ে দিতে পারে নি সাগরের স্বপ্নপূরণের ইচ্ছেকে। তিনি নজির গড়লেন সারা ভারতবর্ষের শিক্ষায় পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের ছাত্রছাত্রীদের কাছে। তাঁর স্বপ্নে প্রেরণা পাবে আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের শিক্ষার্থীরাও। সাগরের জয় গৌরব এনেছে তাঁর পরিবারে, তাঁর গ্রামে। সঙ্গে এনেছে আর একটু স্বচ্ছল ভাবে আর মাথা উঁচু করে বাঁচার শর্ত।

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.