রক্ষণশীল কাশ্মীরে জিম চালাচ্ছেন দুই মহিলা!

101

কাশ্মীরে যেখানে পুরুষশাষিত সমাজে মহিলাদের কাজ করার হাজারও বাধা সেখানেই অভাবনীয় কাজ করছেন এই দুই কাশ্মীরি মহিলা | সংরক্ষণশীল সমাজে মহিলাদের কাজ করার ক্ষেত্রে হিংসাত্মক ঘটনা বা কাজ বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা খুবই স্বাভাবিক | এই প্রতিকূল অবস্থাতেও আলোর দিশা দেখাচ্ছেন মাহরিন আমিন ( ২৪ ) এবং আলিয়া ফারুক ( ৩৬ ) | দুজনেই কাশ্মীরি মহিলাদের স্বাস্থ্য চর্চার দুয়ার খুলে দিয়ে নিজেরা চালাচ্ছেন জিম |

দুজনের গল্প আবার দু’রকম | মাহরিন বাণিজ্যবিদ্যায় স্নাতক | স্থুলাঙ্গী মাহরিন ২০১৬ সালে দিল্লিতে নিয়মিত শরীর চর্চা করার ফলে ৩০ কেজি ওজন কমাতে সক্ষম হন | তখন থেকেই তিনি নিজে জিম খোলার পরিকল্পনা করেন | তাঁর বাবা একটি ব্যবসা করতেন | কিন্তু ফুসফুসে ক্যান্সার ধরা পড়ার পর মাহরিনের বাবা আর কাজ করতে পারেন না | হাসপাতালে তাঁকে সর্বক্ষণ কড়া নজরে রাখতে হয় | তাঁর দুই ভাই বাইরে পড়াশোনা করেন | তিনি তাঁর বাবার ব্যবসা ও নিজের জিম একা হাতেই সামলান | নওহাটার জামিয়া মসজিদের কাছে তাঁর  ফিটনেস হাব হেলথকেয়ার সেন্টার  সকাল ৭ টা থেকে সন্ধ্যে ৭ টা পর্যন্ত খোলা থাকে | তাঁর জিমের সদস্য শ্রীনগরের আঞ্চলিক  প্রায় ১০০ জন মহিলা | মজার বিষয় হল মাহরিন তাঁর জিমে চিরাচরিত পোশাকেই মহিলাদেরকে শরীরচর্চা করার সুযোগ করে দিয়েছেন | সেখানে শরীরচর্চা করার জন্য নির্দিষ্ট পোশাক পরা বাধ্যতামুলক নয় | প্রতি মাসে সদস্য পিছু তিনি ১‚৫০০ টাকা আয় করেন | জম্বু ও কাশ্মীরের স্পোর্টস কাউন্সিল সম্পাদক নাসিম চৌধুরী জানান মাহরিন সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর কাজের জন্য শংসাপত্র এবং কিছু নগদ অর্থ পুরষ্কারও পেয়েছেন |

অন্যদিকে দুই সন্তানের জননী খান্যারের আলিয়া ফারুখ পুরোনো শ্রীনগরের নানা অঞ্চলের সংরক্ষণশীল কাশ্মীরি মহিলাদেরকে শরীরচর্চা করার সুযোগ দিচ্ছেন | তিনিও একজন শংসাপত্র প্রাপ্ত শরীরচর্চা প্রশিক্ষক | ২০০০ সাল থেকেই তিনি এই কাজ করছেন | ২০১০ সালে তিনি তাঁর জিমে একজন পুরুষ শরীরচর্চা প্রশিক্ষককে প্রশিক্ষণের কাজে রাখলেও সেই জিম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয় | ২০১২ সালে বডি বিল্ডিং ফেডরেশন অফ ইন্ডিয়া থেকে শংসাপত্র পেয়ে তিনি নিজে এই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন | তাঁর জিমের সদস্য সংখ্যা বর্তমানে ৫০  এরও বেশি | তাঁর জিমটি ক্রমশ জনপ্রিয়তা লাভ করছে | তিনি মনে করেন এবার কাশ্মীরি মেয়েদের সমাজের বেড়াজাল কাটিয়ে বেরিয়ে আসার সময় এসে গেছে | সারা পৃথিবীতে যখন নারী ক্ষমতায়নকে এত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে তখন কাশ্মীরই বা তাতে পিছিয়ে থাকবে কেন ?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.