তীব্র ঠান্ডায় দুঃস্থ মানুষের মুশকিল আসানে হাজির ‘দয়ার দেওয়াল’

আমরা শীতকাল বেশ তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করি, কারণ আমাদের ধুলো-মাখা শহরে, কংক্রিটের প্রাসাদের মধ্যে একমুঠো শীতের আমেজের অপেক্ষায় থাকি সারা বছর । কিন্তু ভূস্বর্গে শীতের ছবিটা একেবারে অন্যরকম । এখানে বছরের বেশিরভাগ সময়েই তাপমাত্রা থাকে হিমাঙ্কের নীচে । যদিও মনে হতে পারে যে, পাহাড়ি মানুষ ওই তাপমাত্রায় অভ্যস্ত কিন্তু তার পাশাপাশি একথাও ঠিক যে, কাশ্মীরের বিভিন্ন প্রান্তে মূলত উপত্যকা অঞ্চলে এমন অনেক মানুষ র‍য়েছেন যাঁদের পরনের কাপরের খুব অভাব। প্রতিকূল পরিবেশে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার জন্য নিয়মিত লড়াই করে চলেছেন।

এরকমই কিছু দুঃস্থ মানুষকে বস্ত্র দানের মাধ্যমে সাহায্য করতে এক অনন্য প্রচেষ্টা শুরু করেছেন একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা । এই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাটি বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় নিজেদের ক্যাম্পেন করে থাকেন । এবার কাশ্মীরের বস্ত্রহীন মানুষদের বস্ত্র বিতরণের জন্য তাঁরা নিয়ে এল এক অভিনব উপায়- ‘ওয়াল অব কাইন্ডনেস’। এই ‘ওয়াল অব কাইন্ডনেস’-এ যেকোনও মানুষ তাঁর সাধ্যমতো গরম জামাকাপড় টাঙিয়ে রেখে যেতে পারেন। দুঃস্থ মানুষ শীতের জন্য নিজেদের প্রয়োজনমতো জামাকাপড় নিয়ে যেতে পারেন।

এটি একটি ইরানীয় ভাবনা, ইরানের মতো দেশে শীতকালে যখন শৈত্যপ্রবাহ চলে, তখন যাতে সেখানকার দুঃস্থ মানুষেরা শীতের হাত থেকে রেহাই পেতে পারেন তার জন্যই এই অভিনব ভাবনাটিকে তাঁরা বাস্তবায়িত করেছেন । কাশ্মীরের ‘হু ইজ হুসেইন’ সারা বিশ্বের প্রায় ৬০-টিরও বেশি দেশে এই ক্যাম্পেন প্রচার করেছেন ‘-এর এক সদস্যের কথায়, এই ‘ওয়াল অব কাইন্ডনেস’-এ শুধুমাত্র শীতবস্ত্রই নয়, চাইলে পাওয়া যাবে আরও অনেক কিছুই। যেমন- জামাকাপড়, বই, জুতো, কম্বল, বাসনপত্র, এমনকি খাবারও । সহজ করে বলতে গেলে বলা যায়, কারওর কোনও জিনিসের প্রয়োজন না’ই থাকতে পারে, কিন্তু সেই জিনিসটি কাজে লাগতে পারে অন্যকারওর । আর সেইজন্যই কোনও জিনিসই যাতে নষ্ট না হয়, তার জন্যই এই অভিনব প্রয়াস ।

এই ‘ওয়াল অব কাইন্ডনেস’-এর ট্যাগলাইন হল, ‘ যদি প্রয়োজন হয় তাহলে নিন, যদি অতিরিক্ত থাকে, তাহলে রেখে দিন ।’ সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হওয়ার পরেই আরও বেশি মানুষ এই ক্যাম্পেনে অংশ নিতে শুরু করেন । মূলত নিজেদের শীতের অতিরিক্ত পোশাক  তাঁরা দান করেন এই ‘ওয়াল অব কাইন্ডনেস’-এর জন্য । ওই স্বাচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, অনেকেই এমন র‍য়েছেন যাঁরা দুঃস্থ মানুষের জন্য সাহায্য করতে চান, কিন্তু কাকে বা কোথায় যোগাযোগ করবেন বুঝতে পারেন না। এই ‘ওয়াল অব কাইন্ডনেস’-এ যে-কেউ তাঁদের জামাকাপড় ঝুলিয়ে রেখে দিতে পারেন । তাঁদের জন্যই এই ভাবনার সূত্রপাত ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

কফি হাউসের আড্ডায় গানের চর্চা discussing music over coffee at coffee house

যদি বলো গান

ডোভার লেন মিউজিক কনফারেন্স-এ সারা রাত ক্লাসিক্যাল বাজনা বা গান শোনা ছিল শিক্ষিত ও রুচিমানের অভিজ্ঞান। বাড়িতে আনকোরা কেউ এলে দু-চার জন ওস্তাদজির নাম করে ফেলতে পারলে, অন্য পক্ষের চোখে অপার সম্ভ্রম। শিক্ষিত হওয়ার একটা লক্ষণ ছিল ক্লাসিক্যাল সংগীতের সঙ্গে একটা বন্ধুতা পাতানো।