‘ভারতের শেষ চায়ের দোকানে’ বসে গলা ভিজিয়েছেন কোনওদিন ? জানেন কোথায় সেই চা-ঠেক ?

চায়ের কাপে তুফান তো অনেক দোকানে বসে তুলেছেন | কিন্তু দেশের শেষ চায়ের দোকানে যাওয়া হয়েছে আপনার ? যদি না গিয়ে থাকেন তবে এই পুজোতে পরিকল্পনা করতে পারেন | ভারতের শেষ চায়ের দোকানে বসে গরম চায়ের পেয়ালায় চুমুক দেওয়ার |

তার জন্য আপনাকে যেতে হবে উত্তরাখণ্ড | এর চামোলি জেলায় বদ্রীনাথের কাছে আছে মানা গ্রাম | ভারত-তিব্বত সীমান্ত থেকে মাত্র ২৪ কিমি দূরে এই গ্রাম হল এ তল্লাটে ভারতীয় সীমানায় শেষ গ্রাম | সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১০ হাজার ২৪৮ ফিট উঁচুতে মানা গ্রামে আছে এক চায়ের ঠেক‚ যাকে সবাই চেনে ভারতের শেষ চায়ের দোকান বলে |

হিমালয়ের কোলে মানা গ্রামকে গড়ে তোলা হয়েছে পর্যটন-গ্রাম হিসেবে | সারা গ্রামে ১৮০ টি ঘরে বাস ৬০০ মানুষের | এরা সবাই মঙ্গোলয়েড ভোটিয়া সম্প্রদায়ের | পাহাড়ের ঢালে নিজেদের বাড়িতে এক চিলতে বাগানে এরা ফসল ফলায় |

কিচেন গার্ডেনের সেই সব্জি বদ্রীনাথের বিভিন্ন হোটেলে বিক্রি করাই মূল জীবিকা | অক্টোবর থেকে মার্চ তীব্র শীতে তাঁরা নেমে যান চামোলিতে | বছরের বাকি সময়ে সব্জি চাষ ছাড়াও তাঁদের আর এক পেশা হল বাড়িতে অতিথি আপ্যায়ন |

বেশিরভাগ বাড়িতেই বানানো হয়েছে হোম স্টে-এর সুযোগ সুবিধে | স্থানীয় বাসিন্দারা কাজ করেন পর্যটকদের গাইড হিসেবে | তাঁদের বাড়িতে বসে চুমুক দিতেই পারেন তুলসি চায়ে | অথবা গলা ভেজাতে পারেন ভারতের শেষ চায়ের দোকানে |

তার ফাঁকে ঘুরে দেখে নিন মানা গ্রাম | পৌরাণিক চিহ্ন ছড়ানো এই গ্রাম নাকি পদব্রজে পেরিয়েছিলেন পাণ্ডবরা | মহাপ্রস্থানের পথে | গ্রামে আছে ভীম পুল | যা নাকি স্বয়ং কৌন্তেয় ভীমসেনের হাতে তৈরি |

কথিত‚ খরস্রোতা সরস্বতী নদী পেরোতে পারছিলেন না পাণ্ডবরা | তাই ভীমসেন নদীর উপরে ফেলে দেন বিশল বড় পাথর | তার উপর দিয়ে হেঁটে যান সবাই | সেই পাথরের নামই ভীম পুল |

তার নিচ দিয়ে বয়ে চলেছে ছোট্ট সরস্বতী নদী | কয়েকশো মিটার গিয়েই মিশেছে অলকানন্দার সঙ্গে |

মানা গ্রাম দেখা সাঙ্গ হলে যেতে পারেন মানা পাসে | বিশ্বের উচ্চতম গিরিপথ এটা‚ যেখানে যান চলাচল সম্ভব | তবে এখানে যেতে হলে দরকার হয় বিশেষ অনুমতির | সেটা পেয়ে গেলে হতেই পারেন মানা পাসের মুসাফির | তার আগে ভারতের শেষ চায়ের দোকানে বসে গলা ভিজিয়ে নিন |

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

কফি হাউসের আড্ডায় গানের চর্চা discussing music over coffee at coffee house

যদি বলো গান

ডোভার লেন মিউজিক কনফারেন্স-এ সারা রাত ক্লাসিক্যাল বাজনা বা গান শোনা ছিল শিক্ষিত ও রুচিমানের অভিজ্ঞান। বাড়িতে আনকোরা কেউ এলে দু-চার জন ওস্তাদজির নাম করে ফেলতে পারলে, অন্য পক্ষের চোখে অপার সম্ভ্রম। শিক্ষিত হওয়ার একটা লক্ষণ ছিল ক্লাসিক্যাল সংগীতের সঙ্গে একটা বন্ধুতা পাতানো।