সারা সপ্তাহের ঘুমের ঘাটতি শনি-রবি বার মিটিয়ে নেন? ভুল করছেন

1270

কাজের চাপে চ্যাপ্টা হয়ে যেতে যেতে অনেকেই ভাবেন দিনটা যদি ২৪ ঘন্টায় না হয়ে হত ৪৮ ঘন্টায় তাহলে হয়ত আরও বেশি কাজ করা যেত | জীবনের কাজের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে অনেক সময়ই পর্যাপ্ত ঘুম হয়ে ওঠে না | না ঘুমিয়ে সেই সময়ও অতিরিক্ত কাজ সেরে রাখার প্রবণতা এখন বেশিরভাগ মানুষেরই | যার ফলে ঘুমের পরিমাণ কমতে থাকে অনেকের | সপ্তাহান্তে কাজে ছুটি পেলে মানুষ ভেবে নেন যে সারা সপ্তাহের ঘুমের ঘাটতি দুদিন ঘুমিয়েই পূরণ করে নেবেন | তাই শনিরবি বার পরিবার বা বন্ধুদের আড্ডা হোক বা কোনও ঘুরতে যাবার প্ল্যান‚ আপনাকে পাওয়া যায় না কোথাও | কারণ সারা সপ্তাহে ঠিক করে না ঘুমোনোর ক্লান্তিতে তখন আপনার আর সকালই হচ্ছে না | কী মনে হয়‚ এইভাবেই শরীরের ঘুমের ঘাটতি পূরণ করে নেওয়া যায়‚ তাই তো? যদি এমনটাই ভেবে থাকেন তবে ভুল ভাবছেন এমনই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা | এবং শুধু যে তাঁদের মুখের কথায় বিশ্বাস করতে হবে তাও নয়‚ হাজির করছেন হাতেনাতে পাওয়া বৈজ্ঞানিক সমীক্ষার ফলাফলও |

কলোরাডো বোল্ডার বিশ্ববিদ্যালয়ে সারা সপ্তাহের ঘুমের ঘাটতি শনিরবি বার ঘুমিয়ে পূরণ করা সম্ভব কিনা তা খতিয়ে দেখতে করা হয় একটি সমীক্ষা | প্রসঙ্গত জানা ভাল যে অপর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমের জন্য শরীরের মেটাবলিজমের হারের সমস্যা দেখা দিতে পারে যার ফলে বাড়েতে পারে ওজন‚ বাড়ে ডায়বেটিস হওয়ার আশঙ্কাও | সমীক্ষার জন্য একদল স্বাস্থ্যবান যুবক যুবতীদের ঘুমোনোর সময় বেঁধে দেওয়া হয় | তিনটি দলে ভাগ করা হয় তাঁদের | একটি দল ঘুমোনোর জন্য যথেষ্ট সময় পায় | প্রত্যেক রাতে গড়ে নঘন্টা ঘুমোতে দেওয়া হয় তাঁদের | দ্বিতীয় দলটি প্রত্যেক রাতে পাঁচ ঘন্টা ঘুমোয় | এবং তৃতীয় দলটি সপ্তাহে পাঁচদিন রাত্রিবেলা পাঁচঘন্টা ঘুমোয় এবং সপ্তাহান্তে অর্থাৎ শনি ও রবিবারে যতক্ষণ ইচ্ছে ততক্ষণ ঘুমোয় |

কয়েকদিন এই নিয়ম বজায় রাখার পর ঘুমোনোর সময়ের পার্থক্য হওয়ার ফলে শরীরে তার কী প্রভাব পড়ছে তা পর্যবেক্ষণ করা হয় | দেখা যায় যাঁরা নির্ধারিত সময় ঘুমিয়েছিলেন তাঁদের রাতের খাবার খাওয়া হয়ে যাওয়ার পরেও খিদে পাওয়ার কারণে অল্পবিস্তর খাবার খাওয়ার জন্য ওজন সামান্য হলেও বেড়েছে | আরও দেখা যায় যে যাঁরা সপ্তাহান্তে ইচ্ছেমত ঘুমিয়েছেন তাঁদের ইনসুলিনের প্রতি সংবেদনশীলতা কমে গেছে | এছাড়াও সপ্তাহের পাঁচদিন নির্দিষ্ট সময় ধরে ঘুমিয়ে দুদিন অনির্দিষ্ট সময় ঘুমোনোর ফলে তাঁদের শরীরের মেটাবলিজমের হারেরও পরিবর্তন ঘটে গেছে | ফলত যাঁরা ভাবেন কম ঘুমোনোর ক্ষতি দুদিন বেশি ঘুমিয়ে পূরণ করে নেবেন তাঁরা ভ্রান্ত ধারণা পোষণ করছেন | স্লিপ রিসার্চ সোসাইটি এবং আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ স্লিপ মেডিসিনের বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন কম পক্ষে সাত ঘন্টা ঘুম দরকার |

Advertisements

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.