সারা সপ্তাহের ঘুমের ঘাটতি শনি-রবি বার মিটিয়ে নেন? ভুল করছেন

কাজের চাপে চ্যাপ্টা হয়ে যেতে যেতে অনেকেই ভাবেন দিনটা যদি ২৪ ঘন্টায় না হয়ে হত ৪৮ ঘন্টায় তাহলে হয়ত আরও বেশি কাজ করা যেত | জীবনের কাজের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে অনেক সময়ই পর্যাপ্ত ঘুম হয়ে ওঠে না | না ঘুমিয়ে সেই সময়ও অতিরিক্ত কাজ সেরে রাখার প্রবণতা এখন বেশিরভাগ মানুষেরই | যার ফলে ঘুমের পরিমাণ কমতে থাকে অনেকের | সপ্তাহান্তে কাজে ছুটি পেলে মানুষ ভেবে নেন যে সারা সপ্তাহের ঘুমের ঘাটতি দুদিন ঘুমিয়েই পূরণ করে নেবেন | তাই শনিরবি বার পরিবার বা বন্ধুদের আড্ডা হোক বা কোনও ঘুরতে যাবার প্ল্যান‚ আপনাকে পাওয়া যায় না কোথাও | কারণ সারা সপ্তাহে ঠিক করে না ঘুমোনোর ক্লান্তিতে তখন আপনার আর সকালই হচ্ছে না | কী মনে হয়‚ এইভাবেই শরীরের ঘুমের ঘাটতি পূরণ করে নেওয়া যায়‚ তাই তো? যদি এমনটাই ভেবে থাকেন তবে ভুল ভাবছেন এমনই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা | এবং শুধু যে তাঁদের মুখের কথায় বিশ্বাস করতে হবে তাও নয়‚ হাজির করছেন হাতেনাতে পাওয়া বৈজ্ঞানিক সমীক্ষার ফলাফলও |

কলোরাডো বোল্ডার বিশ্ববিদ্যালয়ে সারা সপ্তাহের ঘুমের ঘাটতি শনিরবি বার ঘুমিয়ে পূরণ করা সম্ভব কিনা তা খতিয়ে দেখতে করা হয় একটি সমীক্ষা | প্রসঙ্গত জানা ভাল যে অপর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমের জন্য শরীরের মেটাবলিজমের হারের সমস্যা দেখা দিতে পারে যার ফলে বাড়েতে পারে ওজন‚ বাড়ে ডায়বেটিস হওয়ার আশঙ্কাও | সমীক্ষার জন্য একদল স্বাস্থ্যবান যুবক যুবতীদের ঘুমোনোর সময় বেঁধে দেওয়া হয় | তিনটি দলে ভাগ করা হয় তাঁদের | একটি দল ঘুমোনোর জন্য যথেষ্ট সময় পায় | প্রত্যেক রাতে গড়ে নঘন্টা ঘুমোতে দেওয়া হয় তাঁদের | দ্বিতীয় দলটি প্রত্যেক রাতে পাঁচ ঘন্টা ঘুমোয় | এবং তৃতীয় দলটি সপ্তাহে পাঁচদিন রাত্রিবেলা পাঁচঘন্টা ঘুমোয় এবং সপ্তাহান্তে অর্থাৎ শনি ও রবিবারে যতক্ষণ ইচ্ছে ততক্ষণ ঘুমোয় |

কয়েকদিন এই নিয়ম বজায় রাখার পর ঘুমোনোর সময়ের পার্থক্য হওয়ার ফলে শরীরে তার কী প্রভাব পড়ছে তা পর্যবেক্ষণ করা হয় | দেখা যায় যাঁরা নির্ধারিত সময় ঘুমিয়েছিলেন তাঁদের রাতের খাবার খাওয়া হয়ে যাওয়ার পরেও খিদে পাওয়ার কারণে অল্পবিস্তর খাবার খাওয়ার জন্য ওজন সামান্য হলেও বেড়েছে | আরও দেখা যায় যে যাঁরা সপ্তাহান্তে ইচ্ছেমত ঘুমিয়েছেন তাঁদের ইনসুলিনের প্রতি সংবেদনশীলতা কমে গেছে | এছাড়াও সপ্তাহের পাঁচদিন নির্দিষ্ট সময় ধরে ঘুমিয়ে দুদিন অনির্দিষ্ট সময় ঘুমোনোর ফলে তাঁদের শরীরের মেটাবলিজমের হারেরও পরিবর্তন ঘটে গেছে | ফলত যাঁরা ভাবেন কম ঘুমোনোর ক্ষতি দুদিন বেশি ঘুমিয়ে পূরণ করে নেবেন তাঁরা ভ্রান্ত ধারণা পোষণ করছেন | স্লিপ রিসার্চ সোসাইটি এবং আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ স্লিপ মেডিসিনের বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন কম পক্ষে সাত ঘন্টা ঘুম দরকার |

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here